banner ad

ভারতের রাজনীতিতে নতুন হিসাব-নিকাশ ২০০০ ডেস্ক

ভারতের রাজনীতিতে ক্রমেই নিজের অবস্থানকে আরো সুসংহত ও অপরিহার্য করে তুলছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা নরেন্দ্র মোদি। বিধানসভা নির্বাচনে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটে বিজেপির বড় ধরনের বিজয়Ñ সে কথারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। গুজরাটে বিজেপির এই বিজয়ের পর মোদি তৃতীয়বারের মতো রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন। তার এই দায়িত্বপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা যে বিষয়টির প্রতি আভাস দিয়েছেন তা হলো আগামী ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিতব্য লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরিতে মোদি তার পথ অনেকটা এগিয়ে দিয়ে রেখেছেন। বিধানসভায় বিশাল বিজয়ে উচ্ছ্বসিত মোদিও তার ব্যাপারে আরো সচেতন হয়ে উঠেছেন এবং তিনি ঘোষণাও দিয়েছেন, এবার তার সামনে এগোনোর পালা। বিজেপি নেতারা মোদির এই সামনে এগোনোর পালাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বলে উল্লেখ করেছে ভারতের গণমাধ্যমগুলো।
নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর মোদি তার টুইটারে লেখেন, আর পেছনে তাকানো নয়, এবার সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়। টুইটারে মোদির এ ধরনের ঘোষণার পর ভারতের রাজনীতিতে তাকে নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। তবে সব জল্পনা-কল্পনা যে সামনের দিকে প্রধানমন্ত্রিত্বের পদকে ঘিরে তা আর বলার অবকাশ রাখে না বলে মোদি ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিজেপি মুখপাত্র গণমাধ্যমকে জানান, রাজ্য ও আন্তর্জাতিক স্তরে সব ধরনের কুৎসার বিরুদ্ধে লড়াই করে মোদি তার সাফল্য দেখিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, সব জাতপাতের ভেদাভেদ মুছে গোটা গুজরাটের সর্বস্তরের মানুষের নেতা হিসেবে মোদি তার যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। এখন সামনের দিনে মোদি কীভাবে তার পথকে আরো সুসংহত ও দৃঢ় করবেন সেটা তার ওপরে নির্ভর করে। ৬ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত গুজরাট অর্থনৈতিকভাবে ভারতের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্যগুলোর অন্যতম।
এদিকে ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিজেপির এই পুনরুত্থানকে নানাভাবে বিশ্লেষণ করে তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, বিজেপি আগামী লোকসভা নির্বাচনে গণতান্ত্রিকভাবেই সিদ্ধান্ত নেবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া যায়। তবে এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী পদে লড়াই করার ক্ষেত্রে মোদির জন্য সবচেয়ে বড় যে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে তার সাম্প্রদায়িক ইমেজ তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তার হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে এখন থেকেই। কংগ্রেস এ ব্যাপারে তাদের কোনো মনোভাব এখনো প্রকাশ করেনি। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিজেপি যদি মোদিকে নিয়ে আগাম চিন্তাভাবনা ও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকেই বেছে নেয় তাহলে কংগ্রেসের সামনে তা হবে আক্রমণের মোক্ষম হাতিয়ার। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ সে রকম ইঙ্গিতই দিয়েছেন গত ২০ ডিসেম্বর। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী পদে বিজেপির উচিত কোনো জাতীয় নেতাকেই প্রার্থী করা। তার দাবি, মোদি এখনো জাতীয় নেতা হয়ে উঠতে পারেননি বরং দেশব্যাপী তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। সালমান খুরশিদের মতে, মোদি যে পর্যায়ের নেতা তাতে প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে তার নামই উচ্চারিত হওয়া উচিত নয়।
