ঈদ ফ্যাশন ক্যাটালগ ২০১২ ফারজানা তিথী
বছর ঘুরে আবারো রোজা চলে এলো। আর রোজা আসে ঈদের আগমনী বার্তা নিয়ে। মনে করিয়ে দেয় ঈদ প্রস্তুতির কথা। বর্তমানে আমাদের প্রতিটা উৎসবই সার্বজনীন। সব বয়স আর সব ধর্ম-বর্ণের মানুষেরই চিন্তা থাকে উৎসবকে কেন্দ্র করে নিজেকে সাজিয়ে নেয়ার। আর নিজেকে সাজাতে প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গই হলো পোশাক। গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের পোশাক বাজারের ক্রমবিস্তৃতি ঘটছে। উৎকর্ষ লাভ করেছে। তাই যে কোনো উৎসবে এখন সর্বপ্রথম ক্রেতারা পোশাকের খোঁজে ছুটে যান দেশি বুটিক হাউসগুলোতে। প্রতিবছরই নতুন নতুন ডিজাইন আর ফ্যাশন প্রবণতা দেখা দিচ্ছে জামা-কাপড়ে। তাই ফ্যাশন হাউসগুলোকেও নিরলস কাজ করতে হয় সারাবছর ধরেই। কখনো সম্পূর্ণ দেশি ঢঙে আবার কখনো বিদেশি স্টাইলের সঙ্গে দেশি স্টাইলের মিশ্রণ করে ক্রেতা-চাহিদা অনুযায়ী পোশাক তুলে দিতে হচ্ছে। কারণ ফ্যাশন প্রতিনিয়তই পরিবর্তনশীল। তাই সে অনুযায়ী নিজেদের কাজগুলোকেও যুগোপযোগী করে তুলতে সচেষ্ট এখন সব ফ্যাশন হাউস।
ঈদ যেহেতু সবচেয়ে বড় উৎসব তাই ঈদের পোশাকটি হতে হয় অভিনব, স্টাইলিশ আর নতুনত্বে ভরা। সেদিক থেকে চিন্তা করলে দেশি বুটিক হাউসগুলোই ঈদের পোশাক কেনার আদর্শ জায়গা। তবে ঈদ কেনাকাটায় সবাই চায় একটু যাচাই-বাছাই করতে। তাই রোজার আগে থেকেই মানুষের চেষ্টা থাকে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঈদের সেরা পোশাকটি কেনার। আর এজন্য দেশি বুটিক হাউসগুলো ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা হয়। ঈদ বাজারের জন্য জমজমাট মার্কেটগুলোর মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা, রাইফেলস স্কয়ার, নিউমার্কেট, চাঁদনিচক, গাউছিয়া, রাপা প্লাজা, নর্থ টাওয়ার, বনানী বাজার, বেইলী রোড, মৌচাক মার্কেট, আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স, মাস্কট প্লাজা ইত্যাদি। এছাড়াও নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের হাতের নাগালে কেনাকাটার জন্য রয়েছে বঙ্গবাজার, পলওয়েল ও ধানমন্ডি হকার্সের মতো মার্কেটগুলো। বুটিক হাউসগুলোর পাশাপাশি অন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর বিক্রেতারাও নতুনভাবে সাজিয়ে তুলেছে তাদের শোরুম। ঈদে শুধু পোশাকই নয়, জুতা, স্যান্ডেল, ব্যাগ, গহনা, টুপি, জাকাতের কাপড়, উপহার সব মিলিয়ে কেনাকাটার এক মহাযজ্ঞ এখন সামনে।
ঐতিহ্যে অনন্য শাড়ি
