<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>সাপ্তাহিক - ২০০০</title>
	<atom:link href="http://www.shaptahik-2000.com/?feed=rss2" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://www.shaptahik-2000.com</link>
	<description>সাপ্তাহিক - ২০০০</description>
	<lastBuildDate>Thu, 27 Dec 2012 18:00:58 +0000</lastBuildDate>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	<generator>http://wordpress.org/?v=3.2.1</generator>
		<item>
		<title>প্যাশন ফ্রুট হট চকোলেট কোকো মালাই হট ম্যাঙ্গো শেক</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2950</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2950#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 27 Dec 2012 18:00:58 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[রান্না]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=2950</guid>
		<description><![CDATA[প্যাশন ফ্রুট উপকরণ গোয়ালিনী গুঁড়ো দুধ ১ কাপ, যে কোনো ফ্রুট এসেন্স পরিমাণমতো, কাজুবাদাম ১০০ গ্রাম, কাঠবাদাম ৬-৭টি, মোনাক্কা ১২টি, কিশমিশ ৫০ গ্রাম, চিনি বা মধু, গরম পানি পরিমাণমতো। প্রণালী প্রতিটি গ্লাসে চিনির সিরা বা মধু ঢালুন। এবার গুঁড়ো দুধ গরম পানিতে গুলে গ্লাসে ঢালুন। বাদাম গুঁড়ো করে মিশিয়ে নাড়–ন। কিশমিশ, মোনাক্কা কুচি করে মেশান। [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/pashon-fruit-copy-copy.png"><img class="alignnone size-full wp-image-2951" title="pashon fruit copy copy" src="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/pashon-fruit-copy-copy.png" alt="" width="235" height="278" /></a></p>
<pre>প্যাশন ফ্রুট

উপকরণ
গোয়ালিনী গুঁড়ো দুধ ১ কাপ, যে কোনো ফ্রুট এসেন্স পরিমাণমতো, কাজুবাদাম ১০০ গ্রাম, কাঠবাদাম ৬-৭টি, মোনাক্কা ১২টি, কিশমিশ ৫০ গ্রাম, চিনি বা মধু, গরম পানি পরিমাণমতো।

প্রণালী
প্রতিটি গ্লাসে চিনির সিরা বা মধু ঢালুন। এবার গুঁড়ো দুধ গরম পানিতে গুলে গ্লাসে ঢালুন। বাদাম গুঁড়ো করে মিশিয়ে নাড়–ন। কিশমিশ, মোনাক্কা কুচি করে মেশান। এসেন্স দিয়ে নেড়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

হট চকোলেট

উপকরণ
গোয়ালিনী দুধ ২ কাপ গরম, ড্রিংকিং চকোলেট ১ কাপ, চকোলেট গুঁড়ো আধা কাপ। চকোলেট স্টিক ২টি, চিনি পরিমাণমতো।

প্রণালী
গরম দুধ, ড্রিংকিং চকোলেট ও চিনি একসঙ্গে ব্লেন্ড করে গ্লাসে ঢেলে চকোলেট গুঁড়ো মিশিয়ে নাড়–ন। গ্লাসে চকোলেট স্টিক দিয়ে পরিবেশন করুন।

হট ম্যাঙ্গো শেক

উপকরণ
ম্যাঙ্গো মিল্ক ১ প্যাকেট, গোয়ালিনী গুঁড়ো দুধ আধা কাপ, চিনি পরিমাণমতো।

প্রণালী
ম্যাঙ্গো মিল্কের সঙ্গে গুঁড়ো দুধ, চিনি একসঙ্গে ব্লেন্ড করে গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন।

কোকো মালাই

উপকরণ
ড্রিংকিং চকোলেট ১০০ গ্রাম, ক্ষীরসা ২৫০ গ্রাম, গোয়ালিনী দুধ ১ লিটার (গরম), চিনি ২০০ গ্রাম, কাজুবাদাম আস্ত ৫০ গ্রাম, কাঠবাদাম (আস্ত) ৬-৭টি, কিশমিশ ৫০ গ্রাম।
প্রণালী
ক্ষীরসা ১ কাপ, দুধ, চিনি জ্বাল দিয়ে ঘন করুন। বাকি দুধে চিনি, ড্রিংকিং চকোলেট দিয়ে ব্লেন্ড করুন। এবার পরিবেশন গ্লাসে চকোলেট দুধ ঢালুন। ওপরে ঘন ক্ষীরসা দুধ দিয়ে কাজুবাদাম, কাঠবাদাম আর
কিশমিশ সাজান।</pre>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/?feed=rss2&#038;p=2950</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>২০১২ সালে শীর্ষ ১০ আয়কারী খেলোয়াড়</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2993</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2993#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 27 Dec 2012 18:00:57 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[খেলা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=2993</guid>
		<description><![CDATA[পারফরমেন্সে নাকানি-চুবানি খেতে থাকা গল্ফ তারকা টাইগার উডস সবাইকে অবাক করে ২০১২ সালেও হয়েছেন শীর্ষ আয়কারী খেলোয়াড়। একের পর এক তাক লাগিয়ে চলা ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি আছেন এ তালিকার ১০ নম্বরে। হ্যাঁ, ২০১২ সালের শীর্ষ আয়ের ১০ খেলোয়াড়ের আয়ের পরিসংখ্যানই তুলে ধরা হচ্ছে এখানে। ২০০০ ডেস্ক ১. টাইগার উডস : চলতি বছর টাইগার উডসের [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/messi-5.png"><img class="alignnone size-full wp-image-2994" title="messi 5" src="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/messi-5.png" alt="" width="314" height="195" /></a></p>
<pre>পারফরমেন্সে নাকানি-চুবানি খেতে থাকা গল্ফ তারকা টাইগার উডস সবাইকে অবাক করে
২০১২ সালেও হয়েছেন শীর্ষ আয়কারী খেলোয়াড়। একের পর এক তাক লাগিয়ে চলা ফুটবল
তারকা লিওনেল মেসি আছেন এ তালিকার ১০ নম্বরে। হ্যাঁ, ২০১২ সালের শীর্ষ
আয়ের ১০ খেলোয়াড়ের আয়ের পরিসংখ্যানই তুলে ধরা হচ্ছে এখানে।

২০০০ ডেস্ক

১. টাইগার উডস : চলতি বছর টাইগার উডসের ব্যক্তিগত জীবনে অনেক ঝড় বয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বড় কোনো প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরও এই বছরের ধনী খেলোয়াড়দের মধ্যে তার অবস্থান সবার ওপরে। গলফে তার বেতন ছিল ৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এ বছর আয় করেছেন প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১২ সালের শীর্ষ ধনী খেলোয়াড়ের এক জরিপের তালিকায় তার অবস্থান সবার ওপরে।
২. কোবে ব্রায়ান্ট : এনবিএ বাস্কেটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত খেলোয়াড় হচ্ছেন কোবে ব্রায়ান্ট। অনেক উঁচুতে লাফিয়ে উঠে বাস্কেটে বল গলানোর জন্য বিখ্যাত এই সুপারস্টার আয় করেছেন ১৪ কোটি মার্কিন ডলার এবং তার বেতন ছিল ৫ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। বার্ষিক আয়ের পরিমাপের দিক থেকে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তিনি।
৩. লেব্রোন জেমস : এনবিএ বাস্কেটবলের আরেক সুপারস্টার লেব্রোন জেমসকে সবাই ‘কিং জেমস’ বলেই ডাকেন। গত বছর জেমসের জার্সিটি বেস্ট সেলারের তালিকায় ছিল। ২৬ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ের ৪ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার নিঃসন্দেহে তার ৩ নম্বরে উঠে আসায় প্রভাব রেখেছে।
৪. রজার ফেদেরার : টেনিস গ্রান্ড স্লামের রাজা ফেদেরারের বেতনের চেয়ে বাড়তি আয় বেশি। সুইস এই টেনিস স্টারের সঙ্গে চুক্তি আছে রোলেক্স, ক্রেডিট সুইস, নাইকি এবং উইলসনের মতো জনপ্রিয় ব্রান্ডের। ফেদেরারের বেতন ৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার।
৫. ফিল মিকেলসন : গলফের আরেক স্টার ফিল মিকেলসন মাঠের বাইরে বিভিন্ন অঙ্গনে পদচারণার জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থ পেয়ে থাকেন। বাঁহাতি এই গলফারকে ২০১১ সালে ‘হল অব ফেম’ উপাধি দেয়া হয়। তার বেতন ৪ কোটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার।
৬. ডেভিড বেকহ্যাম : ইংলিশ ফুটবল সুপারস্টার বেকহ্যাম ফুটবলারের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের কাছে স্টাইল আইকন হিসেবেও পরিচিত। মাত্র ১৭ বছর বয়স থেকে ইংলিশ বিখ্যাত ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা শুরু করেন। তিনি কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন যেগুলো হলো ‘গোল-২’, ‘লিভিং দ্য ড্রিম ইন ২০০৮’। তার নিট বেতন ৪ কোটি মার্কিন ডলার এবং সানডে টাইমসের ধনীর তালিকায় তার মোট আয় দেখানো হয়েছে ১৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।
৭. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো : বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় এবং সেরা ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম তিনি। বর্তমানে স্প্যানিশ লা লিগার জনপ্রিয় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের স্টাইকার। মাত্র ২৬ বছর বয়সের পতুর্গিজ এই উইঙ্গারের বেতন ৩ কোটি ৮০ লাখ  মার্কিন ডলার। জনপ্রিয়তার সঙ্গে তার সম্পদের পরিমাণও অনেক। শুধু ধনীর তালিকায় নয়, সামাজিক ওয়েবসাইটে অন্য অ্যাথলেটদের তুলনায় রোনালদো ফ্যানের সংখ্যার দিক থেকেও প্রথম সারিতে।
৮. অ্যালেক্স রডরিগুয়েজ : ‘এ-রড’ খ্যাত এই বেসবল খেলোয়াড়কে বলা হয় সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার বেসবল খেলোয়াড়। ৩৫ বছর বয়সী এ নিউইয়র্ক ইয়ানকিস স্টারের বেতন ৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা তাকে বিশ্বে ৮ম ধনী খেলোয়াড় হিসেবে স্থান করে দিয়েছে।
৯. মাইকেল শুমেখার : ফর্মুলা ওয়ানের সাবেক এই রেসিং চ্যাম্পিয়ন ৪২ বছর বয়সেও ট্রাকে যে কোনো প্রতিযোগীকে কুপোকাত করতে সক্ষম। রেসিং ট্রাকের আয় এবং বিভিন্ন কর্মকা- ও স্পন্সরশিপ বাবদ তার আয় ৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। জার্মান এই রেসার সাতবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
১০. লিওনেল মেসি : মাত্র ২৩ বছর বয়সেই সর্বকালের সেরা ফুটবলারের তালিকায় তার নাম। ক্লাব দল বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে তার মোট পারিশ্রমিক ৩ কোটি ২৩ লাখ মার্কিন ডলার। ফুটবলের এই জাদুকরের সঙ্গে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির স্পন্সরশিপ চুক্তি রয়েছে।

