banner ad

ত্বক চর্চা
নাজিয়া পারভীন

ত্বকের কিছু সমস্যা প্রায়ই বিড়ম্বনায় ফেলে সৌন্দর্য সচেতন নারীতে। সৌন্দর্য চর্চায় মুখের ত্বক ও হাত-পায়ের যত্ন অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। সব সময় ত্বক পরিষ্কার করার অভ্যাস করুন। বাইরে থেকে এসে মুখের ত্বকের যত্ন নেয়া না হলে ক্ষতিকর অনেক কিছুর কারণে ত্বকের উপরিভাগের বেশ ক্ষতি হয়। পর্যাপ্ত যত্ন ছাড়া ত্বকের বাইরের ক্ষতিরোধ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া মেকআপ করার পর, ত্বক দ্রুত পরিষ্কার করুন। কেননা খুব সহজেই যে কোনো ধরনের ময়লা  জমে ইনফেকশন হতে পারে ক্ষতি করতে পারে ত্বকের। নিয়মিত ঘুম, পরিমাণমতো পানি পান করা, ব্যায়াম করার অভ্যাস করুন। ত্বক সব সময় সজীব থাকে এ রকম পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন। ভালো কোম্পানির প্রসাধন ব্যবহার করুন। নিয়মিত ভালো কোনো পার্লারে গিয়ে আপনার ত্বকের ধরন বুঝে ফেসিয়াল করান। প্রাকৃতিক উপায়ে ৪ ধরনের ত্বকের যত্ন নেয়া যায়। শুষ্ক ত্বকের জন্য মুলতানি মাটি ১ টেবিল চামচ, চন্দনের গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ, দুধের সর ১ চা-চামচ, আমন্ড কাঠবাদাম বাটা ১ টেবিল চামচ মিশিয়ে সপ্তাহে তিন দিন ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মসুরের ডাল বাটা ১ টেবিল চামচ, মুলতানি মাটি ১ টেবিল চামচ, কাঁচা দুধ ১ টেবিল চামচ, কমলার রস ১ টেবিল চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে সপ্তাহে ৩ দিন ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। স্বাভাবিক ও মিশ্র ত্বকের জন্য মসুরের ডাল বাটা ১ টেবিল চামচ, মুলতানি মাটি ১ টেবিল চামচ, চন্দনের গুঁড়ো  ১ টেবিল চামচ, দুধের সর ১ টেবিল চামচ, গোলাপজল ১ চা-চামচ মিশিয়ে সপ্তাহে ৩ দিন ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। দেখুন আপনার ত্বক কেমন উজ্জ্বল ও পেলব হয়েছে।

 

সব ধরনের ত্বকের যত্নের পাশাপাশি হাত-পায়ের যত্ন নেয়া জরুরি। শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়,  হাত-পাকে সুরক্ষিত ও মসৃণ রাখতেই যত্ন দরকার। প্রচণ্ড রোদে ও শীতে এ দুটোর প্রতিই বেশ অবহেলা ও অযত্ন হয়। মুখের ত্বকের যত্নে যেমন সজীবতা ফিরে পাওয়া যায়, তেমনি অযত্নে-অবহেলায় হাত-পা রুক্ষ হয়ে যেতে পারে, ফেটে যেতে পারে, চামড়া খসখসে হয়ে মরা চামড়া ওঠাসহ নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

হাত ও পায়ের যত্নে নিয়মিত যে কোনো ভালো পার্লারে গিয়ে মেনিকিউর ও পেডিকিউর করুন। ঘরে বসেও আপনি আপনার হাত ও পায়ের যত্ন নিতে পারেন। এ জন্য রাতে ঘুমানোর আগে পায়ের যত্ন নিতে হবে। গরমকালে একভাবে যত্ন নেবেন ও শীতকালে আরেকভাবে। তবে ঘরে বসে ঘুমানোর আগে একটি পাত্রে কুসুম গরম পানি নিয়ে তার মধ্যে দুহাত ও দুপা ডুবিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। তারপর ভালো করে হাত ও পায়ের ওয়েক্সিং করুন। আপনি বাসায় করাতে পারেন যেকোনো হেয়ার রিমুভার দিয়ে। না চাইলে পার্লারে গিয়ে ওয়েক্সিং করুন। এরপর গরম পানিতে কয়েক ফোঁটা শ্যাম্পু ফেলে ঘষে-মেজে ময়লা তুলে ভালো করে মুছে ময়েশ্চারাইজার লোশন লাগান। ঘুমানোর আগে পায়ে ভ্যাসলিন লাগিয়ে পায়ের যত্ন শেষ করুন। হাতের কনুই কালো দাগের জন্য লেবুর রসের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে ঘষা দিন, দেখবেন দাগ হালকা হয়ে গেছে। পা নরম রাখার জন্য ভ্যাসলিন বা নারকেল তেল লাগাতে পারেন। হাতের ত্বক খসখসে হলে সপ্তাহে একবার অলিভ অয়েল গরম করে হাতের আঙুলে ঘষুন। বলা হয় হাত-পা যে কোনো ব্যক্তির রুচি প্রকাশের প্রধান বাহন, তাই সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ার পর পছন্দসই পোশাকের রংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নেইলপলিশ লাগান।

 

 

বিভাগ: লাইফস্টাইল

RSSকমেন্টস (0)

Trackback URL

আপনার মন্তব্য



ওয়েব সাইট

আপনার কমেন্টের সাথে যদি ছবি প্রকাশ করতে চান, এখান থেকে ছবি সংগ্রহ করুন.