পাঠক ফোরাম
মার চলবেই
পুলিশ অতীতেও সাংবাদিক পিটিয়েছে, এখন পেটাচ্ছে, ভবিষ্যতেও পেটাবে। তাদের লাঠিপেটা থেকে শিশু কিংবা বয়স্ক শিক্ষকরাও বাদ যাবেন না। সাংবাদিক বলে তাদের পেটানো যাবে না এমন তো সংবিধানে লেখা নেই। তারা কি দেশের মাথা কিনে নিয়েছে নাকি? পুলিশের নিষ্ঠুর, বর্বর ও অমানবিক আক্রমণের শিকার হয়ে যখন প্রথম আলোর তিন ফটোসাংবাদিক হাসপাতালে শয্যাশায়ী, তখন আমাদের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যে অমৃত বচন শোনালেন তাতে তো তাই মনে হয়। সাংবাদিকরা প্রতিকার হিসেবে সেফ ডিসটেন্স জার্নালিজমের ওপর চমৎকার থিওরি পেল বৈকি! পুলিশের সাংবাদিক পেটানোর বিচার হবে না। অতএব পুলিশ থেকে সাংবাদিকরা কত হাত দূরত্বে থেকে সংবাদ সংগ্রহ করবে তা মেপে ও ভেবে দেখার সময় এসেছে।
জয়ী সাহা
ঢাকা
পুলিশের নির্যাতন
পুলিশ দ্বারা এখন সাংবাদিক, আইনজীবী, বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী, ছাত্র-শিক্ষক, শ্রমিক কিংবা সাধারণ জনগণ নির্যাতিত হচ্ছে। তবে এ অবস্থা নতুন নয়। বাংলাদেশে পুলিশের নির্যাতন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঝে মাঝে নির্যাতনের বিরুদ্ধে বড় বড় লেকচার শোনা যায়। আন্দোলন হয়, সাংবাদিকরা পত্রিকায় সমালোচনামূলক প্রতিবেদন ছাপেন। এরপর কিছুদিন নির্যাতনের ঘটনার তদন্ত হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দেন। বিরোধী দল নিন্দা জানায়। ততদিনে ঘটনা ইতিহাস হয়ে যায়। পুলিশের কিছুই হয় না।
এমএস কবির সায়েম
আরএসবিএমএসসি, রাজশাহী
আস্থার প্রতীক বাপেক্স
সম্প্রতি সিলেটের কৈলাশটিলায় তেল আবিষ্কৃত হয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানির পরিত্যক্ত ঘোষিত তেল ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ তেল আবিষ্কার বাপেক্সের যোগ্যতাই প্রমাণ করে। প্রধানমন্ত্রী ক্ষেত্রটি থেকে তেল উত্তোলনের দায়িত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে। প্রধানমন্ত্রীর সাহসী ও সঠিক সিদ্ধান্ত বাপেক্সকে আরো দায়িত্বশীল ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে। দেশবাসী সব সময় বাপেক্সের সঙ্গে থাকবে।
মাহমুদুল হাসান
সরকারি আযিযুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, বগুড়া
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা চাই
বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হলো সাংবাদিকতা। সাংবাদিকরা গণমাধ্যমের প্রাণ। প্রতিদিন তারা সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরছেন। আর এই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে
নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা। কখনো সন্ত্রাসীদের হাতে, কখনো পুলিশের হাতে। মনে রাখতে হবে সাংবাদিকরা নিজের স্বার্থের জন্য নয়, দেশের স্বার্থে কাজ করছেন। সুতরাং তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত। সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া কিন্তু মোটেই সুখকর লক্ষণ নয়।
সনেট দেব
চট্টগ্রাম কলেজ
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবার ও সমাজ