ফুটবলবিশ্বে নিজের জাত অনেক আগেই চিনিয়েছেন হালের ফুটবল ক্রেজ লিওনেল মেসি। তারই ধারাবাহিকতায় কয়েক দিন আগে এক মওসুমে সর্বোচ্চ গোল করে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারকে টপকেছেন। ১৯৭২ সালে এক মওসুমে ৮৫ গোল করে রেকর্ড গড়েছিলেন জার্মান এই ফুটবলার। বেশ কিছুদিন ধরেই ফুটবলবিশ্বে গুঞ্জন চলছিল মেসি হয়তো ভেঙে ফেলবেন মুলারের এই কীর্তি। আর বাস্তবে হলোও তাই। গত ৯ ডিসেম্বর স্প্যানিশ লিগে রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে জোড়া গোল করে এক মওসুমে সর্বোচ্চ গোল করার গৌরবময় রেকর্ডের অধিকারী হন মেসি। কিন্তু তার এই রেকর্ডে ফুটবলবোদ্ধারা যখন বাহবা দিচ্ছিলেন তখনই আরেক বিতর্কের জন্ম দিলেন জাম্বিয়ার স্থানীয় এক ভাষ্যকার। মুসন্দা চিবুলো নামের সেই ভাষ্যকার এএফপিকে  জানিয়েছেন, তাদের দেশের ফুটবলার গডফ্রে চিতালু ১৯৭২ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০৭ গোল করেছিলেন। চিতালু ১৯৯৩ সালে বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। চিতালু লিগে ৪৯টি এবং কাপ ও আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৫৮ গোল করেন। অর্থাৎ যে বছর মুলার রেকর্ড করেন সে বছরই চিতালু সে রেকর্ড ভাঙেন। প্রমাণ হিসেবে একটি সাদা কালো ফটোগ্রাফ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হয়, যে ফটোতে ‘১৯৭২ গডফ্রে চিতালু ১০৭ গোল’ লেখা একটি বল হাতে স্যুট পরিহত হাস্যেজ্জ্বল মুখে দাঁড়িয়ে আছেন চিতালু। জাম্বিয়া ফুটবল ফেডারেশন থেকে ফিফাকে চ্যালেঞ্জ করার দাবিও ওঠে। জাম্বিয়া যখন তাদের ফুটবলারকে মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে দাবি করছিল তখন ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লামিঙ্গো এই বিতর্কের পালে আরও একটু হাওয়া দিয়ে দেয়। ক্লাবটির দাবি এক মওসুমে সর্বোচ্চ গোল করেছেন ব্রাজিলের সাবেক তারকা জিকো। তাই রেকর্ডের মালিক তিনিই। ব্রাজিলের স্থানীয় পত্রিকা ল্যান্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয় জিকো এক বছরে ৮৯ গোল করেছিলেন। এরমধ্যে ক্লাবের হয়ে ছিল ৮১টি, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ৭টি আর একটি গোল ছিল প্রীতি ম্যাচে। ফ্লামিঙ্গো ক্লাবের ইতিহাস লেখক ব্রুনো লুসেনা বলেন, ‘যদি জিকো পুরো বছর খেলতে পারতেন তবে গোলসংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেত। তবে ১৯৭৯ সালে ইনজুরিতে পড়ার আগে ৮৯টি গোল করেছিলেন জিকো। তাই রেকর্ডের মালিক তিনি।’ ব্রাজিলের ওই ক্লাব যত কথাই বলুক ইতিহাস কিন্তু মুলারের পক্ষেই। তাই ইতিহাসের পরিসংখ্যানে মুলারকে টপকিয়ে মেসি এখন সর্বোচ্চ গোলের মালিক। তারপরও মেসির হয়তো এই বিতর্ক ভালো লাগছিল না। তাই গত ১৬ ডিসেম্বর অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে আবার দুটি গোল করে ব্রাজিলের ক্লাবের কর্মকর্তাদের মুখের কথা বন্ধ করে দিয়েছেন। মেসির গোলের সংখ্যা এখন ৯১। এদিকে গত ১৪ ডিসেম্বর শুক্রবার ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা থেকে জানানো হয়, তারা জাম্বিয়ার দাবি পরীক্ষা করে দেখতে রাজি নয়। ফিফার যোগাযোগ বিভাগ তাদের টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে, ‘গডফ্রে চিতালুকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ধন্যবাদ। আমাদের অফিসিয়াল পরিসংখ্যান শুধু ফিফা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ, তাই আমরা এ রেকর্ডের সত্যতা যাচাই করতে পারব না।’ সেখানে আরো উল্লেখ করা হয় ‘আমরা ফিফার সব প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য রেকর্ড রাখি।’ তাই সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে এক বছরে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর মেসিই।</pre>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/?feed=rss2&#038;p=2993</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>কতটা কার্যকর স্কুলের অভিভাবক সংগঠন জেড এম সাদ</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/?p=3002</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/?p=3002#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 27 Dec 2012 18:00:56 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রতিবেদন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=3002</guid>
		<description><![CDATA[রাজধানীর স্কুল-কলেজগুলোর ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বেশ কয়েকটি অভিভাবক সংগঠন রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীর প্রয়োজনে তাদের দেখা না গেলেও স্কুলে ভর্তির সময় কার্যক্রম বেড়ে যায় অভিভাবকদের নামে গড়ে ওঠা ভুঁইফোড় সংগঠনগুলোর। অভিযোগ আছে এসব সংগঠন অবৈধ ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত। সাধারণ অভিভাবকদের দাবি, এসব সংগঠন কাজ করবে শুধু ছাত্র-ছাত্রী আর তাদের অভিভাবকদের সমস্যাগুলো নিয়ে। অভিযোগ [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/principle.png"><img class="alignnone size-full wp-image-3003" title="principle" src="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/principle.png" alt="" width="235" height="243" /></a></p>
<pre>রাজধানীর স্কুল-কলেজগুলোর ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বেশ কয়েকটি অভিভাবক সংগঠন রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীর প্রয়োজনে তাদের দেখা না গেলেও স্কুলে ভর্তির সময় কার্যক্রম বেড়ে যায় অভিভাবকদের নামে গড়ে ওঠা ভুঁইফোড় সংগঠনগুলোর। অভিযোগ আছে এসব সংগঠন অবৈধ ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত। সাধারণ অভিভাবকদের দাবি, এসব সংগঠন কাজ করবে শুধু ছাত্র-ছাত্রী আর তাদের অভিভাবকদের সমস্যাগুলো নিয়ে।
অভিযোগ আছে, গত ১৬ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক ফোরামের সভাপতি মোশারফ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম রানার নেতৃত্বে কিছু লোক বিনা অনুমতিতে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। তারা অধ্যক্ষকে হুমকি দিয়ে একটি তালিকা দিয়ে আসেন। বলা হয় এ তালিকা অনুসারে ভর্তি করা না হলে স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হবে এবং অধ্যক্ষকে ও স্কুলের শিক্ষকদের স্কুলে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। তারা ‘বোন কোটা’ ১০ ভাগের বদলে শতভাগ করার দাবি জানান। এ সময় তারা অধ্যক্ষ এবং উপস্থিত অন্য শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে বলেন, তাদের তালিকা অনুসারে ভর্তি করা না হলে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করে দেয়া হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে নতুন শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। ঘটনার পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মঞ্জু আরা বেগম সেদিনই রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অধ্যক্ষের সঙ্গে স্কুলে উপস্থিত ৫১ শিক্ষকও জিডিতে সই করেন।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ফোরামের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে। ফোরামের সভাপতি মোশারফ হোসেন ঘটনাকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, সেদিন অধ্যক্ষ তাদের ডেকে নিয়ে যান ভর্তি সংক্রান্ত আলোচনা করার জন্য। সেই আলোচনায় তারা তাদের দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবির মধ্যে একটি ছিল শতভাগ ‘বোন কোটা’। অধ্যক্ষ এই দাবির সঙ্গে একমত না হয়ে উত্তেজিত হয়ে তাদের অপমানসূচক কথাবার্তা বলেন। এমনকি দারোয়ান ডেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেন। তাদের চরিত্র হনন করার জন্য পরে থানায় জিডি করেন। তারা নানা দাবিতে আন্দোলন করলেও তাদের আইনি কোনো ভিত্তি নেই। তাদের ফোরামটি ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করলেও এখন পর্যন্ত নিবন্ধিত হয়নি। এ প্রসঙ্গে ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম রানা এ প্রতিবেদককে জানান, ‘তারা সব কাগজপত্র ঠিক করে রেখেছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হবে। বর্তমানে তাদের ফোরামের কার্যকর সদস্য রয়েছে ১০১ জন।’ শতভাগ বোন কোটা চালু হলে অন্য অভিভাবকরা তাদের বাচ্চাদের ভর্তি করাতে পারবে না। ২০১১ সালে বোন কোটা ছিল এক ভাগ। ২০১২ শিক্ষাবর্ষে সেটি বাড়িয়ে করা হয় তিন ভাগ। আর ২০১৩ শিক্ষাবর্ষের জন্য সেটি আরো বাড়িয়ে করা হয় দশ ভাগ। কলেজে প্রথম শ্রেণীতে মোট আসন আছে ১৪৮৪টি। বোন কোটায় লটারিতে অংশগ্রহণ করবে ৭৮১ জন। যদি দাবি অনুযায়ী শতভাগ বোন কোটায় ছাত্রী ভর্তি করা হয় তবে নিতে হবে সবাইকে। উল্লেখ্য, গত ১৩-১২-২০১২ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের ১৭ অনুচ্ছেদে বোন কোটা সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটিতে উল্লেখ করা আছে প্রতিষ্ঠানে যাদের বোন অধ্যয়নরত তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ভিকারুননিসা নূন স্কুলের আজিমপুর এবং বেইলি রোড শাখার কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানা যায়। এসব সংগঠন আবার কবে হলো এমন কথাও শোনা গেছে কোনো কোনো অভিভাবকের কাছ থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, ‘এসব সংগঠন কীভাবে অবৈধ টাকা কামাবে শুধু সেই ধান্দায় থাকে। সব সময় তাদের দেখা না গেলেও ভর্তির সময় সবাই অ্যাকটিভ হয়ে যায়। লটারি যেহেতু সরকারের নির্দেশ, তাই এ বিষয় নিয়ে আন্দোলন করাই তো সরকারি নির্দেশের বিরুদ্ধে যাওয়া।’ এ প্রসঙ্গে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু জানান, ‘এক কথায় এগুলো ধান্দাবাজ সংগঠন। রাজধানীর এমন একটি স্কুলে কীভাবে এমন সংগঠন হয় সেটিই প্রশ্নের বিষয়।’ তিনি আরো যোগ করেন পরিমলের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কোনো সংগঠনকে দেখিনি প্রতিবাদ করতে। উল্লেখ্য, তাদের সংগঠনটিও নিবন্ধিত নয়। এ প্রসঙ্গে দুলু বলেন, ‘অভিভাবক ঐক্য ফোরামের কার্যক্রম ২০১০ সালের শেষের দিকে শুরু হয়। এর আগে আমাদের সংগঠনের নিবন্ধন ছিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নামে।’ তিনি দাবি করেন বর্তমান ভর্তি সংক্রান্ত নীতিমালা তাদের আন্দোলনের পরিশ্রমের ফসল। কোটা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমরা বরাবর কোটার বিপক্ষে। কেননা কোটা পদ্ধতি থাকলেই সেখানে দুর্নীতির সুযোগ থাকে। এ বছর ভর্তি কার্যক্রম শেষ হলেই পরবর্তী বছরে যেন কোটা পদ্ধতি না থাকে সে বিষয়ে আমরা আন্দোলনে নামব।’ রাজধানীর অন্যান্য শীর্ষ স্কুলে আলাদা কোনো কোটা পদ্ধতি নেই। চলতি বছর এসএসসিতে ঢাকা বোর্ডের দ্বিতীয় সেরা স্কুল শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্কুলটিতে শুধু মুক্তিযোদ্ধা কোটা রয়েছে। মতিঝিল মডেল ও আইডিয়াল স্কুলে রয়েছে কলোনি কোটা। এদিকে ‘ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ গার্ডিয়ানস অ্যাসোসিয়েশন’ নামে আরো একটি অভিভাবক সংগঠন রয়েছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান জাহিদ জানান, ‘আন্দোলনের নামে কয়েকজন ফায়দা লুটতে চাইছেন। অভিভাবক ফোরামের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সভাপতি মোশারফ সম্ভবত সোনারগাঁয়ের যুবদলের নেতা। তার বড় ভাই ছিলেন সাবেক অভিভাবক প্রতিনিধি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকার পক্ষের সঙ্গে এক হয়ে নিজেদের স্বার্থের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা যখন সেশন ফি, বেতন বাড়ানোর প্রতিবাদে আন্দোলন করেছিলাম তখন তো তাদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। এমনকি যখন পরিমলের ঘটনা নিয়ে আমরা আন্দোলন করেছি, তখনো তাদের দেখিনি। গার্ডিয়ানস অ্যাসোসিয়েশনের একটাই দাবি স্বনামধন্য এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তার হারানো গৌরব ফিরে পাক, এখানে কোনো প্রকার অস্বচ্ছতা আমরা চাই না।’ এর আগে অভিভাবক ফোরামের নামে আরেকটি সংগঠন ছিল কিন্তু ২০০৬ সালের দিকে সেটি আনুষ্ঠানিক বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। সেটি বিলুপ্ত হওয়ার পরই গার্ডিয়ানস অ্যাসোসিয়েশন কাজ শুরু করে। ২০০৭ সালে কার্যক্রম শুরু করা এ সংগঠনটির বর্তমান কার্যনির্বাহী সদস্য ১০১ জন। সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত আছেন মনোয়ার হোসেন। কার্যক্রম শুরু করার পর থেকেই নিবন্ধনের আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত নিবন্ধন পায়নি সংগঠনটি। তবে চলতি বছরের শুরুতেই নিবন্ধন হয়ে যাবে বলে প্রতিবেদককে জানান গার্ডিয়ানস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক। রাজনীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিভাবক ফোরামের সভাপতি মোশারফ হোসেন জানান, ‘আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’ 

আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি
মঞ্জু আরা বেগম
অধ্যক্ষ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ
অযৌক্তিক একটা দাবি নিয়ে আমাকেসহ ৫১ শিক্ষককে তারা হুমকি দিয়ে গেছে। তারা ১০০ শতাংশ বোনের কোটা দাবি করেছে এ দাবি মানলে তো বাইরের কোনো অভিভাবক তাদের সন্তানদের ভর্তি করতে পারবে না। তারা অভিভাবক ফোরাম আর যা-ই হোক আমরা কোনো সংগঠন বা ফোরাম জানি না, আমরা শুধু বুঝি তারাও অভিভাবক। অভিভাবকদের যৌক্তিক কোনো দাবি থাকলে অবশ্যই আমরা আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা করব। কিন্তু তা না করে তারা আমাদের হুমকি দিয়ে যায় চাকরি থেকে বহিষ্কার করবে আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। তাদের দাবি না মানায় তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে।</pre>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/?feed=rss2&#038;p=3002</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>পাঠক ফোরাম</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2983</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2983#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 27 Dec 2012 18:00:56 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[পাঠক ফোরাম]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=2983</guid>
		<description><![CDATA[সাহারা খাতুনই ঠিক ছিলেন! এখন মনে হচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সাহারা খাতুনই ঠিক ছিলেন। তার ওপর আমরা ক্ষেপেছিলাম কারণ তিনি না বুঝে কথা বলতেন। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে নিয়ে সমস্যা হলো, তিনি কথা ও কাজ অনেক বেশি বুঝে করছেন। আরো মনে হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী জনতার চাপে সাহারা খাতুনকে সরাননি। সাহারা আসলে চতুর নন, যে কারণে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<pre><a href="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/Snap.png"><img class="alignnone size-full wp-image-2984" title="Snap" src="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/Snap.png" alt="" width="288" height="235" /></a></pre>
<pre>সাহারা খাতুনই ঠিক ছিলেন!
এখন মনে হচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সাহারা খাতুনই ঠিক ছিলেন। তার ওপর আমরা ক্ষেপেছিলাম কারণ তিনি না বুঝে কথা বলতেন। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে নিয়ে সমস্যা হলো, তিনি কথা ও কাজ অনেক বেশি বুঝে করছেন। আরো মনে হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী জনতার চাপে সাহারা খাতুনকে সরাননি। সাহারা আসলে চতুর নন, যে কারণে সরকারের ইচ্ছা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছিল না।
জাহাঙ্গীর সম্রাট
সূত্রাপুর, ঢাকা 