বাঙালি নারীর পোশাক মানেই হলো শাড়ি। আর উৎসবের পোশাক হিসেবে শাড়ির একটা অন্যরকম কদর রয়েছে। তাই যে কোনো উৎসবে কমপক্ষে একটা শাড়ি কেনা চাই-ই চাই। এছাড়া ঈদ উৎসবে আত্মীয়¯^জনদের উপহার দিতেও সবাইকে ছুটতে হয় শাড়ির খোঁজে। এ বছর দেশি তাঁত, কাতান, জুট কাতান, সিল্ক, হাফসিল্ক, কোটা ইত্যাদি শাড়ির চাহিদাই বেশি। শাড়ির ফ্যাশনে প্রতিবছরই পরিবর্তন আসছে। জমকালো শাড়ির বদলে এখন সাদামাটা ছিমছাম আরামদায়ক শাড়ির চাহিদা বেশি। আর এক্ষেত্রে ক্রেতারা নিশ্চিন্তে ভরসা করতে পারেন দেশি বুটিক হাউসগুলোর ওপর। রুচিশীল এবং যুগোপযোগী শাড়ি তৈরিতে অনন্য ভ‚মিকা রাখছে দেশি ফ্যাশন হাউসগুলো। শাড়িগুলোর দাম নির্ধারিত হয়ে থাকে কাপড় এবং কাপড়ের কাজের ওপর ভিত্তি করে। ইদানীং জুট কাতানের বেশ চল দেখা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে নেট ও শিফন বেশ চলছে। গরমে আরামদায়ক এই শাড়িগুলো। পাড় ও আঁচলে কাজ করা কাতান শাড়ি পাওয়া যাবে ২৫০০-৬৫০০ টাকায়। সুতির শাড়ি ছাড়াও হাতের কাজ, চুমকি, পুঁতি, পার্লের কাজ ও পাড় লাগানো শাড়ির দাম পড়বে ৫০০-৫০০০ টাকার মধ্যে। দেশি ঐতিহ্যের টাঙ্গাইল, তাঁত, কাতান বা জামদানির জন্য দেশি বুটিকের ওপরই এখন সবার আস্থা। বিভিন্ন ডিজাইনে আর বুননে টাঙ্গাইল সিল্ক শাড়ি ২০০০-৬০০০ টাকা, রাজশাহী সিল্ক ৪৫০০-৬০০০ টাকা, মসলিন ও ক্রেপসিল্ক ৪০০০-৬০০০ টাকা, সুতি শাড়িতে হাতের কাজ ও অ্যাপ্লিক ১৫০০-২০০০ টাকা, এন্ডি কটনে কাজ করা শাড়ি ৪৫০০-৬৫০০ টাকা, খাদি কাপড়ের শাড়ি ১০০০-৩০০০ এবং সুতি শাড়ি পাওয়া যাবে ৬০০-২০০০ টাকার মধ্যে। ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি পাওয়া যাবে ১৫০০-২০০০০ টাকায়। এছাড়া শাড়ির জন্য উপযোগী কাপড় কিনে পছন্দমতো হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি বা পাড়, লেস ইত্যাদি বসিয়ে শাড়ি তৈরি করে নেয়া যায়। তবে সেজন্য ঈদের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই তা তৈরি শুরু করা উচিত।
বৈচিত্র্যময় সালোয়ার-কামিজ
প্রতিবারের মতো এবারও দেশি বুটিক হাউসগুলোর একটি বড় প্রচেষ্টা হলো সালোয়ার-কামিজে বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলা। যেহেতু এদেশে সব বয়সের নারীর কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পোশাক বলতে এখন সালোয়ার-কামিজকেই বোঝায় তাই এর ডিজাইন, কাটিং, কারুকাজ, রং সবকিছুর দিকেই ডিজাইনারদের একটু বেশিই নজর থাকে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সালোয়ার-কামিজের কাটে বেশ পরিবর্তন আসে। বেশ কিছুদিন থেকেই লম্বা ঝুলের