banner ad

পাঠক ফোরাম

বন্দনা কবীর, বনানী, ঢাকা।

ভূগর্ভস্থ পানি তোলা বন্ধ করুন

বাংলাদেশে বিভিন্ন শহরের আশপাশে গজিয়ে উঠেছে একাধিক ফিল্টার পানির কারখানা। এই কারখানার মালিকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো প্রতিদিন ভ‚গর্ভ থেকে হাজার হাজার লিটার পানি তুলছে। এরপর মেশিনে পরিশোধিত করে কনটেইনারজাত করে বিক্রি করছে। ভ‚গর্ভস্থ পানি অফুরন্ত নয়। যার-যার ইচ্ছেমতো ভ‚গর্ভের পানি তুললে অচিরেই ভ‚গর্ভস্থ খাবার পানি ফুরিয়ে যাবে। আমাদের দেশে এই ভ‚গর্ভস্থ পানি উত্তোলনে বাংলাদেশ সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে হয় না। একটি মহাবিপর্যয়ের দিকে আমরা এগিয়ে চলেছি। পরিবেশবাদীরা এবং সমাজকর্মীরা সবাই মিলে আসুন আন্দোলন গড়ে তুলি।

মনির আহমেদ

বাগেরহাট

 

ফুটপাথ মুক্ত করা হোক

বাংলাদেশে যানজট সমস্যা নতুন নয়, তবে তারচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে যানজট ক্রমশই বেড়ে চলা। যে কোনো ব্যক্তির পক্ষেই যানজটের কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব। এ রকম একটি কারণ, ফুটপাথ হকারের দখলে চলে যাওয়া। দেশের বড় রাস্তাগুলোর পাশে ভাসমান হকারদের আস্তানা গড়ে উঠেছে। সাধারণ জনগণের হাঁটার সেই একমাত্র ফুটপাথে তারা রমরমা ব্যবসা বসিয়েছে। দেখার কেউ নেই। অন্যদিকে বাধ্য হয়ে পথচারীদের রাস্তায় নেমে হাঁটতে হচ্ছে। ঘটছে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা। অবৈধভাবে রাস্তায় গাড়ি পার্কিং যানজটের আরেকটি প্রধান কারণ। তবে ফুটপাথের বিষয়টির ওপর বিশেষ নজর দেয়া দরকার।

সনেট দেব

চট্টগ্রাম কলেজ

 

রোহিঙ্গা ইস্যু

বিভিন্ন সময় মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে। বর্তমানে বাংলাদেশে ২৮ হাজার নিবন্ধিত এবং পাঁচ লাখেরও বেশি নিবন্ধনবহিভর্‚ত রোহিঙ্গা শরণার্থী বাস করছে। সম্প্রতি মিয়ানমারে আবারও জাতিগত দাঙ্গার ফলে দলে দলে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং প্রবেশের চেষ্টা করছে। বিজিবি এবং কোস্টগার্ড রোহিঙ্গাদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার জন্য সরকারকে আহবান জানাচ্ছে, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারকে কোনো চাপ দিচ্ছে না! আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এ রকম আচরণের কারণ আমরা বুঝতে পারছি না। ভারত চীনের সঙ্গেও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে সীমান্তবর্তী কোনো কোনো স্থানে উদ্বাস্তুদের আশ্রয়শিবির রয়েছে। কিন্তু সেগুলো মিয়ানমারের

সীমানার মধ্যেই। তাহলে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবির মিয়ানমারের সীমানাতে না করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে করার জন্য জাতিসংঘ চাপ দিচ্ছে কেন।

মাহমুদুল হাসান

বগুড়া

 

সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে হলে…

বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। ঝরে যাচ্ছে অনেক সম্ভাবনাময় জীবন। দিন দিন এর পরিমাণ বেড়েই যাচ্ছে। এর জন্য রাস্তাঘাট, চালক, যানবাহনের ত্রুটি যেমন দায়ী, অনেক সময় পথচারীরাও দায়ী থাকেন। অনেকে রাস্তাঘাট পার হওয়ার সময় আনমনা থাকেন। দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। অনেকে বাঁক ঘোরার সময় নিয়ম মানেন না। যানবাহনের ছাদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চড়া ঠিক নয়। অতিরিক্ত যাত্রীবাহী বাসে চলাচল ঠিক নয়। সাবধানতা অবলম্বন করলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা যায়। আমাদের তাই প্রয়োজন একদিকে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা, অন্যদিকে চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ও নিরাপদ রাস্তাঘাট নির্মাণ করা।

