বিচিত্র সংবাদ মুক্তি চৌধুরী, কলকাতা থেকে
সল্টলেক হবে বার্মিংহাম : গত বছরের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাদের দল যদি ক্ষমতায় আসে তবে তারা কলকাতাকে লন্ডন এবং উত্তরবঙ্গকে সুইজারল্যান্ড বানাবেন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতাকে লন্ডন এবং উত্তরবঙ্গকে সুইজারল্যান্ড বানানোর প্রয়োজনীয় উদ্যোগও নিয়েছেন।
এদিকে ৯ জানুয়ারি কলকাতার উপকণ্ঠের সল্টলেকের একটি নিকাশি ব্যবস্থার উদ্বোধন করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পৌরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিমুহ‚র্তে কলকাতার সঙ্গে সল্টলেকের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন। কলকাতা যদি লন্ডন হয়, তবে সল্টলেককে করা হবে বার্মিংহাম।
১১টি সুড়ঙ্গপথ : ভারতের চীন ও পাকিস্তান সংলগ্ন সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করতে ভারত এবার ওই সীমান্ত এলাকায় ১১টি সুড়ঙ্গপথ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এই ১১টি সুড়ঙ্গপথ তৈরি করা হবে জম্মুকাশ্মির, উত্তরাখণ্ড, অর“ণাচল প্রদেশ এবং সিকিম রাজ্যের সীমান্ত এলাকায়। এই পথের মোট দৈর্ঘ্য হবে ৮৯ কিলোমিটার। এই পথগুলো পার্বত্য এলাকায় নির্মিত হওয়ার কারণে বছরের বারো মাসই এই পথ চলাচলের উপযোগী থাকবে। এই সুড়ঙ্গ পথগুলো তৈরি করবে সেনাবাহিনীর সড়ক নির্মাণ সংস্থা বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন বা বিআরও।
বিআরও সূত্র থেকে বলা হয়েছে, জম্মুকাশ্মিরের জোজিলায় ১২ কিলোমিটার এবং জেড মোড়ে ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সুড়ঙ্গপথ তৈরি করা হবে। উত্তরাখণ্ডের র“দ্রপ্রয়াগেও তৈরি হবে একটি পথ। অরুণাচল প্রদেশে করা হবে দুটি পথ। এর দূরত্ব হবে ২৫ দশমিক ৪ কিলোমিটার। সিকিমে তৈরি হবে দুটি সুড়ঙ্গ পথ। এই পথ নির্মাণ হলে চীন ও পাক সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর যাতায়াত সহজ হবে।
তুলসীর মলম : সর্দি-কাশি-জ্বরে তুলসী পাতার রস যুগযুগ ধরে ব্যবহার করে আসছে আমাদের দেশের মানুষজন। কিন্তু এই তুলসী গাছে তেজস্ক্রিয়তা ঠেকানোরও যে গুণ রয়েছে সেটিই এবার গবেষণা করে আবিষ্কার করেছে ভারতের ডিআরডিও বা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের বিজ্ঞানীরা। ইতিমধ্যে তারা তুলসী গাছ দিয়ে একটি মলমও তৈরি করেছে। ওই মলম তেজস্ক্রিয়তা রোধে সহায়ক হবে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। ডিআরডিও’র চিফ কন্ট্রোলার সেলভামূর্তি বলেছেন, তুলসী গাছ থেকে আমরা একটি মলম বের করেছি। তা গায়ে মেখে নিলে তেজস্ক্রিয়তায় আর কোনো ক্ষতি হবে না। প্রাথমিক পরীক্ষায় আমরা সফল হয়েছি। আর সামান্য কিছু গবেষণা বাকি। তা সম্পূর্ণ হলে বাণিজ্যিকভাবে মলম তৈরি শুরু হবে। আর এতে করে আমাদের সেনারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। তিনি আরো বলেছেন, ‘তুলসীর মলমে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
সাইরেন টাওয়ার : প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আইনশৃক্সখলা পরিস্থিতি বা আবহাওয়াবার্তা পৌঁছানোর জন্য এবার পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বসানো হচ্ছে ৩৬৮টি সাইরেন টাওয়ার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা রাজ্যের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বার্তাও শোনা যাবে ওই সাইরেন টাওয়ারে। কলকাতা শহরসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বসানো হচ্ছে এই সাইরেন টাওয়ার। রাজ্য সচিবালয়ে এ কথা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বেসামরিক প্রতিরক্ষা দমকল এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় মন্ত্রী জাভেদ খান। বিভিন্ন জেলার সরকারি ভবন, ল্যাম্পপোস্ট এবং উঁচু বাড়িতে লাগানো হবে এই সাইরেন।
