banner ad

মেয়েরা কেমন বর চায়
২০০০ জরিপ

বিজ্ঞান আর অর্থনৈতিক বিকাশের পরিপ্রেক্ষিতে এখন দুনিয়া বদলাচ্ছে খুব দ্রুত। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এ বদলানো সময় বদলে দিচ্ছে আমাদের সমাজ আর সংস্কৃতিকে। অনেক পছন্দ-অপছন্দ আর আগের দিনের মতো নেই। অনেক কিছুর মতো বদলে গেছে আমাদের দেশের বিয়ে নামক অনুষ্ঠানটি। শুধু অনুষ্ঠানের সজ্জা নয়, বদলাচ্ছে বিয়ের পাত্র-পাত্রী পছন্দের ধারণাও। ১০-১৫ বছর আগেও চল ছিল মেয়ের বাসায় গিয়ে পাত্রী দেখার। এরপর এলো পার্কে আর চায়নিজে দেখা। আর এখন এর পাশাপাশি অনেকে নিজেদের পছন্দেই বিয়ে করছেন। অভিভাবকদের রক্ষণশীলতাও কমেছে এক্ষেত্রে। আর অনুষ্ঠানের দিকে তাকালে এখন ঢাকার মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্তের বিয়ে হিন্দি সিনেমার স্টাইলেই হচ্ছে। ডিজে পার্টি, বলিউডের ধুম-ধাড়াক্কা গান, পেশাদার গান আর নাচের দলের পারফরম্যান্স এখন থাকতেই হয়।

 

বিয়ের জন্য পাত্র পছন্দের প্রক্রিয়া কন্যা বা অভিভাবক কারো কাছেই আর এখন ধরাবাঁধা নিয়মের অধীন নয়। নগরায়ণ, গ্রামীণ বা মফস্বলের শিক্ষিত এবং সম্পদশালীদের ঢাকামুখী হওয়া, পেশার বৈচিত্র্য ইত্যাদি কারণে পাত্র পছন্দের ক্ষেত্রে এসেছে বৈচিত্র্য। এক ধরনের পছন্দ নিয়ে স্থির থাকছেন না কেউ। বিয়ের পাত্র পছন্দের ক্ষেত্রে বিবাহযোগ্য কন্যা এবং কন্যার অভিভাবকদের বর্তমান সময়ের ভাবনাকে তুলে ধরার জন্য সাপ্তাহিক ২০০০ বর্তমান জরিপটি পরিচালনা করে। জরিপের স্থান ছিল ঢাকা শহর। প্রায় ১৫ দিন সময়কালে সাপ্তাহিক ২০০০-এর জরিপ দল ঢাকার বিভিন্ন স্থানের বিবাহযোগ্য ৭০০ জন কন্যা (বয়স ১৮ থেকে তদূর্ধ্ব) এবং বিবাহযোগ্য কন্যা আছে এমন ৭০০ জন অভিভাবকের ওপর এ জরিপ চালিয়েছে। জরিপে প্রধানত শহরের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত শ্রেণীর ভাবনা প্রাধান্য পেয়েছে।

 

 

 

সৎ পাত্রের ধারণা

 

সৎ পাত্রের ধারণায় এবার জরিপে সব থেকে বেশি যে কথাটি উঠে এসেছে তা হলো পাত্রীর প্রতি পাত্রের বিশ্বস্ততা। একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বা পরকীয়ার ঘটনা বর্তমানে শহরে সহজলভ্য। আর তাই এবার কন্যা এবং অভিভাবকদের কাছেও পাওয়া গেল এ বিষয়টির প্রতি উদ্বেগ। সাধারণভাবে সৎ বলতে অনেকে বলেছেন নির্লোভ এবং ভালো মানুষকে। সৎ এবং যোগ্য পাত্রকে একে অপরের পরিপূরক মনে করেছেন ৫৩ শতাংশ অভিভাবক এবং ২৮ শতাংশ কন্যা।

 

 

 

কোন ধরনের পাত্র চাই

 

পাত্র পছন্দের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ কন্যা এবং অভিভাবকদের পছন্দ ক্যারিয়ার সচেতন এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত পাত্রকে। অভিভাবকদের ৪১ শতাংশই প্রথমে চান সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত পাত্র। এর বিপরীতে বিদ্বান চেয়েছেন ৪ শতাংশ। সৎ এবং নীতিবান পাত্র চেয়েছেন ৮ শতাংশ। কন্যাদেরও প্রথম পছন্দ ক্যারিয়ার সচেতন এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিতদের। কন্যারা প্রতিষ্ঠিতের পাশাপাশি সৎ এবং নীতিবান স্বামীও চান। এক্ষেত্রে কন্যাদের অনেকেই প্রতিষ্ঠা এবং সৎ-নীতিবান স্বামী চেয়েছেন। গড়ে ৩৫ শতাংশ কন্যা চান সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত, ২৮ শতাংশ চান ক্যারিয়ার সচেতন এবং ২৫ শতাংশ চান সৎ-নীতিবান। আর বিদ্বান চান ৮ শতাংশ।