কামিজের চল দেখা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে ফিটেড এবং ঢিলেঢালা কাট। হাতার কাটিংয়ে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। বেশি চলছে থ্রি কোয়ার্টার আর ফুল হাতা কামিজ। সালোয়ারের ক্ষেত্রে চুড়িদার, সোজা কাট সালোয়ার আর লেগিংস বেশি। কামিজে এমব্রয়ডারি ও লেসের কাজ বেশি চোখে পড়ে। এছাড়াও বাজারে রয়েছে লন কাপড়। বিভিন্ন রং ও প্রিন্টের এসব কাপড় সুতি আর আরামদায়ক হওয়ায় ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বিভিন্ন মার্কেটে ও বুটিক হাউসে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসব লন সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যাবে ২০০০-৫০০০ টাকার মধ্যে। দেশি সুতি কাপড়ের ওপর হাতের কাজ করা হরেক রকমের সালোয়ার-কামিজও এবার দেখা যাচ্ছে বিপণিবিতানগুলোতে। ১০০০ থেকে ৭০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে এগুলো। এছাড়াও সালোয়ার-কামিজের দেশি ব্র্যান্ড হিসেবে রাখি, চৈতি, ড্যান্ডি ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়। দাম পড়বে ১৫০০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও বাজারে এসেছে হরেক রকমের গজ কাপড় ও লেস এবং ইয়োক। চাইলে গজ কাপড় কিনে নিজের পছন্দমতো ডিজাইনেও তৈরি করে নেয়া যায় সালোয়ার-কামিজ। যে কোনো বুটিক হাউসে পোশাক পাওয়া যাবে ১৫০০-১০০০০ টাকার মধ্যে।
পাঞ্জাবি : ছেলেদের প্রথম পছন্দ
ঈদ উৎসবে ছেলেদের পোশাক বলতে পাঞ্জাবিকেই বোঝায়। দেশি ফ্যাশন হাউসগুলো পাঞ্জাবির ডিজাইনে অকল্পনীয় পরিবর্তন এনেছে। যে কোনো বিদেশি পাঞ্জাবির তুলনায় অনেক উন্নতমানের পাঞ্জাবি তৈরি করছে তারা। সুতি, খাদি, তাঁত ও সিল্ক কাপড়ের পাঞ্জাবির এখন জয়জয়কার। তার ওপর এমব্রয়ডারি, কারচুপি, হাতের কাজ, অ্যাপ্লিকের কাজ, ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট ছাড়াও বিভিন্ন রংয়ের সুতার কাজ লক্ষণীয়। রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটে পাওয়া যাবে বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবির বিশাল সমাহার। বুটিক হাউসগুলোতে পাঞ্জাবি পাওয়া যাবে ৪৫০-২০০০ টাকার মধ্যে। পাঞ্জাবির কাটিংয়ে শর্ট, লং দুধরনের দেখা যায়। এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবির জন্য যেতে পারেন আড়ং, ওটু, আর্টিস্টি কালেকশন বা লুবনানে। কাজ ও কাপড়ের ওপর ভিত্তি করে পাঞ্জাবির দামেও রয়েছে বেশ তারতম্য। বিভিন্ন ডিজাইন ও স্টাইলের পাঞ্জাবির দাম পড়বে ২০০০-৬০০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও সাদা সুতি পাঞ্জাবি ৬৫০-১০০০ টাকা, রঙিন সুতি হাতের কাজের পাঞ্জাবি ৮০০-১৫০০ টাকা, সিল্কের পাঞ্জাবি ১৮০০-৪০০০ টাকা, শর্ট পাঞ্জাবি ৫৫০-১৫০০ টাকা এবং প্লেন পাঞ্জাবি ৪৫০-৮৫০ টাকা দামে পাওয়া যাবে।
