banner ad

ক্যাম্পাসে বিরল পাখি : আশটে দামা

ড. এএম সালেহ রেজা ও

 

ড. সেলিনা পারভীন

 

 

 

এ বছর মার্চের এক সকালে ক্যাম্পাসে পাখি দেখার জন্য বের হয়ে হঠাৎ থমকে যাই। গাছের ডালের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে দিয়ে বসে আছে এক পাখি। অভিজ্ঞ চোখ ছাড়া পাখিটির অস্তিত্ব ধরা পড়ার কথা নয়। ক্যামেরায় চোখ রাখতেই মনে হলো, চিরচেনা বা অল্প চেনা পাখিদের কেউ নয় এটা। ছবি তোলা হলো, তবে বেশি সুযোগ না দিয়ে উড়ে গেল পাখিটি। ছবি খুব স্পষ্ট না হলেও বোঝা গেল এক নতুন পাখি এটা। ঘুরতে ঘুরতেই হঠাৎ দেখা গেল সেই পাখিটি পুকুরধারে পচা লতাপাতার ঘাসের মাঝে বসে আছে। এবার ছবি খুব ভালো হলো। বাসায় ফিরে সালিম, রেজা খান, হালদার প্রমুখের বইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে দেখা গেল পাখিটি বাংলাদেশের বিরল প্রজাতির পরিযায়ী, নাম ‘আশটে দামা’। সারা গায়ের পালকগুলো মাছের আঁশের মতো সাজানো, তাই এই নাম। ইংরেজি নামটাও স্কেলি থ্রাশ (Scaly Thrush)।

 

আশটে দামা পতঙ্গভুক (Muscicapidae) গোত্রের, দণ্ডচারী বর্গের (Passeriformes) পাখি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Zoothera dauma (Latham)-এর বিস্তৃতি দক্ষিণ, পূর্ব ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, কোরিয়া, তাইওয়ান, ইন্দোচীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার। বাংলাদেশে মাঝে মধ্যে কিছুদিন কাটিয়ে যায়, তাও আবার ঢাকা ও সিলেটের বনাঞ্চলে। তাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আশটে দামার দেখা পাওয়া আশ্চর্যজনকই বটে।

 

পাখিটির দৈর্ঘ্য ২৬ সেমি, ডানা ১৪ সেমি, ঠোঁট ২.৮ সেমি, পা ৩.৫ সেমি ও লেজ ১০ সেমি। এর ওজন ২৪-২৬ গ্রাম হতে পারে। পিঠের দিকটা হলদেটে-জলপাই সবুজ রঙের তার ওপরে কালচে আঁশের মতো দাগ। ডানার ওপর মেটে ও গাঢ় বাদামি রংয়ের লম্বাটে দাগ আছে, উড়লে ডানার তলার মেটে রং দেখা যায়। কানের ওপরেও অর্ধচন্দ্রাকৃতির কালচে দাগ আছে। পাখিটির তলদেশ সাদাটে তার ওপর বাদামি রংয়ের আঁশের মতো দাগ কাটা। চোখ হলদেটে, মণি কালো, ঠোঁটের গোড়া বাদামি বাকিটা কালো, পা কালচে-বাদামি রঙের। স্ত্রী ও পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম। অপ্রাপ্তবয়স্কদের পালকে ‘আঁশের’ মতো দাগ নেই, আর তলদেশে ফোঁটা ফোঁটা দাগ দেখা যায়।

 

সাধারণত অগভীর বনভ‚মির জলাশয়ের ধারে এরা জোড় বেঁধে ঘুরে বেড়ায়। ক্যাম্পাসে দেখা দু’জায়গার দামা দুটিকে তাই আলাদা দুটি পাখি ভাবতে ভালো লাগছে। মাটিতে ঘাস-পাতার মাঝের পোকা ধরে খায়। এছাড়া কিন্তু ছোট ফলও এরা খায়। সাধারণত সকাল-সন্ধ্যায় খাবারের খোঁজে যখন বের হয়, তখন এদের দেখা যায়। অন্য সময় গাছের ডালের সঙ্গে রং মিলিয়ে বসে থাকে। আশটে দামার ডাকটা মিষ্টি মিহি সুরের।

 

বহু খুঁজেও এরপর ‘আশটে দামা’কে আর দেখা যায়নি। তবে আশা করছি পরের বছর ফেব্র“য়ারির শেষ থেকে খুঁজতে শুরু করলে আবার দেখা যেতেও পারে।

 

 

বিভাগ: প্রচ্ছদ

RSSকমেন্টস (0)

Trackback URL

আপনার মন্তব্য



ওয়েব সাইট

আপনার কমেন্টের সাথে যদি ছবি প্রকাশ করতে চান, এখান থেকে ছবি সংগ্রহ করুন.