 

 

 

পাত্রের আয় কেমন হবে

 

এ প্রশ্নটির উত্তরের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে সাপ্তাহিক ২০০০-এর চালানো জরিপে ৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা আয় পছন্দ করেছিলেন ২ শতাংশ কন্যা এবং অভিভাবক কিন্তু এবার ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয়ও একজন অভিভাবক বা কন্যা চাননি। বর্তমানে বেশিরভাগ অভিভাবক (৩৩ শতাংশ) এবং কন্যা (২৪ শতাংশ) আয় চেয়েছেন ৪১ থেকে ৫০ হাজার টাকা। ৫০ হাজার টাকার বেশি আয় চেয়েছেন ২২ শতাংশ কন্যা, ১৭ শতাংশ অভিভাবক। লক্ষাধিক টাকার বেশি চান এমন কন্যার সংখ্যা গড় জরিপে ছিল ৫ শতাংশ আর এবার তা বেড়ে হয়েছে ১১ শতাংশ আর অভিভাবকদের ক্ষেত্রে গড় জরিপে ছিল ৪ শতাংশ এবার তা ১২ শতাংশ।

 

 

 

পাত্র পছন্দ হবে কার মতে

 

এ প্রশ্নটির উত্তরে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। পারিবারিক রক্ষণশীলতা ভাঙার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে এবারের এই জরিপে। গত জরিপে ‘কন্যার পছন্দই পছন্দ’ এমন মত দিয়েছেন ৪ শতাংশ, অভিভাবকরা এবার এ মত দিয়েছেন ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে নিজের পছন্দই শেষ কথা এ মত গত জরিপে দিয়েছিলেন ৯ দশমিক ৫ শতাংশ কন্যা এবার তা বেড়ে হয়েছে ২৪ শতাংশ। অভিভাবকদের সঙ্গে বোঝাপড়া করার মাধ্যমে পাত্র নির্ধারণ করবেন এমন মত দিয়েছেন বেশিরভাগ কন্যা। এ মতের পক্ষে রয়েছে ৬৬ শতাংশ কন্যা। অভিভাবকরা এখনো বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ফ্যামিলি স্ট্যাটাসকে। ৪৯ শতাংশ অভিভাবক ফ্যামিলি স্ট্যাটাস খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছেন।

 

 

 

সুখী ভবিষ্যতের জন্য কী দরকার

 

সুখী ভবিষ্যতের জন্য কী দরকার? এমন প্রশ্নের জবাবে অভিভাবক, কন্যা নির্বিশেষে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন পারস্পরিক বোঝাপড়াকে। আর্থিক সচ্ছলতার বিষয়টি ততখানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আসেনি। এখানে উল্লেখ্য, পাত্র পছন্দের ক্ষেত্রে অভিভাবকরা বেশিরভাগই গুরুত্ব দিয়েছেন ‘কেয়ারিং’ গুণটির ওপর। এ বিষয়টি গত জরিপের পর খুব একটা বদলায়নি। আর্থিক সচ্ছলতার বিষয়টির প্রতি কন্যার চেয়ে অভিভাবকরা বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এ চাহিদার হার কন্যা ২৬ শতাংশ এবং অভিভাবক ৩৯ শতাংশ।

 

পাত্রের বয়স এবং পরিবার

 

আগের জরিপে সমবয়সী পাত্র চাননি কোনো অভিভাবক। কিন্তু এবার এতে আপত্তি করেননি ৬ শতাংশ অভিভাবক। অন্যদিকে সমবয়সী পাত্র চেয়েছেন ১৪ শতাংশ কন্যা, যা গতবারের চেয়ে বেশি। বেশিরভাগ অভিভাবক এবং কন্যাই চান বয়সের পার্থক্য হোক ২-৫ বছর। পাত্রের পরিবার কেমন হবে জানতে চাইলে কন্যা এবং অভিভাবক উভয় পক্ষ থেকে যে উত্তর এসেছে তাতে দেখা গেছে একক পরিবারের চাহিদা এখন শীর্ষে। ৭০ শতাংশ কন্যা এবং ৬৬ শতাংশ অভিভাবক চান একক পরিবার।

 

 

 

বরের পেশা

 

