<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>সাপ্তাহিক - ২০০০</title>
	<atom:link href="http://www.shaptahik-2000.com/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://www.shaptahik-2000.com</link>
	<description>সাপ্তাহিক - ২০০০</description>
	<lastBuildDate>Thu, 02 Feb 2012 17:59:23 +0000</lastBuildDate>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	<generator>http://wordpress.org/?v=3.2.1</generator>
		<item>
		<title>আপনি কেমন বাবা-মা কামরুন নাহার তানিয়া</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a7/%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%a8/</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a7/%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%a8/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 02 Feb 2012 17:56:17 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিবিধ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=371</guid>
		<description><![CDATA[পর্ব ২  শিক্ষিকা আজ ড্রইং ক্লাসে জায়েদের আঁকা ছবির খুব প্রশংসা করেছেন। খাতাতেও ‘এক্সিলেন্ট’ লিখেছেন। জায়েদ খুব খুশি। এই প্রথম ও খাতাতে এক্সিলেন্ট পেয়েছে। স্কুল থেকে বাসায় ফিরেই মাকে খাতাটা দেখাতে গেল। মা টিভিতে সিরিয়াল দেখা নিয়ে এতই ব্যস্ত যে, খাতাটা ভালোমতো দেখলেনই না। বললেনও না কিছু। জায়েদের মনটা দমে গেল। স্কুল থেকে ফিরে খিদেও [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>পর্ব ২</p>
<p> শিক্ষিকা আজ ড্রইং ক্লাসে জায়েদের আঁকা ছবির খুব প্রশংসা করেছেন। খাতাতেও ‘এক্সিলেন্ট’ লিখেছেন। জায়েদ খুব খুশি। এই প্রথম ও খাতাতে এক্সিলেন্ট পেয়েছে। স্কুল থেকে বাসায় ফিরেই মাকে খাতাটা দেখাতে গেল। মা টিভিতে সিরিয়াল দেখা নিয়ে এতই ব্যস্ত যে, খাতাটা ভালোমতো দেখলেনই না। বললেনও না কিছু। জায়েদের মনটা দমে গেল। স্কুল থেকে ফিরে খিদেও পেয়েছে প্রচণ্ড। খিদের কথা মাকে বলায় তিনি উঠে খাবার এনে দিলেন। তারপর আবার ব্যস্ত হয়ে পড়লেন টিভি নিয়ে। খেতে খেতে জায়েদ ভাবে, খাতায় ‘এক্সিলেন্ট’ পাওয়ার কথা আর কাকে বলা যায়! মা তো এমনই। হয় রান্না, না হয় টিভি বা শপিং নিয়ে ব্যস্ত সব সময়। বাবাও ফেরেন সেই রাতে। বাসায় ফেরার সময়ও পকেটে করে অফিস নিয়ে আসেন। তিনিও মায়ের মতোই, দায়সারা কিছু কথা বললে বলেন, নয়তো কোনো কথাই বলেন না। জায়েদের কথা শোনার মতো সময় তাদের কারোরই নেই। এসব ভাবতে ভাবতেই ওর মনে পড়ে পাড়ার চায়ের দোকানদার চাচার কথা। ব্যস! তক্ষুনি খাওয়া ফেলে ছুটে চলে গেল নিচে, চাচার কাছে খাতাটা নিয়ে। খুব আদর করে কাছে টেনে নিলেন চাচা। জায়েদের খাতায় ‘এক্সিলেন্ট’ পাওয়ার কথা শুনে খুশি হয়ে অনেক প্রশংসা করলেন। তারপর জায়েদকে একটা মজার খাবার খাওয়ার কথা বললেন। কিন্তু জায়েদের কাছে টাকা নেই। সঙ্গে সঙ্গে মায়ের কাছে গিয়ে দশটা টাকা চাইল ও। মা টিভি দেখায় মগ্ন, ভালো মতো না শুনেই মানা করে দিলেন। শেষে চাচার বুদ্ধিতে মায়ের ব্যাগ থেকে চুপিচুপি কিছু টাকা নিয়ে এল। পরে খাবারটার স্বাদ নিলো জায়েদ। এটা হলো এক ধরনের সিগারেটের মতো। কিন্তু সিগারেট নয়। অন্যকিছু। সেদিনের পর জায়েদ আরো কয়েকবার এটি গ্রহণ করেছে। টাকাগুলো মায়ের ব্যাগ, বাবার পকেট থেকেই সরাতে হয়েছে।</p>
<p>বাবা-মায়ের অবহেলা থেকে ধীরে ধীরে জায়েদ নেশাগ্রস্ত হয়ে গেল। এ ধরনের বাবা মায়েদের মনোবিজ্ঞানীরা ‘অমনোযোগী অভিভাবক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এরা সংসারের প্রয়োজন, চাহিদা, খরচ মেটাতে আর নিজেদের নিয়ে এত ব্যস্ত থাকেন যে সন্তানের প্রতি মনোনিবেশ করার সময় থাকে না। সন্তানের কাছে কোনো প্রত্যাশা যেমন তারা করেন না, তেমনি দায়িত্বও ঠিকমতো পালন করেন না। অনেক সময় বাবা-মা নিজেই বিষণ্নতায় ভুগে থাকেন। সন্তানকে সময় দিতে পারেন না। ফলে সন্তানের সঙ্গে তৈরি হয় দূরত্ব। সন্তানের কাজের প্রতি তারা খেয়াল রাখেন না। তাদের নিয়ম-শৃক্সখলাও শেখান না। তারা সভা-সমাবেশ, সেমিনার সিম্পোজিয়াম, ক্লাব, শপিং ইত্যাদি নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।</p>
<p>এমন বাবা-মার সন্তানদের কিছু বৈশিষ্ট্য সহজেই চোখে পড়ে :</p>
<p> প্রায় সব ক্ষেত্রেই এদের দক্ষতা থাকে না</p>
<p> অন্যের প্রতি আস্থা রাখতে পারে না</p>
<p> কিশোর অপরাধের প্রবণতা দেখা যায়</p>
<p> পরিবারের সমর্থন না পাওয়ায় অহেতুক ভয়, উদ্বেগ বা মানসিক চাপে থাকে</p>
<p> তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে শেখা আচরণ পরবর্তী সময়ে নিজের সন্তানের ওপর প্রয়োগ করে থাকে</p>
<p> আত্মবিশ্বাস কম থাকে</p>
<p>যতই ব্যস্ততা থাকুক, নিজের সন্তানের জন্য কিছু সময় বাবা-মাকে অবশ্যই বের করে নিতে হবে। সন্তানের জরুরি প্রয়োজনগুলো অবশ্যই মেটাতে হবে তাদের।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a7/%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>প্রতিবেদন</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 02 Feb 2012 17:54:05 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রতিবেদন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=368</guid>
		<description><![CDATA[লালমাই পাহাড়ের টিপরা সম্প্রদায় ইয়াসমীন রীমা উদয়পুর রাজ্যের পশ্চিম অংশে একটি অঞ্চলের নাম ছিল টিপারা। এ রাজ্যের রাজধানী ছিল আগরতলায়। টিপারা অঞ্চলের একটি জেলার নাম ছিল ত্রিপুরা। ষাটের দশকে এ জেলার নাম বদল করে কুমিল্লা রাখা হয়। টিপরা স¤প্রদায়ের বাস ছিল বলে এ অঞ্চলের নাম দেয়া হয়েছিল টিপারা অঞ্চল। টিপরারা পাহাড় ও জঙ্গলে বাস করে। [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/02/Comilla-1.png"><img class="alignnone size-full wp-image-369" title="Comilla-1" src="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/02/Comilla-1.png" alt="" width="313" height="235" /></a></p>
<p>লালমাই পাহাড়ের টিপরা সম্প্রদায়</p>
<p>ইয়াসমীন রীমা</p>
<p>উদয়পুর রাজ্যের পশ্চিম অংশে একটি অঞ্চলের নাম ছিল টিপারা। এ রাজ্যের রাজধানী ছিল আগরতলায়। টিপারা অঞ্চলের একটি জেলার নাম ছিল ত্রিপুরা। ষাটের দশকে এ জেলার নাম বদল করে কুমিল্লা রাখা হয়। টিপরা স¤প্রদায়ের বাস ছিল বলে এ অঞ্চলের নাম দেয়া হয়েছিল টিপারা অঞ্চল। টিপরারা পাহাড় ও জঙ্গলে বাস করে। উদয়পুরের রাজা রাজভট্ট ৫২৫ শতাব্দীতে তাদের খাজনা ও কর মওকুফ করে দেন। তারপর থেকেই এ এলাকায় তারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে। সাপ, ব্যাঙ, কচ্ছপ ও ফলমূল তাদের প্রধান খাদ্য।</p>
<p>টিপরা সম্প্রদায় কুমিল্লার  লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে জামমুড়া, বার্ডের পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশ এবং পাহাড়ের গভীরে বসবাস রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫০টি টিপরা পরিবার টিকে আছে এই পাহাড়ি অঞ্চলে। এরা সনাতন ধর্মাবলম্বী। তাদের ধর্মীয় উপাসনালয় হচ্ছে মন্দির। কিন্তু খুবই দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে এ এলাকার টিপরা স¤প্রদায়ের ধর্মীয় কোনো উপাসনালয় নেই। ঘরে বসেই উপাসনা করতে হয়। চৈত্র-বৈশাখ মাসে তাদের একটি ধর্মীয় উৎসব আছে, তাও আমাদের দেশে পালিত হয় না। প্রতিবেশী দেশ ভারতে এ উৎসব ঠিকই পালিত হয়। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের টিপরারা অসচ্ছল। জীবিকানির্বাহের জন্য কৃষিকাজের পাশাপাশি অধিকাংশ পরিবার গর“-ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন করেন। অনেকে আবার জীবিকার দায়ে পাহাড়ের গভীর জঙ্গল থেকে বাঁশ কাঁধে করে শহরে নিয়ে বিক্রি করে থাকেন। সরকারি বিভিন্ন সাহায্য-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এ সম্প্রদায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাসস্থান থেকে অনেক দূরে হওয়ায় শিক্ষাসুবিধা থেকে বঞ্চিত তারা। অনেক ছেলে-মেয়ে শিক্ষা জীবনের মাঝপথেই ঝরে পড়ে। পাহাড়ের ওপরে মাটির ঘরে বাস করা এ সম্প্রদায়ের পানির একমাত্র ভরসা পাহাড়ের তলদেশের নলকূপ।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>মৌলভীবাজারে কফি চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা</p>
<p>ইসমাইল মাহমুদ</p>
<p>কফি উৎপাদনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। এ জেলার মাটি, জলবায়ু ও আবহাওয়া কফি উৎপাদনের সম্পূর্ণ উপযোগী। এক সময় এখানে বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষ করে সফলতাও পাওয়া গিয়েছিল। এ জেলার সোনাছড়া চা বাগান এলাকায় দেশের শীর্ষ চা উৎপাদনকারী কোম্পানি জেমস ফিনলে ১৯৮০ সালে ৫শ ৬০ একর জমিতে রোবাস্টা ও এরাবিকাÑ এ দুজাতের কফি গাছ রোপণ করে বাগান গড়ে তোলে। দেশের বাইরে তখন এ বাগানের কফি ‘ফিনলে কফি’ নামে বিক্রি হতো। প্রথম দিকে এ বাগানের কফি চাষ ব্যাপক সফলতা পায়। মূল্য কম থাকায় আন্তর্জাতিক হোটেলগুলোয় এ কফির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এ বাগানের কফি গুণগতমান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হওয়া, প্রত্যাশা মতো উৎপাদন না হওয়া এবং উৎপাদন-ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় ওই কোম্পানি মাত্র ১২ বছরের মাথায় ১৯৯২ সালে কফি চাষ বন্ধ করে দেয়। বিদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কফি আমদানি করতে হয়। এ অবস্থায় মৌলভীবাজার জেলায় বাণিজ্যিকভিত্তিতে একাধিক জাতের অধিক উৎপাদনশীল কফি চাষ করে দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, বৃষ্টিবহুল এলাকার যেখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে না সেখানে বাণিজ্যিকভিত্তিতে কফি চাষ লাভজনক হতে পারে। এমনকি দেশের চাহিদা মিটিয়ে কফি বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব। এ জেলায় অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রে রোবাস্টা ও এরাবিকা জাতের কয়েকটি কফি গাছ রয়েছে। এসব গাছে প্রতিবছর কফি ফল ধরে। এখানে রোপণকৃত গাছগুলো দেখেই বোঝা যায়, এ জেলায় কফি চাষ করে সফলতা লাভ সম্ভব।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>পাতা-ফুলের কারিগর</p>
<p>আবু জাফর সাবু</p>
<p>গাছের পাতা দিয়ে চমৎকার সব ফুল তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন সোহরাব হোসেন। গাইবান্ধার বৈশাখী এবং চৈতালি মেলাগুলোতে তার এই ফুলের ব্যাপক চাহিদা। খেজুর, তাল এবং সুপারি গাছের কচি পাতা দিয়ে অপূর্ব কৌশলে তিনি এসব ফুল বানান।</p>
<p>সোহরাব হোসেনের বাড়ি নওগাঁ জেলার রানীনগরের রামধনুপাড়া। গাইবান্ধার গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে ঘুরে তিনি তার পাতার ফুল বিক্রি করেন। এখন এটাই তার পেশা। সোহরাব জানালেন, তিনি প্রায় ২৪ রকমের ফুল বানাতে পারেন। ক্রেতার চাহিদামতো তাদেরকে সামনে বসিয়েই দ্র“ত নিপুণ গাঁথুনিতে অনায়াসে তিনি বানিয়ে দেন পছন্দের ফুল। প্রতিটি ফুল বিক্রি হয় ৪০ থেকে ১২০ টাকা দরে। প্রতিদিন সোহরাব ২০ থেকে ২৫টি ফুল বানাতে পারেন। কিন্তু বিক্রি হয় ১০ থেকে ১৫টি। এ ফুল বিক্রিতে যে রোজগার হয় তা দিয়ে তার খাওয়া এবং থাকা খরচ চালিয়ে যা বাঁচে তা তিনি পাঠিয়ে দেন গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানদের জীবিকানির্বাহের জন্য। সোহরাব জানালেন, সরকার থেকে তাকে যদি স্বল্প সুদে কোনো ঋণ দেয়া হতো তবে একটি স্থায়ী দোকান গড়ে তুলে তিনি শুধু পাতার ফুলই নয়, কাগজ, প্লাস্টিক এবং রঙিন কাপড় দিয়েও নানা ফুল বানিয়ে জীবিকানির্বাহ করতে পারতেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>প্রথম মুক্তাঞ্চলের ভাস্কর্য নির্মাণ থেমে আছে</p>
<p>মামুন রহমান</p>
<p>মহান ¯^াধীনতা যুদ্ধে প্রথম মুক্তাঞ্চল যশোরের চৌগাছায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য ‘দুর্জয় দুর্গে’র নির্মাণকাজ মাঝপথে থেমে আছে। অর্থের অভাবে ভাস্কর্যটির চূড়ান্ত রূপ দিতে পারছেন না ভাস্কর আতিয়ার রহমান। শিল্পীর অতৃপ্তি নিয়ে চরম মনোকষ্টে ভুগছেন তিনি। এ নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে।</p>