ফতুয়া : ছেলে-মেয়ে সবার পছন্দ
তরুণ-তরুণীদের ফ্যাশন ও পছন্দের শীর্ষে গত কয়েক বছর ধরেই স্থান করে নিয়েছে ফতুয়া। যত দিন যাচ্ছে ফতুয়ার ডিজাইন ও কাটিংয়ে আসছে নতুনত্ব। মূলত আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল বলে সব বয়সীদেরই পছন্দের পোশাক ফতুয়া। ফতুয়ার মূল বিক্রেতা মূলত বুটিক হাউসগুলোই। এবার ছেলে-মেয়ে উভয়ের ফতুয়াতেই দেখা গেছে নতুন নতুন ডিজাইনের সমাহার। মেয়েদের ফতুয়ায় গলায় ও হাতে বিভিন্ন রকম কাটিং বৈচিত্র্য দেখা যায়। যে কোনো ফতুয়া আপনি পেতে পারেন সর্বোচ্চ ১৫০০ টাকার মধ্যে।
সব সময় উপযোগী শার্ট-প্যান্ট
ঈদে ছেলেরা পাঞ্জাবি কিনলেও ফরমাল শার্ট-প্যান্ট বাদ যায় না। ঈদের পর বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা দাওয়াতে যোগ দিতে শার্ট-প্যান্ট লাগবেই। তাই ঈদে শার্ট-প্যান্টের বাজারও জমে ওঠে পুরোদস্তুর। প্রতিবছরই ছেলেদের শার্টে কিছু নতুনত্ব যোগ করার চেষ্টা করে ফ্যাশন হাউসগুলো। কলার, হাতের কাফ, হাতা বা বাটনে কিছু নতুন ডিজাইন যোগ করে ভিন্নতা আনা হয়। দেশি বুটিক হাউসগুলোতে পাওয়া যায় আরামদায়ক ইনফরমাল শার্ট। সেগুলো বিকেলের চায়ের আড্ডা বা কাছে-ধারে কোনো আত্মীয়ের বাসায় অনায়াসে পরে চলে যাওয়া যায়। এমন শার্টের দাম পড়বে ৫০০-২০০০ টাকার মধ্যে। প্যান্টের মধ্যে ফরমাল প্যান্ট পাওয়া যাবে ৮০০-১৫০০ টাকায়। আর জিন্স, গ্যাবাডিন, কটন কাপড়ের প্যান্টের দাম পড়বে ৪০০-৩০০০ টাকা পর্যন্ত। এসব প্যান্ট কিনতে পারেন ক্যাটস আই, ওয়েসটেকস, আর্টিস্টি কালেকশন, ওটু, ইয়েলো, রিচম্যান, এক্সটাসি ইত্যাদি দোকান থেকে।
জুতা
ঈদে কমপক্ষে এক জোড়া নতুন জুতা না হলে ঈদের সাজটাই যেন অপূর্ণ থেকে যায়। তাই পোশাক কেনার পর আর দেরি না করে জুতার দোকানে ছোটা চাই। অনেকে ঈদের কয়েকদিন আগে জুতা কেনেন। তখন অনেক সময় জুতার ডিজাইন এবং সাইজ পাওয়া যায় না। তাই একটু তাড়াতাড়িই জুতার দোকানে ঢুঁ মারা উচিত। মেয়েদের পছন্দের জুতার তালিকায় রয়েছে হাইহিল, ওয়েজহিল, স্টিলেটো হিল। এছাড়া আরামদায়ক জুতা হিসেবে ফ্ল্যাট আর সেমি হিল তো রয়েছেই। এসব জুতা পাওয়া যাবে এলিফ্যান্ট রোডের বিশাল জুতার মার্কেটে। এছাড়া প্রতিটি শপিংমলেই রয়েছে একটি জুতা