আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনে টাকার ছড়াছড়ি ২০০০ প্রতিবেদন
আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে দলীয় কার্যালয়। কর্মী-সমর্থকদের পদচারণা আর ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে গুলিস্তান-মতিঝিল এলাকা। সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগে পদ পাওয়ার জন্য বেশি দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। কাউন্সিল ঘিরে ‘পদ বাণিজ্যের’ অভিযোগও উঠেছে।
টাকার বিনিময়ে পদ পাওয়া যাচ্ছেÑ এমন অভিযোগ উঠেছে যুবলীগের বিরুদ্ধে। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুবলীগ টেন্ডারবাজি, ভ‚মি দখল, চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয় এমন অভিযোগের কমতি ছিল না। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী যেসব নেতার বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, ভূমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল তারাই এখন পদ পেতে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এসব নেতা রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, সুসজ্জিত তোরণ নির্মাণ করে নিজেদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজধানীর বড় রাস্তা থেকে অলিগলি পর্যন্ত এখন ব্যানার-ফেস্টুন ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচারণায় দাগি আসামি, খুনের মামলার আসামিরাও নেমে পড়েছেন। সম্মেলন ঘিরে টাকার খেলা চলছে যুবলীগে। জনসমর্থন দেখাতে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমণ্ডি সভানেত্রীর কার্যালয়ে শোডাউন, পাল্টা শোডাউনের খেলা চলছে। পদ প্রত্যাশীরা অনেকটা জাতীয় নির্বাচনের মতো টাকা উড়াচ্ছেন। জানা গেছে, যুবলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চ‚ড়ান্ত। সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান ও এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক দলীয় নেতা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। যুবলীগের শীর্ষ পদে আসার জন্য যুবলীগ নেতাদের পাশাপাশি সাবেক ছাত্রলীগ নেতারাও আলোচনায় রয়েছেন। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মিজানুর রহমান ও শেখ মারুফ আলোচনায় আছেন। সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি বাহাদুর ব্যাপারীও আলোচনায় উঠে এসেছেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় আছেন অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন, মাহবুবুর রহমান হিরণ ও এনায়েত কবীর চঞ্চল। এদের পাশাপাশি সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি লিয়াকত শিকদারের নামও আলোচিত হচ্ছে।
যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সাবেক ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, মারুফা আক্তার পপি, জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, পঙ্কজ সাহা, মেহেদী জামিল, আলমগীর হাসান ও সালাউদ্দিন চৌধুরী আলোচনায় রয়েছেন। যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা তাজউদ্দিন আহমদ, শেফালী আক্তার, শ্যামল কুমারও সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রত্যাশী। জানা গেছে, শেখ হাসিনা বর্তমান কমিটি ও সাবেক ছাত্রনেতাদের নিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই ক্ষেত্রে বর্তমান কমিটি থেকে একজন ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্য থেকে একজন নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব তৈরি করা হতে পারে। এ প্রসঙ্গে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ২০০০-কে বলেন, নতুন-পুরনোদের নিয়েই কমিটি গঠন করা হবে। এ ক্ষেত্রে নেত্রী যে নির্দেশনা দেবেন সেই অনুযায়ী কাজ হবে। পদ বাণিজ্য ও টাকার ছড়াছড়ি প্রসঙ্গে বলেন, ‘ব্যক্তি উদ্যোগে যারা ব্যানার-ফেস্টুন করছে এটা তাদের ব্যাপার। তবে টাকার ছড়াছড়ি হয়নি। পদ বাণিজ্য করা হচ্ছে এটা ঠিক নয়। কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে ৭০ লাখ টাকা উঠেছে সত্য। এটা নেতারা ¯ে^চ্ছায় কাউন্সিল বাবদ খরচ হিসেবে দিয়েছেন। আর ব্যানার-ফেস্টুন দিতে গিয়ে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, ফরিদউদ্দিন আহমদ, তাসভিরুল হক অনু, আবদুল মতিন গাজী, রেজাউল করিম রেজা, ওয়াহিদুল আলম কোথাও চাঁদাবাজি করেছেন এমন অভিযোগ ওঠেনি। প্রচার-পরিচিতির জন্য এটা যে কেউ করতে পারেন।
যুবলীগের মতো স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্ব নিয়েও প্রতিযোগিতা চলছে। পদপ্রত্যাশী অনেকেই প্রচারের কৌশল হিসেবে ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। এ সংগঠনের সভাপতি পদে কাউসার আহমেদ মোল্লা ও পঙ্কজ দেবনাথের কথাই বেশি আলোচনা হচ্ছে। এই দুই জনের মধ্য থেকে যে কেউ সভাপতি হতে পারেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মতিউর রহমান মতি, সাইদুল করিম মিন্টু, মিজানুর রহমান মিজান, লায়েব উদ্দিন লাবলু ও সালেহ মাহমুদ টুটুলের নাম শোনা যাচ্ছে। দলের বাইরে সাবেক ছাত্রলীগ দপ্তর সম্পাদক কামরুল হাসান খোকন আলোচনায় আছেন। সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকন ও নজরুল ইসলাম বাবুও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন। এ সংগঠনের নেতা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তিনি ২০০০-কে বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক লীগে কোনো চাঁদাবাজি হয়নি। এখানে টাকা দিয়ে পদ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কমিটেড ও ত্যাগী নেতাদের দিয়ে দল ঢেলে সাজানো হবে।’
জাতীয় শ্রমিক লীগ ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি চলছে নীরবে। এ সংগঠন দুটিতে পদ বাণিজ্য নিয়ে প্রকাশ্য কোনো অভিযোগ নেই। শ্রমিক লীগের শীর্ষ পদ পেতে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন রায় রমেশ চন্দ্র, আবদুল মতিন মাস্টার, বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, আবদুস সালাম খান, সুলতান আহমদ, আলাউদ্দিন মিয়া, ফজলুল হক মন্টু, হাবিবুর রহমান আকন্দ, ইস্রাফিল আলম এমপি ও আবদুল মোতালেব হাওলাদার। এখানে নেতৃত্ব চাপিয়ে দেয়ার সম্ভাবনা কম। শক্তিশালী শ্রমিক দলকে মোকাবেলা ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক রাজনীতি (বিশেষ করে গার্মেন্ট সেক্টর) বোঝেন এমন কাউকেই মূল দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রায় রমেশ চন্দ্র আইএলও গভর্নিং বডির মেম্বার হওয়ায় তিনি শীর্ষ দুটি পদের একটিতে থাকছেন বলে জানা গেছে।
কৃষক লীগেও নেতৃত্বের পরিবর্তন আসছে। সভাপতি পদে মোতাহার হোসেন মোল্লা, শওকত মোমেন শাজাহান আলোচনায় রয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এসএম ফজলুল হক, সমীর চন্দ্র, আশরাফুল হক জর্জ, মোঃ এমএ করিম চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তুলনামূলক ক্লিন ইমেজের লোক দিয়েই সংগঠন সাজানো হবে বলে নেতারা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, ‘যোগ্য, দক্ষ ও ত্যাগী নেতাদের দিয়েই অঙ্গসংগঠন ঢেলে সাজানো হচ্ছে। নেত্রী যেভাবে নির্দেশ দেবেন সেভাবেই কমিটি গঠন করা হবে।’ ব্যানার-ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটা ছোট নেতারা পরিচিতি বাড়ানোর জন্য করছে। পদ বাণিজ্য বা চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে অন্তত আসেনি।’
বিভাগ: প্রতিবেদন