ডা. মোঃ ফজলুল কবির পাভেল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

 

যৌতুকের কবল

যৌতুকের কবল থেকে আজো মুক্তি পায়নি জাতি! অথচ ১৯৯১ সাল থেকে বিগত ২১ বছর ধরে এদেশ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারই পরিচালনা করছে। নারীর উন্নয়নে অনেক সামাজিক সংগঠন ও এনজিওর কার্যক্রমও দেশে সক্রিয়। কিন্তু তবু সংবাদপত্রের পাতায় ‘যৌতুকের জন্য নারী নির্যাতন’-এর সচিত্র প্রতিবেদন হরহামেশাই ছাপা হচ্ছে। এত কার্যক্রমে তাহলে কী নারীর ক্ষমতায়ন ঘটেনি? সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক, অনৈতিক এবং অমানবিক যৌতুকপ্রথা প্রতিরোধে আমাদের জাতীয় নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে তৎপর হলে অভিশপ্ত যৌতুকপ্রথা এবং নারী নির্যাতন বন্ধ হওয়া কোনো বিষয় নয়। আমরা চাই, নারী মুক্তির ইস্যুগুলোতে জাতীয় নেতারা দ্রুত ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভূমিকা রাখবেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ্

মিরসরাই, চট্টগ্রাম

 

সচেতনতার বিকল্প নেই

এক লিটার আমের জুস ৭০ টাকা। অন্যদিকে এক কেজি মওসুমি আম ৫০-৬০ টাকা। তাহলে কোনটাতে লাভ বেশি? এক কেজি খাঁটি আমে? নাকি তথাকথিত এক লিটার ‘খাঁটি’ আমের জুসে? যে জুসটিতে ১০০ গ্রাম আমও মেশানো হয় কি না সন্দেহ, বরং মিষ্টি কুমড়া, স্যাকারিন, রং প্রভৃতি কেমিক্যাল মেশানো থাকে, সেই জুস খেয়ে আমরা কেন আমাদের নিজেদের ক্ষতিসাধন করব? আর নিজেদের কষ্টের টাকাগুলো কেন ওই জুস প্রস্তুতকারকদের পকেটে ঢালব? সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের এসব বাণিজ্যিক প্রবণতা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

রফিকুল ইসলাম কামাল

বিশ্বনাথ, সিলেট

 

প্রসঙ্গ হাইওয়ে পুলিশ

‘নিরাপদ সড়ক আমাদের অঙ্গীকার’- এই স্লোগানটি সামনে রেখে হাইওয়ে পুলিশের পথচলা শুরু হয় ২০০৫ সালে। অথচ এখন তাদের অস্তিত্ব ও স্লোগানই প্রশ্নবিদ্ধ। তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। পারেনি যুগোপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। চোরাচালান, মাদকদ্রব্য পাচার আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে। তার সঙ্গে চলছে পরিবহন শ্রমিক খুন ও হয়রানি। এর ওপর যাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতা ও বিড়ম্বনা তো আছেই। এ ব্যাপারে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আব্দুল্লাহ আইমান

সেগুনবাগিচা, ঢাকা

 

ফরমালিন চাই না

ফরমালিনের প্রয়োজন হয় হসপিটালে মরা মানুষের শরীর পচন থেকে রক্ষা করার জন্য। অথচ এই ফরমালিন মেশানো খাবার খেয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে জীবিত মানুষের শরীর। সরকারি অনুমোদন ছাড়া ফরমালিন বিক্রি, বহন করা, মজুদ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হোক। নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে আমার অনুরোধ, যতটা গুরুত্ব দিয়ে আপনারা বেআইনি অস্ত্রধারী এবং মাদক-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালান তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ফরমালিন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

হাসানুর রহমান

কাউনিয়া, বরিশাল

 

মানবতার পক্ষে বাংলাদেশ

অসহায় রোহিঙ্গাদের সাহায্য করা প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উচিত ছিল। এবার যেভাবে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে তাতে আমি ব্যথিত হয়েছি। অথচ ১৯৭১ সালে প্রায় ১ কোটি লোক বাস্তুহারা হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। ইরাক ও লিবিয়ার সহিংস ঘটনায় অসংখ্য বাংলাদেশি বিভিন্ন সীমান্তে পাড়ি জমিয়েছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন, মানবতার বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করুন।