কর্নার। তাছাড়া প্রতিটি বুটিক শপেই এখন সু কর্নার রয়েছে, যেখানে ফ্ল্যাট ও সেমি হিলের দেখা মিলবে। বাজারে এখন চায়নিজ ও থাইল্যান্ডের জুতার বেশ কদর রয়েছে। পাশাপাশি দেশি কিছু ব্র্যান্ড তৈরি হয়েছে। রাখি, কাভাকাভা, লেদারস ইত্যাদি মেয়েদের জুতার দেশি ব্র্যান্ড। ছেলেদের জুতার নামি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে জেনিস, গ্যালারি অ্যাপেক্স, অভিযাত্রী, বাটা, ফরচুনা, পেগাসাস ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব দোকান থেকে ঈদের স্যান্ডেল বা জুতা যে কোনোটাই কিনে নেয়া যায়। রং, সাইজ ও ডিজাইন ভেদে এগুলোর দাম পড়বে ৭০০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও স্থানীয় বাজারে পাকিস্তানি নাগরা, জয়পুরি ও কোলাপুরি স্যান্ডেল পাওয়া যাবে ৪০০-১০০০ টাকার মধ্যে।
ঈদ অনুষঙ্গ ব্যাগ-অলঙ্কার
মেয়েদের ঈদ অনুষঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে ব্যাগ আর অলঙ্কার। ব্যাগের ক্ষেত্রে বিদেশি ব্র্যান্ডের ব্যাগগুলো স্টাইলিশ ও টেকসই হওয়ায় সবার নজর কেড়েছে। বসুন্ধরা সিটি, আলমাস, ব্যাগ প্যাকার্স, স্পার্ক গিয়ারসহ বিভিন্ন শপিংমলে পাওয়া যাবে এসব ব্যাগ। বাহারি ডিজাইনের এসব ব্যাগ পাওয়া যাবে ৪০০-৪০০০ টাকার মধ্যে। জেন্টস ব্যাগ পাওয়া যাবে ১ হাজার থেকে ৫০০০ টাকায় আর ট্র্যাভেল ব্যাগ পাবেন ১৫০০ থেকে ৪০০০ টাকার মধ্যে। ব্র্যান্ডের ব্যাগগুলো ছাড়াও রাইফেল স্কয়ার, মগবাজারের বিশাল সেন্টার, চাঁদনিচক, পলওয়েল মার্কেটে রয়েছে ব্যাগের বিশাল বাজার।
ফ্যাশনে গহনার ভ‚মিকা অন¯^ীকার্য। আর উৎসবে গহনা ছাড়া সাজ পরিপূর্ণ হয় না। ঈদে ভারী সোনার গহনার চেয়ে হালকা ট্র্যাডিশনাল গহনাই বেশি মানানসই। ঈদে জামা বা শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে রূপা, স্টোন, মেটাল বা ইমিটেশনের চুড়ি, কানের দুল, নাকফুল, ব্রেসলেট, আংটি, পায়েল ইত্যাদি গহনা ব্যবহার করা যায়। কাচের চুড়ি ডজনপ্রতি ৪০-২৫০ টাকা আর মেটালের চুড়ি ডজনপ্রতি ১৫০-৮০০ টাকায় পাওয়া যায়। স্টোনের কানের দুল ১০০-২০০০ টাকা। ২০-৬০০ টাকায় পাবেন ব্রেসলেট। পায়েল ২৫০-৮০০ টাকা এবং হাত ও পায়ের আংটি ৫০-৫০০ টাকার মধ্যেই পাবেন। পাথর বা পুঁতির লম্বা মালা পড়বে ৫০-৫৫০ টাকা। বিভিন্ন শপিংমলে এসব অলঙ্কারের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে জেনেটিক প্লাজা, কে জেড জুয়েলারি, মাদুলি, পিরান, যাত্রা, আড়ং ইত্যাদি দোকানে পাওয়া যাবে রুচিশীল গহনা।
আতর-টুপি-জায়নামাজ