রাশি সংখ্যা ২০১৩
সাপ্তাহিক ২০০০-এর ২০১৩ সালের রাশিচক্র সংখ্যাটি এ বছর বাজারে আসা সবচেয়ে ভালো রাশিচক্র সংখ্যা। সংখ্যাটি আদ্যোপান্ত বেশ আগ্রহের সঙ্গে পড়েছি। ভালো মানের ও বিশ্লেষণী তথ্যে সংখ্যাটি ভরপুর। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই এ সংখ্যার সম্পাদককে চমৎকার আর সুন্দর ছবিতে এ সংখ্যাটি উপস্থাপন করা হয়েছে বলে। সাপ্তাহিক ২০০০-এর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।
এমএন সালেহ বায়েজীদ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

শ্রদ্ধার জায়গাগুলো নষ্ট হচ্ছে
বাংলাদেশের মানুষ জজ, বিচারক, শিল্পী, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সবসময় শ্রদ্ধা করেছে ও ভালবেসেছে। কিন্তু কেন জানি না সম্প্রতি সেসব শ্রদ্ধা পাওয়ার মানুষগুলো যা যা অনভিপ্রেত কাজকর্মে লিপ্ত হয়ে সাধারণ মানুষের চোখে অশ্রদ্ধার পাত্র হয়ে উঠছেন। অতি সম্প্রতি একজন বিচারক কয়েকশ বোতল ফেনসিডিল এবং অস্ত্র নিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন! দেশের প্রথম শ্রেণির একজন গীতিকার ও সুরকারের যে নোংরা কাহিনী দেশবাসী দেখল তা কল্পনারও বাইরে। কেন এমন হচ্ছে?
জুনিয়র হাসান
বগুড়া সদর

স্বপ্ন আর বাস্তবতা
পদ্মা সেতু দেশের মানুষের জন্য এক স্বপ্নের সেতু। কিন্তু এ সেতুর নির্মাণ কাজ বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে। ২০১৩ নাগাদ সেতু উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও এখনো কাজই শুরু হয়নি। আবুল যদি নির্দোষ হয় তাহলে বিশ্বব্যাংকের শর্ত মতে মামলায় যেতে অসুবিধা কোথায়? আর যদি দোষী হয় তাকে অভিযুক্ত করতে অসুবিধা কোথায়?
মোঃ রবিউল হোসাইন
সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম

পুরো দেশকে ফরমালিনমুক্ত করা হোক
ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই-এর সহযোগিতায় ঢাকা এবং চট্টগ্রামের কয়েকটি কাঁচাবাজারকে ফরমালিনমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি কাঁচাবাজারকে ফরমালিনমুক্ত আদর্শ বাজার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।  এই মহতী উদ্যোগকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হোক।
রফিকুল ইসলাম কামাল
বিশ্বনাথ, সিলেট

স্বপ্নের পদ্মা সেতু
বাংলাদেশের পদ্মা সেতু নির্মাণ একটি আন্তর্জাতিক বিষয়, যেহেতু এখানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন জড়িত! বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ছাড়া আমরা কল্পনাও করতে পারি না এই সেতু নির্মাণের। মন্ত্রীরা যতই বলেন না কেন দেশের টাকায়ই হবে পদ্মা সেতু, ওটা জনগণের সামনে একটা ভাষণ ছাড়া আর কিছুই নয়। সব ধরনের মতবিরোধ মিটিয়ে নির্মাণ শুরু হোক স্বপ্নের পদ্মা সেতুর।
মোঃ ইকবাল হোসেন হাবীব
খাদিমপাড়া, সিলেট

কিন্তু হচ্ছে না কেন?
আমরা সাধারণ জনগণ যা চাই : ১. দুই নেত্রী বসুক অন্তত জাতীয় ইস্যুগুলোতে, কিন্তু তারা বসবেন না ২. হত্যা, গুম, অপহরণ ও সন্ত্রাসের রাজনীতি বন্ধ হোক, ৩. হরতাল-ধর্মঘট বন্ধ হোক, ৪. লেজুড়বৃত্তির ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হোক, ৫. অপশাসন, দুর্নীতি বন্ধ হোক, কিন্তু হচ্ছে না, ৬. নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হোক কিন্তু হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না? আমরা সাধারণ জনগণ জানতে চাই!
মনজুরুল হক
হাটহাজারী, চট্টগ্রাম

‘কোপারাজনীতি’ থেকে মুক্তি চাই
সম্প্রতি বগুড়ায় এক যুবলীগ কর্মীকে ‘কুপিয়ে’ হত্যা করা হয়েছে। এর আগে বিশ্বজিৎকে একইভাবে হত্যা করা হলো। এভাবে আরো অনেককে মারা হয়েছে। ইদানীং কুপিয়ে হত্যা বা আহত করার ঘটনা বেড়ে গেছে। সব ঘটনাই রাজনৈতিক। এ রাজনীতিকে ‘কোপারাজনীতি’ বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। আমরা এই কোপারাজনীতি থেকে মুক্তি চাই।
নিবারণ চক্রবর্তী
খিলগাঁও, ঢাকা

ভাষা বিকৃতি চলছেই
বাংলা ভাষা বিকৃত না করার ব্যাপারে গণমাধ্যমের প্রতি উচ্চ আদালতের একটি নির্দেশনা ছিল। বিশেষ করে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার জন্য নির্দেশনাটি এসেছিল। দুঃখের বিষয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশনাকে তোয়াক্কা করছে না। একুশে টিভির ‘বার-বি-কিউ’ নামের একটি অনুষ্ঠান দেখে আদালতের নির্দেশনাটির কথা মনে পড়ল। গণমাধ্যমে ভাষা বিকৃতি কি আদালত অবমাননার শামিল নয়?
তানিয়া আক্তার
শ্যামপুর, ঢাকা

আশা করি ঝুলিয়ে রাখবে না
বিজয় দিবসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ একি বললেন! ‘আগামী বিজয় দিবসের আগে কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর সাজা কার্যকর করা যাবে’। এর অর্থ কী! আমি বিশ্বাস করতে চাই না আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ইস্যুটিকে ঝুলিয়ে রাখতে চায়। এমন আত্মঘাতী চিন্তা এই প্রাচীন দলটি করতে পারে না।
শিপু সরকার
সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ

হাল ছেড়ো না বন্ধু
আশার আলো ক্ষীণ মানি। বিশুদ্ধ বাতাসের অভাব তীব্র। মানবতার জয়গান স্তিমিত তাও জানি। আনন্দের চড়া দাম দেখছি। তারপরও বলবÑ ‘হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে’। আলো আসবে, আমরা না দেখতে পারি, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেখবে।
এজাজ তালুকদার
কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ 

মানুষ মানুষের জন্য
পৌষ-মাঘ মাসকে আমরা শীতকাল বললেও শীত শুরু হয় এর আগেই এবং শেষ হতেও অনেক সময় নেয়। প্রকৃতির নিয়মে এ বছরও পৌষের আগে থেকেই ঠান্ডা পড়তে শুরু করেছে। শীতকাল বড়লোকদের জন্য মজার হলেও গরিব-দুঃখী মানুষের জন্য বড়ই কষ্টের। আসুন আমরা সবার নিজ নিজ অবস্থান থেকে শীতপীড়িত গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াই।
আফরোজা ডলি
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম

হায়রে বিসিবি
চলতি বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচগুলো নিয়ে অনেক আশাবাদী ছিলাম। ভেবেছি মাঠে বসে খেলা দেখতে পারব। টিকেটের মূল্য হাতের নাগালেই ছিল। কিন্তু যে লাউ সেই কদু। টিকেটের দাম কম হলে কি হবে টিকেটই নাকি নেই! এত টিকেট কোথায় গেল? টিকেট আছে তবে ৫০ টাকার টিকি ৫০০ টাকা আর ১০০ টাকার টিকিট ১০০০ টাকা!
আবদুল জলিল
কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা

বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর তালিকা
মানুষ কতটা পশু হয়ে গেছে, তা বিশ্বজিৎকে কোপানোর দৃশ্য দেখলেই বোঝা যায়। মিডিয়ার বদৌলতে বিশ্বজিতের মৃত্যু আমাদের নাড়া দিয়েছে নতুবা এ ঘটনার নৃশংসতা হয়তো লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে যেত। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগ একের পর এক সন্ত্রাসী কর্ম করে যাচ্ছে। সন্ত্রাসের প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী ধরা পড়লে বলা হয়, এরা বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতাকর্মী অথবা ছাত্রদল-শিবির থেকে অনুপ্রবেশকারী, যা হাস্যকর।
তুষার জাহিদ
চকবাজার, চট্টগ্রাম

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে
বিরোধী দল চায় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এটি নিয়ে বিল আনলেই তারা সংসদে যাবে। সাধারণ মানুষ তাদের সংসদ সদস্য করেছে কি সংসদে না যাওয়ার জন্য? আওয়ামী লীগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চায় নির্বাচনের জন্য। এদের চাওয়ার আগে প্রশ্ন গণতন্ত্র। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে এই তত্ত্বাবধায়ক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে কেন হচ্ছে না গণতন্ত্র চর্চা। এসব নির্ধারণে কেন হচ্ছে না গণভোট?
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
আলীমপাড়া, চাঁদপুর

আস্থাভাজন ম খা আলমগীর
নৃশংসভাবে বিশ্বজিৎ দাস নিহত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীর রিপোর্টার্স ইউনিটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বিশ্বজিৎ দাসের হত্যাকারীরা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত কর্মী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব শেষ। এই হত্যাকারীদের যদি ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়ে থাকে তাহলে ছাত্রলীগের কোন মিটিংয়ে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছিল এবং তার প্রেস রিলিজ কোন তারিখের সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে?
মনির আহমেদ
বাগেরহাট

পাখিগুলো আমাদের অতিথি
শীত শুরু হতেই সাইবেরিয়াসহ নানা শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আমাদের দেশে আসতে শুরু করেছে এদের মধ্যে আছে ঈগল, পাতিসরালি, রাজসরালি, পিন্টেল, জলপিপি, কাস্তেচরা ও সাদা বক। যে পাখিগুলো আমাদের অতিথি। এই পাখিগুলো আমাদের দেশ অভয়াশ্রম ভেবেই এখানে পাড়ি জমায়। এই পাখিগুলো আমাদের পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য বন্ধুর ভূমিকা পালন করে। তাই আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক অতিথি পাখি নিধন নয় কখনই।
শহীদুল আনোয়ার জয়
হাজী মুহম্মদ মুহসীন কলেজ, চট্টগ্রাম

ধূসর জীবন
ছবি : মাহবুব সোহাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

পাঠক ফোরামে লেখা ও ছবি পাঠানোর ঠিকানা
পাঠক ফোরাম, সাপ্তাহিক ২০০০
৯৬-৯৭ নিউ ইস্কাটন রোড, ঢাকা ১০০০, ই-মেইল : info@shaptahik-2000.com</pre>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/?feed=rss2&#038;p=2983</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন মেরুকরণ</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2996</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2996#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 27 Dec 2012 18:00:50 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রতিবেদন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=2996</guid>
		<description><![CDATA[২০০০ প্রতিবেদন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে বের হয়ে আসায় আন্ডার ওয়ার্ল্ডে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নানা কৌশল অবলম্বন করেও তাদের জামিন রুখতে পারছে না। সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিনে বের করে আনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এসব সন্ত্রাসীকে জামিনে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<pre>২০০০ প্রতিবেদন