এক সময় দেশে রাজনীতিবিদদের অনেক সম্মান ছিল। কথাটা শোনা যায়। কিন্তু এবার জরিপকারীরা দেখেছেন বেশিরভাগ অভিভাবক ও কন্যা রাজনীতিবিদদের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। কন্যা এবং অভিভাবক মিলিয়ে রাজনীতিবিদ পছন্দ করেছেন এমন সংখ্যা প্রায় ৩ শতাংশ। এ ৩ শতাংশ পছন্দও আবার করেছেন অন্য পেশার সঙ্গে যৌথভাবে। কন্যাদের ক্ষেত্রে দুয়েকজন সাংবাদিকতাকে ইতিবাচক চোখে দেখলেও তাদের সংখ্যাটা অতি নগণ্য। এককভাবে সাংবাদিকতাকে পছন্দ করেন এমন একজন কন্যা বা অভিভাবকও খুঁজে পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হত্যা, পুলিশি নির্যাতন ইত্যাদি বিষয়ে উদ্বেগ দেখিয়ে নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্নে অনেকেই সাংবাদিক পাত্র বর হিসেবে চাইছেন না। পুলিশকে চান না কেউই। অন্য পেশার সঙ্গে পুলিশকে পছন্দের তালিকায় রেখেছেন এমন অভিভাবক এবং কন্যাদের সংখ্যা ১ শতাংশেরও নিচে। প্রবাসীদের ওই একই অবস্থা, এদেরকে পছন্দ করার হারও ১ শতাংশের নিচে।

 

বরের পেশা কেমন চাই এ প্রশ্নটির উত্তর হিসেবে দেয়া ছিল বেশ কয়েকটি উত্তর। প্রশ্নটির উত্তরে এবার বেশিরভাগ অভিভাবক এবং কন্যাই একাধিক পছন্দের কথা বলেছেন। নির্দিষ্ট কোনো পেশার প্রতি মানুষের আকর্ষণ বা নির্ভরতা কমে গেছে। এক্ষেত্রে ডাক্তার পাত্রীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু ভিন্ন। ডাক্তারি পড়ছেন এমন বেশিরভাগ কন্যাই ডাক্তার ছেলেকে বিয়ে করার পক্ষে মত দিয়েছেন। অভিভাবকদের মতও এক্ষেত্রে একইরকম। এর বাইরে অভিভাবকদের পছন্দের তালিকায় গুরুত্ব পেয়েছে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং সরকারি কর্মকর্তা। অভিভাবকদের পছন্দের দ্বিতীয় কাতারে আছেন কর্পোরেটম্যান, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার এবং সামরিক কর্মকর্তা। কন্যাদের প্রথম পছন্দের তালিকায় আছেন কর্পোরেটম্যান, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী এবং সরকারি কর্মকর্তা। পেশার প্রশ্নে অনেক কন্যাই জরিপকারীদের জানান, নির্দিষ্ট করে কোনো পেশাকে তারা  বাছাই করছেন না। তবে কয়েকজন অভিভাবকের পছন্দ ছিল কলেজের অধ্যাপক। জরিপ ফরমে পেশাটির কথা উল্লেখ না থাকায় তারা আলাদাভাবে লিখে দেন তাদের এ মতটি।

 

 

 

তুলনামূলক মূল্যায়ন

 

গতবারের জরিপের (২০০৭, ডিসেম্বর) ফল এবং বর্তমানের এ জরিপে যে বিষয়টি সব থেকে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বলে মনে হয় সেটি হলো কন্যার প্রতি বিশ্বস্ত বর চাইছেন কন্যা এবং অভিভাবক উভয়ই। এ উদ্বেগের বিষয়টি আগের জরিপে পাওয়া যায়নি। এমনকি উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ঘরের অনেক মেয়েও অর্থবিত্তের পাশাপাশি বরের বিশ্বস্ততা চাইছেন। আর গতবারের সঙ্গে পাত্রের গুণের যে বিষয়টির চাহিদা এবারো অক্ষুণœ আছে সেটি হলো ব্যক্তিত্ব। পেশার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পছন্দ এখন আর মেয়েদের নেই। অনেকেরই এক জবাব। পেশা সবগুলোই ভালো লাগে। পেশার ক্ষেত্রে অভিভাবকরা গতবারের মতো এবারো সাংবাদিকতাকে গুরুত্ব দেননি। আর কন্যাদের মধ্যে যারা একটু আগ্রহী তারা আবার সাম্প্রতিক সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন। পুলিশ, রাজনীতিবিদ, গতবারের মতো এবারও পছন্দের তালিকায় নেই কন্যা ও অভিভাবকদের। পছন্দ করার পরিবর্তে এ দুক্ষেত্রে বেশিরভাগ কন্যা ও অভিভাবক জরিপকারীদের কাছে অনেক বিতৃষ্ণা প্রকাশ করেছেন।

 

তবে সব থেকে ইতিবাচক যে বিষয়টি এবার পাওয়া গেছে তা হলো বিয়ের সিদ্ধান্ত বা বর পছন্দের ক্ষেত্রে কন্যারা আরো ¯^াধীন হয়েছেন। অভিভাবকরা যেমন কন্যাদের পছন্দে ভরসা রাখছেন, তেমনি নিজের পছন্দকেই চূড়ান্ত হিসেবে রায় দিয়েছেন অনেক কন্যা। এদের সংখ্যা সাপ্তাহিক ২০০০-এর গত জরিপের তুলনায় বেড়েছে। তবে হতাশার কথা বিদ্বান পাত্র আজকাল কেউ আর চাইছেন না। বিশেষত অভিভাবকদের পছন্দের তালিকায় বিদ্বানরা একেবারেই উপেক্ষিত। আরো একটি আশঙ্কার কথা রাজনীতিবিদদের জনপ্রিয়তা আগের মতোই কম। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতিবিদদের ব্যাপারে অপছন্দের কথা প্রকাশ করেছেন।