দেশের অধিকাংশ মানুষ যেখানে তিন বেলা খেতে পান না। অনেকে না খেয়ে থাকেন। চিকিৎসা করাতে পারেন না। টাকার অভাবে পড়াশোনা করতে পারেন না। বিনা চিকিৎসায় মানুষ ধুঁকে ধুঁকে মারা যান। এই অবস্থায় দেশের লাখ লাখ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। এখন স্কুল পড়–য়া ছাত্রছাত্রীদের হাতেও ফোন দেখা যাচ্ছে, যা খুবই অশোভন। অযথা টাকা খরচ হওয়ার পাশাপাশি সময় ও পড়াশোনারও ক্ষতি হচ্ছে। কিশোর-কিশোরীরা গভীর রাত পর্যন্ত ফোনে কথা বলছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবার ও সমাজ। আপনার প্রিয় সন্তান যাতে মোবাইলে কথা বলে অযথা সময়, অর্থ ও পড়াশোনার ক্ষতি না করে অভিভাবকদের সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত।
জান্নাতুল ফেরদৌস স্মৃতি
রেলস্টেশন, পঞ্চগড়
হাজারো প্রশ্ন, উত্তর নেই
মহাজোট সরকার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। ক্ষমতার সাড়ে ৩ বছর পার হতে চলেছে। বিপুল জনসমর্থনের কতটুকু অবশিষ্ট আছে তা সময়ই বলে দেবে। সাড়ে ৩ বছরে সংঘটিত বহু অপকর্ম নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রশ্ন উঠেছে। পৌর চেয়ারম্যান লোকমান হত্যা, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএসের বস্তাভর্তি টাকা নিয়ে ধরা পড়া, এপিএসের ড্রাইভার নিখোঁজ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও তার ড্রাইভার গুম, সৌদি ক‚টনীতিক খালাফ হত্যা, পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতি, সাংবাদিক নির্যাতনসহ বহু অপকর্ম ঘটেছে সাড়ে তিন বছরে। অঘটন ঘটার সঙ্গে সঙ্গে সরকার এমন তৎপরতা শুরু করে মনে হয় তারা খুবই আন্তরিক। কিন্তু কিছুদিন গেলেই নতুন ইস্যু সামনে আসে। পুরনো ইস্যু চাপা পড়ে যায়।
জুনিয়র হাসান
বগুড়া-৫৮০০
মানুষ যাবে কোথায়?
সাপ্তাহিক ২০০০-এর ১১ মের প্রচ্ছদ শিরোনাম ছিল ‘মানুষ যাবে কোথায়?’ সত্যিই আমরা যাব কোথায়? কোনোই পরিবর্তন হচ্ছে না সমাজের? নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর অগ্নিমূল্য, সন্ত্রাস, হত্যা, গুম। অর্থমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হলো পুলিশবাহিনী এবং বিচার বিভাগ। সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, ‘নিম্নআদালতের ম্যাজিস্ট্রেটরা কোর্টের পেশকারের মাধ্যমে আসামিদের কাছ থেকে ঘুষ খায়।’ এসব থেকে আমাদের কি মুক্তি নেই? এই সমাজ এবং রাষ্ট্রব্যবস্থা কাদের হাতে?
মনির আহমেদ
বাগেরহাট
শুভ কামনা ২০০০
১৪ বছরের বন্ধুর পথ পেরিয়ে গৌরবের সঙ্গে ১৫ বছরে পা রাখল সাপ্তাহিক ২০০০। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও হয়তো সাপ্তাহিক ২০০০-কে অনেক ঝড়-ঝাপ্টা সামলাতে হবে। তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সাপ্তাহিক ২০০০ অসীম সাহসিকতায় সব প্রতিকূল পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করবে। সাপ্তাহিক ২০০০-এর কাছে একটা দাবি, এতে সম্পাদক মহোদয়ের একটি নিয়মিত কলাম চাই। অনেক শুভ কামনা রইল সাপ্তাহিক ২০০০-এর জন্য।
রফিকুল ইসলাম কামাল
বিশ্বনাথ, সিলেট
ঘুষ আদান-প্রদান বন্ধ হোক
ইদানীং সরকারি চাকরির বাধ্যতামূলক যোগ্যতা হলো ঘুষ দেয়ার সামর্থ্য থাকা। সেনাবাহিনী, পুলিশ কোন ক্ষেত্রে চাকরির জন্য ঘুষ লাগছে না? বাংলাদেশ রেলওয়ে তো আবার এক ধাপ এগিয়ে। ঘুষ এখানে ডাল-ভাত। তারপরও চাকরিপ্রার্থীরা নিরুপায় হয়ে চাকরির জন্য আবেদন করছেন। লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিচ্ছেন কিন্তু যারা ঘুষের টাকা জোগাড় করতে পারছেন না তাদের চাকরিও হচ্ছে না। ডিজিটালকাক্সক্ষী সরকার কি দেখছে না এসব? সরকারের প্রতি অনুরোধ ঘুষ বন্ধ করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হোক।