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে বের হয়ে আসায় আন্ডার ওয়ার্ল্ডে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নানা কৌশল অবলম্বন করেও তাদের জামিন রুখতে পারছে না। সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিনে বের করে আনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এসব সন্ত্রাসীকে জামিনে বের করে দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে যেসব সন্ত্রাসী জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে এসেছে তাদের তালিকা তৈরি করেছে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দাদের তথ্য মতে, গত ৬ মাসে শতাধিক সন্ত্রাসী জামিনে বের হয়ে এসেছে। কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর তারা আবার অপরাধ জগতে সক্রিয় হয়েছে। অনেকের আদালতে হাজিরা দেয়ার কথা থাকলেও তারা তা দিচ্ছে না। প্রায় সবাই ঠিকানা বদলেছে। কেউ কেউ বিদেশে পালিয়ে গেছে। এ নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে র‌্যাব-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ কুমার বিশ্বাস সব মামলায় জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর রাজধানীর আন্ডার ওয়ার্ল্ডে শুরু হয়েছে নতুন মেরুকরণ। বিকাশ গত ১৫ বছর কারাগারে ছিল। ১৯৯৭ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তাকে গ্রেফতার করে। ২০০৯ সালে জামিন পেলেও সরকার ফের গ্রেফতার করে। ২০০১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন জোট সরকার যে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করেছিল বিকাশ তাদের একজন। তার ভাই প্রকাশ কুমার বিশ্বাসও এ তালিকায় ছিল। সে দীর্ঘদিন বিদেশে (বর্তমানে ফ্রান্সে) অবস্থান করছে। আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণকারী অদৃশ্য গডফাদাররা অন্য শীর্ষ সন্ত্রাসীদেরও বের করে আনার তৎপরতা শুরু করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিকাশ বের হওয়ার পর আরো ১১ সন্ত্রাসী মুক্তির অপেক্ষায় আছে। এই ১১ সন্ত্রাসী বর্তমানে ঢাকা ও কাশিমপুর কারাগারে অবস্থান করছে। তারা ১২ থেকে ১৫ বছর ধরে কারাগারে আছে। তাদের বিরুদ্ধে ১৫ থেকে ২৫টি মামলা রয়েছে। তারা জামিনের অপেক্ষায় রয়েছে। আদালত ও কারাগার সূত্রে জানা যায়, অন্যতম সন্ত্রাসী সুইডেন আসলামের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা রয়েছে। ১৭টি মামলায় জামিন নিয়ে ২টি মামলায় আটক আছে সে।
১২টি হত্যা মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান ওরফে পিচ্চি হেলালকে আর একটি মামলায় জামিন নিতে হবে। একই বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড মনার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। সে ৪টি মামলায় জামিন পেয়েছে। সন্ত্রাসী বদরুলের বিরুদ্ধে ৫টি হত্যা মামলা। সে ৪টি মামলায় জামিন পেয়েছে। একইভাবে সন্ত্রাসী ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে, তারও আর একটি মামলায় জামিন নিতে হবে। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুরের আলোচিত সন্ত্রাসী পাভেলুর রহমান রতন ২৭টি মামলার মধ্যে ২৬টিতেই জামিন পেয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজেদুল ইসলাম ইমনের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। সে ৭টিতে জামিন পেয়েছে। তার সেকেন্ড ইন কমান্ড মামুন। মামুনের বিরুদ্ধে ৯টি হত্যাসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। ১৬টি মামলায় সে জামিন পেয়েছে। পুরস্কার ঘোষিত খোরশেদ আলম রাশুর বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে, ১১টি মামলায় জামিন পেয়েছে। ফ্রিডম সোহেল ও কিলার আব্বাসের বিরুদ্ধে ৯টি করে মামলা রয়েছে। তারা ৭টি মামলায় জামিন পেয়েছে। উত্তরার শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশাররফের বিরুদ্ধে  ৪টি হত্যা মামলাসহ ১৩টি মামলা থাকলেও এখনো ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে। আর মাত্র একটি মামলায় জামিন পেলে কারাগার থেকে বের হয়ে আসবে সন্ত্রাসী ন্যাটা বাবু, ক্যাট বাবু, ডগ বাবু, ফারুক, শাহিন, মুন্না, মনির, মিলন, লম্বু সেলিম, বেলাল, ডালিম, নাসির, দাদা ফারুক, মিয়া রহমান, জাবেদ, রনি, পেটকাটা আলম, সাজু সোবহান, আনিস, তাজউদ্দিন ওরফে তাজু, ইব্রাহিম আনোয়ার, সাদেক, মজিবুর, টিটন, ব্যাঙ বাবু, টিপু, পিংকু প্রমুখ। এসব সন্ত্রাসীর সহযোগী, সহধর্মিণী ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে কারাগারে যারা আর একটি মামলায় জামিন পেলে বের হয়ে আসবে তারা হলো ফাতেমা, নূরজাহান, মর্জিনা বেগম, পারুল বেগম, রোশিদা, রুবিনা আক্তার, হনুফা, লিপি, মোর্শেদা, ফেন্সি শাম্মি, লাইলি, কারাতে বিলকিস, গুলবাহার, শাম্মি আক্তার, খালেদা আক্তার, বিউটি ও রানী।
যারা কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছে : পুরস্কার ঘোষিত সন্ত্রাসী বিকাশ, মশিউর রহমান কচি ও হোয়াইট বাবু কারাগার থেকে বের হয়েছে জামিনে। পুরস্কার ঘোষিত নয় কিন্তু আলোচিত সন্ত্রাসী হিসেবে র‌্যাব-পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিল, কিন্তু সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে এসেছে মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিশ শাহিন, কায়উম, ঘটি বাবু, পল্টন জসিম, রুবেল, রেজু দেওয়ান, কম্পিউটার সোহেল, ড্রাইভার আলম, হাতকাটা রমজান, আইজি গেটের ওমর ফারুক, শ্যামপুরের সুজিত দাস, উজ্জ্বল, মহিত, দয়াগঞ্জের বিপ্লব, পিচ্চি হায়দার, মনির হোসেন, সোহেল, এমরান, খোকা, এরফান আলী, নুরুল ইসলাম ওরফে নুরা, সায়েদাবাদের দীন ইসলাম, সুমন, হাদী, আশরাফ উদ্দিন, নীলাভ, খোকন কাজী, মহসিন, আঙুল কাটা সুমন, টু-া কাসেম, সুলতান, দেলোয়ার ওরফে দেলু, পলাশ, কাইল্যা মিন্টু, নাফিজ খান, রগকাটা লিটন, চিটার লিটন, ফরিদ, আওলাদ, কাশি, দেবাশীষ, সুমন, ফ্রিডম মফিজ, পোস্তাগোলার পিচ্চি শাহাদৎ, গে-ারিয়ার রাজু, ইকবাল, মামুন, কদমতলীর গ্রিল দেলোয়ার, শওকত, জুম্মন, মাহবুব, রেজা, টেরা মাহমুদ, কাইল্যা নজরুল, ময়দা কবির, যাত্রাবাড়ীর টিটু, ইউসুফ, মিঠু ও ফাহিম।
আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন মেরুকরণ : শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ ও মশিউর কচি মুক্ত হওয়ায় রাজধানীর আন্ডার ওয়ার্ল্ডে শুরু হয়েছে নতুন মেরুকরণ। এর আগে রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় কারাগার থেকে বের হয়ে এসেছেন ধানম-ি-মোহাম্মদপুরের আলোচিত সন্ত্রাসী আমজাদ হোসেন মিয়া। ভারতের কারাগারে আটক আছে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, ভারতে অবস্থান করছে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাৎ, খোরশেদ, ইমাম হোসেন। এ ছাড়া টেরর নাসিরও ভারতে অবস্থান করছে। দেশ-বিদেশে থেকে এসব শীর্ষ সন্ত্রাসী তাদের বাহিনী পরিচালনা করে। এদের ঘিরে সন্ত্রাসীরা নানা গ্রুপে আবার পুনর্বিন্যস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া পুরনো সেভেন স্টার ও থ্রি স্টার গ্রুপও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, যেসব সন্ত্রাসী জামিনে মুক্ত হয়ে বের হয়ে এসেছে তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। অপরাধীরা যাতে আদালত থেকে বের হতে না পারে সে জন্য কাজ শুরু হয়েছে। তবে আদালত যদি এসব সন্ত্রাসীকে জামিন দেয় তাহলে পুলিশের কিছু করার থাকে না। আদালতের নির্দেশ আমাদের মেনে চলতে হয়।
আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা : শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দাগি আসামিরা কারাগার থেকে বের হয়ে আসায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী জাতীয় নির্বাচন ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি ও বিরোধী দলের নেতারা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। কারাগার থেকে বের করে আনার আশ্বাসও দিচ্ছেন। শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতার আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে বের হয়ে এসেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিপরীতে বিরোধী দল থেকে যিনি নির্বাচন করবেন তিনি সতর্ক হয়ে উঠছেন। বিকাশ যাতে তার কোনো ক্ষতি না করতে পারে তার বিকল্প ব্যবস্থা তিনি খুঁজছেন। শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ রাজধানীর আলোচিত সন্ত্রাসীদের বের হয়ে আসায় খুন-খারাবিসহ অপরাধ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমদ বলেন, পুলিশ সতর্ক রয়েছে। সন্ত্রাসীরা যাতে কোনো ঘটনা ঘটাতে না পারে তার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
ঘটনা এক, প্রশ্ন অনেক : আন্ডার ওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ কাশিমপুর কারাগার থেকে পুলিশ পাহারায় মুক্ত হওয়ার পর নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিকাশের মুক্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিকাশ মুক্তি পেয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই জামিন পাওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সরকার পক্ষের আইনজীবীর কী ভূমিকা ছিল? যে মামলায় বিকাশ ২০০৯ সালে গ্রেফতার হলো, সে মামলায় এখন কীভাবে জামিন পেল? আদালত ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন বাইরের জগৎকে নিরাপদ মনে না করায় বিকাশ গত তিন বছর কৌশলে কারাগারে অবস্থান করে। এখনো যেমন অবস্থান করছে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলাম ও আরমান। বিকাশ নিরাপদ জেনেই হাজতি পরোয়ানা প্রত্যাহার করে বের হয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের ইচ্ছায় কঠোর গোপনীয়তায় বিকাশকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। বিকাশের মতো একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়ার আগে পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগে অবহিত করার রীতি থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। এ বিষয়ে গাজীপুর পুলিশের এসপি আবদুল বাতেন বলেন, বিকাশের মুক্তির ব্যাপারে আমাদের কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিকাশ ১৫ বছর জেলে ছিল। এই ১৫ বছর তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়েছে। বিকাশ এসব মামলায় জামিন নিয়ে বের হয়েছে। যদি তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকে তাহলে সে জেলে থাকবে কেন। আদালত জামিন দিলে আসামি বের হয়ে আসবেই। আমরা বিকাশের ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলেছি। প্রশাসন আইন অনুযায়ী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে।</pre>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/?feed=rss2&#038;p=2996</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আয়োজন</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2934</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2934#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 27 Dec 2012 18:00:47 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিবিধ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=2934</guid>
		<description><![CDATA[ঐতিহ্য গোল্লাছুট প্রথম আলো গল্পলেখা প্রতিযোগিতা ২০১১ সেন্ট গ্রেগরিজ উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র অর্ঘ দত্ত জিতে নিয়েছে ঐতিহ্য গোল্লাছুট গল্পলেখা প্রতিযোগিতা ২০১১-এর সেরা গল্পকারের পুরস্কার। গত ২২ ডিসেম্বর বিকেলে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে পুরস্কার দেয়া হয়। প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য এবং দৈনিক প্রথম আলোর উদ্যোগে সপ্তমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণীর [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/S5.png"><img class="alignnone size-full wp-image-2935" title="S5" src="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/S5.png" alt="" width="314" height="200" /></a></p>
<pre>ঐতিহ্য গোল্লাছুট প্রথম আলো গল্পলেখা প্রতিযোগিতা ২০১১

সেন্ট গ্রেগরিজ উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র অর্ঘ দত্ত জিতে নিয়েছে ঐতিহ্য গোল্লাছুট গল্পলেখা প্রতিযোগিতা ২০১১-এর সেরা গল্পকারের পুরস্কার। গত ২২ ডিসেম্বর বিকেলে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে পুরস্কার দেয়া হয়। প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য এবং দৈনিক প্রথম আলোর উদ্যোগে সপ্তমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তিন গ্রুপে এ প্রতিযোগিতায় এবার অংশ নিয়েছিল দেশের ৮ হাজার ৭শ ৭৮ জন প্রতিযোগী। তাদের মধ্য থেকে বাছাই করে ১৮৫ জনকে পুরস্কৃত করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। আরো উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, প্রতিযোগিতার বিচারকম-লীর সভাপতি কাইজার চৌধুরী ও ঐতিহ্যের প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান নাইম, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, অভিনেত্রী ঈশিতা ও আমার বন্ধু রাশেদ খ্যাত অভিনেতা আফনান।
ঐতিহ্যের প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান নাইম সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ২০০৫ সাল থেকে শুরু হয়েছে এই প্রতিযোগিতা। নতুন প্রজন্মের মধ্যে সৃজনশীলতা বৃদ্ধির জন্য তাদের উৎসাহিত করতেই ঐতিহ্য প্রথম আলোর সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে।

এক ক্ষুদে বাংলাদেশির নেতৃত্বে
স্যান্ডি ফান্ডে ১ হাজার ডলার প্রদান
সম্প্রতি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্ষুদে মার্কিনি নোশিন খানের নেতৃত্বে সে দেশের লং আইল্যান্ডের সেন্ট্রাল  আইস্লিপ সিনিয়র হাই স্কুল রেডক্রস ক্লাব  আমেরিকান রেডক্রসের স্যান্ডি  রিলিফ ফান্ডে ১ হাজার ডলার প্রদান করে। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষার্থীদের সংগৃহীত এক হাজার ডলারের চেক ছাড়াও হারিকেন স্যান্ডিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৫০টি  কম্বল, শ্যাম্পু ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রদান করা হয়। আমেরিকান রেডক্রসের প্রতিনিধি দোহা আলী স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের এই সহায়তা গ্রহণ  করেন এবং এই অসাধারণ  উদ্যোগের প্রশংসা  করেন।

১০ দিনব্যাপী বদরুদ্দীন উমরের বই উৎসব শুরু
দেশের প্রখ্যাত লেখক বদরুদ্দীন উমরের ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী তার লেখা বই নিয়ে উৎসবের আয়োজন করেছে শ্রাবণ প্রকাশনী। গত ২০ ডিসেম্বর শ্রাবণ প্রকাশনীর কার্যালয়ে এই বই উৎসবের উদ্বোধন ও শ্রাবণ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বদরুদ্দীন উমরের রচনা সংগ্রহ দ্বিতীয় খন্ডের মোড়ক উন্মোচন করেন বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান।
বদরুদ্দীন উমর বই উৎসবে তার লেখা রচনা সংগ্রহ দুই খ-সহ প্রায় ৪০টি বই পাওয়া যাবে।

