ট্রেনের ভাড়া
এবং দুর্নীতি
সরকার দেড় যুগ পর ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে ট্রেন যাত্রীদের জন্য সুখবর নয়। রেলওয়ের লোকসান ঠেকাতে এ ভাড়া বাড়ানো ছাড়া কর্তৃপক্ষের উপায় ছিল না। অথচ দুর্নীতিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। রেলওয়েতে চুরি, অপচয়, দুর্নীতি ইত্যাদি তো রয়েছেই, তারপর যে হারে রেলওয়ের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি হাতছাড়া হচ্ছে তা রোধ করা না হলে একদিন রেলওয়ের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। উল্লেখ্য, আন্তঃনগর ট্রেনসহ কোনো ট্রেনে সেবার মান বলে কিছু নেই বরং দুর্ভোগে ট্রেনযাত্রীরা অতিষ্ঠ। বিনা টিকেটে ট্রেন ভ্রমণে একশ্রেণীর যাত্রীদের উৎসাহিত করছে ট্রেনের গার্ড, এটেন্ডেন্ট, সুপারভাইজাররা।
এমতাবস্থায় গরিব, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত ট্রেনযাত্রীদের কথা বিবেচনা করে ট্রেন ভাড়া না বাড়িয়ে রেলওয়ের দুর্নীতি, চুরি এবং সম্পদ লুট রোধ করার মাধ্যমে রেলওয়ের আয় বাড়ানোর অনুরোধ করছি।
মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী
ফরিদাবাদ, ঢাকা
আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী
কর্মকা- বন্ধ হোক
রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে ছাত্র-শ্রমিকসহ বিভিন্ন মহলের মানুষ আন্দোলনের নামে রাস্তাঘাট অবরোধ, ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা- করছে। আন্দোলনের নামে এসব সন্ত্রাসী কর্মকা-ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ নিরীহ মানুষ। রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে নির্বিচারে। গাড়ি, দোকান ভাংচুর হচ্ছে, এর কি কোনো বিচার নেই? সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিত্যদিন এসব হচ্ছে। যাদের কাছ থেকে দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন হয় এতে তাদের কিছুই হয় না। ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের।
তাই সবার কাছে অনুরোধ আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কর্মকা- বন্ধ করুন।
রফিকুল ইসলাম সাগর
বনানী, ঢাকা
ভালবাসা থাকলে
শুধু দেশের প্রতি মানুষের সত্যিকার শ্রদ্ধা ও ভালবাসা থাকলে যেকোনো সমস্যা দূর করা যাবে। এতে দেশের সংস্কৃতি ও অর্থনীতি রক্ষা করা এবং দেশের উন্নতি করা সম্ভব হবে। শুধু এতটুকু বলার ছিল। সবার প্রতি ভালবাসা থাকল।
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন
ঘিওর, মানিকগঞ্জ
একটি দেশ ও ভাষা
মানুষের জীবনে যা কিছু প্রথম তা মানুষ দীর্ঘদিন মনে রাখে। হোক সেটা দুঃখের বা সুখের। আমার জীবনে ঘটেছিল এমনই একটি ঘটনা। যা সুখ দিয়ে শুরু হলেও দুঃখ দিয়ে শেষ হয়েছে। ২০০৪ সালের শেষের দিকের ঘটনা। এক বড় ভাইসহ গিয়েছি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে। ব্যাংকের এক মহিলা অফিসার বললেন, যে ছবিগুলো ব্যাংকে জমা দেবেন তার পেছনে নাম লিখুন। আমি বাংলায় নাম লিখতে যাব তখনই বড় ভাই বললেন, বাংলায় কেন? ইংরেজিতে লেখ। এখন কি আর বাংলার দিন আছে? কষ্ট নিয়ে সেদিন বাসায় ফিরে আসি। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ’৭১-এর স্বাধীনতার মাধ্যমে যে দেশ আমরা পেয়েছি, সে দেশের মানুষের মুখে এমন কথা কি মানায়? সেদিন আমার ক্ষমতা ছিল না কিছু করার। তবুও মনে মনে জানিয়েছি নিন্দা। আমার চাওয়া বাংলাকে যেন আমরা অবহেলা না করি।
আশিক রহমান
মিরপুর, ঢাকা
নতুন ধরনের হয়রানি