ঈদের কেনাকাটায় একটি বড় অংশজুড়ে থাকে টুপি-জায়নামাজ। নানা ডিজাইন ও রংয়ের টুপি এখন বাজারজুড়ে। টুপি কেনার জন্য চলে যেতে পারেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের মার্কেটসহ বড় বড় মসজিদের সামনে। ধরন অনুযায়ী টুপির দাম পড়বে ৪০-৬০০ টাকা। জায়নামাজের ক্ষেত্রে পাট-কাপড় ও ভেলভেটের বড়-ছোট বিভিন্ন ধরনের পাওয়া যায়। দাম পড়বে ৩০০-২০০০ টাকা পর্যন্ত। বড় বড় থান কাপড় ও টুপির দোকানেই পাবেন জায়নামাজ। আতরের সুগন্ধ পবিত্রতা এনে দেয় দেহ-মনে। তাই নামাজে যাওয়ার আগে সুগন্ধি ব্যবহার করতে পছন্দ করেন অনেকেই। ভালো মানের দেশি আতরের দাম পড়বে ২০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে।
জাকাতের কাপড়
সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে জাকাতের কাপড় কেনাকাটা ঈদ আনন্দের একটি বড় অংশ। জাকাতের কাপড় হিসেবে শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবি, থ্রিপিস, ছোটদের কাপড় ইত্যাদি দেয়া যায়। এ জন্য বঙ্গবাজার, গাউছিয়া, সদরঘাট, আজিমপুর পাকা মার্কেট, নিউমার্কেটে যেতে পারেন। দাম পড়বে শাড়ি ২০০-৪৫০ টাকা, লুঙ্গি ১৫০-৩৫০ টাকা, থ্রিপিস ৩০০-৫৫০ টাকা, পাঞ্জাবি ২০০-৫০০ টাকা এবং ছোটদের পোশাক ২০০-৫০০ টাকার মধ্যে।
সাপ্তাহিক ২০০০ ঈদ ফ্যাশন ক্যাটালগ ২০১২
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা
নগরদোলা
ধানমন্ডি, বনানী, বসুন্ধরা সিটি, চট্টগ্রাম, লন্ডন।
ফোন : ৯১২৭০৩৫, ৯৮৭২০৩৬, ৮১২৯১৬৩, ০৩১২৫৫৬৮৯৫
ট্রেন্ডজ
বনানী-১১, ধানমন্ডি, উত্তরা, বসুন্ধরা শপিংমল, ঢাকা।
চিত্ত বসাক
গ্রাম+পোস্ট : পাথরাইল, দেলদুয়ার, টাঙ্গাইল।ফোন : ০১৭১২-০১৯৬১৭, ০১৭১৮-১৪৫১১৭
শাওলি’স ফ্যাশন
হাউস- ১০, রোড-৭বি, সেক্টর-৩, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন : ০১১৯১০৯৯০৭০৯, ০১৬৭৮৬৯০৬৬১
এড্রয়েট
ধানমন্ডি, বনানী, মিরপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা। ফোন : ৮১২৮৬২৫, ৮৮৩৫১২২, ০১৭১৩৩৬৬৫০৩
ফারাহ’স ওয়ার্ল্ড
হাউস নং-১ (৩য় তলা), রোড-৪০, রূপনগর আ/এ, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা।
ফোন : ০১৯৪০৪৪২৯৯০, ০১৮১৯২৫৫৬৯৩
ইস্টার্ন ক্র্যাফট
লেভেল # ২, ব্লক # অ, দোকান # ৩৬, বসুন্ধরা সিটি।
ফোন : ৯১৩৭০৮০, ০৪৪৭৫০০৭২৭০
Cats Eye
বসুন্ধরা সিটি, এলিফ্যান্ট রোড, নিউ ইস্কাটন, গুলশান, উত্তরা, মালিবাগ।
কে ক্র্যাফট্স
সোবহানবাগ, বনানী, দেশীদশ, বসুন্ধরা সিটি, উত্তরা, মিরপুর, কানাডা।
গাঁওগেরাম
৩১৭ মেট্রো শপিংমল (তৃতীয় তলা), ধানমন্ডি। আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগ, ঢাকা।