 

১৫ হাজার টাকার নিচে আয় আছে এমন পাত্রদের ব্যাপারে এবার অভিভাবক বা কন্যা কেউই আগ্রহ দেখাননি। একজন অভিভাবক বা কন্যাও খুঁজে পাওয়া যায়নি যারা ১৫ হাজার টাকার নিচে আয় আছে এমন পাত্র চেয়েছেন। কিন্তু গতবারের জরিপে ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় আছে এমন পাত্রদের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছিল ২ শতাংশ অভিভাবক এবং কন্যা।

 

 

 

জরিপ

 

কনে : ৭০০

 

 

 

১. ‘সৎ পাত্রে কন্যাদান’ বহুল উচ্চারিত বাংলা প্রবাদ। সৎ পাত্র বলতে আপনি কী বোঝেন?

 

* সংক্ষেপে লিখুন (মন্তব্যগুলো প্রতিবেদনের শেষাংশে বক্সে দেয়া হলো।)

 

২. আপনার মতে সৎ পাত্র ও যোগ্য পাত্রের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কী?

 

* আছে ৫৪% (৩৭৮ জন)  * নেই ১৩% (৯১ জন) * একটি আরেকটির পরিপূরক ২৮% (১৯৬ জন)      উত্তর নেই ৫% (৩৫ জন)

 

৩. আপনি নিজের জন্য কী ধরনের পাত্র/ছেলে পছন্দ করেন? (একাধিক পছন্দ থাকলে ধারাবাহিকভাবে সাজান)

 

* বিদ্বান ৮% (৫৬ জন) * বিত্তবান ৪% (২৮ জন) * সৎ ও নীতিবান ২৫% (১৭৫ জন)  * ক্যারিয়ার সচেতন ২৮% (৯৬ জন) * সামাজিক প্রতিষ্ঠিত ৩৫% (২৪৫ জন)  * উত্তর নেই ০%

 

৪. কোন পেশার পাত্রকে আপনি পছন্দ করবেন?

 

* ডাক্তার * ইঞ্জিনিয়ার * সরকারি কর্মকর্তা  * সামরিক কর্মকর্তা  * ব্যাংকার * করপোরেটম্যান * ব্যবসায়ী * সাংবাদিক * রাজনীতিবিদ * প্রবাসী * বহুজাতিক কোম্পানির চাকুরে * উত্তর নেই

 

(পেশার ক্ষেত্রে প্রায় সবাই একাধিক পেশাকে পছন্দের তালিকায় রেখেছেন। কন্যাদের পছন্দের তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছেন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, করপোরেটম্যান এবং সরকারি কর্মকর্তা।)

 

৫. আপনার যোগ্য/আদর্শ পাত্রের মাসিক আয় কেমন হওয়া চাই?

 

*১০ থেকে ১৫ হাজার ৩% (২১ জন)  * ১৬ থেকে ২০ হাজার ৩% (২১ জন) * ২১ থেকে ৩০ হাজার ১৮% (১২৬ জন) *৩১ থেকে ৪০ হাজার  ১৯% (১৩৩ জন) * ৪১ হাজার *৫০ হাজার ২৪% (১৬৮ জন) * ৫০ হাজারের ওপরে ২২% (১৫৪ জন)  * লক্ষাধিক টাকা ১১% (৭৭ জন) উত্তর নেই ৩% (২১ জন)

 

৬. পাত্র পছন্দের ক্ষেত্রে কোন বিষয়/বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে?

 

* ব্যক্তিত্ব * সুদর্শন * মজার মানুষ * কর্তৃত্বপরায়ণ * বন্ধুবৎসল * কেয়ারিং  * বাস্তব জ্ঞানসম্পন্ন * সংস্কৃতিবান  * ধার্মিক * উত্তর নেই

 

(অধিকাংশ কন্যা ব্যক্তিত্ব এবং কেয়ারিং এ গুণ দুটির সমš^য় আছে এমন পাত্র চেয়েছেন।)

 

৭. বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলেদের চেহারা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ আপনার কাছে?

 

* গুরুত্বপূর্ণ ৫২% (৩৬৪ জন) * খুব গুরুত্বপূর্ণ ৯% (৬৩ জন) * তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় ৩১% (২১৭ জন)  * উত্তর নেই ৮% (৫৬ জন)

 

৮. বয়সের পার্থক্য কতটা হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

 

* ১০ বছরের বেশি ১% (৭ জন) * ৬ থেকে ৯ বছর ১৬% (১১২ জন) * ২ থেকে ৫ বছর ৬৫% (৪৫৫ জন) * সমবয়সী ১৪% (৯৮ জন) * পাত্রের বয়স কম ২% (১৪ জন) * উত্তর নেই ২% (১৪ জন)

 

৯. বিয়ের পাত্র হিসেবে কাকে পছন্দ করবেন?

