banner ad

বর্ষার সঙ্গে এসেছে ডেঙ্গুও
সায়মা ইসলাম তন্দ্রা

বর্ষা আসতে না আসতেই রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে গেছে। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। তবে সরকারি ও বেসরকারি হিসেবে ঠিক এই মুহূর্তে রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কত তা জানা যায়নি। এ বিষয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসক এবং বিভিন্ন হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কাছে জ্বরে আক্রান্ত রোগীই বেশি আসছেন। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যাচ্ছে এসব রোগীর বেশিরভাগই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিবির্ভাগে কর্মরত মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক আকবর হোসেন জানালেন, জ্বরে আক্রান্ত রোগী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বেশ কয়েকজনকে ডেঙ্গু রোগী হিসেবে শনাক্ত করেছেন তারা।

 

রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, শমরিতা হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক ধরে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা আসছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

 

চিকিৎসকরা বলছেন ডেঙ্গুর মূল কারণ এডিস মশা। এডিস মশার বৈশিষ্ট্য হলো এরা পরিষ্কার জমা হওয়া পানিতে বংশবিস্তার করে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে গেলে সে পানিতে এরা বংশবিস্তার করে। প্লাস্টিকের পাত্র, পুরনো ক্যান বা পাত্র, গামলা, টায়ার, ডাবের খোসা, গাছের কোটর, ফুলের টব, ছোট আবদ্ধ জায়গায় জমে যাওয়া বৃষ্টির পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। এমনকি সুইমিং পুলের জমে থাকা পানিতেও এডিস মশার জীবনচক্র চলতে থাকে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার সেফায়েত উল্লাহ বলেছেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পর ঢাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার এটা একটি বড় কারণ।

 

ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ জানালেন, প্রতিদিন তার কাছে ১০ থেকে ১২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী আসছেন। তার মতে, বাসা বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তারের কারণে সম্প্রতি রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। রাজধানীতে জমে থাকা পানি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সামনের দিনগুলোতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন তিনি। চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীরা বলছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়ালে এবং সেই মশা পরবর্তী সময়ে অন্য ব্যক্তিকে কামড়ালে ডেঙ্গুর সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের একমাত্র উপায় মশার মাধ্যমে সংক্রমণ প্রতিহত করার উদ্যোগ নেয়া।

 

বিশেষজ্ঞরা জানালেন, সাধারণত ভোরে সূর্যোদয়ের আধঘণ্টার মধ্যে এবং সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের আধঘণ্টা আগে এডিস মশা কামড়াতে পছন্দ করে। তাই এই দুই সময়ে মশার কামড় থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিলেন তারা। কোথাও ডেঙ্গুতে আক্রাš— রোগীর সন্ধান পেলে আশপাশের সবাইকে তা জানানো এবং আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে বললেন চিকিৎসরা।

 

অন্যদিকে মশার প্রকোপ বাড়ার পরও মশক নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগ করার পর থেকে নাগরিক সমস্যা সমাধান এবং সেবার ক্ষেত্রগুলোতে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে সেটা মশক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। এই বিষয়ে কথা বলার জন্য ডিসিসি উত্তর এবং দক্ষিণের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে কেউই মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এখন সহজেই ডেঙ্গু শনাক্ত করা যায় এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা এই রোগের ব্যবস্থাপনা জানেন। এই জন্য জ্বরের লক্ষণ দেখলেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে প্রশিক্ষণ পাওয়া চিকিৎসকরা সঠিক চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে অধিদপ্তর মনে করে।

 

বাংলাদেশে কখনই ডেঙ্গুর সংক্রমণ আতঙ্কজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু নিয়ে খবরটি এক রকম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবর অনুযায়ী ডেঙ্গু প্রতিরোধে গত ২৫ জুন দশ হাজার সেনা নামিয়েছে দেশটি। এ বছর ডেঙ্গুর কারণে ৭৫ জনের মৃত্যুর ঘটার পর, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সৈন্যরা এই সপ্তাহে এক পরিষ্কার অভিযানে যোগ দেবে। জলাবদ্ধ এলাকা ও মশার বংশবিস্তারের অন্যান্য ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করতে কাজ করবে সেনারা। শ্রীলঙ্কায় এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ১৫ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়।

 

মশাবাহিত ভাইরাসজনিত জ্বর ডেঙ্গুর কথা বাংলাদেশের মানুষ ব্যাপকভাবে জানে ২০০০ সাল থেকে। ওই বছর কিছুটা আতঙ্কও দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে সেরকম আতঙ্ক নেই। তারপরও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার ওপরই গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে নগরীর অনেক এলাকায় পানি জমে থাকছে। আর এই পানিতেই বংশবিস্তার করছে ডেঙ্গুর জীবাণুবহনকারী এডিস মশা। তাদের মতে, জমে থাকা এই পানি নিয়মিতভাবে সরানোর ব্যবস্থা না করলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি যে কোনো সময় ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

 

 

 

বিভাগ: প্রতিবেদন

RSSকমেন্টস (0)

Trackback URL

আপনার মন্তব্য



ওয়েব সাইট

আপনার কমেন্টের সাথে যদি ছবি প্রকাশ করতে চান, এখান থেকে ছবি সংগ্রহ করুন.