দেশ-প্রাকৃতিক আশ্চর্য
দক্ষিণ সুদান
পুরো নাম : দক্ষিণ সুদান প্রজাতন্ত্র
রাজধানী : জুবা
আয়তন : ৬,১৯,৭৪৫ বর্গকিলোমিটার
জনসংখ্যা : ৮২,৬০,৪৯০
ভাষা : ইংরেজি
স্বাধীনতা : ৫ জুলাই ২০১১
সরকার : রাষ্ট্রপতি শাসিত যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
মুদ্রা : দক্ষিণ সুদানিজ পাউন্ড
উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার ভূ-বেষ্টিত দেশ দক্ষিণ সুদান। দেশটির পূর্বে ইথিওপিয়া, দক্ষিণ-পূর্বে কেনিয়া, দক্ষিণ-পশ্চিমে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, পশ্চিমে মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণে উগান্ডা ও উত্তরে রয়েছে সুদান। শ্বেত নীল নদ (স্থানীয় নাম বার আল জাবাল) সৃষ্ট সাড অঞ্চলের বিশাল জলাভূমি দক্ষিণ সুদানেই অবস্থিত। অতীতে এই অঞ্চলটি অ্যাংলো-মিসরীয় সুদানের অংশ ছিল। ১৯৫৬ সালে এই অঞ্চল সদ্য-স্বাধীনতাপ্রাপ্ত সুদান প্রজাতন্ত্রের অঙ্গীভূত হয়। ১৯৭২ সালে সুদানে প্রথম গৃহযুদ্ধের পর দক্ষিণ সুদান স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে গঠিত হয়। এই অঞ্চলটির অস্তিত্ব ছিল ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় সুদানি গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধেশেষে ২০০৫ সালে সামগ্রিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই বছরের শেষভাগে দক্ষিণাঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন ফিরিয়ে দেয়া হয় এবং স্বশাসিত দক্ষিণ সুদান সরকার গঠিত হয়। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে গণভোটে ৯৯ শতাংশ নাগরিক সুদান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রের পক্ষে ভোট দেন। এরপর ২০১১ সালের ৯ জুলাই দক্ষিণ সুদান স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ২০১১ সালের ১৪ জুলাই দক্ষিণ সুদান ১৯৩তম রাষ্ট্র হিসেবে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। বর্তমানে দেশটি জাতিসংঘ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য।
দেশটির জলবায়ু গ্রীষ্মমণ্ডলীয়। গড় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ২০ ডিগ্রি থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা আর্দ্র মওসুমে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়। মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে যায়। দেশটি দশটি রাজ্যে বিভক্ত, যা সুদানের ৩টি ঐতিহাসিক অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত। রাজধানী ও সবচেয়ে বড় শহর জুবা। দক্ষিণ সুদান প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পেট্রোল, আকরিক লোহা, তামা, ক্রোমিয়াম আকরিক, দস্তা, মাইকা, রুপা, স্বর্ণ, হীরা, চুনাপাথর ইত্যাদি। দেশটির অর্থনীতি মূলত কৃষির ওপর বেশি নির্ভরশীল। ইংরেজি সরকারি ভাষা হলেও স্থানীয় আরো ৬০টি ভাষা প্রচলিত। দেশটির অধিকাংশ জনগণ খ্রিস্ট ও ইসলাম ধর্মাবলম্বী। দীর্ঘসময় গৃহযুদ্ধ চলায় দক্ষিণ সুদানের সংস্কৃতি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দ্বারা প্রভাবিত। যুদ্ধচলাকালীন অনেকে ইথিওপিয়া, কেনিয়া ও উগান্ডায় পালিয়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন দেশে অবস্থান করতে গিয়ে অনেকেই সেখানকার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। তাই স্বাধীনতার পর দেখা দেয় সংস্কৃতিতে ভিন্নতা।
সিংগিং স্যান্ডস
গোবি মর“ভূমি, মঙ্গোলিয়া, দৈর্ঘ্য : ১২০ মাইল (১৯৩ কিমি)
বালিয়াড়ির সর্বোচ্চ বিন্দু : ২৫০০ ফুট (৮০০ মি)
মঙ্গোলিয়ার এই প্রদেশের নাম হংগেরি এলস, যার অর্থ গান গাওয়া বালু/মরু। বালিয়াড়ির ওপর দিয়ে বাতাস বয়ে যাওয়ার সময় বালু কণাগুলো এক ধরনের গুঞ্জনের সৃষ্টি করে। বেশিরভাগ বালু কণার থেকে গান গাওয়া মরুর বালুকণা আলাদা। এগুলো গোল এবং মসৃণ। শুষ্ক আবহাওয়ায় এই কণাগুলো একে অপরের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে শ্রবণযোগ্য সংগীতময় শব্দের সৃষ্টি করে। গোবি মরুভূমির দক্ষিণাংশে সেভারেজ পর্বত ও জুলান পর্বতের মাঝামাঝি আলতাতি রেঞ্জের অংশে বালিয়াড়ির বিস্তৃতি ১১৫ মাইল (১৮৫ কিমি)। কমপক্ষে ৩০টি গান গাওয়া মরু রয়েছে পৃথিবীতে। এগুলো দূষণের কবলে পড়েছে। দূষণের ফলে কণার গায়ে সূক্ষ স্তর পড়ে এবং গুঞ্জন ধ্বংস হয়ে যায়।
এই এলাকা মরূদ্যান ও প্রাণী বৈচিত্র্যের জন্যও বিখ্যাত, যার মধ্যে আছে বুনো ভেড়া, ইত্যাদি সেই সঙ্গে আছে চিতা, বুনো কুকুর এবং বিপুল সংখ্যক পাখি। সবচেয়ে জনপ্রিয় মরূদ্যানটি আগ্নেয় চ‚ড়ার ফসিল এলাকা থেকে ১৫০ মাইল (২৪০ কিমি) দূরে অবস্থিত।
-২০০০ ডেস্ক
বিভাগ: ফিচার