রচনা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষিত ব্যক্তিদের হয়রানি করার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল নাটোরের সরকারি গণগ্রন্থাগার। গণগ্রন্থাগার অধিদফতর ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে যথাক্রমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। বিজয়ীদের নাম যথাসময়ে প্রকাশও করে; কিন্তু বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেনি। আগস্ট মাসে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আবার রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এটিও বিজয়ীদের হতাশ করে। জানা যায়, অন্য জেলায় বিজয়ীদের অনেক আগেই পুরস্কৃত করা হয়েছে। সরকারি গণগ্রন্থাগার নাটোরে যোগাযোগ করলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পরবর্তীতে যুগ্ম সচিবের (পরিচালক) কার্যালয়ে ফোনে যোগাযোগ করলে এ ব্যাপারে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি, যা বিজয়ীদের পরবর্তী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করছে। কারণ প্রত্যেকটি বিজ্ঞাপনে উল্লেখ থাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে।
মোঃ আরিফুল ইসলাম
এনএস সরকারি কলেজ, নাটোর
প্রসঙ্গ সড়ক দুর্ঘটনা
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রাজিয়া বেগম এবং বিসিক চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর সরকারের টনক নড়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। গত আগস্টে সবিচালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিপূর্বে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের র্যালি উদ্বোধনকালে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেছিলেন ‘শিগগিরই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করে মাঝখানে ডিভাইডার নির্মাণ করে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব সড়ক মহাসড়ককেই চার লেনে উন্নীত করে মাঝখানে ডিভাইডার নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এতে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে। কিন্তু যোগাযোগমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন চোখে পড়ছে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও যদি কেবলই ‘নির্দেশ’ হয়ে থাকে তাহলে এ হবে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নির্মম রসিকতা। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিতে কালক্ষেপণ করলে জাতিকে আরো চরম মূল্য দিতে হবে। জাতিকে রক্ষায় সরকার, এনজিও, সামাজিক প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তিউদ্যোগ এখনই নিতে হবে।
মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ্
মিরসরাই, চট্টগ্রাম
শুধুই হেঁটে চলা…
ছোটবেলায় যখন মামার সঙ্গে গ্রামের বাড়ি যেতাম তখন বাস থেকে নেমেই মামার হাত ধরে হাঁটা শুরু হতো। অনেকটা হাঁটার পর ক্লান্ত হয়ে মামাকে যখন জিজ্ঞাসা করতাম, ‘মামা আর কত দূর?’ মামা তখন দিগন্তরেখায় সেঁটে থাকা আবছা কোনো গ্রাম বা ঝোপ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে উত্তর দিতেন, ‘ওই যে লম্বা তালগাছটা দেখতাছো ওইখানে।’ আবার পুরো উদ্যমে হাঁটা শুরু করতাম। অনেকক্ষণ হাঁটার পর দূর থেকে মামার দেখানো তালগাছটি খুঁজে না পেয়ে আবার একই প্রশ্ন করতাম, ‘আর কত দূর?’ মামাও আগের উত্তরটি খানিক সংস্কার করে বলতেন, ওই যে বটগাছটা ওইখানে।’ আবার হাঁটা শুরু। এভাবে আমি প্রশ্ন করে যেতাম, মামা একই উত্তর দিয়ে যেতেন। শুধু বদলে যেত গাছের নাম, কখনো কড়ই, কখনো বা সুপারি। সময় গড়িয়ে যেত, মামার গাছগুলো হাতের নাগালে পাওয়া যেত না। সেই ছোটবেলায় দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে কিন্তু এক সময় নানাবাড়ি মিলত। কিন্তু জীবনচলায় কোনো নানাবাড়ি নেই। পথেই জন্ম, পথেই মৃত্যু। কোথায় যাচ্ছি? উত্তর নেই। কোনো ঠিকানা নেই, লক্ষ্য নেই। দিগন্ত হাত নেড়ে ডাকে, হাত মেলায় না। কেউ কারো পথ হেঁটেও দিতে পারে না। শুধুই হেঁটে চলা… একা!