<p>বহুদিন ধরে চৌগাছায় মুক্তিযুদ্ধের একটি স্মারক ভাস্কর্য নির্মাণের স্বপ্ন দেখে আসছেন স্থানীয় ভাস্কর আতিয়ার রহমান। তিনি জানান, এ ভাস্কর্যে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সূচনা, খানসেনা আর রাজাকারদের পৈশাচিকতা এবং শেষে বিজয়ের চিত্র ফুটিয়ে তুলবেন। ৩০ ফুট উঁচু দুর্জয় দুর্গে থাকবে তিনটি স্তর। বৃত্তাকার পানির ফোয়ারার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবে ভাস্কর্যের মূল স্তম্ভ। প্রথম স্তরে থাকবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, গণহত্যার পৈশাচিকতা এবং পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণ। দ্বিতীয় স্তরে থাকবে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতি। শেষ স্তরে অর্থাৎ ওপরে থাকবে মুক্তিকামী অসংখ্য জনতার প্রতীক একজন দুঃসাহসিক মুক্তিযোদ্ধা, যার এক হাতে থাকবে রাইফেল আর অন্যহাতে শান্তির প্রতীক পায়রা। কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে এই ভাস্কর্যের কাজ এগোচ্ছে না। এক এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে চৌগাছার প্রাণকেন্দ্র কোটচাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে তিনি এর নির্মাণকাজ শুরু করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। তহবিল গঠন করেও কিছু  টাকা সংগ্রহ করেন। টাকা ফুরিয়ে গেলে সে কাজ এক পর্যায়ে থেমে যায়। পরবর্তী সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ভাস্কর্যের বিষয়টি সংসদ সদস্য মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদকে জানালে তিনি ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। সে টাকা দিয়ে আতিয়ার কাজ কিছুটা এগিয়ে নেন। কিন্তু ভাস্কর্যটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে প্রায় ২০ লাখ টাকা লাগবে। বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। আতিয়ার রহমান তার স্বপ্ন সফল করতে চান। সরকার ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ এগিয়ে এলেই কেবল তা সম্ভব।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সবুজে সেজেছে মাগুরার লক্ষীকান্দার</p>
<p>লিটন ঘোষ জয়</p>
<p>মাগুরায় সবজি চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন ল²ীকান্দার গ্রামের চাষিরা। এক দশক আগেও ধান-পাটসহ প্রচলিত মওসুমি ফসলের চাষাবাদে সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কৃষি কার্যক্রম। এখন দিন বদলেছে। সেই চাষিরাই এখন বারোমাসি সবজি আবাদ করছেন। মওসুম শেষে ঘরে তুলছেন মূল্যবান ফসল। বদলে ফেলছেন জীবনযাত্রার মান। মাগুরা শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে এ গ্রামের মাঝ দিয়ে চলে গেছে মাগুরা-ফরিদপুর মহাসড়ক। সেখানে গেলে দেখা যাবে গোটা গ্রামে মাটি থেকে সর্বোচ্চ তিন ফুট উঁচু পাটকাঠি ও বাঁশের মাচা তৈরি করে আবাদ হচ্ছে শিম, উচ্ছে, শসা, করলা, লাউসহ নানা সবজি। ক্ষেতে ফলছে ফুলকপি, বাঁধাকপি টমেটো, শালগম ইত্যাদি। এসব সবজি ক্ষেত গোটা গ্রামটিকেই সাজিয়েছে সবুজের আবহে।</p>
<p>কৃষক দিলীপ বিশ্বাস জানান, এক সময় তিনি ধান-পাট চাষ করে জীবিকানির্বাহ করতেন। তখন বছর শেষে দেখা যেত জমির সেচ, সার ও অন্যান্য উপকরণ মিলিয়ে বিঘাপ্রতি যে খরচ হতো উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে উঠত না। অনেক সময় উৎপাদন খরচও উঠত না। কিন্তু এখন বেশি লাভ হয় বলে ধান ও পাটের চাষ ছেড়ে দু-একর জমিতে আবাদ করছেন উন্নত জাতের নানা সবজি। ১০ বছরে তার খড়ের ঘর এখন ইটের দালানে রূপান্তরিত হয়েছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>দখল হচ্ছে মেঘনা নদী</p>
<p>সীমান্ত খোকন</p>
<p>ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় লালপুর বাজার এলাকার মেঘনা নদীর কিছু অংশ দখল হয়ে গেছে। সেখানে প্রভাবশালীরা মাটি ফেলে নদী ভরাট করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। এতে পাল্টে যাচ্ছে নদীর দুটি শাখার একটির গতিপথ।</p>
<p> সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, পাড় থেকে নদীর প্রায় ৬০ শতাংশ ভেতরে এবং আধা কিলোমিটার জায়গাজুড়ে নদীটি দখল হয়ে আছে। এখানে বিভিন্ন বাড়ির মালিক এবং প্রভাবশালীরা স-মিল, শুঁটকির আড়ত, ট্রলার মেরামতখানাসহ  বিভিন্ন রকমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ট্রলার মেরামত করার প্রতিষ্ঠান ‘হযরত শাহজালাল রেল ডকইয়ার্ডস’-এর পরিচালক মোঃ খোকনের কাছে  নদী ভরাট করার সরকারি অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার তেমন কিছু জানা নেই। তবে প্রতিষ্ঠানের মালিক সালাম জানেন।’ পরে মালিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। বর্তমানে মেঘনা নদীর দুটি শাখার একটি শাখা বেদখল হওয়ার কারণে নদীর নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে নদীটির অস্তিত্ব ভীষণ হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সচেতন মহল মনে করে, এ ব্যাপারে সরকারের এখনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>পাটের ব্যাগ সম্ভাবনার হাতছানি শানজিদ অর্ণব</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%97-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be/</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%97-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 02 Feb 2012 17:48:57 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রতিবেদন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=365</guid>
		<description><![CDATA[২০১১ সালের ১ জানুয়ারি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করে ইতালি। অথচ তারা ছিল পৃথিবীর সর্বাধিক প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারকারী দেশ। প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা দেশের মধ্যে আছে ব্রাজিল, ভুটান, চীন, কেনিয়া, র“য়ান্ডা, সোমালিয়া, তাইওয়ান, তানজানিয়া, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ইত্যাদি। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজ্যে এখন প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ। এ তালিকা প্রতিবছরই বাড়ছে। ২০১৫ সাল নাগাদ [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/02/021.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-366" title="02" src="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/02/021.jpg" alt="" width="272" height="235" /></a></p>
<p>২০১১ সালের ১ জানুয়ারি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করে ইতালি। অথচ তারা ছিল পৃথিবীর সর্বাধিক প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারকারী দেশ। প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা দেশের মধ্যে আছে ব্রাজিল, ভুটান, চীন, কেনিয়া, র“য়ান্ডা, সোমালিয়া, তাইওয়ান, তানজানিয়া, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ইত্যাদি। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজ্যে এখন প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ। এ তালিকা প্রতিবছরই বাড়ছে। ২০১৫ সাল নাগাদ পুরো ইউরোপে প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ হবে। ওয়ালমার্ট, টেসকোর মতো বৃহৎ চেইন শপগুলো পাটের ব্যাগ ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিখ্যাত চেইন শপ  টেসকোর প্রতিমাসে এক মিলিয়ন প্রাকৃতিক আঁশের তৈরি ব্যাগের প্রয়োজন। এ ব্যাগ তারা প্রধানত ভারত থেকে আমদানি করে। ধারণা করা হয়, বর্তমানে সারা পৃথিবীতে প্রায় ৫শ বিলিয়ন থেকে ১ ট্রিলিয়ন পাটের ব্যাগের চাহিদা রয়েছে। এ ঘটনাকে বাংলাদেশের মতো পাট উৎপাদনকারী দেশের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্র“ত কার্যকর ও সমšি^ত পদক্ষেপ নিলে এ বিপুল বাজারকে ধরা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা। এতে দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে মনে করছেন তারা।</p>
<p>পরিবেশের ওপর প্লাস্টিক ব্যাগের ক্ষতিকর প্রভাব এখন সবারই জানা। ২০০২ সালে দেশে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়। এর বিপরীতে পরিবেশসম্মত পাটের ব্যাগ ব্যবহার করার কথা হয়েছিল। কিন্তু বাজার থেকে পলিথিন ব্যাগ যেমন পুরোপুরি উঠে যায়নি, তেমনি জনপ্রিয় হয়নি পাটের ব্যাগ। এ জন্য সরকারি উদ্যোগের ঘাটতিকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে  পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইন-২০১০ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। আইনে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের মোড়ক হিসেবে ৭৫ শতাংশ পাট আছে এমন উপাদান দিয়ে তৈরি মোড়ক ব্যবহারের বিধান রাখা হয়। পাট মন্ত্রণালয় থেকে সে সময় বলা হয়েছিল, প্রাথমিকভাবে খাদ্যপণ্য (চাল, গম, চিনি), সার ও বীজের মোড়ক হিসেবে পাটজাত ব্যাগের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। আইনটির বাস্তবায়ন এখনো তেমন একটা হয়নি। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক যৌথভাবে পরিচালিত ‘জুট অ্যান্ড বাংলাদেশ ইকোনমি’ শীর্ষক সমীক্ষায় বলা হয়, পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইন-২০১০ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে বার্ষিক পাটের ব্যাগের চাহিদা ৯০ হাজার পিস থেকে বেড়ে ৮৪ কোটি পিসে উন্নীত হবে। এতে ৫৩,৯,২০০ টন পাটের আঁশের প্রয়োজন হবে, যা দেশের মোট পাট উৎপাদনের ৭৭ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে প্রতি মাসে ১ লাখ পাটের ব্যাগ রফতানি করা হয়। ভারত এ ধরনের আইনের বাস্তবায়ন করে দেশের পাট খাতকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষাতেও সাফল্য পেয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে ভারত পাটজাত দ্রব্য রফতানি করেছে ১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে ভারত ৪০ মিলিয়ন পাটের ব্যাগ রফতানি করে এবং ২০১১-১২ সালে এটি ৭৫ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তা, উন্নত প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ইত্যাদির সমš^য়েই ভারতের এই সাফল্য।</p>
<p>এ সফলতা বাংলাদেশেরও আসতে পারে এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। দুনিয়াব্যাপী পাটের ব্যাগের চাহিদা বৃদ্ধি ও দেশের উন্নতমানের পাট এ দুই হাতিয়ার কাজে লাগাতে পারলেই সফলতা আসতে পারে। দেশে বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু ডাইভারসিফাইড জুট  প্রডাক্ট তৈরির প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও তারা খুব বড় আকারে উৎপাদনে সক্ষম নয়। এর পেছনে রয়েছে সরকারি উদ্যোগের ঘাটতি, ভালো ও যথেষ্ট পরিমাণ জুট ফেব্রিকের সরবরাহ না থাকা, প্রোমোশনের দুর্বলতা ইত্যাদি। মিলগুলোতে পুরনো আমলের যন্ত্রপাতি ব্যবহার, বৈশ্বিক চাহিদাকে বুঝতে পারার জন্য গবেষণার অভাবকেও দায়ী মনে করেন অনেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দেশীয় উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে হবে। ছোট কারখানাগুলোকে সমবায়ের মাধ্যমে বড় আকারের উৎপাদনে কাজে লাগাতে হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>পাটের কাপড় রফতানি করলে আমরা</p>
<p>১০ শতাংশ ইনসেনটিভ পাই</p>
<p>মোঃ শামসুল হক, ডিরেক্টর মার্কেটিং, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>পাটের কাপড় নিয়ে কিছু সমস্যা আছে। ডাইভারসিফাইড জুট প্রডাক্টের জন্য লতিফ বাওয়ানি মিল থেকে যে কাপড় দেয়া হয় তা খুব ভালো মানের নয়। তবে জনতা মিলের মান অপেক্ষাকৃত ভালো। কর্ণফুলী মিল উৎপাদনে গেলে ভালো পাটের কাপড় সরবরাহ সম্ভব হবে। বৃহৎ পরিসরে পাটের ব্যাগ উৎপাদন করতে চাইলে পর্যাপ্ত কাপড় সরবরাহ করা সম্ভব। এ জন্য কার্পেট ব্যাকিং ক্লোথ বা সিবিসি ব্যবহার করা যাবে। ভারতে বা অন্য দেশে পাট বা পাটের কাপড় রফতানি করলে আমরা ১০ শতাংশ ইনসেনটিভ পাই। ফলে ১শ ডলারের কাপড় রফতানি করলে সেটা দেশের বাজারে আমাদের ১শ ১০ ডলারে বিক্রি করতে হয়। না হলে আমাদের লোকসান গুনতে হবে। সরকার পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাবসিডি দিলে তাদের এ সমস্যা দূর হতে পারে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সচেতনতার অভাবেই পাটের ব্যাগ জনপ্রিয় হচ্ছে না</p>
<p>সীমা বোস অধরা, ডিরেক্টর মার্কেটিং, জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার</p>
<p>আমাদের সচেতনতার অভাবেই পাটের ব্যাগ জনপ্রিয় হচ্ছে না। আমরা এক টাকা বা বিনামূল্যে পলিথিন ব্যাগ পাই। পাটের ব্যাগ কিনতে ৫-৭ টাকা লাগে। তাই আমরা পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করতে আগ্রহী। কিন্তু এটি যে পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর সেটা মাথায় রাখি না। পাটের ব্যাগ ৬ মাস থেকে ১ বছর ব্যবহার করা যায়। আমরা মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট দিয়ে পলিথিন ব্যাগের বিরুদ্ধে অভিযান চালাই। কিন্তু অভিযানের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সচেতনতার। পলিথিন ব্যাগের জন্য বুুড়িগঙ্গার অবস্থা এখন শোচনীয়। নদীর তলা থেকে পলিথিন সরানোর মতো সামর্থ্যও আমাদের নেই। আমরা যদি দেশকে ভালোবাসি, দেশের পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হই, তাহলে আমাদের পাটের ব্যাগ ব্যবহার করা উচিত। শুধু আমাদের পক্ষে এ সচেতনতা সৃষ্টি সম্ভব নয়। এ জন্য সাংবাদিকসহ সব স্তরের মানুষের সহযোগিতার প্রয়োজন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>১০ বছরের জন্য সহায়ক ও সমšি^ত রফতানি  নীতিমালা করতে হবে</p>
<p> মোঃ রাশেদুল করিম মুন্না, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ক্রিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেড</p>