নাসির খান
নিউ কলোনি, রাজবাড়ী
রাস্তার পানীয় বর্জন করুন
আমরা অনেকেই রাস্তার পাশে আখের রস খাই। আবার রাস্তাঘাটের পাশে বিভিন্ন রংয়ের শরবতও পান করি। এই রস বা শরবত আপনার মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এগুলো তৈরিতে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহৃত হয় না। কৃত্রিম রং মেশানো হয়। বিষাক্ত গাছ-গাছড়ার রস মেশানো হয়। এসব খেলে নানান অসুখ হতে পারে। কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়, কৃমির সংক্রমণ, টাইফয়েড, চর্মরোগ এমনকি জন্ডিস পর্যন্ত হয়ে থাকে। জন্ডিস হলে আখের রস খেলেই ভালো হয়ে যাবে এমন ধারণা অনেকের আছে। তাই জন্ডিস হলে তারা রাস্তাঘাটের পাশের দোকান থেকে আখের রস কিনে খান। এটা অত্যন্ত ক্ষতিকর। রোগ তো সারেই না, আরো বাড়তে সহায়তা করে। জন্ডিসের জীবাণুও এসব অপরিষ্কার পানীয়র মধ্যে থাকতে পারে।
ডা. মোঃ ফজলুল কবীর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
কথা নয়, কাজে বড় দেখতে চাই
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি কাজ করা হয়েছে। আমার জানা মতে ও পত্রপত্রিকার রিপোর্ট এবং আওয়ামী লীগের ইশহেতার অনুযায়ী এক-তৃতীয়াংশ প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি হয়তো বাস্তবতা উপলব্ধি করার চেষ্টাও করছেন না। আমাদের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা দায়িত্ববান কথা বলবেন কবে? কথা নয়, কাজে বড় হতে হবে।
সকাল আহমেদ
ক্রিসেন্ট রোড, ঢাকা
রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে
সাংবাদিকদের পর পুলিশের হাতে বিচারপতি লাঞ্ছিত হয়েছেন। এবার কার বা কাদের পালা? মাঝে মাঝে শঙ্কিত হইÑ এই দেশে বুঝি প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতিরও নিরাপত্তা নেই। এক অরাজক পরিস্থিতিতে আমরা বসবাস করছি। আমাদের শেষ আশ্রয় বিচার বিভাগ। রাষ্ট্রের আইন-শৃক্সখলা বাহিনীর মধ্যে যখন সেই বিচারপতিদেরকেও লাঞ্ছিত করার প্রবণতা দেখা যায়, তখন সে পরিস্থিতিকে অরাজক বলাই যথার্থ। পুলিশের এ ধরনের আচরণ প্রমাণ করে তাদের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
চিত্রলেখা
খিলগাঁও, ঢাকা
প্লাস্টিক বোতল প্রসঙ্গে
দেশজুড়ে মিনারেল ওয়াটারের বোতল বিক্রি বেড়েছে। সব বোতলই প্লাস্টিকের। প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য তা আরো মারাত্মক। উন্নত বিশ্বে কোনো এক নতুন পণ্য এলে তার উচ্ছিষ্ট অংশ আগে মিনিমাইজ করা হয়। তারপর পণ্যটি বাজারে ছাড়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে তা করা হয় না। ওয়ানটাইম ব্যবহার করা লো কোয়ালিটির প্লাস্টিকের বোতল যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। সরকারের উচিত আগে কোনো পণ্যের ব্যবহার্য অংশ, বিশেষ করে ফেলে দেয়া অংশটুকু পুনরায় ব্যবহারের কৌশল নির্ধারণ করে অনুমতি দেয়া।
এসএন সালেহ বায়েজীদ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
বাবুইনীড়
ছবি : ডা. সামসূল আলম, লালবাজার, আখাউড়া
পাঠক ফোরামে লেখা ও ছবি পাঠানোর ঠিকানা
পাঠক ফোরাম, সাপ্তাহিক ২০০০
৯৬-৯৭ নিউ ইস্কাটন রোড, ঢাকা ১০০০, ই-মেইল : info@shaptahik-2000.com
বিভাগ: পাঠক ফোরাম