 

* বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান (যার পরিবারের দায়-দায়িত্ব খুব কম) ৪২% (২৯৪ জন)   * বাড়ির বড় ছেলে বা ছোট ছেলে ৪৭% (৩২৯ জন)   * উত্তর নেই ১১% (৭৭ জন)

 

১০. নিজের বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের মতামতকে কতটা গুরুত্ব দেবেন?

 

* অভিভাবকের পছন্দই পছন্দ ১০% (৭০ জন) * নিজের পছন্দই শেষ কথা ২৪% (১৬৮ জন)   * অভিভাবকের সঙ্গে ঝোঝাপড়ার মাধ্যমে ঠিক হবে ৬৬% (৪৬২ জন) * উত্তর নেই ০%

 

১১. সুখী ভবিষ্যতের জন্য আপনি কোন বিষয়টি গুরুত্ব দেবেন?

 

* আর্থিক সচ্ছলতা ২৬% (১৮২ জন) * পারস্পরিক বোঝাপড়া ৭৪% (৫১৮ জন) * উত্তর নেই ০%

 

১২. কেমন পরিবার আকাক্সিক্ষত?

 

* যৌথ ৩০% (২১০ জন) * একক ৭০% (৪৯০ জন) * উত্তর নেই ০%

 

 

 

 

 

জরিপ

 

কনের অভিভাবক : ৭০০

 

 

 

১. ‘সৎ পাত্রে কন্যাদান’ বহুল উচ্চারিত বাংলা প্রবাদ। সৎ পাত্র বলতে আপনি কী বোঝেন?

 

* সংক্ষেপে লিখুন (মন্তব্যগুলো প্রতিবেদনের শেষাংশে বক্সে দেয়া হলো।)

 

২. আপনার মতে সৎ পাত্র এবং যোগ্য পাত্র এর মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কী?

 

* আছে ২৯% (২০৩ জন) * নেই ১৭% (১১৯ জন) * একটি আরেকটির পরিপূরক ৫৩% (৩৭১ জন) * উত্তর নেই ১% (৭ জন)

 

৩. আপনার কন্যার জন্য কী ধরনের পাত্র/ছেলে পছন্দ করেন?

 

* বিদ্বান ৪% (২৭ জন) * বিত্তবান ৮% (৫৬ জন) * সৎ ও নীতিবান ১৮% (১২৬ জন) * ক্যারিয়ার সচেতন ২৯% (২০৩ জন) * সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ৪১% (২৮৭) * উত্তর নেই ০%

 

৪. কোন পেশার পাত্রকে আপনি পছন্দ করবেন?

 

* ডাক্তার * ইঞ্জিনিয়ার * সরকারি কর্মকর্তা * সামরিক কর্মকর্তা * ব্যাংকার * করপোরেটম্যান * ব্যবসায়ী   * সাংবাদিক * রাজনীতিবিদ * পুলিশ কর্মকর্তা * আইনজীবী * প্রবাসী * উত্তর নেই

 

(পেশার ক্ষেত্রে প্রায় সবাই একাধিক পেশাকে পছন্দের তালিকায় রেখেছেন। অভিভাবকদের পছন্দের তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা, ডাক্তার এবং ইঞ্জিনিয়ার।)

 

৫. আপনার মতে যোগ্য/আদর্শ পাত্রের মাসিক আয় কেমন হওয়া চাই?

 

* ১০ থেকে ১৫ হাজার ০% * ১৬ থেকে ২০ হাজার ৩% (২১ জন) * ২১ থেকে ৩০ হাজার ১৫% (১০৫ জন) * ৩১ থেকে ৪০ হাজার ১৮% (১২৬ জন) * ৪১ হাজার ৫০ হাজার ৩৩% (২৩১ জন) * ৫০ হাজারের ওপরে ১৭% (১১৯ জন) * লক্ষাধিক টাকা ১২% (৮৪ জন) * উত্তর নেই ২% (১৪ জন)

 

৬. নিজের কন্যার বিয়ের ক্ষেত্রে কন্যার মতামতকে কতটা গুরুত্ব দেবেন?

 

* কন্যার পছন্দই পছন্দ ২৩% (১৬১ জন) * অভিভাবকের পছন্দই শেষ কথা ২৩% (১৬১ জন)  * কন্যার সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমে ঠিক হবে ৪৯% (৩৪৩ জন) * উত্তর নেই ৫% (৩৫ জন)

 

৭. পাত্র পছন্দের ক্ষেত্রে কোন বিষয়/বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে?