<p>২০১৫ সালের মধ্যে ইউরোপে প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে। ২০১৩-তে বন্ধ হবে দুবাইতে। এছাড়াও বহু দেশে প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এক্ষেত্রে পাটের ব্যাগকে রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বে প্রায় ৫শ কোটি পাটের ব্যাগের চাহিদা তৈরি হবে। নব্বই দশকের শুর“তে দেশে সিনথেটিক ব্যাগ ব্যবহারের ¶তিকারক প্রভাব নিয়ে সচেতনতা তৈরির কাজ শুর“ হয়। ২০০২-তে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ হয়। পৃথিবীর সবখানেই এখন রিসাইকেঅ্যাবল, ইকো ফ্রেন্ডলি, ন্যাচারাল, বায়োডিগ্রেডেবল ইত্যাদি ধারণা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্লাস্টিক ব্যাগের মধ্যেও সাধারণটার চেয়ে রিসাইকেঅ্যাবল প্লাস্টিক ব্যাগকে মানুষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অর্থাৎ মানুষের সচেতনতাও এখন পাটের ব্যবহারের জন্য অনুক‚ল হয়ে উঠছে। বিশেষত তর“ণরা এক্ষেত্রে  বেশি সচেতন। গৃহস্থালির নানা জিনিস থেকে শুরু করে গাড়ির বডিও এখন পাট থেকে তৈরি হচ্ছে। জলবায়ু ইস্যুতে উন্নত দেশগুলো এখন পরিবেশসম্মত পণ্য তৈরিতে তৃতীয় বিশ্বকে সহায়তা দেবে।</p>
<p>ডাইভারসিফাইড জুট প্রডাক্ট উৎপাদন ও রফতানিতে দেশি উদ্যোক্তারা নানান সমস্যার মুখে পড়ছেন। প্রথমত, আমাদের মিলগুলো চলছে ৪০-৫০ বছরের পুরনো মেশিন দিয়ে। ফলে আমরা উন্নত সুতা ও ফেব্রিক পাই না। ভারতে ফেব্রিক আছে প্রায় ৫০ রকমের আর আমাদের আছে ২-৩ ধরনের। এছাড়া আমরা পর্যাপ্ত সরবরাহও পাই না। দ্বিতীয়ত, ডাইং, ল্যামিনেশন ও এক্সেসরিজ সুবিধা অনুপস্থিত। তৃতীয়ত, প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্টের জন্য রিসার্চার, ডিজাইনারের অভাব। আছে দক্ষ জনশক্তির অভাব।</p>
<p>রফতানি বাজার ধরতে দরকার বিদেশের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ। এক্ষেত্রে সরকারকে  উদ্যোগী হতে হবে। দূতাবাসগুলো বিদেশে আমাদের পণ্যের উন্নতমান তুলে ধরতে পারে। আন্তর্জাতিক মেলাগুলোতে অংশ নিতে হবে। আমাদের রফতানি নীতিমালা সহায়ক নয়। আগামী ১০ বছরের জন্য সহায়ক ও সমণ্নিত রফতানি  নীতিমালা করতে হবে। জেলাওয়ারি জমি, গ্যাস ইত্যাদি সুযোগসহ জুট পল্লী করলে সেটা খুব সহায়ক হবে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যখন এদেশ থেকে পাট নেয় তখন মিলগুলোর ১০ শতাংশ রফতানি ইনসেনটিভের সুযোগ পায় তারা। কিন্তু আমরা মিল থেকে পাট কিনলে সে সুবিধা পাই না। সবকিছু মিলিয়ে আমরা  সুযোগের অভাবে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছি না। দেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে তাই হতাশা বিরাজ করছে। সহযোগিতা পেলে এ খাত আগামী ৭ বছরে  বিপুল অর্থের পাটজাত পণ্য রফতানি ও প্রায় ৩-৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%97-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা জলবায়ু তহবিলের অর্থে নদীতে বাঁধ শংকর লাল দাশ</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%b6%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be/</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%b6%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 02 Feb 2012 17:37:47 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রতিবেদন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=361</guid>
		<description><![CDATA[দেশ-বিদেশ থেকে দান-খয়রাতে আনা অর্থে গড়ে তোলা হচ্ছে জলবায়ু তহবিল। উদ্দেশ্য জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উন্নয়নে কাজ করা। কিন্তু পটুয়াখালীতে এর উল্টো ঘটনা ঘটছে। এখানে জলবায়ু তহবিলের অর্থ দিয়ে একদিকে নদীতে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে বনাঞ্চল উজাড় করা হচ্ছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এ কর্মকাণ্ডে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/02/000001-PATUAKHALI-27-01-2012.png"><img class="alignnone size-full wp-image-362" title="000001-PATUAKHALI 27-01-2012" src="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/02/000001-PATUAKHALI-27-01-2012.png" alt="" width="314" height="191" /></a></p>
<p>দেশ-বিদেশ থেকে দান-খয়রাতে আনা অর্থে গড়ে তোলা হচ্ছে জলবায়ু তহবিল। উদ্দেশ্য জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উন্নয়নে কাজ করা। কিন্তু পটুয়াখালীতে এর উল্টো ঘটনা ঘটছে। এখানে জলবায়ু তহবিলের অর্থ দিয়ে একদিকে নদীতে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে বনাঞ্চল উজাড় করা হচ্ছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এ কর্মকাণ্ডে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বন বিভাগও অবাধে গাছ কাটার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষও নদীতে বাঁধ নির্মাণের বিরোধিতা করছে।</p>
<p>জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১০ সালে ‘চরমানিকা-চরইসলাম ও চরমোন্তাজ ক্রসড্যাম নির্মাণের মাধ্যমে ভূমি পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একই বছরের ৩০ নভেম্বর জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড দরপত্র আহবান শেষে গত বছর ২৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে। সাত কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য পটুয়াখালীর খরস্রোতা বুড়াগৌরাঙ্গ এবং ভোলা জেলার তেঁতুলিয়া নদীতে দুটি বাঁধ নির্মাণ করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অন্তত ১১ হাজার একর জমি পানির তলা থেকে জেগে উঠবে। এতে কয়েক লাখ গাছ রোপণ ছাড়াও বহু ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে। এছাড়া, পটুয়াখালীর সোনারচরের সঙ্গে ভোলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। সোনারচরকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দেয়া সম্ভব হবে। চরমোন্তাজসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পৌছে যাবে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ ধরনের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারছেন না এলাকার গরিব মৎস্যজীবী এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।</p>
<p>সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োজিত ঠিকাদাররা পটুয়াখালী অংশের এক কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যরে বুড়াগৌড়াঙ্গ নদে বাঁধ নির্মাণে ভোলার তেঁতুলিয়া নদীর বাঁধ নির্মাণেও চলছে একই রকমের প্রস্তুতি। এছাড়া, চরইসলাম, চরবনানী ও চরবেস্টিন অংশের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার বনভূমির গাছ কাটারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু বনবিভাগের স্থানীয় কর্মীদের বাধার কারণে গাছ কাটার পাশাপাশি বাঁধ নির্মাণের কাজ অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন বনকর্মী অভিযোগ করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ভোলা ও পটুয়াখালী অংশের প্রায় ৫ হাজার একর জমির এক লাখেরও বেশি গাছ সরাসরি কাটা পড়বে। এছাড়া, বনের অভ্যন্তর থেকে বাঁধ নির্মাণের জন্য যে মাটি খনন করা হবে তাতে আরো প্রায় সমসংখ্যক গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বন বাগানের বেশিরভাগ গাছ ৪০-৫০ বছরের পুরনো। এসব গাছ সামুদ্রিক জলোচ্ছাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে এ অঞ্চলের মানুষকে যুগ যুগ ধরে রক্ষা করে আসছে। এখন বাঁধ নির্মাণ হলে গোটা বনাঞ্চল হুমকির মুখে পড়বে। বনকর্মীরা আরো জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে গাছকাটাসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর কোনো ধরণের জরিপ কিংবা সমীক্ষা করা হয়নি।</p>
<p>পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে। গত বছর ১৭ ডিসেম্বর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মো. মাহবুবুর রহমান ব্যাপক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ভোলার নজরুল নগর ও পটুয়াখালীর চরবেস্টিনে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রকল্প কাজের উদ্বোধন করেন।</p>
<p>স্থানীয় লোকজন বিশেষ করে মৎস্যজীবীরা এ প্রকল্পে বাস্তবায়নের বিরোধিতা করছেন। জেলেরা আশঙ্কা করছেন, এক-দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বাঁধ দেয়া হলে নদীর গতিপথ পাল্টে যাবে। মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হবে। এ দুটি নদীর সঙ্গে আরো অন্তত দুটি নদীর চ্যানেলসহ ছোট-বড় অর্ধশতাধিক খালের সংযোগ রয়েছে। এর সবগুলোর মুখ বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। সারা বছর এসব নদী-খালে জোয়ার-ভাটা বয়ে যায়। বর্ষায় নদীগুলো উত্তাল রূপ ধারণ করে। এসব খাল ও নদীর ওপর ভোলা-পটুয়াখালীর ৩০-৩৫ হাজার জেলে পরিবারের জীবিকা নির্ভর করছে। এখন বাঁধ তাদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দেখা দিয়েছে।</p>
<p>পরিবেশ বিশেষজ্ঞরাও বাঁধ নির্মাণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির কান্তি বিশ্বাস জানান, প্রাকৃতিক ভারসাম্য গাছের ওপর নির্ভরশীল। আর সে গাছ কেটে বেড়িবাঁধ বা ক্রসড্যাম নির্মাণ কার স্বার্থে হচ্ছে এটা বোধগম্য নয়। তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে তা নিজের পায়ে কুড়াল মারার শামিল হবে।</p>
<p>এ বিষয়ে পটুয়াখালীর কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফিউদ্দিন জানান, যে কোনো ভালো কাজে এক-আধটু সমস্যা হতে পারে। এটা সবাইকে উন্নয়নের স্বার্থে মেনে নিতে হবে।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%b6%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বিটিভির বার্তা বিভাগে ২৫ বছর খুরশীদা হক</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a7%a8%e0%a7%ab/</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a7%a8%e0%a7%ab/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 02 Feb 2012 17:34:39 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[ফিচার]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=359</guid>
		<description><![CDATA[ আগেই লিখেছি, সরকারি নিয়ন্ত্রণের নিগড়ে বাঁধা। বিটিভির সংবাদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ছিল কম। যে কোনো ঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিতেন এ ব্যাপারে আমরা সরকারি ভাষ্য পাব। কিন্তু মাঝে মাঝে আমরা হাস্যকর সংবাদ দিতাম। যেমন বিভিন্ন সরকারের মেয়াদে আমরা হরতালের সংবাদ দিতাম ওই সংবাদে একদিকে আমরা বলতাম, সারাদেশে কোথাও হরতাল পালিত হয়নি। বাস, গাড়ি, রিকশা, [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p> আগেই লিখেছি, সরকারি নিয়ন্ত্রণের নিগড়ে বাঁধা। বিটিভির সংবাদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ছিল কম। যে কোনো ঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিতেন এ ব্যাপারে আমরা সরকারি ভাষ্য পাব। কিন্তু মাঝে মাঝে আমরা হাস্যকর সংবাদ দিতাম। যেমন বিভিন্ন সরকারের মেয়াদে আমরা হরতালের সংবাদ দিতাম ওই সংবাদে একদিকে আমরা বলতাম, সারাদেশে কোথাও হরতাল পালিত হয়নি। বাস, গাড়ি, রিকশা, রেলগাড়ি এবং উড়োজাহাজ সব ঠিকঠাক চলছে। অন্যদিকে ওই বুলেটিনেই আমরা বলতাম, হরতালে সরকারের কী বিশাল অর্থনাশ বা ক্ষতি হয়েছে। অর্থাৎ কিনা হরতাল হয়েছে, তাই দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর্থিকভাবে। দেশের মানুষ দুটির কোন সংবাদটিকে গ্রহণ করবে? এই বৈপরীত্য ও দ্বিমুখী অবস্থানের (Double Standard) ফলে বিটিভি যে একটা হাস্যকর, অগ্রহণযোগ্য, অযৌক্তিক গণমাধ্যমে পরিণত হচ্ছে তা যেমন বুঝত না সরকার, তেমনি বুঝতাম না সংবাদকর্মীরা।  এক্ষেত্রে সংবাদপত্রগুলো অবশ্য মোটামুটি ভালো ও নির্ভরযোগ্য ভূমিকা রাখত।</p>
<p>শুধু কি সরকারি নিয়ন্ত্রণ? আমরা বিটিভির সংবাদকর্মীরা কি নিজেদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হইনি? ১৯৯১ সালে এরশাদের আমলের পর পর, সামরিক শাসন থেকে বেরিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো। আমরা ভাবলাম, বিটিভি সংবাদের দিনবদলের পালা এলো। এখন আমরা সরকারি নিয়ন্ত্রণে থেকেও স্বাধীনভাবে ভালো কিছু সংবাদ দর্শকদের উপহার দিতে পারব। আমি তৎকালীন ডিডিজিকে বললাম, আমরা নিউ ফরম্যাটে একটু পরিবর্তন আনি। আমাদের বুলেটিনে তো খেলাধুলার সংবাদ, আবহাওয়ার সংবাদ ইত্যাদির জন্য কিছু সময় ভাল করে দেয়া (Chunk) আছে। এখন আমরা সাংস্কৃতিক সংবাদের জন্য কিছু সময় বরাদ্দ রাখি। এই অংশটি তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে হবে। দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কোথায় ভালো নাটক, অনুষ্ঠান, চিত্রপ্রদর্শনী, বইমেলা বা বই প্রকাশ হচ্ছে সেসব খবর সংক্ষিপ্ত আকারে এ অংশে আমরা প্রচার করব। এতে দেশের সংস্কৃতিমোদীদের ভালো লাগবে। আর অন্যরাও নিজেদের সাংস্কৃতিক চর্চা সম্পর্কে জানবে। ডিডিজি আমার কথায় সায় দিলেন। বললেন, এটা হলে ভালোই হবে। কিন্তু মন থেকে তার সাড়া পেলাম না। কারণ এই কাজটুকু করার জন্য লজিস্টিক সাপোর্ট দরকার। একজন ক্যামেরাম্যান, একজন রিপোর্টোর দরকার। দরকার অ্যাসাইনমেন্ট লাইনআপে তা তুলে ধরা যাতে এ রকম দু-একটি কভারেজ হয় এবং জাতীয় ডেস্কের দায়িত্বে যে কর্মকর্তা কাজ করবেন তিনি তা প্রধান বুলেটিনে অন্তর্ভুক্ত করবেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এ ব্যাপারে আমি কারো কাছ থেকেই সাড়া বা সমর্থন পেলাম না। অথচ এখন বেসরকারি টিভি চ্যানেগুলোর কী চমৎকারভাবে বুলেটিনের একটি অংশে জাঁকজমকপূর্ণভাবে সাংস্কৃতিক সংবাদ দিচ্ছে। এ অবস্থায় বিটিভিকে কেন কেউ গোঁড়া, রক্ষণশীল, একঘেয়ে বুলেটিন বলবে না? বিশেষ করে সে সময় সরকারি দলটি ইসলামপন্থী দল জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গঠন করেছিল বলেই এ ধরনের সংবাদ প্রচার করাটা জরুরি ছিল বলে আমি মনে করি। সরকার তো রক্ষণশীল ছিল না এ ধরনের সংবাদ প্রচারে তাদের নিষেধাজ্ঞাও ছিল না কিন্তু আমরা কিছু রক্ষণশীল কর্মকর্তা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছিলাম বিটিভিকে।</p>