মন্দিরের আয় : পৃথিবীর এখন সবচেয়ে ঐশ্বর্যশালী এবং ধনী মন্দির হলো ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের ভগবান ভেঙ্কটেশ্বর বালাজির মন্দির। এই মন্দিরে ২০১১ সালে আয় হয়েছে ১ হাজার ৭শ কোটি রুপি। এই টাকার মধ্যে ১ হাজার ১শ কোটি রুপি আয় হয়েছে ভক্তদের কাছ থেকে পাওয়া নগদ অর্থ এবং ব্যাংকে গচ্ছিত থাকা মন্দিরের ধনরত্ন ও অর্থের বার্ষিক সুদ থেকে। আর ২শ কোটি আয় হয়েছে মন্দির দর্শনের জন্য ভক্তদের কাছে প্রবেশপত্র বিক্রি করে। বাকি অর্থ আয় হয়েছে ভক্তদের কাছ থেকে পাওয়া মণিমুক্তো, স্বর্ণ ও রৌপ্যালঙ্কার এবং মন্দিরের প্রসাদ বিক্রিসহ অন্য খাত থেকে। মন্দিরের জন্য গঠিত তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থান ট্রাস্ট এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।
ট্রাস্ট আরো বলেছে, গতবছর মন্দির দর্শন করেছেন ২ কোটি ২০ লাখ ভক্ত। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের রাষ্টপতি প্রতিভা দেবী সিং পাতিল, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মহীন্দ্র রাজাপাকসে, নেপালের প্রথম রাষ্টপতি রামবরণ যাদব, ভারতের পররাষ্টমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণ সহ দেশ-বিদেশের বিশিষ্টজনেরা।
শতবর্ষে জনগণ-মন-অধিনায়ক : আজ থেকে শতবর্ষ আগে সেই ১৯১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে প্রথম গাওয়া হয়েছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনগণ-মন-অধিনায়ক জয় হে গানটি। সেই গানটিকে জার্মানিতে গড়া আজাদ হিন্দ বাহিনীতে জাতীয় সংগীতের মর্যাদা দেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। পূর্ব এশিয়ার আজাদ হিন্দ বাহিনীতেও জাতীয় সংগীত হিসেবে মর্যাদা দেয়া হয় এই গানটিকে। এরপর ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৫০ সালে গণপরিষদ এই গানটিকে জাতীয় সংগীতের মর্যাদা দেয়। সেই গানটি শতবর্ষে পা দিল।
কুকুরের বংশবৃদ্ধি রোধে : কলকাতা পৌর এলাকায় রয়েছে অন্তত ৬০ হাজার বেওয়ারিশ বা পথকুকুর। নিয়মিতই বাড়ছে এই পথকুকুরদের সংখ্যা। এই পথকুকুররা নিয়মিত আক্রমণ করছে মানুষকে। আর কুকুরে কামড়ানো মানুষের চিকিৎসার জন্য পৌরসভা শহরের ১৫টি স্থানে চালু করেছে চিকিৎসা কেন্দ্র। এখান থেকেই দেয়া হচ্ছে ‘অ্যান্টি র্যাবিস’ টিকা। গত এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৬ হাজার কুকুরে কামড়ানো মানুষকে দেয়া হয়েছে ওই প্রতিষেধক টিকা।
এবার পৌরসভা শহরের বেওয়ারিশ কুকুর বংশবৃদ্ধি রোধের জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পৌরসভার মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষ এবং ডেপুটি চিফ হেলথ অফিসার ডা. টিকে মুখার্জি বলেছেন, কলকাতার বাইপাস এলাকার ধাপার কাছে থাকা কুকুরদের খোঁয়াড়ে এবার ল্যাপারোস্কোপ যন্ত্র দিয়ে বেওয়ারিশ কুকুরদের জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য অপারেশন করা হচ্ছে। এই যন্ত্রের সাহায্যে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০টি কুকুরের প্রজনন ক্ষমতা বন্ধ করার জন্য অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। এতে করে শহরে কমে আসবে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা।
বিভাগ: প্রবাসের চিঠি