 

* ব্যক্তিত্ববান * স্মার্ট লুক * মজার মানুষ  * বন্ধুবৎসল * কেয়ারিং * বাস্তব জ্ঞানসম্পন্ন * সংস্কৃতিবান * ধার্মিক * উত্তর নেই। (বেশি চাহিদা থেকে কম চাহিদা পর্যায়ক্রমে দেখানো হলো)

 

(অধিকাংশ অভিভাবক ব্যক্তিত্ব, কেয়ারিং এবং বাস্তব জ্ঞানসম্পন্ন পাত্র পছন্দ করেন।)

 

৮. বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলেদের চেহারা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ আপনার কাছে?

 

* গুরুত্বপূর্ণ ৩৩% (২৩১ জন) * খুব গুরুত্বপূর্ণ ১৪% (৯৮ জন) * তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় ৪৯% (৩৪৩ জন) * উত্তর নেই ৪% (২৮ জন)

 

৯. বয়সের পার্থক্য কতটা হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

 

* ১০ বছরের বেশি ৫% (৩৫ জন) * ৬ থেকে ৯ বছর ৩২% (২৪৪ জন) * ২ থেকে ৫ বছর ৫৭% (৩৯৯ জন), * সমবয়সী ৬% (৪২ জন) * পাত্রের বয়স কম  * উত্তর নেই।

 

১০. বিয়ের পাত্র হিসেবে কাকে পছন্দ করবেন?

 

* বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান (যার পরিবারের দায়-দায়িত্ব কম) ৪৪% (৩০৮ জন)   * যার অনেক ভাইবোন/যৌথ পরিবার ১৩% (৯১ জন) * বাড়ির বড় ছেলে বা ছোট ছেলে ৩৮% (২৬৬ জন)  * উত্তর নেই ৫% (৩৫ জন)

 

১১. পাত্রের ফ্যামিলি স্ট্যাটাস কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

 

* গুরুত্বপূর্ণ ৪১ (২৮৭ জন) * খুব গুরুত্বপূর্ণ ৪৯% (৩৪৩ জন) * তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় ১০% (৭০ জন) * উত্তর নেই (০%)

 

১২. মেয়ের সুখী ভবিষ্যতের জন্য আপনি কোন বিষয়টি গুরুত্ব দেবেন?

 

* আর্থিক সচ্ছলতা ৩৯% (২৭৩ জন) * পারস্পরিক ঝোঝাপড়া ৬১% (৪২৭ জন) * উত্তর নেই (০%)

 

১৩. কেমন পরিবার আকাক্সিক্ষত?

 

* যৌথ ৩৪% (২৩৮ জন) * একক ৬৬% (৪৬২ জন) * উত্তর নেই (০%)

 

 

 

বিবাহযোগ্য কন্যার বাবা-মার নির্বাচিত উক্তি

 

১. বাস্তবজ্ঞানসম্পন্নপাত্র। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরি, বয়স-৬৬

 

২. সৎভাবে চলাফেরা করে। যার লেনদেন সৎ। একটি ভালো চাকরি করে বা আর্থিক দিক দিয়ে সচ্ছল। ব্যবসায়ী, বয়স-৫২

 

৩. সৎ নীতিবান ও কর্মঠ। চাকরিজীবী, বয়স-৪৮

 

৪. আমার মতে সৃষ্টি জীবের প্রতি ভালবাসা, সৎ চিন্তা, নীতিবোধ, ব্যক্তিত্ববোধসম্পন্ন একজন পরিপূর্ণ মানুষকেই সৎ পাত্র বোঝায়। শিক্ষক, বয়স-৪৬

 

৫. যে পাত্র নিজের এবং নিজের বাবা-মায়ের একক সিদ্ধান্ত, স্ত্রীর ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেবে না। সুপারিনটেনডেন্ট, কাস্টমস, বয়স-৫৫

 

৬. সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। নিজ পরিবার এবং স্ত্রীর উভয়ের প্রতি সমদায়িত্ববোধ এবং ভালবাসা থাকবে। শিক্ষক, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল, বয়স-৫০

 

৭. স্ত্রীর মতামত ও সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে জানে। চাকরিজীবী, সোনালী ব্যাংক, বয়স-৫৭

 

৮. আচার-আচরণে সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ, সহানুভূতিশীল, ধার্মিক, নম্র¯^ভাব, ভদ্র এবং জ্ঞানী।

 

এসএম মনিরুল ইসলাম, বয়স-৬২, সরকারি অফিসার (অবসরপ্রাপ্ত)

 

৯. সৎ, নিষ্ঠাবান, যতœশীল। রাজিয়া বেগম, বয়স-৫৫, সহকারী অধ্যাপক (ঢাকা কলেজ)

 

১০. সাদা মনের মানুষই প্রকৃত অর্থে সৎ মানুষ। শম্পা শারমিন খান, বয়স-৪৭

 

১১. মেধাবী, নীতিবান, সৎ চরিত্রের মানুষ। শরীফা সুলতানা, বয়স-৫০

 

১২. কন্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিদ্যা, নীতিবান, ভালো পরিবার এবং মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন।

 