<p>‘সংবাদ’ মানেই শুধু রাজনৈতিক সংবাদ, রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান, এসবের সংবাদ হবে এমনটা তো নয়! সংবাদে সাধারণ মানুষ থাকবে। তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, ভালো-মন্দ,  চাওয়া-পাওয়া থাকবে। সমাজ থাকবে। বিটিভি সংবাদে ‘সমাজ’ ছিল না। বিটিভি সংবাদে ‘সফট’ আইটেম খুব কম থাকত। থাকতই  না বলা যায়। বর্ষায় শহর ও গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের চিত্র যেমন সংবাদে থাকতে পারে, তেমনি বর্ষায় দুজনে মুখোমুখি, গভীর দুঃখে দুঃখী এমন অনুভূতির কথাও বলা যেতে পারে; তবেই না বুলেটিন বৈচিত্র্যপূর্ণ সমৃদ্ধ হয়। ‘শীতের পাখি’ বছরে একবার সুদূর সাইবেরিয়া থেকে দেশে আসে। এটা প্রতিবছরে একবার হয়ে থাকে। তবু এ নিয়ে চমৎকার সফট আইটেম হতে পারে। প্রথম ফাল্গুনে নানা উৎসবের সংবাদের সঙ্গে থাকতে পারে মানুষের বর্ণিল মনের কথা। তাতে সংবাদে একটু বৈচিত্র্য আসে। এ রকম হাল্কা আইটেমের কথা বাদই দিলাম। শহরের বস্তিতে বাস করে যে প্রবীণ মহিলা বা সব হারানো নিঃ¯^ শিশুটি সেসব মানুষকে নিয়েও সংবাদ হতে পারে। তার কষ্টের জীবন, এ পথে আসার গল্প, বেঁচে থাকার আকুতি এই নিয়েও তো সপ্তাহান্তে একটি সংবাদ প্রচারিত হতে পারে। এতে আমরা ওই শ্রেণীর মানুষকে কিছুটা জানতে পারি। তার জীবন উন্নত করার কথা কেউ না কেউ ভাবতে পারেন। তেমনিভাবেই আজকে আসক্ত হয়ে যে তরুণ বা তরুণী জীবনের সঙ্গে লড়ছে তাকে নিয়েও সংবাদ হতে পারে। মাদকের কথা আমরা জানলেও এসব সংবাদ আমাদের হৃদয়কে নাড়া দিতে পারে। সমাজ জেগে উঠতে পারে। এমনি ভ‚রি ভ‚রি সংবাদ আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে। অথচ আমরা বিটিভির সংবাদকর্মীরা চোখে ঠুলি এঁটে বসে আছি। এখানে সরকারের কী দোষ?</p>
<p> দোষ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির। বিটিভির সংবাদকর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো প্রয়োজন। প্রতিদিন রাজনৈতিক কোন্দলের খবর শুনতে বা দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্ত। এসব সংবাদ জানা অবশ্যই জরুরি। সেই সঙ্গে জরুরি হলো সামাজিক সংবাদ। মানুষের সংবাদ। সাধারণ মানুষের সংবাদ। মানুষ ছাড়া যেমন সাহিত্য নয়, তেমনি মানুষ (আপামর  মানুষ) ছাড়া কোনো গণমাধ্যম গ্রহণযোগ্য হয় না। জনপ্রিয় হতে পারে না।</p>
<p>(চলবে)</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a7%a8%e0%a7%ab/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>মুদ্রানীতি কতটা বাস্তবায়নযোগ্য? কাওসার রহমান </title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%9f%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9f/</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%9f%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9f/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 02 Feb 2012 17:32:27 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=357</guid>
		<description><![CDATA[বাংলাদেশ ব্যাংক ২৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থবছরের দ্বিতীয় অর্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। মূল্যস্ফীতিকে একক অঙ্কে (সিঙ্গেল ডিজিট) নামিয়ে  আনার লক্ষ্যে মুদ্রানীতিতে বেসরকারি ও অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণের জোগান এবং সরকারের ঋণ গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে  বাজারে অর্থপ্রবাহ কমানোর কথা বলা হয়েছে। যার ফলে চলতি অর্থবছরের কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে না। ঘোষিত এ মুদ্রানীতি কতটা বাস্তবায়নযোগ্য তা নিয়ে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশ ব্যাংক ২৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থবছরের দ্বিতীয় অর্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। মূল্যস্ফীতিকে একক অঙ্কে (সিঙ্গেল ডিজিট) নামিয়ে  আনার লক্ষ্যে মুদ্রানীতিতে বেসরকারি ও অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণের জোগান এবং সরকারের ঋণ গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে  বাজারে অর্থপ্রবাহ কমানোর কথা বলা হয়েছে। যার ফলে চলতি অর্থবছরের কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে না।</p>
<p>ঘোষিত এ মুদ্রানীতি কতটা বাস্তবায়নযোগ্য তা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। অর্থনীতিবিদরা এ প্রশ্ন তুলে  বলেছেন, মুদ্রানীতি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। আবার অনেকে বলছেন, সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে এটা বাস্তবায়ন করা যাবে কি না তা নিয়ে সংশয় আছে। কেউ কেউ আবার এ মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।</p>
<p>এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষিত মুদ্রানীতি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। বাংলাদেশে কোনো মুদ্রানীতি বাস্তবায়িত হয়েছে, অতীতে এমন নজির নেই। এটি বর্তমানে পেপার ওয়ার্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া মূল্যস্ফীতি, প্রবৃদ্ধিসহ মুদ্রানীতিতে যেসব লক্ষ্য অর্জনের কথা বলা হয়েছে, অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কোনোভাবেই অর্জন সম্ভব নয়।’</p>
<p>অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও সামষ্টিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের সঙ্কোচনমূলক মুদ্রানীতি হবে স্বাভাবিক। মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে হলে সঙ্কোচনমূলক মুদ্রানীতির বিকল্প নেই। তবে মুদ্রা সরবরাহ ও ঋণপ্রবাহ কমিয়ে আনার যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে রাজস্ব আয় ও সামষ্টিক অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার ওপর। শুধু মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। রাজ¯^ নীতি ও সামষ্টিক অর্থনীতি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে মুদ্রানীতির বাস্তবায়ন।</p>
<p>মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হলো মূল্যস্ফীতি একক অঙ্কে নামিয়ে আনা। যদিও চলতি বছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে সাত শতাংশে রাখার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে তা ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। তাই শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন দূরের কথা, টাকার যে অবমূল্যায়ন হয়েছে তাতে দশ শতাংশের নিচে নামানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে। কারণ বাংলাদেশে মুদ্রানীতি এককভাবে কাজ করতে পারে না। তা নির্ভর করে আর্থিক নীতির (ফিসক্যাল পলিসি) ওপর। যেটি সরকার নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এই দুই নীতির মধ্যে সমš^য় না হলে শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কোনোভাবেই একক অঙ্কে নামিয়ে আনতে পারবে না বাংলাদেশ ব্যাংক।</p>
<p>মুদ্রানীতিতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সাড়ে ছয় থেকে সাত শতাংশের মধ্যে অর্জনের কথা বলা হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি যে সাত শতাংশ অর্জন করা যাবে না, তা আগেই অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন। কারণ দেশের অর্থনীতিতে সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মতো বিনিয়োগ অবস্থা অর্থনীতিতে নেই। তাছাড়া তারল্য সঙ্কট, বেসরকারি খাতে ঋণের অপর্যাপ্ততা, সরকারের ভর্তুকি, বিদেশি ঋণ বা অনুদানে পিছিয়ে থাকার কারণে নির্ধারিত জিডিপি এমনিতেই অর্জন করা যাবে না।</p>
<p>এখন প্রশ্ন হলো মুদ্রানীতি অনুযায়ী কি সরকারের ঋণ কমিয়ে আনা সম্ভব? অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চাইলেই সরকারের ঋণ কমবে না। তবে সরকার হয়তো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি থেকে কিছু অর্থ কাটছাঁট করতে পারবে। তবে তা খুব কাজে দেবে না। ফলে সরকারের ঋণ কমিয়ে বেসরকারি খাতে সরবরাহের যে কথা বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে তা সম্ভব নয়।  </p>
<p>সরকারের ঋণ প্রবৃদ্ধি আগামী জুনের মধ্যে ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩১ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। তা নির্ভর করবে সরকারের রাজ¯^ আয় কতটা বেশি হবে এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) কতটা কাটছাঁট করা হবে তার ওপর। কেবল এই দুই কারণেই সরকারের ঋণ ও ঋণের প্রবৃদ্ধি কমার সম্ভাবনা আছে। অন্যথায় নয়। কারণ সরকার ঋণ নিতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক না করতে পারবে না।</p>
<p>এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকার তার বাজেট ঘাটতি এবং ভর্তুকির অর্থায়ন করতে গিয়ে বেশি ধার করলে তা মুদ্রানীতির জন্য নেতিবাচক হবে। তাই সরকারকে রাজস্ব আদায়ের দিকে নজর দিতে হবে। বৈদেশিক অনুদান এবং ঋণ ছাড়ে অগ্রগতি আনতে হবে। তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করাই হবে সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। এ বছর অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বড়জোর ৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।’</p>
<p>সঙ্কোচনমুখী মুদ্রানীতির ঘোষণা দিয়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সরকারের ঋণ কমিয়ে বেসরকারি খাতে ঋণের জোগান দেয়া হবে। মূলত সঙ্কোচনমুখী মুদ্রানীতির কারণে এমনিতেই বাজারে তারল্য প্রবাহ হ্রাস পাবে। তার ওপর সরকারের ঋণ কমানো না গেলে শিল্প খাতে ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে, যা অর্থনীতির জন্য মোটেও ভালো হবে না। এর ফলে দেশে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার পরিধি কমে আসবে। ফলে শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত হবে, বন্ধ হয়ে যাবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।</p>
<p>অর্থনীতিবিদদের মতে, মুদ্রানীতি সম্প্রসারণমুখী হলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়লেও তা অন্যান্য হাতিয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তখন অর্থনীতির অন্য সূচকগুলোও ভালো অবস্থায় থাকে। তা ছাড়া সহজে ঋণ পাওয়া গেলে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ হয় এবং কর্মসংস্থান বাড়ে। এতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও সহজ হয়ে যায়।</p>
<p>এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে গিয়ে বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার। যদি পড়ে তাহলে তা পুরো প্রবৃদ্ধিকেই হ্রাস করবে। বিশেষ করে শিল্প খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ায় পুরো প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। তাই ঋণ পরিস্থিতিটা সব সময় মনিটরিং করতে হবে। যদি কোনো খারাপ প্রভাব পড়ে তখন পর্যালোচনা করে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। </p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%9f%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9f/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ধরিত্রী সম্মেলনের অবস্থানপত্রে চাই  সবুজ মানব উন্নয়ন নকশা কামরুল ইসলাম চৌধুরী</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/%e0%a6%a7%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%be/</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/%e0%a6%a7%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%be/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 02 Feb 2012 17:30:34 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রতিবেদন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=355</guid>