দৃকে শুরু হলো ফটোফি আয়োজিত ‘সৃষ্টি-সুখের উল্লাস’
রাজধানীর দৃক গ্যালারিতে শুরু হলো বাংলাদেশের প্রথম ফাইন-আর্ট ফটোগ্রাফি সংগঠন ফটোফি আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ফটোগ্রাফি উৎসব। ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে ‘সৃষ্টি-সুখের উল্লাস’ শীর্ষক এই বার্ষিক উৎসবের উদ্বোধন করেন বরেণ্য আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও সাপ্তাহিক ২০০০-এর সম্পাদক মঈনুল আহসান সাবের প্রমুখ। উদ্বোধনের পর আধুনিকতম কবি আহসান হাবীবের কবিতা অবলম্বনে প্রকাশিত ‘মেঘ বলে চৈত্রে যাবো’ ফটো-অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। তারপর গুণীজন সম্মাননা পর্বে আলোকচিত্রকলার বরেণ্য শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলামকে সংগঠনটির অসংখ্য সদস্যের পক্ষ থেকে ‘আলোকচিত্রাধ্যক্ষ’ উপাধিতে সম্মানিত করা হয়। তার হাতে সার্টিফিকেট এবং ৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেয়া হয়। এরপর উপস্থিত অতিথিরা ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে সার্টিফিকেট ও পুরস্কার তুলে দেন। শেল্টেক্ লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত ‘সৃষ্টি-সুখের উল্লাস’ উৎসব চলবে আগামী ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত, প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উৎসবজুড়ে গ্যালারিতে থাকছে ফটোফি প্রকাশিত ফটোগ্রাফিবিষয়ক বিভিন্ন বইয়ের বিক্রয়কেন্দ্র এবং সমাপনী দিনে থাকছে ব্যতিক্রমধর্মী উন্মুক্ত কর্মশালা।</pre>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/?feed=rss2&#038;p=2934</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>রকমারি মাটনকারি</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2987</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2987#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 27 Dec 2012 18:00:45 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[রান্না]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=2987</guid>
		<description><![CDATA[জাফরানি কোর্মা উপকরণ খাসির মাংস ৫০০ গ্রাম (হাড্ডি ছাড়া), টকদই ১৫০ গ্রাম, জাফরান আধা চা-চামচ, দুধ কোয়ার্টার কাপ, পেঁয়াজ ৩টি, আস্ত গরম মসলা ২টি করে প্রতিটি, রসুন কোয়া ৮টি, লবণ-চিনি স্বাদমতো, কালো-সাদা গোলমরিচ ৪টি করে, কাঁচামরিচ ৪-৫টি। ঘি-তেল পরিমাণমতো। প্রণালী পেঁয়াজ-রসুন ছোট টুকরো করে কাটুন। কাঁচামরিচ চিরে নিন। রান্নার কিছুক্ষণ আগে জাফরান দুধে ভিজিয়ে রাখুন। [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/jafrani-korma-copy-copy.png"><img class="alignnone size-full wp-image-2988" title="jafrani korma copy copy" src="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/jafrani-korma-copy-copy.png" alt="" width="313" height="235" /></a></p>
<pre>জাফরানি কোর্মা

উপকরণ
খাসির মাংস ৫০০ গ্রাম (হাড্ডি ছাড়া), টকদই ১৫০ গ্রাম, জাফরান আধা চা-চামচ, দুধ কোয়ার্টার কাপ, পেঁয়াজ ৩টি, আস্ত গরম মসলা ২টি করে প্রতিটি, রসুন কোয়া ৮টি, লবণ-চিনি স্বাদমতো, কালো-সাদা গোলমরিচ ৪টি করে, কাঁচামরিচ ৪-৫টি। ঘি-তেল পরিমাণমতো।

প্রণালী
পেঁয়াজ-রসুন ছোট টুকরো করে কাটুন। কাঁচামরিচ চিরে নিন। রান্নার কিছুক্ষণ আগে জাফরান দুধে ভিজিয়ে রাখুন। রান্নার সময় জাফরান বেটে দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ফেটিয়ে নিন। হাঁড়িতে তেল বা ঘি গরম করুন। আদা, পেঁয়াজ কুচি দিন। রসুন কুচি দিয়ে মাংস নাড়ুন। নরম হলে গোলমরিচ, কাঁচামরিচ দিন। চিনি-লবণ দিন। ঝোল গাঢ় হলে ফেটানো দই ঢালুন। হয়ে এলে নেড়ে নামান।

ভেজিটেবল মাটনকারি

উপকরণ
খাসির মাংস ৫০০ গ্রাম, আলু ৩-৪টি, মটরশুটি ১৫০ গ্রাম, টমেটো, ছোট ফুলকপি, রসুন কুচি ১টি করে; গাজর ২টি, পেঁয়াজ কুচি ২টি, আদা বাটা ২ চা-চামচ; বিন ৪-৫টি, গরম মসলা গুঁড়ো ১ চা-চামচ, তেজপাতা ৩-৪টি, টকদই ৫০ গ্রাম, তেল বা ঘি ১ গ্রাম, লবণ স্বাদমতো, হলুদ গুঁড়ো কোয়ার্টার চা-চামচ।

প্রণালী
সব সবজি বড় বড় টুকরো করে কাটুন। মাংসে টকদই মেখে ঢেকে দিন ১ ঘণ্টা। হাঁড়িতে তেল বা ঘি গরম করুন। পেঁয়াজ-রসুনের সঙ্গে গরম মসলা দিন। নাড়াচাড়া করে দই মাখা মাংস এবং আদা বাটা দিয়ে ভালো করে কষান। কষানো হলে তাতে ৫-৬ কাপ পানি দিয়ে ঢাকুন। মাংস সেদ্ধ হলে সব সবজি দিন। সামান্য লবণ দিয়ে ঢাকুন। সব সেদ্ধ হয়ে মাখা মাখা হলে নামান।

মাটন পেস্তাওয়ালা

উপকরণ
মাটন ৫০০ গ্রাম (হাড় ছাড়া), লেবুর রস ২ টেবিল চামচ, টকদই কোয়ার্টার কাপ, লবণ স্বাদমতো, কাঁচামরিচ বাটা ও ছোট এলাচ ১ চা-চামচ করে; আদা বাটা, রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ করে; পেস্তা আধা কাপ, তেল ৩ টেবিল চামচ, দারুচিনি ১টি, লবঙ্গ ৬-৮টি, সেদ্ধ পেঁয়াজ বাটা আধা কাপ, ফ্রেশ ক্রিম কোয়ার্টার কাপ।

প্রণালী
মাংস ধুয়ে চৌকো টুকরো করে কাটুন। দই, লেবুর রস, লবণ, আদা, কাঁচামরিচ, রসুন বাটা মেখে মাংস ১ ঘণ্টা ম্যারিনেট করুন। পেস্তা কুচিয়ে রাখুন অর্ধেকটা আর অর্ধেকটা বেটে রাখুন। কড়াইতে তেল দিন। তেল গরম হলে লবঙ্গ, দারুচিনি দিন, পেঁয়াজ বাটা দিয়ে নাড়–ন। এবার পেস্তা বাটা, ছোট এলাচ গুঁড়ো দিন। মাখানো মাংস দিয়ে কষান। ফুটলে লবণ দিন। ঝোল ঘন হলে ওপরে ফ্রেশ ক্রিম দিয়ে পরিবেশন করুন।
গন্ধরাজী মাটন

উপকরণ
মাংস ৫০০ গ্রাম, টকদই, তেল ১০০ গ্রাম করে; লবণ-চিনি স্বাদমতো,  আদা বাটা, কাঁচামরিচ বাটা ২ টেবিল চামচ করে; হলুদ গুঁড়ো ২ চা-চামচ, জিরা গুঁড়ো ৪ চা-চামচ, লেবুর সুগন্ধযুক্ত রস ১ কাপ, লেবুর খোসা আধা কাপ (কুচি), লেবু পাতা ৮-১০টি।

প্রণালী
প্রথমে মাংস দই, আদা বাটা, কাঁচামরিচ বাটা দিয়ে ৩০ মিনিট ম্যারিনেট করে রাখুন। কড়াইয়ে তেল গরম করুন। গরম হলে মাখানো মাংস দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করুন। হলুদ গুঁড়ো, লবণ, জিরা গুঁড়ো ও চিনি দিয়ে কষান। পানি দিয়ে ঢাকুন। সেদ্ধ হলে লেবুর রস, লেবুর কুচি খোসা ও পাতা দিয়ে দশ মিনিট ঢেকে রাখুন। নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।</pre>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/?feed=rss2&#038;p=2987</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>প্রকৃতির শিক্ষা জুলফিয়া ইসলাম</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2967</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2967#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 27 Dec 2012 18:00:45 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিবিধ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=2967</guid>
		<description><![CDATA[১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ লিখে গেছেন ‘আনন্দের সহিত পড়িতে পড়িতে পড়িবার শক্তি অলক্ষিতভাবে বৃদ্ধি পাইতে থাকে। গ্রহণশক্তি, ধারণশক্তি, চিন্তাশক্তি বেশ সহজে এবং স্বাভাবিক নিয়মে বল লাভ করে।’ মানব মনের বিকাশে কল্পনাশক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মনোবিজ্ঞানীরা দ্-তিন দশক আগে থেকে। অথচ রবীন্দ্রনাথের ভাবনায় চিন্তাশক্তির ব্যবহার ধরা পড়েছে অনেক আগেই। তিনি বুঝতে পেরেছেন চিন্তাশক্তি ও কল্পনাশক্তি জীবনযাত্রা নির্বাহের [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/the-open-window-7-floors.png"><img class="alignnone size-full wp-image-2969" title="the-open-window-7-floors" src="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/the-open-window-7-floors.png" alt="" width="235" height="314" /></a></p>
<pre>১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ লিখে গেছেন ‘আনন্দের সহিত পড়িতে পড়িতে পড়িবার শক্তি অলক্ষিতভাবে বৃদ্ধি পাইতে থাকে। গ্রহণশক্তি, ধারণশক্তি, চিন্তাশক্তি বেশ সহজে এবং স্বাভাবিক নিয়মে বল লাভ করে।’ মানব মনের বিকাশে কল্পনাশক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মনোবিজ্ঞানীরা দ্-তিন দশক আগে থেকে। অথচ রবীন্দ্রনাথের ভাবনায় চিন্তাশক্তির ব্যবহার ধরা পড়েছে অনেক আগেই। তিনি বুঝতে পেরেছেন চিন্তাশক্তি ও কল্পনাশক্তি জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য দুটি অত্যাবশ্যক শক্তি। তিনি ছাঁচে ঢালা শিক্ষার পাশাপাশি ছাঁচ ভাঙা শিক্ষার প্রতিও জোর দিয়েছেন। তবে পুঁথিসর্বস্ব নয়। তিনি চেয়েছেন বই পড়ে শেখা আর হাতেকলমে অর্থাৎ আবেগের সঙ্গে শেখার যথাযথ সমন্বয়। তার মতে মানুষ সবভাবেই শিখতে পারে। শুধু লেখাপড়াই নয়, নাচতে নাচতে, গাইতে গাইতে এবং প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে হতেও অনেক কিছু শেখা যায়। সাহিত্যের সঙ্গে জীবনের ঘনিষ্ঠতা জানতে সহায়তা করে শিক্ষা। শিক্ষা শুধু জ্ঞানার্জন করা নয়। শিক্ষা সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যম।
মানুষ শেখে জন্মের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। জীবন আর জগৎ সম্পর্কে ধারাবাহিক শিক্ষা মানব মনে বুদ্ধির বিকাশ ঘটায়। শৈশব থেকে বুদ্ধির কুঁড়ি ফোটা শুরু করে ধীরলয়ে। শিশুর মনে বুদ্ধির কুসুম ফুটে ওঠে। বস্তুর সঙ্গে ব্যক্তির, পরিবেশের সঙ্গে শিশুমনের পারস্পরিক বোঝাপড়া শিশুমনে জ্ঞান বা বোধ গড়ে ওঠার মূল উৎস। মনের সঙ্গে পরিবেশের পারস্পরিকতা শুধু শিশুর ক্ষেত্রে নয়, যে কোনো বয়সে ঘটে এবং যে পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে তাই শিক্ষা। একজন মানব সন্তান শিখতে শিখতে ধারাবাহিকভাবে বয়ঃসন্ধি পার হয়ে পৌঁছায় যৌবনে। বুদ্ধির বিকাশে সামাজিক শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। মানবমস্তিষ্কে বাইরে থেকে আসা তথ্য ছেঁকে নেয়ার প্রক্রিয়াকরণের ক্রমাগত বাড়তে থাকা ক্ষমতা কাজ করে শেখার মূলে, বুদ্ধির বিকাশের গভীরে। বর্তমানে বেশি করে গুরুত্ব পাচ্ছে শিক্ষার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি। অবশ্য এ রকম দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষাকে দেখার দর্শন বহুকালের। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘অত্যাবশ্যক শিক্ষার সহিত স্বাধীন পাঠ  না মিশাইলে ছেলে বয়ঃপ্রাপ্ত হইলেও বুদ্ধিবৃত্তি সম্বন্ধে অনেকটা পরিমাণে বালক থাকিয়া যায়।’
বিংশ শতাব্দীর শেষদিকে গ্রিনস্প্যানের মতো বিজ্ঞানীরা যা বলেছেন, রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাসংক্রান্ত ভাবনায় তা ধরা পড়েছিল শতাব্দীর প্রথমভাগে। সামাজিক শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন ছেলেবেলা থেকেই প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি প্রথাভাঙা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা। এই উপমহাদেশে এক সময় গুরুগৃহ থেকে শুরু করে গৃহস্থালির সামাজিকতার পাঠ নিতে হতো। অর্থাৎ পরিপূর্ণ শিক্ষালাভের পদ্ধতি চালু ছিল। অবশেষে শান্তিনিকেতনে নতুন শিক্ষাতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে রবীন্দ্রনাথ জন্ম দেন এক নতুন শিক্ষা পদ্ধতির। আর এই শিক্ষা পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে শান্তিনিকেতনে প্রথমে ব্রহ্মচর্যাশ্রম এবং পরে বিশ্বভারতী স্থাপিত হয়েছিল।
সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি এখন এসেছে সামাজিক শিক্ষা। এসেছে আবেগজনিত শিক্ষার আধুনিক ধারণা। শিক্ষার ধারণায় ঘটে গেছে নিঃশব্দে বিপ্লব। বর্তমানে বলা হচ্ছে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি বুদ্ধির যথাযথ বিকাশ ঘটাতে সমাজ শিক্ষা আর আবেগ শিক্ষার মতো শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রকৃতির গভীর সান্নিধ্যে ঘটে মেধা, মনন বোধ, বুদ্ধি এবং স্বপ্ন কল্পনার ধারাবাহিক বিকাশ। শিক্ষকরা হলো সাহায্যকারী এবং পথপ্রদর্শক। তবু খুব বেশি নজরে রাখা, পদে পদে উপদেশ দেয়া শিক্ষকের ইচ্ছানুযায়ী চালিত করাই একমাত্র শিক্ষা নয়। শিক্ষক উদ্দীপিত করবেন ছাত্রদের, তবে অতিরিক্ত চালিত করার চেয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজের পথ চিনে নেয়া ভালো। শিক্ষায় খুব বেশি নজরদারি শিক্ষার্থীর নিজস্ব প্রবণতাকে নষ্ট করে দেয়। স্নায়ুবোধী বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীবনের প্রতি মুহূর্তে সৃষ্টিশীল হয়ে উঠতে জানা উচিত। জীবনযাত্রায়, শিক্ষায়, শিল্পে, সংগীতে শিল্পসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা উচিত। রবীন্দ্রনাথের উপলব্ধি শিক্ষা শুধু মেধা-মননে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠা নয়, রবীন্দ্রচেতনায় শিক্ষা হলো মানসিকতার চরম উত্তরণ। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষার ব্যাপক অর্থ হচ্ছে মুক্তির ব্যতিক্রমী পথ। শিক্ষা হলো চিন্তা, চেতনা ও জ্ঞানের মুক্তি। শিক্ষা মনের অন্তর্গত প্রবণতাকে নির্দিষ্ট ছন্দে এগিয়ে নিয়ে যায়। শুধু জ্ঞান-বিজ্ঞানের শিক্ষাই নয়, সামাজিক শিক্ষাও শিক্ষার অঙ্গ। সামাজিক শিক্ষা হলো অপরের সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেয়া।
বিজ্ঞানের চোখে শেখার পদ্ধতি তিন ধরনের। ম্যাপ দেখে, লেকচার শুনে এবং স্লাইড শো দেখে। এগুলো হলো বিষয়গত শিক্ষা। এটি হলো জ্ঞানের মূল স্তম্ভ। আবার কিছু শিক্ষা থেকে দক্ষতা তৈরি হয়। এ দু-ধরনের শিক্ষা ছাড়াও পরিবার এবং সমাজ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখি। সমাজ আমাদের নীতিশিক্ষা দেয় মনকে নিয়ন্ত্রণ করার অর্থাৎ সামাজিক মানুষ হওয়ার শিক্ষা। এভাবে ধীরে ধীরে জীবন ও জগৎ সম্পর্কে নানা দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়।
রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা সংক্রান্ত ভাবনাচিন্তা ছিল মুক্ত এবং আধুনিক। সেই যুগে শিক্ষায় মারধরের প্রচলন ছিল ব্যাপক। রবীন্দ্রনাথের বড় দাদা দ্বিজেন্দ্রনাথ একবার রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখতে পেলেন এক শিক্ষক তার ছাত্রকে বেত্রাঘাত করছেন। তখন দ্বিজেন্দ্রনাথ লোকমারফত শিক্ষককে একটি চিরকুট পাঠিয়ে দিলেন। চিরকুটে লেখা ছিলÑ ‘শোন হে জগানন্দ দাদা, গাধারে পিটালে ঘোড়া নাহি হয়, অশ্ব পিটালে হয় গাধা’। রবীন্দ্রনাথও এ ধরনের ছিলেন। তার শিক্ষার আদর্শে প্রভাবিত শিক্ষকরা মারধর করে বা শাস্তি দিয়ে ছাত্রদের শেখানোর গতানুগতিক পদ্ধতিতে বিশ্বাস করতেন না। রবীন্দ্রনাথ শিল্পভাবনায় অনেক স্বকীয় ছিলেন। এজন্য তিনি ব্যতিক্রমী শিল্পী ছিলেন। শিক্ষায় সঙ্কীর্ণতার এতটুকু জায়গা ছিল না রবীন্দ্রনাথের ভাবনায়। রবীন্দ্রনাথ গতানুগতিক ললিতকলা শিক্ষার পরিবর্তে ছাত্রছাত্রীদের প্রতিভাজাত নিজস্ব সৃজনভাবনার উদ্দীপনাপূর্ণ বিকশিত হতে উৎসাহ দিয়েছেন। শিক্ষার সঙ্কীর্ণ জাতীয়তাবোধের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক উদার আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। ভাবনাচিন্তার জগৎকে অসীম, অন্ত ও বহুমুখী করে তোলার জন্য তিনি শান্তিনিকেতনে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের নিয়ে এসেছিলেন। দেশ-বিদেশের নানা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা তার শান্তিনিকেতনে শিক্ষার মুক্তাঙ্গন গড়ে তুলতে পেরেছিলেন। তার সংগীতে অফুরন্ত গভীরতা আছে। রবীন্দ্রনাথ সংগীতকে উত্তরণের ধারণা হিসেবে গড়ে তুলেছেন। একজন মানুষের অর্ধেকটা আসে পরিবেশ থেকে। আর তাই শিক্ষার মাধ্যমে মনের পুষ্টি জোগানো যায়। শিক্ষার মান যত বাড়ে তত বাড়ে বুদ্ধির দক্ষতার গুণমান।
</pre>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/?feed=rss2&#038;p=2967</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>অস্বচ্ছ রাজনীতি ইমতিয়ার শামীম </title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2940</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2940#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 27 Dec 2012 18:00:44 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রচ্ছদ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=2940</guid>
		<description><![CDATA[আমাদের এই দেশটি কি সামরিক শাসনের দিকে এগিয়ে যাবে, জনগণের আশঙ্কার বরাত দিয়ে যেমনটি বলা হয়েছে ‘ফরেন পলিসি’তে? নাকি রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্র-রাজনীতি ও আন্দোলন পরিচালনার ক্ষেত্রে, জনগণকে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে দেশটিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিক থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর চেয়েও উন্নততর পর্যায়ে নিয়ে যাবেন, যেমন আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে ‘গার্ডিয়ান’ পত্রিকার প্রতিবেদনে? লিখেছেন [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/cover-pic.png"><img class="alignnone size-full wp-image-2941" title="cover pic" src="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/cover-pic.png" alt="" width="235" height="246" /></a></p>
<pre>আমাদের এই দেশটি কি সামরিক শাসনের দিকে এগিয়ে যাবে, জনগণের আশঙ্কার বরাত দিয়ে যেমনটি বলা হয়েছে ‘ফরেন পলিসি’তে? নাকি রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্র-রাজনীতি ও আন্দোলন পরিচালনার ক্ষেত্রে, জনগণকে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে দেশটিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিক থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর চেয়েও উন্নততর পর্যায়ে নিয়ে যাবেন, যেমন আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে ‘গার্ডিয়ান’ পত্রিকার প্রতিবেদনে? লিখেছেন ইমতিয়ার শামীম 

