সাপ্তাহিক ২০০০ | সম্পাদকীয় | শনিবার 4 সেপ্টেম্বর 2010 11:49 পুর্বাহ্ন ২০ ভাদ্র ১৪১৭

খাদ্যসম্ভার সংস্কৃতির অঙ্গ, আনন্দের অনুষঙ্গ। ঈদুল ফিতর বাংলাদেশের অন্যতম উৎসব। উৎসব আনন্দের, বিশেষ করে ঈদ উৎসবের অনেকখানি জুড়ে আছে খাবার-দাবার। নিত্যদিনের খাবার আয়োজনের চেয়ে ভিন্নতর এ আয়োজন। ঈদুল ফিতরের মূলসুর হলো আনন্দ ভাগাভাগি করা। তাই এই দিন প্রায় সব মানুষ পরিজন দর্শন করে। আপ্যায়ন করেন পরিজনদের। এই আপ্যায়ন চলে দিনভর। তাই এর জন্য চাই দিনভর রুচিকর খাবার-দাবার।
বাংলাদেশের ঈদ উৎসবের তালিকা অনেক দীর্ঘ। মসলাদার ভারী খাদ্য থেকে হালকা পানীয়Ñ কী নেই এ তালিকায়। এ দেশে একটা প্রাচীন প্রবাদ আছে ‘এক অন্ন একান্ন ব্যঞ্জন’। এছাড়া অতিথি আপ্যায়নের প্রাচীন রীতি হলো ‘ছাপান্ন ভোজ’। অর্থাৎ ৫৬ প্রকার খাদ্য না হলে কি অতিথি সৎকার হয়? আজকের আধুনিক খাদ্য তালিকা দেখলেও এই অতীত ঐতিহ্য অনুধাবন করা যায়। আধুনিক বাঙালি ডাইনিং টেবিল এখন আর কেবল দেশি ঐতিহ্যগত খাবারে সীমাবদ্ধ নেই। এর মধ্যে যুক্ত হয়েছে জাপান থেকে শুরু করে উভয় আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসম্ভার। তবে ঈদুল ফিতরের মূল খাবার মিষ্টিজাত। আর মিষ্টি খাবারের চারপাশ ঘিরে থাকে পোলাও-বিরিয়ানি থেকে শুরু করে চাটনি-চটপটি পর্যন্ত। মাংসের ব্যবহার এই খাদ্যসম্ভারে প্রায় অপরিহার্য। এ ছাড়া ফিরনি পায়েস সেমাই মোরব্বার ঐতিহ্যের পাশে স্থান করে নিয়েছে আইসক্রিম-কাস্টার্ড ও কেক-পেস্ট্রি। খাদ্যের এই সমৃদ্ধি বাঙালি জাতির দৃঢ় ঐতিহ্য ও নান্দনিক রুচির পরিচয় বহন করে। তাই আমরা কামনা করি বাঙালি রসনা তৃপ্ত হোক ঈদের বহুমুখী খাদ্যসম্ভারে। ‘শতভোজে’ উদ্যাপিত হোক ঈদ-আনন্দ।

প্রচ্ছদচিত্র আয়োজন
রাহিমা সুলতানা রিতা
সহযোগিতা
আনোয়ার
প্রচ্ছদচিত্র
তুহিন হোসেন
ছবি
সুদীপ্ত সালাম
গ্রাফিক্স
খন্দকার শফিকুল ইসলাম তারেক আনন্দ
খালেদ মাসুদ