		<description><![CDATA[কোনো কোনো দেশে উন্নয়ন হচ্ছে।  আবার বহু দেশ পিছিয়ে পড়ছে। অনেক দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় ক্ষয় ধরেছে। সত্তর-আশি বছর আগেও আর্জেন্টিনা ছিল পৃথিবীর প্রথম দশ উন্নত দেশের একটি। উন্নয়ন দৌড়ে সে দেশ পিছিয়ে পড়তে পড়তে এখন উন্নয়নশীল বিশ্বের তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আবার চীন, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা আর ভারত দ্রুত উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মানচিত্র [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>কোনো কোনো দেশে উন্নয়ন হচ্ছে।  আবার বহু দেশ পিছিয়ে পড়ছে। অনেক দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় ক্ষয় ধরেছে। সত্তর-আশি বছর আগেও আর্জেন্টিনা ছিল পৃথিবীর প্রথম দশ উন্নত দেশের একটি। উন্নয়ন দৌড়ে সে দেশ পিছিয়ে পড়তে পড়তে এখন উন্নয়নশীল বিশ্বের তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আবার চীন, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা আর ভারত দ্রুত উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মানচিত্র এমনিভাবে উল্টেপাল্টে যাচ্ছে। রাজনৈতিক সামাজিক অস্থিরতা আর টানাপড়েনে পড়ে অনেক দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হচ্ছে। আবার অবাধ লুণ্ঠন, দুর্নীতি ও অপশাসন উন্নয়নকে গ্রাস করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব আর পরিবেশ দূষণের কারণেও বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা এসেছে। জলবায়ুতাড়িত নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাক দারিদ্র্যের অচলায়তন পর্বতসম করছে। স্কুল কলেজ থেকে ছাত্র-ছাত্রী ঝরে পড়ছে। উন্নয়নের ঝরা পাতায় ছেয়ে যাচ্ছে স্বল্পোন্নত বিভিন্ন দেশ। এসব দেশে প্রয়োজন জরুরি স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুষম বণ্টন। জরুরি প্রয়োজন উন্নয়ন ক্ষয় প্রতিরোধ। এরই নাম টেকসই উন্নয়ন।      </p>
<p>সাত সাগর তের নদীর পারে টেকসই উন্নয়নের ঢেউ লেগেছে কয়েক দশক আগে। ৪০ বছর আগে হয়েছিল পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্মেলন। ব্রাজিলের রিও নগরীতে ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ধরিত্রী সম্মেলন। সেই ধরিত্রী সম্মেলনের ২০ বছর পূর্তি আগামী জুনে। ব্রাজিলের রিও নগরীতে অনুষ্ঠিত হবে রিও +২০ সম্মেলন। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ মূল্যায়ন করবেন পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, কোথায় কোথায় আমরা পিছিয়েছি। ধরিত্রী সম্মেলনে ১৯৯২ সালে গৃহীত একুশ শতকের এজেন্ডার মূল্যায়ন হবে। রিও কনভেনশনত্রয়ী জলবায়ু সনদ, জীববৈচিত্র্য সনদ আর মরুময়তা সনদের হালনাগাদ অবস্থানেরও মূল্যায়ন হবে। দশ বছর আগে ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হয় রিও +১০। গৃহীত হয় জোহানেসবার্গ প্ল্যান অব ইমপ্লিমেন্টেশন। তার কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখবেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। সবুজ অর্থনীতি, সবুজ উন্নয়ন, সবুজ জিডিপি আর সবুজ মানব উন্নয়ন কী করে নিশ্চিত করা যায় তারও আলোচনা হবে রিও +২০ শীর্ষ সম্মেলনে।</p>
<p>আশা করা হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আসন্ন এই সম্মেলনটি হবে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান পর্যায়ের। ২০ বছর আগের ধরিত্রী সম্মেলনের মতোই সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা যোগ দেবেন এই শীর্ষ সম্মেলনে। ইতিমধ্যে রিও +২০ সম্মেলনের রাজনৈতিক শূন্য খসড়া তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে ২৫-২৭ জানুয়ারি এই শূন্য খসড়ার ওপর শুরু হয় প্রথম দরকষাকষি। ১৯৫টি দেশের প্রতিনিধিরা করেন এর চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই শূন্য খসড়া কয়েকদফা দরকষাকষি শেষে আগামী জুনে রিও নগরীতে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা গ্রহণ করবেন টেকসই উন্নয়নের নতুন গ্লোবাল রোডম্যাপ হিসেবে।</p>
<p>শূন্য খসড়ায় ইতিমধ্যেই বাদ পড়েছে স্বল্পোন্নত ৪৯টি দেশের বেশ কিছু দাবি। রিও সম্মেলনে গৃহীত একুশ শতকের এজেন্ডা বাস্তবায়ন অগ্রগতির মন্থরতার উল্লেখ থাকলেও বাস্তবায়নের এই বিরাট ফারাক দূর করার কৌশল নির্ণয়ে ঘাটতি রয়েছে শূন্য খসড়ায়। অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ব্যাপারেও শূন্য খসড়ায় আসেনি স্বল্পোন্নতসহ উন্নয়নশীল ১৩৪টি দেশের অনেক দাবি। তবে উন্নত দেশগুলোর অনেক পরামর্শই প্রাধান্য পেয়েছে শূন্য খসড়ায়। তাই বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আসন্ন দরকষাকষি হবে বেশ কঠিন। থাকতে হবে সদা সতর্ক। কারণ নতুন গ্লোবাল রোড ম্যাপে থাকতে হবে বাস্তবায়নযোগ্য কার্যক্রম। থাকতে হবে বাস্তবায়নের হাতিয়ার। গত ডিসেম্বরে নিউইয়র্কে প্রস্তুতি বৈঠকে এর খসড়া কাঠামো নিয়ে ১৯৫টি দেশের প্রতিনিধিরা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন।</p>
<p>তবে সবুজ উন্নয়ন, সবুজ মানব উন্নয়ন রয়েছে শূন্য খসড়ায়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর কথা হলো সবুজ অর্থনীতির ধারণা টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন বিদ্বেষী হলে চলবে না। বরং সবুজ অর্থনীতি টেকসই উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই প্রণীত হতে হবে। সবুজ অর্থনীতি উন্নয়নের পথে সবুজ শর্তে যেন পর্যবসিত না হয়। এই সুযোগে সবুজ প্রটেকশনিজমের ঢাল যেন স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত না হয়। এ ব্যাপারে আমাদের সতর্কতার সঙ্গে দরকষাকষি করতে হবে। অথচ এক্ষেত্রে আমাদের প্রস্তুতি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে।   </p>
<p>আজ থেকে ২০ বছর আগে বাংলাদেশ যোগ দিয়েছিল ধরিত্রী সম্মেলনে। রিও প্রস্তুতি সে সময় ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রয়াত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, পরিবেশমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল-নোমান, জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনুসহ বাংলাদেশের একটি বড় প্রতিনিধি দল সেই শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেয়। এমনকি দশ বছর পর জোহানেসবার্গ সম্মেলনে বাংলাদেশ পালন করে অনুঘটকের ভূমিকা। দেশব্যাপী তৃণমূল কর্মশালা ও দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য, পেশাজীবী, বেসরকারি খাতের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের অবস্থানপত্র। মনে পড়ে প্রয়াত রাজনীতিক আবদুর রাজ্জাক, মতিয়া চৌধুরী, ড. আবদুর রাজ্জাক, জিএম কাদের, ফারুক খান, ড. আলাউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন বর্তমান মন্ত্রী ও উপদেষ্টা সে সময় বাংলাদেশ অবস্থানপত্র তৈরিতে ভ‚মিকা রেখেছিলেন। জাতীয় ঐকমত্যের সেই দলিল বাংলাদেশকে জুগিয়েছিল বিশ্ব সম্মেলনে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষে দরকষাকষি করার অমিত সাহস। লোকজ আর বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের নির্যাস থেকে প্রণীত বাংলাদেশের জাতীয় অবস্থান হয়ে উঠেছিল এলডিসির অবস্থান। কোনো কোনো ইস্যুতে বাংলাদেশ ছিল ১৩৪টি উন্নয়নশীল দেশের জোট ৭৭-জাতিগোষ্ঠীর মুখপাত্র। দিনের পর রাত টানা বিতর্ক করেছি আমরা উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থ রক্ষায়। প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান, তদানীন্তন পরিবেশ সচিব সাবিহ্উদ্দিন আহমদ, খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহ্মুদ, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ অনেকেই রেখেছেন মূল্যবান অবদান। প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, প্রফেসর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, মাহফুজ আনাম, ড. আইনুন নিশাত প্রমুখ গিয়েছিলেন দেশের নানা জনপদে লোকজ অভিজ্ঞতা ও টেকসই উন্নয়ন ভাবনা জানার জন্য। গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষ দেশজ অবস্থানপত্র তৈরিতে রেখেছিলেন তাদের মূল্যবান অবদান।      </p>
<p>বাংলাদেশ এবার ধরিত্রী সম্মেলনের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রস্তুত করছে দেশজ অবস্থানপত্র। পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে গত জানুয়ারিতে হয়ে গেছে প্রথম আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক। তবে সে বৈঠকে পরিকল্পনা কমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। পরবর্তী বৈঠকগুলোতে নিশ্চয়ই তারা যোগ দেবেন। সামনে সময় খুব কম। চটজলদি তৈরি করতে হবে দেশজ অবস্থানপত্র। সময়ের অভাবে আগের মতো দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে তা করা সম্ভব হচ্ছে না। নিশ্চয়ই মার্চের মধ্যেই তৈরি হতে হবে সেই অবস্থানপত্র।</p>
<p>বাংলাদেশের অবস্থানপত্রে সামগ্রিক পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নচিত্র নিশ্চয়ই থাকবে। পরবর্তী ২০-৫০ বছরের রূপকল্প নিশ্চয়ই আমরা নতুন রংতুলিতে আঁকব। আগামী পাঁচশালা পরিকল্পনায় কতটা আমরা সবুজ উন্নয়নের ছবি রূপকল্প এঁকেছি তাও উঠে আসবে। জলবায়ুর চোখে কীভাবে আমরা উন্নয়ন দেখব তার আভাস মিলবে। জীববৈচিত্র্যের চশমায় উন্নয়ন বরাদ্দ কীভাবে হিসাব করব তার আদল থাকবে। নিশ্চয়ই ফিরিয়ে আনব আমাদের সবুজ অরণ্য। দেশের উত্তরাঞ্চলের মরুময়তার শঙ্কার কথা থাকতে হবে বাংলাদেশের অবস্থানপত্রে। থাকতে হবে আমাদের নদ-নদীর প্রবাহ ও নব্যতার কথা। আগামী একশ’ বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় নিশ্চয়ই আমরা ফিরে পাব এদেশের শত নদীর পুনর্জাগরণ। নেদারল্যান্ডসের আদলে নিশ্চয়ই ফিরিয়ে আনব হাজার জলাভূমি। ফিরে পাব অথৈ জলরাশি। উপক‚লে জেগে উঠবে নতুন নতুন চর। যেমন জেগেছে ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডসে। রটারডামের মতো ঢাকা কী হবে ক্লাইমেট প্রুফ মহানগরী? রটারডাম মেয়রের মতো কবে ঢাকা পাবে দূরপ্রসারী চিন্তার অমন আলোকিত নগরপিতা? খুলনা, বরিশাল, নোয়াখালী, সিলেট, রাজশাহী আর চট্টগ্রাম কী হবে টেকসই উন্নয়নের নগর মডেল? গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন ধারায় কী আসবে সবুজ মানব উন্নয়ন পাঠ? বাংলাদেশের অবস্থানপত্রে থাকতে হবে তার আদল। এজন্য প্রয়োজন  রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐকমত্য স্থাপন করা। তাহলেই আগামী জুনে রিও+২০ শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশ জোরকদমে দরকষাকষি করতে পারবে। ৪৯টি ¯^ল্পোন্নত দেশের প্রতিনিধিত্বও হয়তো করতে পারবে। কোনো কোনো বিষয়ে ৭৭-জাতিগোষ্ঠীর হয়েও দেনদরবার করার আস্থা অর্জন করতে পারবে।</p>
<p>বাংলাদেশের অবস্থানপত্রে থাকতে হবে সবুজ অর্থনীতির আদল। আঁকতে হবে সবুজ মানব উন্নয়ন নকশা। সবুজ প্রবৃদ্ধির রূপকল্প। সেই সবুজ জাতীয় আয়ের স্বপ্ন দেখবে আমাদের কৃষক। তার শস্যবীজের ওপর থাকবে তার অধিকার। হারিয়ে যাবে না তার সনাতনী ধানের নানান জাত। সেই সবুজ মানব উন্নয়ন নকশায় মাঝি কি পাবে পদ্মার ঢেউয়ে মেশানো তার নিশ্চিন্ত জীবন জীবিকা? রূপালি ইলিশের স্বপ্ন কি জেলে দেখবে সেই সবুজ অর্থনীতির আদলে? নতুন রংতুলিতে বাংলাদেশের মানুষ কি তার সবুজ উন্নয়নের রূপকল্প নিজের মতো করে আঁকতে পারবে বাংলাদেশের অবস্থানপত্রে? বান্দরবানের দোনাই প্রু মারমার চারপাশের পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা কি পৌঁছুবে আমাদের সেই অবস্থানপত্রে? পরিকল্পনাবিদ আর বাজেট বাস্তবায়নকারীদের টেবিলে রাখতে হবে বাংলাদেশের সেই অবস্থানপত্র।</p>
<p>জাতীয় অবস্থানপত্রে নিশ্চয়ই থাকতে হবে সরকারি প্রয়াস সত্তে¡ও ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর চারপাশের নদনদীতে শিল্পবর্জ্য জমে ওঠার কারণ অথৈ সাগরের নোনা জল কীভাবে ধেয়ে আসছে দক্ষিণ-পশ্চিম উপক‚ল জুড়ে, কীভাবে বনভূমি বিরান হচ্ছে, পাহাড় কাটা চলছে, বায়ু, পানি ও মাটি দূষণ ঠেকানো কতটা কঠিন হয়ে পড়ছে এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজতে হবে এ অবস্থানপত্রে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব কতটা প্রকট হচ্ছে বাংলাদেশের নানা জনপদে কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা কীভাবে পড়ছে হুমকির মুখে এসব প্রশ্নের জবাবও থাকতে হবে এতে। সীমিত বাজেটে রাষ্ট্রের পক্ষে এককভাবে এসব হুমকি মোকাবেলা দুরূহ। প্রয়োজন জোরদার সামাজিক আন্দোলন। প্রয়োজন পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জাতীয় ঐকমত্য। দরকার ব্যাপক জনসচেতনতা। দরকার উন্নয়ন অভ্যাসে রেডিকাল পরিবর্তন। আমাদের দেশে পরিবেশ আইনের ঘাটতি নেই। ঘাটতি প্রয়োগের। পরিবেশ সংরক্ষণে আমরা জাতি হিসেবে কীভাবে আরো সক্রিয় হতে পারি তার রোডম্যাপ দেখতে চাই বাংলাদেশের অবস্থানপত্রে। বাংলাদেশ সবুজ ব্যাংকিংয়ের সূচনার মাধ্যমে সবুজ অর্থনীতির পথে এক কদম এগিয়েছে। এখন চাই সবুজ করপোরেট সংস্কৃতি।</p>