সেনাবাহিনী বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা নিতে পারে গত ২১ ডিসেম্বর এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ফরেন পলিসির অনলাইন সংস্করণে, জোসেফ অলচিনের ‘দ্য মিডলাইফ ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে। সত্যিই কি এমন কিছু ঘটবে? বাংলাদেশের রাজনীতিকে যেসব ঘটনা, সংশয় ও গুঞ্জন অস্বচ্ছ করে রেখেছে, রাজনীতি সম্পর্কে আমাদের অন্ধকারে রেখেছে, সেসবের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন এই গুঞ্জনভিত্তিক প্রতিবেদন। আর সে প্রতিবেদনটি প্রকাশ পেয়েছে ফরেন পলিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বি-মাসিক পত্রিকার ওয়েবসাইটে। এ রকম একটি নয়, অসংখ্য গুঞ্জন ও অপপ্রচার অস্বচ্ছ ও অস্পষ্ট করে রেখেছে আমাদের রাজনীতিকে। দিন আনি দিন খাই মানুষদের কাছে এখন তাই একটি বড় প্রশ্ন, আমাদের এ রাজনীতির গন্তব্য কোথায়? রাজনীতি নিঃসন্দেহে গতিশীল ও প্রবহমান, কিন্তু তার তো একটি গতিমুখ থাকে, লক্ষ্য থাকে। কিন্তু তেমন কিছু কি আছে চলমান রাজনীতির?
অনেক উত্তর দেয়া যাবে এই প্রশ্নের, কিন্তু পরক্ষণেই আমরা দেখতে পাব, সেসব উত্তরও প্রশ্ন হয়ে ছুটে আসছে আমাদের দিকে। এই রাজনীতি কি চায় আমাদের গণতন্ত্রের দিকে নিয়ে যেতে? তা হলে সাংবিধানিকভাবে সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ হলেও এ দেশের রাজনৈতিক দলগুলো কেন নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে জাতীয় সংসদকে? এই রাজনীতি কি চায় আমাদের জীবনযাপনের নিরাপত্তাব্যূহ তৈরি করতে? তা হলে কেন বিশ্বজিতের মতো জীবন ঝরে যায় রাজপথে? এই রাজনীতি কি চায় আমাদের ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতা দিতে? সঙ্গতকারণেই প্রশ্ন উঠবে, আমাদের রাষ্ট্র কি আদৌ বোঝে ব্যক্তির স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা? আর আমরাইবা কতটুকু প্রস্তুত রয়েছি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যক্তির ও বাকস্বাধীনতার অনুশীলন করতে? এই রাজনীতি কি চায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে? তা হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কেন এত সমালোচনা, কেনইবা এত ষড়যন্ত্র? এই রাজনীতি কি চায় সবার অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে? তা হলে কেন তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে, কর্মসূচিতে কোনো প্রতিফলন নেই সেসবের? প্রধান রাজনৈতিক কোনো দল একটি হরতালও কি করেছে খাদ্য সঙ্কট কিংবা দ্রব্যমূল্যের ক্রমবৃদ্ধি নিয়ে?
এ রকম অনেক প্রশ্নই আমরা করতে পারি। আর সেসবের উত্তরের জের ধরে আমাদের মনে দেখা দেয় আরো অজস্র প্রশ্ন। যদিও এক অর্থে বলতে গেলে, এসব প্রশ্ন এবং উত্তরও হয়তো অর্থহীন; কেননা যেসব রাজনৈতিক দল আমাদের জনগণের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছেন, রাজনীতিকে অস্বচ্ছ করে তুলেছেন, তাদের রাজনৈতিক কর্মকা- নিয়ে তাদের দিক থেকে কোনো অস্পষ্টতা নেই এক পক্ষ চাইছে রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে, আরেক পক্ষ চাইছে রাষ্ট্রক্ষমতার দখল নিতে। রাষ্ট্রক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য সরকারি দল বিচার বিভাগীয় রায়েরও দলীয়করণ ঘটিয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে ভুল বোঝার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। যেমন, বিচার বিভাগের রায় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিপক্ষে গেলেও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ ব্যবস্থার উপযোগিতাকে বিবেচনায় এনে আরো দুটি টার্মের নির্বাচন এই সরকার ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠান করার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সে পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়েছে। ফলে কেবল রাজনৈতিক দ্বন্দ্বই বাড়েনি, ভুল বোঝাবুঝিই বাড়েনি, জনমানসের অনুভূতিও আঘাত পেয়েছেÑজনগণ যে এ ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তুত নয়, সরকার তা এখনো অনুমান করতে পারছে না। সরকার এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যদি রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অনুশীলনকে অব্যাহত রাখত, একদিকে জাতীয় সংসদকে কার্যকর রাখত, অন্যদিকে ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার পরিধি সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে সংসদ বহির্ভূত ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের ও শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, নারী সংগঠনসহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনগুলোর মতপ্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্র তৈরি করে দিত, তা হলে জনগণের পক্ষ থেকেই রাজনৈতিক অবিশ্বাসের বহির্প্রকাশক এ ব্যবস্থাটি তুলে নেয়ার দাবি উঠে আসত। কিন্তু সরকারি দল তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তড়িঘড়ি করে একটি সংশোধনীর মাধ্যমে এ ব্যবস্থাটির বিলোপ ঘটিয়েছে। অথচ বহাল রেখেছে এমন সব ব্যবস্থার, যা সংবিধান থেকে তুলে দেয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হচ্ছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ও সেই দাবির পক্ষে রয়েছে। এমন একটি দাবি হলো, সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম আইন তুলে দেয়ার দাবি। সর্বোচ্চ আদালতের রায় খ-িতভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের এই প্রবণতা সরকারকে গভীরতর রাজনৈতিক সঙ্কটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার রাজনৈতিক সহযোগী জামায়াত চাইছে, রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে। সাধারণভাবে এ চাওয়ায়ও কোনো দোষ নেই। কিন্তু মুশকিলটি হলো এখানেই যে, রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে তারা এমন কোনো কিছু কি করতে পারবে, যার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করা যায়, তারা আসলে জনগণের সঙ্গেই আছে? তারা কি পারবে বর্তমান সরকার শিক্ষানীতিতে যেসব সীমাবদ্ধতা রেখেছে, যেমন, প্রাথমিক পর্যায়েই একাধিক ধারার শিক্ষা, সেগুলোকে দূর করতে? পারবে কি মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করে কিংবা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার ধারায় পরিবর্তন এনে চলতি সরকারের ব্যর্থতাকে ঢেকে দিতে? যে সরকারি নীতি খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাকে উৎসাহিত করছে, সে রকম কৃষিবান্ধব নীতিগুলোকে তারা কি পারবে আরো জোরদার করে তুলতে? তারা কি পারবে যে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রতিবছর দেশে আসছে সেগুলোকে পরিকল্পিতভাবে উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থানমুখী ব্যয়খাতে সংযুক্ত করার মধ্য দিয়ে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে? কিংবা পারবে কি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার শক্তিশালী উৎস গার্মেন্টস খাতকে শ্রমিকবান্ধব ও কর্মবান্ধব করে তুলতে? পারবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে শুরু করে ব্যাংক পরিচালনার পর্ষদ থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সরিয়ে দিয়ে স্বচ্ছ, দক্ষ ও জনকল্যাণকামী মানুষগুলোকে ওইসব স্থানে অন্তর্ভুক্ত করতে? এ রকম অজস্র প্রশ্ন করা যায়, যেসবের উত্তর আমাদের কারোরই জানা নেই। তাদের এমন কোনো কর্মসূচি নেই, এমন কোনো অতীত নেইÑ যা থেকে আমরা তাদের সম্পর্কে সামান্যতম ইতিবাচক ধারণা পোষণ করতে পারি।
সরকারি দল ও প্রধান বিরোধী দলের রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের এই স্পষ্ট খেলাই জনগণের সামনে রাজনীতিকে অস্বচ্ছ করে তুলেছেÑ জোসেফ অলচিনদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল করার মতো রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী করার পরিস্থিতি তৈরি করে দিচ্ছে। এবং আমাদের তাই চোখে পড়ছে না, কোনো ভালো খবর, বাংলাদেশের সুসংবাদগুলো। যেমন, গত ১৯ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে প্রকাশিত প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক পত্রিকা গার্ডিয়ানের অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক ল্যারি এলিয়ট এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার। তিনি এ প্রতিবেদন লিখেছেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক সুপরিচিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থা প্রাইসওয়াটার হাউস কুপারসের (পিডব্লিউসি) একটি সমীক্ষার ভিত্তিতে। ওই সমীক্ষায় পৃথিবীর বিকাশমান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোকে বিশ্লেষণ করে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক বিকাশের এই ধারা যদি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকে এবং সামষ্টিক অর্থনীতি ও মানবসম্পদকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিবর্তন করা যায় তা হলে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব এমনকি পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর অর্থনীতিকেও অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়া। এ রকম আরো একটি সুসংবাদ আমাদের, যা জানিয়েছে বিশ্বব্যাংকের বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০১৩। এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশগুলোর মধ্যে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। চীন, ব্রাজিল, সিঙ্গাপুর ও তুরস্কের পরেই অবস্থান আমাদের এই দেশের। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নগরায়ণের ফলে গত অর্ধশতাব্দীতে যে উন্নয়ন ঘটেছে, বাংলাদেশের স্থান সেগুলোর তালিকায় প্রথম দিকে। এসব প্রতিবেদনকে হাড়ে হাড়ে বিশ্বাস করতে হবে, আমরা সে রকম মনে করি না কিংবা এগুলো দেখে উচ্ছ্বসিত হতেও বলি না। তবে বোধকরি এটুকু বলা যায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অর্জনের রূপরেখা সুস্পষ্ট এবং আমাদের রাজনীতি স্বচ্ছ হলে, স্থিতিশীল হলে, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সুস্থির ও প্রাজ্ঞ হলে ওই অর্জনের পথে এগিয়ে যাওয়া কোনো কঠিন ঘটনা নয়।
মুশকিল হলো, আমাদের রাজনীতি জনগণের কাছে কেবল অস্বচ্ছ ও অস্পষ্টই নয়, তারও বেশি কিছু। রাজনীতিবিরোধী শক্তি তো আছেই, রাজনৈতিক দলগুলোও রাজনীতিকে একদিকে ভীতিকর করে তুলেছেন, অন্যদিকে ভীতিকর হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। ‘আমি রাজনীতি করি না’ এ কথা বলার অর্থও এক ধরনের রাজনীতি করা এবং তা বলার মধ্য দিয়ে মূলত প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থাটিকেই জিইয়ে রাখা হয়Ñ কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো এখন যে ধরনের খেলা খেলছে, তাতে প্রচলিত ব্যবস্থা জিইয়ে রাখার চেয়েও বড় ধরনের একটি সঙ্কট দেখা দিয়েছেÑ আর তা হলো, এমনকি প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমর্থক ব্যক্তিরাও এ রাজনীতিতে আর নিরাপদ বোধ করছেন না। তারাও শঙ্কিত, এ রাজনীতি তাদের কাছেও বিপজ্জনক খেলা, আগুন নিয়ে খেলা। এ রাজনীতি প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার সপক্ষে উচ্চকিত রাজনীতিকদেরও ভীত, সংশয়ী ও সন্দেহযুক্ত করে তুলেছে। সরকার যে একদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন না করার দিকে জোরালো অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে বিরোধী দল যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন করার জন্য আন্দোলন করছে এই পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও বোধকরি রাজনীতিকদের ওই ভীতি, সংশয় আর সন্দেহেরই বহির্প্রকাশ।
এই পরিস্থিতি হয়তো জনগণের জন্য শাপে বর হয়ে উঠতে পারত, যদি এখানে যাকে বলা হয় বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি, তেমন একটি কিছুর ক্রমবিকাশমানতা অব্যাহত থাকত। সরকার ও রাজনীতিবিজ্ঞান বলে, বুর্জোয়াদের এ ধরনের সঙ্কটকালীন অবস্থাই বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ও বিকাশের পথ তৈরি করে দেয়। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ পথেও কোনো বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান এখনো আমাদের চোখে পড়েনি। যারা জনগণকে এক সময় এ ধরনের বিকল্প শক্তির স্বপ্ন দেখাতেন, তাদের কাউকে কাউকে আজকাল আমরা মধ্যরাতের বুদ্ধিজীবী হিসেবে বিভিন্ন টক শোতে দেখছি একেবারে বিপরীত মেরুর কথা বলতেÑ এরা এখন মনে করে জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক শক্তি, জামায়াত-শিবির কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হলে এরা ব্যথিত হন, যে ভাষায় তারা কথা বলেন তাতে জনগণের পদে পদে মনে হয়, জামায়াতে ইসলামীই বোধকরি পরস্পরবিরোধী সরকার ও প্রধান বিরোধী দলের বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি। তারাও যুদ্ধাপরাধীর বিচার চান, ‘তবে’ তারা মনে করেন এ বিচার ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের উদ্দেশ্যে’ করলে চলবে নাÑ যার অর্থ হলো এই, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর খাতায় নাম লেখানো কোনো যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা যাবে না, করলে তা ‘রাজনৈতিক দমননীতি’ হয়ে যাবে, ‘অস্বচ্ছ’ হয়ে পড়বে।
ইতিমধ্যেই প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ঈপ্সিত রাজনৈতিক আকাক্সক্ষা পূরণের লক্ষ্যে লাগসই রাজনৈতিক কর্মসূচি ও কার্যক্রম বেছে নিতে শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে, সরকারি রাজনৈতিক দল দলীয় প্রয়োজনে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহার করছে, রাষ্ট্র সম্পর্কে জনগণকে ভীত করে তুলছে এবং এভাবে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করছে; অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দলও অভিযোগমুক্ত নয়, তাদের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো, তারা জাতীয় সংসদকে অকার্যকর করে রেখে রাজনৈতিক দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে, অযৌক্তিকভাবে রাজপথে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগ নিয়ম রক্ষার জন্য, নির্বাচন কমিশনের নিয়মরক্ষার জন্য আগামী ২৯ ডিসেম্বর নিরুত্তেজ এক কাউন্সিল করতে চলেছে। দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চার অংশ হিসেবে যে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হচ্ছে না, এ কথা বলার জন্য কোনো তথ্যের বা তত্ত্বের দরকার নেই। এবারও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাই থাকবেনÑ যদিও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কারণে তার অনেক আগেই উচিত ছিল দলীয় সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানো। কিন্তু শেখ হাসিনা চার বছরেও সে রকম সিদ্ধান্তে যেতে পারেননি, এমনই তিনি কর্মীপ্রিয় নেতা। সাধারণভাবে একটি রাজনৈতিক দলে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হওয়ার আগে বিভিন্ন জেলা ও থানা শাখার কাউন্সিল হওয়ার কথাÑ কিন্তু তেমন করতে গেলে বিভিন্ন স্থানের দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ হয়ে পড়বে, অতএব সে পথে আর পা বাড়ায়নি আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব। এই জোড়াতালির কাউন্সিল কি পারবে আওয়ামী লীগকে গতিশীল করে তুলতে? পারবে কি জনগণকে গণতন্ত্রের নির্দেশনা দিতে?
গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা জনগণের সামনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি সম্পর্কিত হতাশাকে আরও ঘনীভূত করেছে, তারা আসলে কী চায় সে সম্পর্কে প্রচ- অস্বচ্ছতা তৈরি করেছে। গত সেপ্টেম্বরের ১৩ তারিখে মন্ত্রিসভার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন মানুষকে আশাবাদী করে তুলেছিল, মানুষ প্রত্যাশা করেছিল, তাদের মৌলিক অধিকারগুলোর বাস্তবায়ন না হলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম না কমলেও অন্তত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। কিন্তু মানুষের সে প্রত্যাশা পূর্ণ হয়নি। যেমন, সাগর-রুনির হত্যাকা- সম্পর্কে বরং জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে, নতুন নতুন হত্যাকা- ঘটেছে, বিশেষ করে বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ডের পর জনগণের প্রত্যাশার পূর্ণ মৃত্যু ঘটেছে। প্রবাদ আছে, ‘ভিক্ষা চাই না মা, কুত্তা খ্যাদা’জনগণের অবস্থা এখন তাই, তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি চায় না, তারা চায় ছাত্রলীগের এ রকম দুর্বিনীত দুর্বৃত্তদের হাত থেকে বাঁচতে যারা, যদিও বলা হচ্ছে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত, অথচ যাদের রক্ষা করার জন্য বিভ্রান্তিকর নানা কথা বলছেন বিভিন্ন মন্ত্রী। অনেকেই মনে করেছিলেন, সরকার হয়তো প্রস্তাবিত পদ্মা সেতু প্রকল্পকে বাস্তবায়নের জন্য বাস্তবসম্মত পথে এগোবেন, ‘প্রয়োজনে নিজেদের অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে’ প্রধানমন্ত্রীর এ রকম বাগাড়ম্বরের পরও তাই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি সমঝোতার পথ ধরে এগোতে দেখা গিয়েছিল সরকারকে। কিন্তু দুই আবুলকে ছাড় দেয়ার মধ্য দিয়ে পাশাপাশি প্রস্তাবিত পদ্মা সেতু কীভাবে নির্মাণ করা হবে সে প্রসঙ্গে কোনো ভাষ্য না দিয়ে সরকার তার অবস্থানকে অস্বচ্ছ করে তুলেছে। সরকারি দল কি চায় অভিযুক্ত দলীয় রাজনৈতিক নেতাদের রক্ষা করার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে আরো খানিকটা প্রাতিষ্ঠানিকতা দিতে? দুর্নীতি উন্মোচনের নামে দুদককে সরকারের গায়ে লাগা দুর্গন্ধ দূর করার কাজে ব্যবহার করতে? হলমার্ক কেলেঙ্কারির সূত্র ধরে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখা হয়েছে এমন কয়েকজনকে যাদের রাজনৈতিক প্রোফাইল বেশ ভারী। এ ধরনের কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে সরকার তার রাজনীতি সম্পর্কে অস্বচ্ছতার সৃষ্টি করেছে জনমনে।
উল্টো দিকে, প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির রাজনীতিতে দৃশ্যমান দ্বৈততা থেকেও ফুটে উঠেছে অস্বচ্ছতা। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এর মধ্যে ভারত সফর করেছেন, যে সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দেয়া কৌতূহল শেষ পর্যন্ত প্রচ- এক কৌতুকে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা দেখছেন, খালেদা জিয়া ও বিএনপির পক্ষ থেকে আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য এমন সব প্রতিশ্রুতি ও আশাবাদের কথা জানিয়ে আসা হয়েছে, যা দলটির রাজনৈতিক আদর্শ ও ইতিহাসের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আবার ভারত সফর শেষে বাংলাদেশে ফিরে এসেই ১৮ দলীয় ঐক্যজোটের ব্যানারে বিএনপি এমন কিছু রাজনৈতিক ইস্যুতে কর্মসূচি পালন করেছে, যা একদিকে ওই সফরকে তাৎপর্যহীন করে তুলেছে, অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে জাগ্রত দেশবাসীকে হতবাক ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীদলীয় বিভিন্ন নেতা এমন সব কথা বলেছেন এবং সেসব কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীও এমন কথা বলেছেন, যা কুবাণী চিরন্তনী অভিধানে ঠাঁই পাওয়ার মতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া ভারত গিয়েছিলেন ‘তেল মারতে’। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এ কথার জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছেন এই বলে যে, ‘প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাব দেয়া আমার মুখে শোভা পায় না। আমার বন্ধু সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী থাকলে ভালো জবাব দিতে পারতেন।’ আমাদের রাজনৈতিক নেতারা যে কত রকম বিনোদন দিতে পারেন, এসব উক্তি তারই প্রমাণ।
রাজনীতিকদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল, তারা জাতীয় সংসদকে কার্যকর করে তুলে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকতা দেয়ার কাজ ত্বরান্বিত করবেন। কিন্তু বাস্তবে সেরকম কোনো সম্ভাবনা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার সংবিধানে যে ধরনের পরিবর্তন এনেছে, তা শাসনতান্ত্রিক বা সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টির আশঙ্কাও তৈরি করেছে। কেননা, সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার পরও চলতি সংসদ কার্যকর থাকবে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র চর্চার কথা বললেও তা যে অস্বচ্ছ, এই বিধান তার একটি উদাহরণ। আরও একটি উদাহরণ হলো, নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীকে নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণার বিধান অনুমোদনের অপচেষ্টা। এমন নয়, জাতীয় সংসদকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে বিএনপির ভূমিকা সুস্পষ্ট। বছরের পর বছর ধরে তারা সংসদ বর্জন করছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংসদ প্রতিনিধিরা ডিসেম্বরের প্রথম দিকে দিল্লিতে পার্লামেন্টারি ডায়ালগে অংশ নিতে গিয়েছিলেন এ ধরনের সফর বিএনপির কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও সংসদ অধিবেশনকে তারা বর্জন করে আসছে। দিল্লিতে ওই সময় মওদুদ আহমদকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপনার দলের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে, তাহলে সংসদে যাচ্ছেন না কেন? উত্তরে তিনি তখন জানিয়েছিলেন, সংসদে যাওয়ার বিষয়টি বিএনপি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। কিন্তু এখনও সেই সক্রিয়তার কোনো নমুনা আমরা দেখতে পাইনি। ওই সময় মওদুদ আহমদ এ কথাও বলেছিলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনী জোট হলেও দল দুটির মধ্যে আদর্শগত কোনো ঐক্যই নেই। জামায়াত একা নির্বাচন করলে দু’তিনটির বেশি আসন পাবে না।’ কিন্তু এর কয়েকদিন পরই জামায়াতে ইসলামী আহূত যুদ্ধাপরাধী বিচারবিরোধী হরতালে নৈতিক সমর্থন দিয়ে বিএনপি প্রমাণ করে, দলটির সঙ্গে তাদের আদর্শগত ঐক্য কত গভীর! আবার এ কাজ করে বিএনপি এত সমালোচিত হয় যে, কয়েকদিন পর তারা মুক্তিযোদ্ধাদের অভ্যর্থনা দেয়Ñ বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে বিএনপি ওই অনুষ্ঠানে আর জামায়াতে ইসলামীকে আমন্ত্রণ জানায়নি। তবে ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খালেদা জিয়া যখন বলেন, ‘মানচিত্র পাল্টে দেয়ার চক্রান্ত চলছে, মুক্তিযোদ্ধাদের সতর্ক থাকতে হবে’, কিংবা বলেন, ‘কারো আধিপত্য মানব না...দেশ রক্ষায় এবার আরেকটি সংগ্রাম করতে হবে’ তখন শ্রোতাদের বা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বুঝতে সমস্যা হয় না, নৈতিকভাবে অদৃশ্য জামায়াতে ইসলামী বিএনপির ওই সংবর্ধনামঞ্চেই অবস্থান করছে। একই দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয়মঞ্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভারতীয় দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সন্দ্বীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল ভারত কোনোদিনও তাদের সমর্থন দেবে না। এটা শুধু আমার কথা নয়। এটা ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, যা আমি আপনাদের জানিয়ে দিলাম।’ এভাবে খালেদা জিয়ার ভারত সফর যে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সরকারি দল আর প্রধান বিরোধী দল বিএনপির রাজনৈতিক অস্বচ্ছতা ও অস্পষ্টতা বিশেষভাবে দ্রষ্টব্য হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক সময়ে বাম গণতান্ত্রিক দলগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতার কারণে। এতে কোনো সন্দেহ নেই, বাম গণতান্ত্রিক দলগুলোর অবস্থা নব্বইয়ের আন্দোলনের পর থেকেই নাজুক। কিন্তু জনগণের নিত্যদিনের এবং রাজনীতির মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে এদের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক কার্যক্রম রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে দ্রষ্টব্য হয়ে উঠেছে তাদের সাংগঠনিক শক্তির কারণে নয়, বরং তাদের উত্থাপিত দাবি দাওয়াগুলোতে মানুষ যেভাবে সাড়া দিয়েছে সেসবের নিরিখে। বাম গণতান্ত্রিক দলগুলোর আহূত হরতাল সফল হওয়ার বাস্তব কোনো কারণ নেই, তাদের সেই সাংগঠনিক ভিত্তিও নেই; কিন্তু তারপরও তাদের আহূত গত ১৮ ডিসেম্বরের হরতাল কেবল সফল হয়নি, বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। মধ্যরাতের বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ, যারা আবার এককালে বামদর্শনে আপ্লুত ছিলেন, কিন্তু এখন যারা জামায়াতে ইসলামীকেও গণতান্ত্রিক শক্তির মর্যাদা দিচ্ছেন, তারা ওইদিনই এ হরতালকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন। তাদের সমালোচনার অন্যতম একটি প্রধান কারণ হলো, বাম দল এ হরতালে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি সুনির্দিষ্টভাবে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে সামনে নিয়ে এসেছে। বাম গণতান্ত্রিক দলগুলোর এই হরতালে সরকারেরও মৌন সমর্থন ছিল বলে তারা মনে করে। এসব বলার মধ্য দিয়ে তারা এ হরতালের স্পিরিটটিকে ভিন্নমুখী করতে চাইছেন, এ হরতালে যে গার্মেন্টস ও পরিবহন শ্রমিকদের একটি শক্তিশালী ভূমিকা ছিল, যুদ্ধাপরাধী বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ ছিল এবং তেল-গ্যাস ও খনিজ-প্রাকৃতিক সম্পদকে জাতীয় স্বার্থে ব্যবহারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তা আড়াল করার অপচেষ্টাই করেছেন। এই হরতালকে কেবল সরকারের নিরিখ থেকেই নয়, জনগণের নিরিখ থেকেও দেখতে হবেÑ এই বিষয়টি তারা পাশ কাটিয়ে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে কার্যক্রম চলছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেও এই হরতাল গুরুত্বপূর্ণÑ কেননা তা মার্কিন দূতাবাসকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে যে, এ দেশের ব্যাপক জনগণ ধর্মীয় রাজনীতিকে গ্রহণযোগ্য মনে করে না। কিন্তু মধ্যরাতের বুদ্ধিজীবীরা ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ক্ষেত্রে অস্বচ্ছ অবস্থান নিয়ে, বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা দিয়ে রাজনীতিকেই অস্বচ্ছ করে তুলছেন।
রাজনীতি অস্বচ্ছ হয়ে পড়েছে, আর তার জন্য দায়ী আমাদের রাজনীতিকরাই, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাই। এখন জনগণের সামনে তাদেরই তা স্বচ্ছ করতে হবে। আমাদের এই দেশটি কি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও অন্যান্য ইস্যুকে কেন্দ্র করে আরও অস্থিরতার দিকে যাবে? নাকি রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্র-রাজনীতি ও আন্দোলন পরিচালনার ক্ষেত্রে, জনগণকে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে দেশটিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিক থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর চেয়েও উন্নততর পর্যায়ে নিয়ে যাবেন, যেমন আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে ‘গার্ডিয়ান’ পত্রিকার প্রতিবেদনে? রাজনীতিকদেরই সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবেÑ জনগণের সামনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। জনগণ চায় রাজনীতিতে স্বচ্ছতা দেখতে, কেননা রাজনৈতিক স্বচ্ছতাই পারে জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে।