চিত্রলেখা
খিলগাঁও, ঢাকা
পোশাক শিল্পকে বাঁচতে দিন
বাংলাদেশের প্রধান রফতানি খাত পোশাক শিল্পের অগ্রযাত্রা আমাদের যথেষ্ট গর্বিত করে। এ দেশে তৈরি পোশাক সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপেও বাংলাদেশ নামটি পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু যাদের অবর্ণনীয়-অক্লান্ত শ্রমে শিল্পটি এ অবস্থায় পৌঁছেছে, দীর্ঘদিন ধরে সেই পোশাক শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত কাজ করেও নামমাত্র মজুরির দরুন তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। ফলে শুরু হয় পোশাক শিল্পে অস্থিরতা।
মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক এমনই তিক্ত যে অনেক চেষ্টাও শিল্পে স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। অনেকে আবার এ অস্থিরতার নেপথ্যে তৃতীয় পক্ষের মদদকে দায়ী করছেন। তবে কারণ যাই হোক, আমরা চাই যৌক্তিক বেতন-কাঠামো, নির্ধারিত কর্মসময় ও পরিবেশ এবং মালিক-শ্রমিক সমঝোতা স্থাপনের মাধ্যমে যাবতীয় অস্থিরতা দূর হোক।
সোহেল নওরোজ
বাকৃবি, ময়মনসিংহ
গতি বাড়াতে হবে
আমেরিকার উন্নতির সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নতির তুলনা করা চলে না ঠিকই, কিন্তু আমেরিকার মতো বা তার কাছাকাছি পৌঁছাতে আমাদের উন্নয়নের যে গতি থাকার কথা তা কি আছে? আমাদের রাজনীতিবিদরা বলেন, মার্কিনিরা দুশ-আড়াইশ বছরে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। কথাটা সত্য। কিন্তু আমরা কি সেই একই মেয়াদ পর আমেরিকার জায়গায় পৌঁছাতে পারব। বর্তমান পরিস্থিতি দিয়ে যদি বিচার করি, তাহলে কষ্টের সঙ্গে বলতে হয় আড়াইশ কেন ৫শ বছরেও বাংলাদেশ তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। আমাদের ইতিবাচক অনেক দিক রয়েছে, কিন্তু সেই ইতিবাচক দিকগুলো কখনই বিকশিত হতে পারবে না যতদিন না দেশের ‘সুপ্রিম পাওয়ার’ সেগুলোর সহায় হবে না। আমরা এত অন্ধকারের পরও আশাবাদী, অন্তত আগামী প্রজন্ম দেশের উন্নয়নের গতিকে আরো ত্বরান্বিত করবে।
সম্রাট
ভূতের গলি, ঢাকা
মামলার খরচ এবং নিষ্পত্তির নীতিমালা চাই
দেশে বিভিন্ন ধরনের মামলার প্রতিটির জন্য ক্ষেত্র বিশেষ সুনির্দিষ্টভাবে কত টাকা খরচ ধার্য হবে এবং মামলা কতদিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে তার জন্য নীতিমালা তৈরি করা হলে দেশের অর্থনীতিতে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাস্তবে আমরা দেখি ১০ হাজার টাকার দেনমোহর আদায় করার জন্য মামলা ঠুকে ২৪ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেলেও টাকা আদায় হয় না। এক শতাংশ জমির জন্য যুগ যুগ ধরে মামলা চলে; অথচ সালিশের মাধ্যমে তা মীমাংসা করা সহজ ছিল। এ ক্ষেত্রে তাই মামলার সুনির্দিষ্ট খরচ ধার্য এবং নিষ্পত্তির সময় বেঁধে দেওয়ার আইনগত নীতিমালা তৈরি করা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। আশা করি গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টির ব্যাপারে সরকার জরুরি পদক্ষেপ নেবে।
নয়ন
কলেজ রোড, ডামুড্যা, মাদারীপুর