ফোন : ০১৯৭১৫২৬৯৭১
যারিফ ফ্যাশন
বসুন্ধরা সিটি, লেভেল-৪, ব্লক-ডি, শপ নং-১৯, ঢাকা।
ফোন : ০১৯৩৭০৭৯৬২৬, ০১৯৪২৩২৮৮৪৮
ম্যাকয়
মেট্রো শপিংমল, অরচার্ড পয়েন্ট। সীমান্ত স্কয়ার, ধানমন্ডি।
ফোন : ০১৭৩১৯১১১২৯, ০১৭৪১০৩৯৩৫৪, ০১৭৫৪০৪০৬৯৩
বাংলার মেলা
বনানী ১১, প্লাজা এ. আর, উত্তরা রবীন্দ্র সরণি, মালিবাগ হোসাফ শপিং কমপ্লেক্স, মিরপুর-২, বসুন্ধরা দেশীদশ, বেইলী রোড, চট্টগ্রাম।
ফোন : ৮৮৯১৫২৭, ৮৮৯১৫৫১
কীত্তনখোলা
হাউস- ৩-১, বাড্ডা, গুলশান, শপ নং-৩১৯, লেভেল-৩, প্লাজা এ.আর, মিরপুর রোড, ঢাকা। ফোন : ০১৭১১৭০৫৪৩২
আই.বি কালেকশন্স
১৪৩ নং পূর্ব রামপুরা, ঢাকা-১২১৯। ফোন : ০১৭১২৬৯৮৫৮৪
গৃহকারু
অরচার্ড পয়েন্ট, ঢাকা
ফোন : ৮১৯১১৬৬, ০১৯১২৫৪৯১৮৬
আনাম র্যাংগস প্লাজা, দোকান নং # ২৪, ধানমন্ডি, ঢাকা। ফোন : ৮১৯১১৬৬, ৯১২৫৮৩১
আবর্তন
সিদ্ধেশ্বরী, ফোন : ৮৩১৭৮৯৬। ধানমন্ডি, ফোন : ৯১৩৭৭৪২। ওয়ারী, ফোন : ৭১১৯৪৭৬। মিরপুর, ফোন : ৮০৩৩৭১২
ইন্ডিগো ক্র্যাফট্স
বাড়ি-২৭, রোড-৭, সেক্টর-৩, উত্তরা, লতিফ এম্পোরিয়াম।
স্টুডিও এমদাদ
বাড়ি-২৭, রোড-৭, সেক্টর-৩, উত্তরা, লতিফ এম্পোরিয়াম।
৩৩৬/সি তেজগাঁও, ঢাকা।
ফোন : ০১৬৭০০৭৪০০, ০৭১১৫২
ফেইথ ইলেভেন
সাদাকালো
দেশীদশ, বেইলী রোড, সীমান্ত স্কয়ার, বনানী-১১।
দর্জি
হাউস-৭, রোড-২৩/অ, গুলশান-১, ঢাকা।
ফোন : ৮৮১২৭৮৬, ০১৯১১৬২৩৬৩৬
অঞ্জন্স
বেইলী রোড, সোবহানবাগ, সীমান্ত স্কয়ার, উত্তরা, ওয়ারী, বনানী ১১, মালিবাগ, দেশীদশ ঢাকা ও চট্টগ্রাম।
মান্ত্রা
র্যাংগস অর্কিড, ১৫৩/অ, গুলশান-২, ঢাকা। ফোন : ৯৮৫৩০১২
বসুন্ধরা সিটি, লেভেল-৭, ঢাকা
ফোন : ০১৭৪২৫৯৫৮৮৭
আই.এন.আইএফ.ডি (ওঘওঋউ)
৪১ কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, বনানী, ঢাকা, ফোন : ০১৭৩২৮৭৫০১১
নিপুণ ক্রাফট্স লিমিটেড
হোসেন প্লাজা, পিংক সিটি, উত্তরা, বসুন্ধরা সিটি, মিরপুর, লালমাটিয়া, ওয়ারী, সিলেট। ফোন : ৮১২০৩৭৪, ৯০১৪৬২৭, ৮৯৫৪৪৩৯, ০১৭১৫৩৮২৪২৩
সাপ্তাহিক ২০০০ ঈদ ফ্যাশন ক্যাটালগ ২০১২
মডেল তারকা : সাবা, টুম্পা, রুহি, হৃদি, আইরিন, নদী, শায়লা, রিনি, রিসিলা, সুবাহ, অপ্সরা, হারুন, শাওন, অন্তু, ইমরান, নাহিদ, সোহাগ ও টনি
প্রধান সমণ্নয়কারী : সাশা মানসুর চৌধুরী
সমণ্নয়কারী : রাহনুমা শর্মী, জাভেদ ইকবাল তিশা
আয়োজক সহকারী : ফারজানা তিথী, আসমা
প্রধান আলোকচিত্রী : তুহিন হোসেন
গ্রাফিক এডিটর : হাবিবুর রহমান
গ্রাফিক্স : খন্দকার শফিকুল ইসলাম, তারেক আনন্দ, খালেদ মাসুদ
মেকআপ : ম. ম. জসিম, হিরু ও পলাশ
কৃতজ্ঞতা : সোনিয়া
বিভাগ: প্রচ্ছদ