জানা যায়, ২০০২ সালে গুজরাটে দাঙ্গার সময় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মোদি বিশ্বব্যাপী তীব্রভাবে সমালোচিত হন। ওই দাঙ্গায় প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়। নিহতদের বেশিরভাগই মুসলমান। অভিযোগ আছে, ওই দাঙ্গার সময় মোদি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যে বিতর্কিত ভূমিকা রেখেছিলেন, দাঙ্গা বন্ধে তিনি কোনো রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বরং উস্কেই দিয়েছিলেন। যদিও এসব অভিযোগকে সব সময়ই মোদি অস্বীকার করে এসেছেন। আর এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত মোদিকে ভিসা দেয়নি।
বিজেপি সমর্থক ও এর বিশ্লেষকরা গুজরাটের বিজয়কে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে যুৎসই মহড়া হিসেবে দেখলেও নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিষয়ক কেন্দ্রের প্রলয় কানুনগো এর জবাবে বলেন, একটি রাজ্যে সাফল্য পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, দল মোদিকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নিয়ে আসার জন্য তৈরি হয়ে গেছে। দল ও সম্ভাব্য মিত্রদের সন্তুষ্ট রাখাই এখন তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ২০১৪ সালে বিজেপির প্রার্থী হতে হলে মোদিকে এখনো তার রাজনৈতিক দক্ষতায় শাণ দিতে হবে।
এদিকে তৃতীয়বারের মতো গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে মোদি ১৫০ কোটি রুপি ব্যয়ে ৩৫০০০ বর্গফুটজুড়ে বুলেটপ্রুফ অফিস তৈরি করেছেন। নয়াদিল্লির প্রধানমন্ত্রীর অফিসের আদলে নির্মিত এই অফিসে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের মতো একটি সাউথ ব্লকও রয়েছে। সেখানে অন্য মন্ত্রীদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। মোদি হয়তো প্রধানমন্ত্রিত্বের স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু বিজেপি কি তাকে নিয়ে ভাবছে? ভারতের জনগণইবা কী ভাবছে এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরো এক বছর।
অন্যদিকে গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে নয়াদিল্লিতে চলন্ত বাসে মেডিক্যালের ছাত্রীকে গণধর্ষণকে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। বিশ্ব গণমাধ্যমেও এ খবর বেশ বড় জায়গা দখল করে নিয়ে ভারতের রাজনীতির হিসাব-নিকাশকে একটু কঠিন করে দিয়েছে। গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শান্তির দাবিতে বিক্ষোভকারীরা ইন্ডিয়া গেটে জড়ো হন।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সাফদার জং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রীর অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। পুলিশ  বলেছে, গণধর্ষণে জড়িত ছয় ব্যক্তি মাতাল অবস্থায় ছিল। একটি ফাঁকা বাসে চড়ে শহরে আনন্দ ভ্রমণে বেরিয়েছিল তারা। বাসে তারা ওই ছাত্রীর ওপর প্রথমে পাশবিক নির্যাতন ও পরে রড দিয়ে পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। এ সময় ছাত্রীটির বন্ধুকেও একই কায়দায় আহত করে ফেলে দেয়া হয় রাস্তায়।
২২ ডিসেম্বর রাতে এই ঘটনায় বিক্ষোভকারীরা ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনের সামনে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবিতে অবস্থান নেয়। এ সময় কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলতে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে সোনিয়া গান্ধী বলেন, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। আশা করি ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে।
বিক্ষোভ দমনে নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট ভবন, রাষ্ট্রপতি ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসির ইঙ্গিত দিয়ে এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্দে বলেছেন, বর্তমান আইন অনুযায়ী ধর্ষণকারীদের যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়। তবে এর চেয়েও কঠোর শাস্তির (মৃত্যুদন্ড) বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে।

বিভাগ: আন্তর্জাতিক

RSSকমেন্টস (0)

Trackback URL

আপনার মন্তব্য



ওয়েব সাইট

আপনার কমেন্টের সাথে যদি ছবি প্রকাশ করতে চান, এখান থেকে ছবি সংগ্রহ করুন.