<p>এবার রিও +২০ সম্মেলনে বাংলাদেশকে যেতে হবে আটঘাট বেঁধে। সম্পন্ন করতে হবে সব প্রস্তুতি। পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ, পরিবেশ সচিব মেজবাহ্ উল আলম, খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহ্মদ, ড. এম আসাদুজ্জামান, ড. রেজাউল করিম ও ড. আইনুন নিশাতসহ সকলে এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর হয়ে আমাদের কথা বলতে হবে। সেই প্রস্তুতি আমাদের রাখতে হবে।  </p>
<p>বাংলাদেশকে অবশ্যই সব সমঝোতা ও দরকষাকষি বৈঠকে ও প্রস্তুতিমূলক সভায় জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে এবার রিও+২০ শীর্ষ সম্মেলনের আগে চার মাসও সময় হাতে নেই। ধরিত্রী সম্মেলন এবং রিও+১০ জোহানেসবার্গ সম্মেলনের আগে হাতে ছিল বছরেরও বেশি সময়। এবার দরকষাকষিকারীদের জন্য রাখা হয়েছে সবচেয়ে কম সময়। করতে হবে সেই স্বল্পতম সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার। দক্ষতা, যোগ্যতা, দৃঢ়তা ও বুদ্ধিদীপ্ত জোরালো উপস্থাপনার মাধ্যমে আমাদের অবস্থান তুলে ধরতে হবে বৈশ্বিক আলোচনায়। বিশ্ব সম্মেলনে থাকতে হবে চালকের আসনে। দরকষাকষিকালে বের করতে হবে সেই সুবর্ণ সুযোগ। তাহলেই রিও+২০ শীর্ষ সম্মেলনে টেকসই উন্নয়নের নব অগ্রযাত্রার পথ সূচিত হবে। বিশ্ব উন্নয়ন মানচিত্রে তাহলেই বাংলাদেশের অবস্থান হবে সুসঙ্গত। বাংলাদেশের মানুষ জলবায়ুতাড়িত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জন করে টেকসই উন্নয়ন সুনিশ্চিত করতে পারবে। আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক প্রগতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সুস্থ বিকাশ উন্নয়ন ক্ষয় রোধ করতে পারবে। রাজনৈতিক অর্থনৈতিক প্রশ্নে সেই জাতীয় সমঝোতার এখনই সময়। </p>
<p>&nbsp;</p>
<p>কামরুল ইসলাম চৌধুরী : রিও, রিও +১০ ও রিও +২০ প্রস্তুতি সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশগুলো এবং ৭৭-জাতি-গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান সমš^য়কারী এবং চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম ও এশিয়া প্যাসিফিক পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/%e0%a6%a7%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>জাপানে রবীন্দ্র সার্ধশতবর্ষ স্মরণে প্রবীর বিকাশ সরকার</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a0%e0%a6%bf/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%ac/</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a0%e0%a6%bf/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%ac/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 02 Feb 2012 17:27:32 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রবাসের চিঠি]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=352</guid>
		<description><![CDATA[‘টেগোর ১৫০ জাপান এই সংস্থার আমিও একজন সদস্য। শুরু করেছিলাম আমি ও  য়োকোহোমার রবীন্দ্রভক্ত শ্রীমতী ওওবা তামিকো। তারপর অনেকেই এসেছেন। কাওয়াই ৎসুতোমু হচ্ছেন সংস্থার প্রধান। তিনি একজন ব্যবসায়ী। রবীন্দ্রনাথের বন্ধু চিত্রশিল্পী কাম্পো আরাইয়ের নাতি। জুন মাস থেকে শুর“ হয়েছে রবীন্দ্রনাথের ১৫০তম জন্মবর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। চলবে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত। যদিওবা শুর“ হওয়ার কথা ছিল [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/02/Pic-4.jpg"><img class="alignnone size-full wp-image-353" title="Pic 4" src="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/02/Pic-4.jpg" alt="" width="314" height="235" /></a></p>
<p>‘টেগোর ১৫০ জাপান এই সংস্থার আমিও একজন সদস্য। শুরু করেছিলাম আমি ও  য়োকোহোমার রবীন্দ্রভক্ত শ্রীমতী ওওবা তামিকো। তারপর অনেকেই এসেছেন। কাওয়াই ৎসুতোমু হচ্ছেন সংস্থার প্রধান। তিনি একজন ব্যবসায়ী। রবীন্দ্রনাথের বন্ধু চিত্রশিল্পী কাম্পো আরাইয়ের নাতি। জুন মাস থেকে শুর“ হয়েছে রবীন্দ্রনাথের ১৫০তম জন্মবর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। চলবে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত। যদিওবা শুর“ হওয়ার কথা ছিল এপ্রিল মাস থেকে কিন্তু মার্চ মাসের মহাভূমিকম্পের কারণে পিছিয়ে যায়।</p>
<p>১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথের শততম জন্মবর্ষ যে রকম ঘটা করে উদযাপিত হয়েছিল তেমনটি এবার না হলেও সারা বছর অনুষ্ঠানাদির আয়োজন চলছে বিভিন্ন জায়গায়। এখনো অনেক প্রবীণ রবীন্দ্রভক্ত আসছেন রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞদের মুখে প্রিয় কবির কথা, আলোচনা শোনার জন্য। রবীন্দ্রনাথের যারা বন্ধু ও শুভাকাক্সক্ষী ছিলেন তাদের  কোনো কোনো  উত্তরপুর“ষও উপস্থিত হচ্ছেন। যাদের বয়স এখন ৫০ থেকে ৯০-এর মধ্যে। সম্ভবত এ রকম ঘটনা জাপান ছাড়া অন্য কোনো দেশে ঘটছে বলে জানা নেই। জাপানিরা যে আসলেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথকে ভালবাসতেন, এটা তারই প্রমাণ। রবীন্দ্রনাথের বন্ধু জুডো প্রশিক্ষক জিননোসুকে সানো, যিনি ১৯০৫ সালে শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন জুডো শেখাতে, তার কন্যা যার বয়স প্রায় ১০০ বছর ছুঁই ছুঁই করছে তিনিও এসেছেন। বাবা ও রবীন্দ্রনাথ সম্পর্ক নিয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেছিলেন গতবার অর্থাৎ ২৩ সেপ্টেম্বর (২০১১) তারিখে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে। এবারো উপস্থিত হয়েছেন। উল্লেখ্য, জিননোসুকে সানো ১৯২৫ সালে জাপানি ভাষায় রবীন্দ্রনাথের ‘গোরা’ উপন্যাসটি অনুবাদ করেন। তিনি বাংলা জানতে, পড়তে এবং লিখতে জানতেন বলে মনে হয়। তাই মূল বাংলা থেকে গোরা অনুবাদ করেছিলেন ধারণা করা যায়।</p>
<p>এবার গত ২২ অক্টোবর (২০১১) অনুষ্ঠিত হল বিশ্ববিখ্যাত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেইয়ো গিজুকু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রতিষ্ঠানের কিতামোন মিলনায়তনে একটি সিম্পোজিয়াম এবং রবীন্দ্র কবিতার অনুবাদ ও সংগীত। রবীন্দ্রনাথ ১৯১৬ সালে যখন জাপানে প্রথম সফরে আসেন তখন টোকিও ইম্পেরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেইয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি বক্তৃতা দেন ওই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ‘ন্যাশনালিজম’ নিয়ে। বিংশ শতাব্দীর পৃথিবী তখন ন্যাশনালিজমের অগ্নিঝড়ে উন্মাতাল। এই উগ্র ন্যাশনালিজমের জন্ম দিয়েছে ইউরোপ মূলত ফরাসি বিপ্লবের পথ ধরে। বলাবাহুল্য, এটা হিতে বিপরীত হয়েছিল ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোর জন্য, যেমন ভারতবর্ষে। জাপানেও উগ্র জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটে। তবে ইংরেজি ন্যাশনালিজম আর এশিয়া তথা প্রাচ্যের ন্যাশনালিজম কখনই এক বিষয় ছিল না। ইউরোপ উগ্র ন্যাশনালিজমের উত্থান ঘটিয়েছিল পররাষ্ট্র দখল এবং সাম্রাজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে আর প্রাচ্যে ন্যাশনালিজমের উত্থান ঘটেছিল এশিয়া মহাদেশ থেকে শ্বেতাঙ্গ সাম্রাজ্যবাদকে হটানোর তাগিদে।</p>
<p>রবীন্দ্রনাথ প্রথম দিকে ন্যাশনালিস্ট ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে এর সুফল ও কুফল বিবেচনা করে সেখান থেকে সরে আসেন প্রকাশ্যে। কিন্তু অন্তরের দিক দিয়ে তিনি ছিলেন আমৃত্যু প্রকৃত দেশদরদি। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের সময় তার উদয়াস্ত দেশদরদি কর্মতৎপরতার কথা সর্বজনবিদিত।</p>
<p>জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এ মেসেজ ফ্রম ইন্ডিয়া টু জাপান’ বক্তৃতায় তিনি জাপানিদের উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সমরবাদ সম্পর্কে তীব্র কটাক্ষ এবং সমালোচনা করেছিলেন। এর ফলে জাতীয়তাবাদীরাও তার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন; শীতল হয়ে উঠেছিলেন তার প্রতি অনেকেই। তারপরও তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি, আরো চারবার তিনি এই দেশে বহির্বিশ্বে যাওয়া-ফেরার পথে আতিথেয়তা গ্রহণ করেছিলেন। আজকের প্রেক্ষাপটে মনে হয় রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একজন ভালো ক‚টনীতিক। এরপর এই সফরের সময় তিনি কেইয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ন্যাশনালিজম নিয়ে বক্তৃতা করেন ‘স্পিরিট অব জাপান’ নামে। সেখানে তিনি বেশ নমনীয় হন, প্রশংসা করেন জাপানি জাতির স্বাতন্ত্র্যবাদিতার জন্য। এবার জাপানিরা তার সে বক্তৃতায় খুশি হন। রবীন্দ্রনাথ জাপানের স্বতন্ত্র জীবনব্যবস্থা, চিন্তা-ভাবনা, সংস্কৃতিচর্চা, শিল্পকলা, ক্রীড়া-বিনোদনের প্রশংসা করেন, তাতে জাপানিরা নমনীয় হন।</p>
<p>এবারের সিম্পোজিয়ামে তিনজন বক্তা বক্তৃতা দিয়েছেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যপ্রিয় রবীন্দ্রভক্ত বিশিষ্ট জাপানি অধ্যাপক ও গবেষক উসুদা মাসাইউকি, অধ্যাপিকা ও গবেষক নিওয়া কিওকো এবং কেইয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং জাপানে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত আফতাব শেঠ। অধ্যাপক উসুদা রবীন্দ্রনাথের ন্যাশনালিজম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। অধ্যাপিকা নিওয়া চমৎকার আলোচনা করেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, পরবর্তীকালে ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক এবং জাপানের প্রথম আন্তর্জাতিক কবি রবীন্দ্রনাথের ঘনিষ্ঠ বন্ধু নোগুচি য়োনেজিরো এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পর্ক নিয়ে। প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত ও লেখক আফতাব শেঠ তার বক্তৃতায় রবীন্দ্রনাথকে ‘রাষ্ট্রদূত’ হিসাবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ওকাকুরা ও রবীন্দ্রনাথ একে অপরের ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। জাপানের নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক কাওয়াবাতা ইয়োশিনারি কৈশোরে রবীন্দ্রনাথের বক্তৃতা শুনে এতই উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন যে সাহিত্য সাধনায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করে পরবর্তীকালে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।</p>
<p>সাড়ে তিন ঘণ্টার এই সিম্পোজিয়ামের শেষে ছিল হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশভিত্তিক বার্ষিক ‘সোওকা (উজানযাত্রী)’ সাময়িকীর সম্পাদক তোওগাওয়া মাসাহিকো প্রদত্ত তিন জনের বক্তৃতার ওপর পর্যালোচনা। এরপর শ্রোতাদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জাপান ও রবীন্দ্রনাথ, ওকাকুরা ও রবীন্দ্রনাথ, নোগুচি-রবীন্দ্রনাথ-কেইয়ো বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্ক এবং বিশ্ব রাজনীতি বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বক্তারা। প্রশ্নপর্বে অংশগ্রহণ করেন ওকাকুরা তেনশিনের প্রপৌত্র অধ্যাপক ও গবেষক ওকাকুরা তাকাশি, দৈনিক আসাহিশিম্বুন পত্রিকার প্রাক্তন সাংবাদিক বর্তমানে রাইশাওয়ার সেন্টার আমেরিকার অতিথি গবেষক তাকেউচি ইউকিফুমি, বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ছাত্র রবীন্দ্রভক্ত অধ্যাপক তোমিও মিজোকামি, ওওকুরা আধ্যাত্মিক গবেষণা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ গবেষক হিরাই সেইজি প্রমুখ।</p>
<p>রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি পুরনো গ্রন্থ যেমন ‘গোরা’র বাংলা ও জাপানি অনুবাদ, ‘গীতাঞ্জলি’র প্রথম ইংরেজি অনুবাদ, ‘ক্রিসেন্ট মুন’, ১৯১৬ সালে প্রদত্ত রবীন্দ্রনাথের উপরোক্ত দুটি বক্তৃতার পান্ডুলিপি, নোবেল পুরস্কারের সংবাদ ইত্যাদি প্রদর্শিত হয়। এছাড়া আমার সংগৃহীত ৩৮টি পুরনো দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনীও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই ছবিগুলো জাপান ও রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কিত মহাযুদ্ধপূর্বে গৃহীত যার অধিকাংশই কম বা একেবারেই অপ্রকাশিত। দর্শকরা আগ্রহভরে সেগুলো উপভোগ করেছেন। কী রকম গভীর সম্পর্ক ছিল জাপানের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের, এই ছবিগুলোই তার বড় প্রমাণ, যা বৃহত্তর বাঙালি জানে না বললেই চলে।</p>
