২০১২ সালে শীর্ষ ১০ আয়কারী খেলোয়াড়
পারফরমেন্সে নাকানি-চুবানি খেতে থাকা গল্ফ তারকা টাইগার উডস সবাইকে অবাক করে ২০১২ সালেও হয়েছেন শীর্ষ আয়কারী খেলোয়াড়। একের পর এক তাক লাগিয়ে চলা ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি আছেন এ তালিকার ১০ নম্বরে। হ্যাঁ, ২০১২ সালের শীর্ষ আয়ের ১০ খেলোয়াড়ের আয়ের পরিসংখ্যানই তুলে ধরা হচ্ছে এখানে। ২০০০ ডেস্ক ১. টাইগার উডস : চলতি বছর টাইগার উডসের ব্যক্তিগত জীবনে অনেক ঝড় বয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বড় কোনো প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরও এই বছরের ধনী খেলোয়াড়দের মধ্যে তার অবস্থান সবার ওপরে। গলফে তার বেতন ছিল ৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এ বছর আয় করেছেন প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১২ সালের শীর্ষ ধনী খেলোয়াড়ের এক জরিপের তালিকায় তার অবস্থান সবার ওপরে। ২. কোবে ব্রায়ান্ট : এনবিএ বাস্কেটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত খেলোয়াড় হচ্ছেন কোবে ব্রায়ান্ট। অনেক উঁচুতে লাফিয়ে উঠে বাস্কেটে বল গলানোর জন্য বিখ্যাত এই সুপারস্টার আয় করেছেন ১৪ কোটি মার্কিন ডলার এবং তার বেতন ছিল ৫ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। বার্ষিক আয়ের পরিমাপের দিক থেকে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তিনি। ৩. লেব্রোন জেমস : এনবিএ বাস্কেটবলের আরেক সুপারস্টার লেব্রোন জেমসকে সবাই ‘কিং জেমস’ বলেই ডাকেন। গত বছর জেমসের জার্সিটি বেস্ট সেলারের তালিকায় ছিল। ২৬ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ের ৪ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার নিঃসন্দেহে তার ৩ নম্বরে উঠে আসায় প্রভাব রেখেছে। ৪. রজার ফেদেরার : টেনিস গ্রান্ড স্লামের রাজা ফেদেরারের বেতনের চেয়ে বাড়তি আয় বেশি। সুইস এই টেনিস স্টারের সঙ্গে চুক্তি আছে রোলেক্স, ক্রেডিট সুইস, নাইকি এবং উইলসনের মতো জনপ্রিয় ব্রান্ডের। ফেদেরারের বেতন ৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। ৫. ফিল মিকেলসন : গলফের আরেক স্টার ফিল মিকেলসন মাঠের বাইরে বিভিন্ন অঙ্গনে পদচারণার জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থ পেয়ে থাকেন। বাঁহাতি এই গলফারকে ২০১১ সালে ‘হল অব ফেম’ উপাধি দেয়া হয়। তার বেতন ৪ কোটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার। ৬. ডেভিড বেকহ্যাম : ইংলিশ ফুটবল সুপারস্টার বেকহ্যাম ফুটবলারের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের কাছে স্টাইল আইকন হিসেবেও পরিচিত। মাত্র ১৭ বছর বয়স থেকে ইংলিশ বিখ্যাত ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা শুরু করেন। তিনি কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন যেগুলো হলো ‘গোল-২’, ‘লিভিং দ্য ড্রিম ইন ২০০৮’। তার নিট বেতন ৪ কোটি মার্কিন ডলার এবং সানডে টাইমসের ধনীর তালিকায় তার মোট আয় দেখানো হয়েছে ১৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। ৭. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো : বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় এবং সেরা ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম তিনি। বর্তমানে স্প্যানিশ লা লিগার জনপ্রিয় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের স্টাইকার। মাত্র ২৬ বছর বয়সের পতুর্গিজ এই উইঙ্গারের বেতন ৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। জনপ্রিয়তার সঙ্গে তার সম্পদের পরিমাণও অনেক। শুধু ধনীর তালিকায় নয়, সামাজিক ওয়েবসাইটে অন্য অ্যাথলেটদের তুলনায় রোনালদো ফ্যানের সংখ্যার দিক থেকেও প্রথম সারিতে। ৮. অ্যালেক্স রডরিগুয়েজ : ‘এ-রড’ খ্যাত এই বেসবল খেলোয়াড়কে বলা হয় সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার বেসবল খেলোয়াড়। ৩৫ বছর বয়সী এ নিউইয়র্ক ইয়ানকিস স্টারের বেতন ৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা তাকে বিশ্বে ৮ম ধনী খেলোয়াড় হিসেবে স্থান করে দিয়েছে। ৯. মাইকেল শুমেখার : ফর্মুলা ওয়ানের সাবেক এই রেসিং চ্যাম্পিয়ন ৪২ বছর বয়সেও ট্রাকে যে কোনো প্রতিযোগীকে কুপোকাত করতে সক্ষম। রেসিং ট্রাকের আয় এবং বিভিন্ন কর্মকা- ও স্পন্সরশিপ বাবদ তার আয় ৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। জার্মান এই রেসার সাতবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। ১০. লিওনেল মেসি : মাত্র ২৩ বছর বয়সেই সর্বকালের সেরা ফুটবলারের তালিকায় তার নাম। ক্লাব দল বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে তার মোট পারিশ্রমিক ৩ কোটি ২৩ লাখ মার্কিন ডলার। ফুটবলের এই জাদুকরের সঙ্গে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির স্পন্সরশিপ চুক্তি রয়েছে। ফুটবলবিশ্বে নিজের জাত অনেক আগেই চিনিয়েছেন হালের ফুটবল ক্রেজ লিওনেল মেসি। তারই ধারাবাহিকতায় কয়েক দিন আগে এক মওসুমে সর্বোচ্চ গোল করে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারকে টপকেছেন। ১৯৭২ সালে এক মওসুমে ৮৫ গোল করে রেকর্ড গড়েছিলেন জার্মান এই ফুটবলার। বেশ কিছুদিন ধরেই ফুটবলবিশ্বে গুঞ্জন চলছিল মেসি হয়তো ভেঙে ফেলবেন মুলারের এই কীর্তি। আর বাস্তবে হলোও তাই। গত ৯ ডিসেম্বর স্প্যানিশ লিগে রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে জোড়া গোল করে এক মওসুমে সর্বোচ্চ গোল করার গৌরবময় রেকর্ডের অধিকারী হন মেসি। কিন্তু তার এই রেকর্ডে ফুটবলবোদ্ধারা যখন বাহবা দিচ্ছিলেন তখনই আরেক বিতর্কের জন্ম দিলেন জাম্বিয়ার স্থানীয় এক ভাষ্যকার। মুসন্দা চিবুলো নামের সেই ভাষ্যকার এএফপিকে জানিয়েছেন, তাদের দেশের ফুটবলার গডফ্রে চিতালু ১৯৭২ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০৭ গোল করেছিলেন। চিতালু ১৯৯৩ সালে বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। চিতালু লিগে ৪৯টি এবং কাপ ও আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৫৮ গোল করেন। অর্থাৎ যে বছর মুলার রেকর্ড করেন সে বছরই চিতালু সে রেকর্ড ভাঙেন। প্রমাণ হিসেবে একটি সাদা কালো ফটোগ্রাফ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হয়, যে ফটোতে ‘১৯৭২ গডফ্রে চিতালু ১০৭ গোল’ লেখা একটি বল হাতে স্যুট পরিহত হাস্যেজ্জ্বল মুখে দাঁড়িয়ে আছেন চিতালু। জাম্বিয়া ফুটবল ফেডারেশন থেকে ফিফাকে চ্যালেঞ্জ করার দাবিও ওঠে। জাম্বিয়া যখন তাদের ফুটবলারকে মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে দাবি করছিল তখন ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লামিঙ্গো এই বিতর্কের পালে আরও একটু হাওয়া দিয়ে দেয়। ক্লাবটির দাবি এক মওসুমে সর্বোচ্চ গোল করেছেন ব্রাজিলের সাবেক তারকা জিকো। তাই রেকর্ডের মালিক তিনিই। ব্রাজিলের স্থানীয় পত্রিকা ল্যান্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয় জিকো এক বছরে ৮৯ গোল করেছিলেন। এরমধ্যে ক্লাবের হয়ে ছিল ৮১টি, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ৭টি আর একটি গোল ছিল প্রীতি ম্যাচে। ফ্লামিঙ্গো ক্লাবের ইতিহাস লেখক ব্রুনো লুসেনা বলেন, ‘যদি জিকো পুরো বছর খেলতে পারতেন তবে গোলসংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেত। তবে ১৯৭৯ সালে ইনজুরিতে পড়ার আগে ৮৯টি গোল করেছিলেন জিকো। তাই রেকর্ডের মালিক তিনি।’ ব্রাজিলের ওই ক্লাব যত কথাই বলুক ইতিহাস কিন্তু মুলারের পক্ষেই। তাই ইতিহাসের পরিসংখ্যানে মুলারকে টপকিয়ে মেসি এখন সর্বোচ্চ গোলের মালিক। তারপরও মেসির হয়তো এই বিতর্ক ভালো লাগছিল না। তাই গত ১৬ ডিসেম্বর অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে আবার দুটি গোল করে ব্রাজিলের ক্লাবের কর্মকর্তাদের মুখের কথা বন্ধ করে দিয়েছেন। মেসির গোলের সংখ্যা এখন ৯১। এদিকে গত ১৪ ডিসেম্বর শুক্রবার ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা থেকে জানানো হয়, তারা জাম্বিয়ার দাবি পরীক্ষা করে দেখতে রাজি নয়। ফিফার যোগাযোগ বিভাগ তাদের টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে, ‘গডফ্রে চিতালুকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ধন্যবাদ। আমাদের অফিসিয়াল পরিসংখ্যান শুধু ফিফা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ, তাই আমরা এ রেকর্ডের সত্যতা যাচাই করতে পারব না।’ সেখানে আরো উল্লেখ করা হয় ‘আমরা ফিফার সব প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য রেকর্ড রাখি।’ তাই সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে এক বছরে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর মেসিই।
বিভাগ: খেলা