ডা. নূর-ই পারভীন, বয়স-৫৪, প্রফেসর ঢাকা কলেজ

 

 

 

বিবাহযোগ্য কন্যাদের নির্বাচিত উক্তি

 

১. আমার কাছে সৎপাত্র হচ্ছে সে আমার প্রতি সৎ এবং দায়িত্ববান।

 

ছাত্রী। মিরপুর, ঢাকা। বয়স-২৪

 

২. বন্ধুবৎসল ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। পেশা-ছাত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বয়স-২৩

 

৩. যে আমাকে বুঝতে চেষ্টা করবে আমার কাছে সে-ই যোগ্য পাত্র।

 

ছাত্রী, ঢাকা কমার্স কলেজ। বয়স-২২

 

৪. ব্যক্তিত্ববান ও ক্যারিয়ার সচেতন ছেলেই আমার কাছে যোগ্য পাত্র। তবে তাকে সৎ হতে হবে। ছাত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বয়স-২০

 

৫. ট্রাস্ট করা যাবে। মিথ্যা কথা বলবে না। ১শটি মেয়ের সঙ্গে রিলেশনশিপে থাকবে না। স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে হবে। ছাত্রী, মেডিক্যাল কলেজ, বয়স-২৩

 

৬. স্ত্রীর প্রতি দায়িত্বশীল। বহুগামী নয়। স্ত্রীর বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করে। স্ত্রীর মতামতকে গুরুত্ব দেয়। ছাত্রী, মেডিক্যাল কলেজ, বয়স-২২

 

৭. স্ত্রীকে ভালবাসবে এবং স্ত্রীর প্রতি সৎ থাকবে। নির্লোভ, সহজ-সরল, ক্ষেত্রবিশেষে বোকাসোকা ভালো মানুষ। ছাত্রী, মেডিক্যাল কলেজ, বয়স-২৩

 

৮. স্ত্রীকে সময় দেবে, সারাদিন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকবে না। ছাত্রী, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বয়স-২২

 

৯. দায়িত্বশীল, স্ত্রীর ব্যক্তি¯^াধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না। ছাত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বয়স- ২৩

 

১০. শিক্ষিত মূর্খ নয়, শিক্ষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারিত্রিক দৃঢ়তা থাকাও জরুরি। তারপরও শিক্ষা ও মূল্যবোধ দুটোই থাকা জরুরি। ছাত্রী, ইডেন কলেজ

 

১১. পুঁথিগত নয়, প্রকৃত বিদ্বান, নিজের ও পরিবারের দায়িত্ব পালনে যতœবান, সর্বোপরি সৎ।

 

ছাত্রী, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি

 

১২. শিক্ষিত, মার্জিত এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ায় বিশ্বাসী। ছাত্রী, ইউডা ইউনিভার্সিটি

 

১৩. ব্যক্তিত্ব ও মনুষ্যত্ব বিদ্যমান। ছাত্রী,  মিরপুর বাঙলা কলেজ

 

১৪. বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন। ছাত্রী, সিটি কলেজ

 

 

 

বিভিন্ন দশকে পাত্রের চাহিদার রূপান্তর

 

১৯৫১ থেকে ’৬০ : মোটামুটি শিক্ষিত ছেলে। (উকিল, ভালো ছাত্র, দুবার সিএসএস)

 

১৯৬১ থেকে ’৭০ : মাস্টার্স বা ডিগ্রি পাস ছেলে। (চেষ্টা করলে চাকরি পাবে, পারিবারিক উপার্জন আছে।)।

 

১৯৭১ : যে কোনো পেশার ভালো ছেলে। (ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি হয়ে যাবে।)

 

১৯৭২ থেকে ’৭৫ : ডাক্তার, উকিল।

 

১৯৭৬ থেকে ’৮০ : ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, লেকচারার, আর্মিসহ বিদেশ ফেরত অথবা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পাত্রের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যায়। (ইমিগ্র্যান্ট কি না জানতে চাইত না।)

 

১৯৮৫ থেকে ’৯০ : সরকারি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, আর্মি এবং বিদেশে ইমিগ্র্যান্ট পাত্রের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যায়।

 

১৯৯১ থেকে ’৯৫ : এনজিও, সরকারি চাকরি অথবা যে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভালো

 

বেতনভুক্ত ছেলে।

 

১৯৯৬-২০০০ : ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএ, ডাক্তার, ব্যাংকার।

 

২০০৭ : ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএ, ব্যাংকার, ডাক্তার বা বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত।

 

২০১২ : ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্পোরেট পারসনদের চাহিদা বেশি।

 

** ১৯৫১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পাত্রের চাহিদার রূপান্তরের উপাত্ত সাপ্তাহিক ২০০০-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক শাহাদত চৌধুরীর কাছ থেকে প্রাপ্ত পর্যবেক্ষণের আলোকে তৈরি। পরবর্তী পর্যবেক্ষণ সাপ্তাহিক ২০০০ জরিপ টিমের।

 

 

 