<p>এই অনুষ্ঠানে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি প্রিয় লেখক, অনুবাদ ও গবেষক অধ্যাপক উসুদা মাসাইউকির সঙ্গে সাক্ষাৎ। জাপানে আগমনের পর থেকে তার কথা জেনেছি। তার বাংলাসাহিত্য এবং বাংলাদেশ-প্রীতির কথা শুনে আসছি বহু বছর ধরে। বাংলাদেশে গিয়ে গবেষণাও করেছেন একাধিকবার। লিখেছেন ‘মোত্ত শিরিতাই বাংলাদেশু’ তথা ‘আরো জানতে চাই বাংলাদেশ’ নামে বিখ্যাত গ্রন্থ। স্বদেশী যুগের বীরপুর“ষ মহাত্মা আশ্বিনীকুমার দত্তকে নিয়ে গবেষণার জন্য বরিশালেও ছুটে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশে প্রথম গিয়েছিলেন ১৯৭৩ সালে। তার সঙ্গে ফোনে কথাও হয়েছে আমার একাধিকবার। তার লিখিত গ্রন্থাদি পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে। তার বিদূষী পত্নী উসুদা ওয়াকাকো ‘ইন্ডিয়া ৎসুশিন’ নামে একটি বুলেটিন বহু বছর ধরে প্রকাশ করে আসছেন। সেটাও কয়েক বছর নিয়মিত পেয়েছি। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটেনি আমার। আমার স্ত্রী নোরিকো মিয়াজাওয়া উসুদা স্যারের কয়েকটি বাংলা ভাষার ক্লাসে উপস্থিত ছিল। এবার স্যারের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। মনে হলো অনেক দিনের ঘনিষ্ঠ আমরা। পাশাপাশি বসে মাঝেমাঝে বাংলা, জাপানিতে নানা আলাপ করলাম। সাড়া জাগানো ‘কল্যাণী’ সাময়িকীর কথা জিজ্ঞেস করলে উত্তরে বললেন, ‘এটা শুর“ করেছিলেন বাংলা ভাষা বিশেষজ্ঞ এবং তার বাংলা ভাষার শিক্ষক অধ্যাপক ড. ৎসুয়োশি নারা।’ কাগজটির কথা তিনি প্রথম জানেন যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ফিরে এসে তিনিও এর সম্পাদনা ও প্রকাশনার সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন। অনিয়মিত হলেও বাংলা ও হিন্দি সাহিত্য, ভারতীয় সংস্কৃতি, ইতিহাস, লোকসাহিত্য বিষয়ক সাময়িকীটি এখন সম্পাদনা করছেন উসুদা স্যার নিজেই। বললেন, ‘লেখা সংগ্রহ করা যেমন কঠিন, তেমনি প্রকাশ করাও কঠিন।’ এই পর্যন্ত ১৮টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। আমার সংগ্রহে রয়েছে দুটি পুরনো সংখ্যা। স্যারের সংগ্রহেও অনেক সংখ্যা নেই বলে জানালেন। তার হাতে দেখলাম সদ্য প্রকাশিত মূল বাংলা থেকে জাপানি ভাষায় তারই অনূদিত রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’ গ্রন্থের একটি কপি। হাতে নিয়ে দেখলাম অসাধারণ অনুবাদ করেছেন! এই নিয়ে ‘শেষের কবিতা’ জাপানি ভাষায় দুবার প্রকাশিত হলো। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধপূর্বে জাপানে আশ্রিত মহাবিপ্লবী রাসবিহারী বসু তার এক জাপানি বন্ধুর সঙ্গে যৌথভাবে জাপানিতে অনুবাদ করেছিলেন বলে জানা যায়।</p>
<p>স্যারকে নেইমকার্ড এবং সদ্য প্রকাশিত আমার <em>Rabindranath Tagore: India-Japan Cooperation Perspectives</em> গ্রন্থটি দিলাম, বিনিময়ে বললেন, ‘আমি অবসর তো নিয়েছি তাই কার্ড নেই। তবে আমি আপনাকে মেইল করব।’ সেই মেইল পেলাম সেদিন বাসায় পৌঁছার কয়েক ঘণ্টা পরেই। আমাকে লিখেছেন, ‘গ্রন্থটি অনেক তথ্যের সমাবেশ। সহজ ইংরেজিতে লেখা হয়েছে, ফলে বুঝতে কষ্ট হচ্ছে না। বিশেষ করে রবীন্দ্রভক্ত কুনিয়োশি ওবারা এবং ওওকুরা কুনিহিকো সম্পর্কে লিখিত তথ্যগুলো আমার কাজে লাগবে। নভেম্বর মাসের ৪ তারিখে রবীন্দ্রনাথের ১৫০তম জন্মবর্ষ উপলক্ষে ওওকুরা সেইশিন বুনকা কেনকিউজো তথা ওওকুরা আধ্যাত্মিক-সাংস্কৃতিক গবেষণা কেন্দ্র কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে আমার বক্তব্যে আপনার গ্রন্থ থেকে কিছু তথ্য ব্যবহার করব, তা আগাম জানিয়ে রাখলাম।’</p>
<p>এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ এই মুহূর্তে আর কী থাকতে পারে! অজস্র জানাই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা উসুদা সেনসেইকে! </p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a0%e0%a6%bf/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%ac/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>মফস্বলের জীবন নিয়ে  আরো কিছু কথা  জাহেদুল আলম</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0/%e0%a6%ae%e0%a6%ab%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8b-%e0%a6%95%e0%a6%bf/</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0/%e0%a6%ae%e0%a6%ab%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8b-%e0%a6%95%e0%a6%bf/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 02 Feb 2012 17:22:53 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[ফিচার]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=350</guid>
		<description><![CDATA[প্রথমে সাপ্তাহিক ২০০০ ও ইমতিয়ার শামীমকে ধন্যবাদ ৩০ ডিসেম্বর ২০১১ সংখ্যার ‘বদলে গেছে মফস্বলের জীবন’ শীর্ষক প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের জন্য। আমি এ প্রতিবেদনে উপস্থাপিত বক্তব্যের সঙ্গে আরো কিছু কথা যোগ করছি। মূলত আশির দশকের প্রথম দিক থেকে মফস্বলের শিক্ষিত, সংস্কৃতিমনা-ক্রীড়ামোদী, পরোপকারী, শিক্ষানুরাগী, সংগঠক ইত্যাদি সুকুমারবৃত্তির পরিচায়ক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ নিজেদের এলাকায় কোণঠাসা হতে থাকেন। আশির দশকের [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>প্রথমে সাপ্তাহিক ২০০০ ও ইমতিয়ার শামীমকে ধন্যবাদ ৩০ ডিসেম্বর ২০১১ সংখ্যার ‘বদলে গেছে মফস্বলের জীবন’ শীর্ষক প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের জন্য। আমি এ প্রতিবেদনে উপস্থাপিত বক্তব্যের সঙ্গে আরো কিছু কথা যোগ করছি।</p>
<p>মূলত আশির দশকের প্রথম দিক থেকে মফস্বলের শিক্ষিত, সংস্কৃতিমনা-ক্রীড়ামোদী, পরোপকারী, শিক্ষানুরাগী, সংগঠক ইত্যাদি সুকুমারবৃত্তির পরিচায়ক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ নিজেদের এলাকায় কোণঠাসা হতে থাকেন। আশির দশকের মাঝামাঝি ও শেষভাগে মফ¯^লের শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত সমাজ নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করে এবং নম্বইয়ের দশকে এই সমাজ পুরোপুরি স্থানান্তরিত হয় রাজধানী ও অন্যান্য মহানগরে।</p>
<p>পঁচাত্তরে মুজিব হত্যা এবং পরবর্তী কয়েক বছরে পরপর দুবার সামরিক শাসনে সামরিকতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণাধীন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাবে গড়ে ওঠে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা চাটুকার, মোসাহেব ও রাজনৈতিক হালুয়া-রুটি অন্তে¦ষণকারী ব্যক্তিদের তত্তাবধানে নীতি আদর্শহীন ভুইফোঁড় এক সমাজ। এই সময়ে হঠাৎ রাজনীতিক হয়ে ওঠা ও সরকারি ব্যাংক বা সংস্থার ঋণগ্রহণকারী ঋণখেলাপি ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ছিল সেনাশাসকদের মদদে যুদ্ধাপরাধী ও দেশদ্রোহীদের আস্ফালন। এদের ছত্রছায়ায় উত্থান ঘটে মৌলবাদের। আশির দশকের প্রারম্ভে ও মাঝামাঝি সময়ে থানাকে অপরিকল্পিতভাবে উপজেলা করে ও উপজেলকেন্দ্রিক আদালত স্থাপনের কারণে সৃষ্টি হয় আরো একটি সমাজÑ নব্য দালাল-টাউট-মামলাবাজ সমাজ। এভাবে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ অপমানিত, অসহায় ও বিতাড়িত হয়। নব্বইয়ের দশকে এসে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আস্থাহীনতা, শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্রের ঝনঝনানি, কালো টাকা ও কুৎসিত বিত্তশালীদের উত্থান মফস্বলের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজকে স্থানান্তরিত ও বিতাড়িত করতে বিরাট ভ‚মিকা রাখে।</p>
<p>শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের একটি অংশও নিজেদের সমাজ ও পারিপার্শ্বিকতার বিপক্ষে কাজ করেছে। এই অংশ যেনতেনভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখলপরবর্তী ভ‚মিকা রেখেছে নিজ সমাজ নির্মূলে। সেটা স্পষ্ট হয়, যখন দেখা যায়, তারা তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষিত সমাজ ও তরুণ যুবগোষ্ঠীর পরিবর্তে অশিক্ষিত, উচ্ছৃক্সখল, অস্ত্রধারীদের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিতে থাকে ও উৎসাহিত করে। আরো একটি বিষয়, আগে সরকারি-বেসরকারি স্থানীয় কর্মকর্তারা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করতেন কর্মস্থলে তথা মফ¯^ল এলাকায়। তাদের সন্তানরা পড়ালেখা করত স্থানীয় স্কুল-কলেজে। ফলে স্থানীয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ তথা মফস্বলের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ ও সেখানে কর্মরত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবার-পরিজন মিলে শিক্ষা-ক্রীড়া-সংস্কৃতিতে সুস্থ প্রতিযোগিতা ও ভারসাম্য রাখার ক্ষেত্রে ভ‚মিকা রাখত। আশির দশক থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবার-পরিজন কর্মস্থলে না থেকে রাজধানী ও মহানগরীগুলোতে রাখতে শুরু করেন এবং ওইসব কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহের প্রয়োজনে অনিয়মতান্ত্রিকতা ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়তে থাকেন। এ কারণেও মফ¯^লের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ কোণঠাসা হয়ে পড়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বেগবান করা, ক্রীড়াঙ্গন সরব রাখা এসব ছিল মফ¯^লের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত আবশ্যিক কর্তব্য। তাদের এসব কর্তব্যকর্মের ওপর আশি ও নব্বইয়ের দশকে প্রশাসনযন্ত্রের খবরদারি-নজরদারির ব্যবস্থা করে সামরিক ও বেসামরিক শাসকগোষ্ঠী। জবাবদিহিতাহীন দুর্নীতিপরায়ণ এসব কর্মকর্তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায় মফস্বলগুলোর সদ্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত ভুইফোঁড় টাউট শ্রেণী। এভাবেও মফস্বলের মধ্যবিত্ত সমাজ পরাজিত হয়।</p>
<p>আশির দশক থেকে জাতীয় দিবসগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবহেলার সঙ্গে পালন করা শুরু হয়। ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরি, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়া, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা। এ দিবসগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে বন্ধ রাখার ব্যবস্থাও করা হয়। মফস্বলের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ যে শিক্ষিত, সংস্কৃতিমনা, ক্রীড়াবিদ, সংগঠক ও রুচিশীল তরুণ সমাজের পৃষ্ঠপোষকতা করত, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা আদর্শহীন ও দেশপ্রেমহীন এই তরুণ-যুব সমাজকে তারা আর সমাজ দেশ-সমাজ-মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করতে পারেনি।</p>
<p>ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ সবকিছুতেই ছিল মফ¯^লের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের ভ‚মিকা। কিন্তু গত চল্লিশ বছরে স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির চেয়ে সামরিকতন্ত্রমুখী গণতন্ত্রবিমুখ স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিই দেশ শাসন করেছে বেশি সময় ধরে। এই প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির মূল ভয় ছিল নগর-মফ¯^লে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজকে। এই শক্তির তত্তাবধানে গড়ে ওঠে নব্য ধনিক শ্রেণী। যারা এবং যাদের পরবর্তী প্রজন্ম ধার ধারে না কোনো আদর্শ, নীতি ও দেশপ্রেমের। একা মধ্যবিত্ত সমাজ আর কত সংগ্রাম করতে পারে! তারপরও এখনো বাঙালি সংস্কৃতি, শিক্ষা, ক্রীড়া, চিন্তাচর্চা ইত্যাদি অগ্রসর মধ্যবিত্ত শিক্ষিত সমাজের বদৌলতে। তবে মফস্বলের শিক্ষিত সংস্কৃতিদীপ্ত মধ্যবিত্ত সমাজ আজ বিলুপ্তির পথে।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0/%e0%a6%ae%e0%a6%ab%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8b-%e0%a6%95%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>দায়িত্বহীনতা রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য বিপজ্জনক  ফজলুর রহমান</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%93-%e0%a6%9c/</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%93-%e0%a6%9c/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 02 Feb 2012 17:20:25 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রতিবেদন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=348</guid>
		<description><![CDATA[ ‘পুলিশের নিষেধাজ্ঞায় বিরোধী দল তাদের পূর্বনির্ধারিত ঢাকায় গণমিছিল কর্মসূচি একদিন পিছিয়ে দিয়েছে’ এ ছিল ২৯ জানুয়ারি সংবাদপত্রগুলোর অন্যতম সংবাদ। দেশে কি জরুরি অবস্থা চলছে? নাকি সামরিক শাসন? জবাব ‘না’ হলে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে সরকারের এমন নিষেধাজ্ঞা কেন? বিরোধী পক্ষ তো অনেক আগেই রাজধানীতে ‘গণমিছিল’ কর্মসূচি ডেকেছে। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এমন কী দায় [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p> ‘পুলিশের নিষেধাজ্ঞায় বিরোধী দল তাদের পূর্বনির্ধারিত ঢাকায় গণমিছিল কর্মসূচি একদিন পিছিয়ে দিয়েছে’ এ ছিল ২৯ জানুয়ারি সংবাদপত্রগুলোর অন্যতম সংবাদ। দেশে কি জরুরি অবস্থা চলছে? নাকি সামরিক শাসন? জবাব ‘না’ হলে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে সরকারের এমন নিষেধাজ্ঞা কেন? বিরোধী পক্ষ তো অনেক আগেই রাজধানীতে ‘গণমিছিল’ কর্মসূচি ডেকেছে। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এমন কী দায় পড়ল একই দিন সমাবেশ আয়োজনের? তাদের  ভয়টা কোথায়? উদ্দেশ্যইবা কী? বিরোধী দলের সঙ্গে এমন সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জড়িয়ে যাচ্ছে কেন তারা? ‘তবে এসবের পরিণতি শুভ হবে না’ জোর গলায় বলেছেন বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া। পরিস্থিতি শুভ হয়নি। ঢাকায় গণমিছিলের কর্মসূচি পিছালেও ওইদিন সারাদেশে বিক্ষোভ সংঘর্ষ হয়েছে, জ্বালাও পোড়াও হয়েছে। তিন বিএনপি নেতাকর্মীসহ একজন নিরীহ রিকশাচালকের প্রাণ গেছে পুলিশের গুলিতে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিযোগ ‘বিএনপি সেনাবাহিনীতে অঘটন ঘটিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেছে’। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ আর কতদিন?</p>