এমএন সালেহ বায়েজীদ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

 

অভিনব উদ্যোগ

সংলাপ নিয়ে সাপ্তাহিক ২০০০ যে গোলটেবিল বৈঠক করেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট থেকে উত্তরণে গণমাধ্যমের উদ্যোগ যে অত্যন্ত জরুরি তা ২০০০-এর এ উদ্যোগ আবারো প্রমাণ করল। কারণ এখানে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ এবং একটি নির্দেশনা ছিল। সাপ্তাহিক ২০০০-এর কাছে প্রত্যাশা যেন দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আরো কয়েকটি সংলাপের আয়োজন করে।

এম আবদুল্লাহ

কাঁটাবন, ঢাকা

 

দুর্যোগ মোকাবেলা কোনো দিন হবে না?

আমাদের দেশে রীতিতে পরিণত হয়েছে সঙ্কটে পড়লেই সমাধান খোঁজার হিড়িক। সংবাদমাধ্যমে জানতে পারলাম চট্টগ্রাম পানির নিচে। সামান্য বৃষ্টিপাতেই এ সমস্যা। কর্তৃপক্ষ তো জানত চট্টগ্রামের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো নয়। কেন তারা বর্ষা মওসুমের আগে তা ঠিক করল না? নাকি তারা বর্ষা মওসুমের জন্য অপেক্ষা করছিল? তাহলে পানিবন্দি মানুষের উদ্ধারের নামে কিছু টাকা বরাদ্দ হবে, করা যাবে হরিলুট।

রাহাত

চট্টগ্রাম

 

মধু নেই মধুতে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর মধ্যে মধুর ক্যান্টিন অন্যতম। এক সময় মেধাবী ছাত্রনেতাদের পদভারে মুখরিত ছিল এই ক্যান্টিন। তারা সেখানে আড্ডা দিত, দেশকে নিয়ে আলোচনা হতো। কিন্তু এখনকার তথাকথিত ছাত্রনেতারা ভাবে না, ভাবায়। তারা আজ ঢাবির হলগুলোতে থাকা ছাত্রদের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক। আর অন্যতম আতঙ্কের স্থান ‘মধুর ক্যান্টিন’। প্রতিদিন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে হলেও মধুতে নেতাদের সঙ্গে হাত না মেলালে বৈধ ছাত্ররা হলে থাকার বৈধতা পায় না।

মোঃ সাদ্দাম হোসেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

সাংসদরা দেশ নিয়ে উদাসীন

সম্প্রতি শিক্ষাবিদ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে নিয়ে যেসব বক্তব্য সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে তার ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। তার সঙ্গে সবাই একমত হবেন তা নয়। তাই বলে জাতীয় সংসদে একজন শিক্ষাবিদকে নিয়ে সংসদ সদস্যরা অসৌজন্যমূলক ভাষায় কথাবার্তা বলবেন, তা মেনে নেয়া যায় না। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ হত্যাকাণ্ড, সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি নির্যাতন, আদালত প্রাঙ্গণে নারীর শ্লীলতাহানি এসব বিষয় নিয়ে সংসদ সদস্যরা উদ্বিগ্ন নন এবং এসব বিষয় সংসদে আলোচনাও হয় না। তারা ব্যস্ত মানুষের অধিকার আরো অনিশ্চিত করে তোলায়। আমরা চাই, সংসদে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হোক- কীভাবে জনগণের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করা যায়, আরো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়- এরকম বিষয়গুলো নিয়ে সংসদ সদস্যরা আলোচনা করুন। জাতীয় সংসদ দলীয় স্বার্থ প্রতিষ্ঠার বা সংরক্ষণের জায়গা নয়- আমরা যেন একথা ভুলে না যাই।

সবুক্তগীন আহমেদ

তারাগঞ্জ, রংপুর

 

পাঠক ফোরামে লেখা ও ছবি পাঠানোর ঠিকানা

পাঠক ফোরাম, সাপ্তাহিক ২০০০

৯৬-৯৭ নিউ ইস্কাটন রোড, ঢাকা ১০০০, ই-মেইল : info@shaptahik-2000.com

বিভাগ: পাঠক ফোরাম

RSSকমেন্টস (0)

Trackback URL

আপনার মন্তব্য



ওয়েব সাইট

আপনার কমেন্টের সাথে যদি ছবি প্রকাশ করতে চান, এখান থেকে ছবি সংগ্রহ করুন.