মেয়েরা কেমন বর চায়

 

মেহতাব খানম

 

অধ্যাপক, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

 

সব সময় পাত্র পছন্দের ব্যাপারটাতে অভিভাবকরা কন্যার নিরাপত্তার দিকটি সবার আগে বিবেচনা করেন। আগেকার সময়ের সঙ্গে বর্তমান সময়ের একটা পার্থক্য এসেছে কন্যার শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে ব্যক্তি¯^াধীনতার একটা ব্যাপার যুক্ত হয়ে। পুরোপুরি যে হয়েছে তা নয়। এখনকার কন্যাদের মতামত এবং চাহিদাকে কিছু অংশ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাদের পছন্দ-অপছন্দ এখন অন্তত তারা প্রকাশ করতে পারেন। শিক্ষার কারণে তারা ভালো-মন্দ বুঝতে পারেন এবং নিজেদের মতো করে পাত্র পছন্দ করতে পারেন। নানান মাপকাঠিতে তারা বাছ-বিচার বা বিবেচনা করতে পারেন পাত্রকে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাত্র পছন্দেও বৈচিত্র্য এসেছে। এখনকার সময়ে যে ধরনের পাত্র কন্যার জন্য নিরাপদ ও নিশ্চিত জীবনের গ্যারান্টি দিতে পারবে বলে কন্যা ও অভিভাবকরা মনে করছেন তাদেরই যোগ্য মনে করছেন। এখানে সৎ ও যোগ্য পাত্র তাই আলাদাভাবে কেউ উচ্চারণ বা প্রকাশ করছেন না। তারা সবার আগে বিবেচনা করছেন কন্যার জন্য যোগ্য অর্থাৎ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী এবং সামাজিক নিরাপত্তা দিতে সক্ষম পাত্রকে।

 

 

 

জিয়া রহমান

 

সহযোগী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

 

পাত্রের চাহিদার যে ধরন আমরা লক্ষ্য করছি তা আসলে কতগুলো সামাজিক ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে। ৮০ থেকে ৯০ দশকে আমরা দেখেছি আর্মি বা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ওপর চাহিদাটা বেশি ছিল। এর কারণ, তখন আর্মি অফিসারদের সম্পর্কে মানুষের মনে ধারণা তৈরি হয়েছিল তাদের বর্ণিল, আর্থিকভাবে সচ্ছল, নিরাপদ জীবন এবং অনেক সম্মান, যা পরবর্তী সময়ে কয়েক বছর ধরে বিরাজমান ছিল। এরপর আমরা দেখলাম ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি আকর্ষণটা বেশি। কারণ অর্থনৈতিক দিক বলুন আর সামাজিক মর্যাদা বলুন, এগুলোর কমতি নেই তাদের। উপার্জনের কোনো সমস্যা নেই। আসলে মেয়েরা ছেলেদের কাছ থেকে নিরাপদ জীবন চায়। যে কারণে তারা পাত্রকে দেখতে চায় সমাজে তার এক প্রকার সম্মান থাকবে এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা থাকবে। এ বিষয়গুলো পাত্রীপক্ষের কাছে তাই গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু আমরা পোস্ট কলোনিয়াল সমাজ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এসেছি, এই সমাজ ব্যবস্থায় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, জজ ইত্যাদি পেশার প্রতি মানসিক সেটআপটা একটু ইতিবাচকভাবেই থাকে। তবে চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বদলেছে, আরো বদলাবে। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক অবস্থার সঙ্গে চাহিদার পরিবর্তন হয়।

 

 

 

মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী

 

সহকারী অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

 

এটাকে অনেকটা ফ্যাশনের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। প্রত্যেকেই যার যার জায়গা থেকে ভালো কিছু চায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন মনে হচ্ছে অমুক পেশার লোক ভালো আছে তখন সেই পেশার প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে। এটা কেবল যে কন্যার বা কন্যার অভিভাবকদের ক্ষেত্রে তাই নয়, ছেলেদের ক্ষেত্রেও। ছেলেরাও ‘ভালো থাকা’র মতো পেশায় নিজের জীবনকে জড়াতে চায় একটা নিরাপদ, নিশ্চিত জীবনযাপনের জন্য। মেয়েদের ক্ষেত্রেও তাই। তারা চান, স্বামীর পেশাটা যেন এমন হয়, যা তাকে দেবে আর্থিক সচ্ছলতা, দেবে সামাজিক নিরাপত্তা।

 

আব্দুল্লাহ্ নূহ, সুমাইয়া শিফাত, সায়মা ইসলাম তন্দ্রা ও এহসান মাহমুদকে নিয়ে শানজিদ অর্ণব

 

 

বিভাগ: প্রচ্ছদ

RSSকমেন্টস (0)

Trackback URL

আপনার মন্তব্য



ওয়েব সাইট

আপনার কমেন্টের সাথে যদি ছবি প্রকাশ করতে চান, এখান থেকে ছবি সংগ্রহ করুন.