<p>অসহিষ্ণু রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান চেষ্টা সবকিছু মিলিয়ে আবারো বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমে আলোচিত বাংলাদেশ। ব্রিটিশ সাময়িকী দি ইকোনমিস্ট তাদের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনীতিকে ‘অশান্ত আবাস’ বলে আখ্যা দিয়েছে। চারদিকে সঙ্কট। কোনটা রেখে কোনটা সামলাবে সরকার? বিরোধী দলের  সমাবেশ বা জনসভার স্থান। পুলিশ দিয়ে ঘেরাও করে, বিরুদ্ধমত রোধ করলে পরিণতি শুভ হয় না এটা আওয়ামী লীগ এবং তার মিত্ররা ভালো করেই জানে। গণতন্ত্রের জন্য  সুদীর্ঘ সংগ্রামের অভিজ্ঞতা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এমন সংগ্রামে রাজপথে আরো ছিল সিপিবি, জাসদ, বাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি। মহাজোট সরকারের বড় শরিক সাবেক সামরিক জান্তা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দল জাতীয় পার্টিও জানে জনতার দাবি উপেক্ষার ফল। ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে এরশাদকে। ক্ষমতাসীনদের বোঝা উচিত তাদের জন্য বিএনপির চেয়েও বড় বিপদ জামায়াত আর তাদের উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।</p>
<p>তবে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে একটা ভালো সমীকরণ করেছেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তার ভাষায়Ñ বিএনপি এখন জামায়াতের পেটে। এখন মূল দল জামায়াত। বিএনপি তাদের সহযোগিতা করছে। হিযবুত তাহ্রীর বলুন, আর যাই বলুন, এগুলো সবই জামায়াতের। ধর্মান্ধদের কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান চেষ্টা, সরকার উৎখাত, গণতন্ত্র বিপন্ন করা, বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করাসহ অনেক আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জাতীয় সমাবেশ থেকে। ২৭ জানুয়ারির ওই সমাবেশে থেকে সরকারকে জঙ্গি-সাম্প্রদায়িক শক্তি সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়া হয়। সমাবেশে সিপিবি নেতারা বলেন, জঙ্গি-সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানে দেশের সামনে মহাবিপদের আশঙ্কা রয়েছে। বিএনপির বিরুদ্ধে সরকারের গদির লড়াইয়ের চেয়ে ওই মহাবিপদ মোকাবেলা জরুরি বলে মনে করেন তারা।</p>
<p>সিপিবির আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়ার মতো পরিস্থিতি দেশে নেই। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণে সক্রিয় অনেক মহল। বিএনপি তো আছেই তার সঙ্গে রয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচার চলছে একাত্তরে সংঘটিত অপরাধের জন্য।  জামায়াতের দ্বিতীয় সারির নেতারা ¯^াধীন বাংলাদেশে সামরিক-বেসামরিক ছত্রছায়ায় থেকে ঘোর বিপদে টিকে থাকার কৌশল শিক্ষা নিয়েছে। অর্থবলে তারা আজ অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। দেশে-বিদেশে তাদের মিত্র অনেক। বিএনপির রোডমার্চ, জনসভায় এখন মূল জনবল হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াত। বিএনপির ওপর ভর করে জামায়াত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। ২৮ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম বুলবুল এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গণমিছিলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিরোধী দলের আন্দোলন সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করা গেলেও সরকারের পতন ঠেকানো যাবে না। এর মাধ্যমে সরকার বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকারই শুধু হরণ করেনি; নিজেদের ফ্যাসিস্ট ও বাকশালী চেহারা আবারো জাতির সামনে প্রকাশ করেছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>রক্ষা হলো না! চারজনের প্রাণহানি</p>
<p>২৯ জানুয়ারি সম্ভাব্য সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু হয়নি। ঢাকায় বিরোধী দলের কর্মসূচি না থাকলেও ওইদিন সারাদেশে বিক্ষোভ করেছে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ সামাল দিতে গুলি চালায় পুলিশ। চাঁদপুর ও ল²ীপুরে নিহত হয় চারজন। আহত হয়েছে চার শতাধিক। রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া। পরিস্থিতি বিবেচনা করে গণমিছিল কর্মসূচি একদিন পিছিয়ে দিয়েছেন। পরিস্থিতি বলছে বলটা বিরোধী দলের হাতে।  এর আগে দেশের প্রধান দুই শক্তির পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচির ফলে সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কায় ঢাকা মহানগর পুলিশ ২৮ জানুয়ারি রাজধানীতে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের ঘোষণা দেয়। এরপরই ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগও তাদের জনসভা কর্মসূচি স্থগিত করে। সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকে ২৯ জানুয়ারির পরিবর্তে পরের দিন ঢাকা ও চট্টগ্রামে গণমিছিল কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেন।</p>
<p>তার আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাজধানীতে সব ধরনের সভা-সমাবেশসহ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হয়। বিকালে এই নিষেধাজ্ঞা জারির পর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় এর পরিণতি শুভ হবে না। সন্ধ্যার পর ঢাকায় গণমিছিলের সময়সূচি পরিবর্তন করা হলেও দেশজুড়ে পূর্ব-ঘোষিত চার দলের ওই দিনের গণমিছিল কর্মসূচি অপরিবর্তিত রাখা হয়।</p>
<p>বিএনপি রাজধানীতে গণমিছিল করার কর্মসূচি দেয় ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের জনসভা থেকে। আর ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা আহবান করা হয়। এ নিয়েও চলছিল উত্তেজনা। উত্তেজনা ছড়াচ্ছে ১২ মার্চ বিএনপির ডাকা ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচিকে ঘিরে। ওইদিন পল্টনে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ ডেকেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। ১২ মার্চে বিরোধী দল আর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরেও কি থাকবে পুলিশি নিষেধাজ্ঞা? এখন থেকে কি এভাবেই রোধ করা হবে বিরুদ্ধমত, রাজপথের আন্দোলন, যেমনটি করা হলো ২৮ জানুয়ারি। এদিন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃক্সখলার স্বার্থে ২৯ জানুয়ারি রোববার সকাল ছয়টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত রাজধানীতে কোনো ধরনের মানববন্ধন, সভা, মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ, গণ-অবস্থান করা যাবে না। পাল্টাপাল্টি গণমিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি আহবান করায় সংঘর্ষ এড়াতে ও শান্তি শৃক্সখলা বজায় রাখতে মেট্রোপলিটন অ্যাক্টের (অর্ডিনেন্স নং ররর/৭৬) ২৮ ও ২৯ ধারা অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।</p>
<p>পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার ২৭ জানুয়ারি (শনিবার) বিকেলে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নাশকতার আশঙ্কা উপেক্ষা করা যায় না। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।</p>
<p>সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগ তাদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। বিএনপিও তাদের কর্মসূচি পিছিয়ে দেয় একদিন।  ২৮ জানুয়ারি রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যেহেতু সরকার মনে করে একই দিনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মসূচির কারণে সংঘর্ষ হতে পারে সেজন্য ২৯ জানুয়ারি রোববার ১৪৪ জারি করেছে পুলিশ। তাই আমাদের কর্মসূচি একদিন পিছিয়ে দিয়েছি। আমাদের এই সহনশীলতাকে সরকার কোনোভাবেই যেন দুর্বলতা মনে না করে। আমরা সাংঘর্ষিক কর্মসূচিতে বিশ্বাস করি না। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। গণতন্ত্রের মৌলিক নীতিগুলোতে বিশ্বাস করি। সেজন্য গণমিছিলের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। আশা করি সরকার তাতে সহায়তা করবে।’ সরকার সহায়তা দিয়েছে শর্তসাপেক্ষে ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় গণমিছিলের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। তবে মহানগর আওয়ামী লীগও পথ ছাড়েনি। তারা ওইদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে জনসভা করে। পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেশ অনিবার্য সংঘাতের দিকেই যাচ্ছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>বিএনপি শেষ পর্যন্ত দায়িত্বশীল থাকতে পারেনি</p>
<p>প্রধান বিরোধী দল বিএনপি শেষ পর্যন্ত দায়িত্বশীল থাকতে পারল না। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ‘সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র’ নস্যাৎ করে দিয়েছে সেনাবাহিনী। ঘটনা নিয়ে দেশে বিদেশে আলোচনার ঝড় বইছে। ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি হয়েছে। ‘ব্যর্থ অভ্যুত্থান’ পরিকল্পনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার এবং শাস্তির জোর দাবি উঠেছে। সরকারের বিরুদ্ধে সব ধরনের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রাজপথে মানববন্ধন করেছেন সংবাদকর্মীরা। পুরো ঘটনায় ২২ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত অত্যন্ত দায়িত্বশীল প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগের আঙুল তাদের দিকে উঠলেও এদিন বিএনপি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল জোরালোভাবে।</p>
<p>সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান চেষ্টার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে তা প্রকাশের দাবি জানায় দলটি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিভেদ-বিভাজন নয়, ঐক্য ও শৃক্সখলাই আজ সময়ের দাবি। পারস্পরিক দোষারোপ ও ব্লেম  গেম আমাদের কাউকে কোনো সাফল্য এনে দেবে না বরং পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে সাহায্য করবে।’ ওই সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর ভ‚মিকার প্রশংসা করেন তিনি। বলেন, ‘আপনারা যে কোনো মূল্যে ঐক্য, সংহতি, শৃক্সখলা বজায় রাখুন। সতর্ক, সচেতন ও সজাগ থাকুন। যে কোনো উস্কানির মুখে হঠকারিতা পরিহার করুন। জাতীয় ইতিহাসের এক চরম সন্ধিক্ষণে আমরা উপনীত হয়েছি। ভেতরে শত্রুর গুপ্তচররা ঢুকে যেন কোনো ধরনের নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। কোনো পাতা ফাঁদে পা দেয়া যাবে না’।</p>
<p>এ ছিল বিএনপির ২২ জানুয়ারির অবস্থান। দেশ, জাতি, আর রাজনীতির সঙ্কটকালে একটি রাজনৈতিক দলের কাছে এমন বিবেচনাপ্রসূত ভ‚মিকাই বাঞ্ছনীয়। কিন্তু বিএনপি সেই অবস্থানে স্থির থাকতে পারেনি। ২৪ ঘণ্টায় তারা অবস্থান পাল্টেছে। যে ‘ব্লেম গেম’ খেলতে বারণ করেছেন মির্জা ফখরুল সেই গেম ২৩ জানুয়ারি তিনিই খেললেন। এদিন বিকেলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘বিএনপি কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিল না। প্রতিটি সেনা অভ্যুত্থানের সঙ্গে আওয়ামী লীগই জড়িত ছিল। ’৭৫ সালে শেখ মুজিব হত্যা, ’৮১ সালে জিয়াউর রহমানকে হত্যা, ’৮২ সালে নির্বাচিত সরকার হটিয়ে সামরিক শাসন, ২০০৭ সালের অবৈধ অসাংবিধানিক সরকার গঠনে আওয়ামী লীগের  লোকরাই জড়িত ছিল।’</p>
<p>আগের দিন তিনি যেখানে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেন জোর দিয়ে, পরের দিনই তিনি সরকারের সমালোচনায় মুখর হলেন। এমনকি সরকারকে আখ্যা দিলেন ‘ভয়ঙ্কর স্বৈরাচারী’ হিসেবে। তার ভাষায়Ñ ‘আমরা ভয়ঙ্কর একটি ¯ৈ^রাচারী সরকাররের সঙ্গে লড়াই করছি। এই সরকার দেশ, জনগণ, মাটি ও মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। মানুষের মধ্যে এদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ঘৃণার সৃষ্টি করতে হবে।’</p>
<p>গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সরকার থাকবে। থাকবে কার্যকর, শক্তিশালী বিরোধী দলও। ভিন্নমত জোরালো হবে এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এই ছন্দের পতন হলেই অন্ধকারের শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এ সত্য আওয়ামী লীগ যেমন জানে তেমনি জানে বিএনপিও। গণতন্ত্র বিপন্ন হলে রাজনীতিবিদদেরই সবচেয়ে বেশি খেসারত দিতে হয়। তারপরও তারা দায়িত্বশীল আচরণ করেন না যা জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%93-%e0%a6%9c/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>