কী ভাবছেন রাজনীতিকরা

রাজনীতিকদের কাছে সাপ্তাহিক ২০০০-এর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল, চলতি রাজনৈতিক
পরিস্থিতিকে তারা কোন চোখে দেখছেন? এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী দিনগুলোয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে? এর উত্তরে তারা যা বলেছেন, তা গ্রন্থনা করেছেন আব্দুল্লাহ্ নূহ
বদরুদ্দীন উমর
সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

বাংলাদেশ এখন আর জনগণের নেই। এটি হয়ে গেছে কারো বাবার, কারো স্বামীর। তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে এমনকি জনগণের রক্ত চুষছে। বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসা সরকারি দলের প্রতি জনগণের অনেক আশা-আকাক্সক্ষা ছিল। কিন্তু জনগণকে কোনো তোয়াক্কাই করছে না এরা। এরা যেন রাষ্ট্র পরিচালনা করতে দায়িত্ব পালন করতে আসেনি, এসেছে শাসন করতে, শোষণ করতে। তাদের কারণে দেশ আজ এক পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সরকার জনগণকে ভুলে গিয়ে ক্ষমতায় আসার বিকল্প, অনৈতিক পথগুলোর আশ্রয় অবলম্বন করতে চাচ্ছে, যার প্রমাণস্বরূপ বলতে হয় বিশ্বজিৎ হত্যার ঘটনা, এখানে সরকার বিপুল সংখ্যক জনগণের পক্ষ অবলম্বন না করে ক্ষমতাবান, খুনিদের পক্ষ নিচ্ছে। বলতে হয় ঝালকাঠির লিমনের ওপর র্যাবের আক্রমণের ঘটনা। আবার আমরা দেখলাম সরকার বিজয় দিবসের মতো জাতীয় উৎসবে বিজ্ঞাপন নিল। অর্থাৎ টাকা-পয়সা দিয়ে খুশি করলেন সেনাবাহিনীকে। নিজে তো সরাসরি ঘুষ দিতে পারে না। ঘুষ এভাবে দিল। এসব নোংরামি চলছে এখন। যার ফল বলাবাহুল্য আগামীতে আরো জঘন্য কিছু দেখতে হবে। খুব দুঃখসহকারে বলতে হচ্ছে, দোষ আমাদের সবার অর্থাৎ আমজনতার। কারণ আমরা এগুলো হতে দিচ্ছি। তাই সবাইকে বলছি, ‘আশঙ্কা’ নয়, ‘আশা’ শব্দটিই স্বাভাবিক হয়ে যাবে দুর্দিনের ক্ষেত্রে। আশা করুন এর চেয়ে দুর্দিন যেন না হয়। কিন্তু আমার মনে হয় জনগণের সে আশাও পূরণ হবে না এদেশে।

মাহবুব-উল আলম হানিফ
যুগ্ম সম্পাদক, আওয়ামী লীগ 

চলতি রাজনৈতিক পরিস্থিতি অন্যান্য যে কোনো সরকারের শাসনামল থেকে ভালো। কারণ সরকার কঠোরহস্তে যে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দমন করতে বদ্ধপরিকর। করছেও তাই। দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো আছে। প্রশাসন তৎপর রয়েছে যে কোনো নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য। দু-একটা ঘটনা যা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চেষ্টা করছে তা আসলে বিরোধী দল ও স্বাধীনতাবিরোধীদের অপকর্ম। তবে এদের শক্তিকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সরকার ভয় পাচ্ছেও না। এসব মোকাবেলা করার শক্তি আওয়ামী লীগের আছে।
তাই এসব অপশক্তিকে পরোয়া না করে আগামী দিনেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসবে। দেশে সামান্য যা সন্ত্রাস, দুর্নীতি রয়েছে তা দমন করবে। ফলে আগামীতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো ভালো হবে।

রুহুল কবীর রিজভী
যুগ্ম মহাসচিব ও দপ্তর সম্পাদক, বিএনপি

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এক কথায় বলা যায় নৈরাজ্যকর। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ খুব খারাপ এ কথা বলাবাহুল্য। যে কোনো দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো রাখা, দেশকে নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে উদ্ধার করার দায়িত্ব কিন্তু সরকারের। কিন্তু আমাদের সরকার সে কাজটি করছে না। সরকার জনগণকে নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে উদ্ধার করা বা সুরক্ষা দেয়ার বদলে বরং আরো উস্কে দিচ্ছে। যে কারণে বিশ্বজিতের মতো নিরীহ মানুষকে প্রাণ দিতে হলো। সরকার যদি দেশকে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিমুক্ত রাখতে পারত তবে বিশ্বজিৎকে এভাবে প্রাণ দিতে হতো না।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে একটা কথাই বলতে পারি, বাংলাদেশকে একটা গণতান্ত্রিক দেশ বলে আর মনে হয় না। একটা গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের শাসন থাকে, জনগণের অধিকার থাকে। জনগণ হয় সব ক্ষমতার মালিক। কিন্তু বর্তমানে জনগণ সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছে। রাস্তায় বের হলে প্রাণ হাতে নিয়ে বের হতে হয়। পুলিশকে সবচেয়ে বেশি ভয় হয়। পুলিশের আচরণও গায়ে পড়া। তাছাড়া সরকারি দলের কর্মীদের হাতে পড়লে তো চাপাতি, রড, লগি-বৈঠার আঘাতে অপঘাতে প্রাণ যেতেই পারে। তাতে আবার কোনো বিচার হবে না। এমনটি একটা গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যাশিত নয়।
এ অবস্থা চলতে থাকলে একটা কথাই বলতে পারি, আগামীতে দেশটা কয়েকজন রাজনীতিবিদের হাতে চলে যাবে। এদের রাজনীতিবিদ না বলে বলা উচিত ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের হাতে দেশ চলে যাবে। লোক দেখানো হানাহানি-মারামারি হবে। কিন্তু তাতেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ। সব হারিয়ে সাধারণ মানুষ বসে বসে আঙুল চুষবে। এই হবে আগামীদিনের অবস্থা।

খালেকুজ্জামান
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাবহির্ভূত প্রধান দুই বুর্জোয়া দল অধিকতর ঘোলাটে করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলতে বিতর্কের নতুন নতুন মাত্রা যোগ করে চলেছে। ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতা ছাড়ার ঝুঁকি নেবেন না আর ক্ষমতার বাইরের প্রধান দল আরও এক দফা ক্ষমতার বাইরে থেকে শুকিয়ে মরার কিংবা অঙ্গহানির ঝুঁকি নেবেন না। ফলে উভয়ের যাত্রা গণতান্ত্রিক সহনশীলতার মাত্রা অতিক্রম করে ব্যাপক পরিসরে সাংঘর্ষিক রূপ পরিগ্রহ করতে চলেছে। যে সমঝোতা প্রচেষ্টা এখন চলছে তা গোঁজামিলের ঊর্ধ্বে উঠতে পারবে না। কোনোভাবে তা করা গেলেও তা হবে বৃহত্তর সংঘর্ষের শান্তিপূর্ণ সূচনা মাত্র। অতটুকুও ব্যর্থ হলে নিয়মতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের সব সম্ভাবনা বিলুপ্ত হবে। এ পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণমূলক ভারসাম্য আনতে হলে এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা হ্রাস করতে হলে বাম কেন্দ্রিক উদারনৈতিক দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক সব শক্তি সমতালে অগ্রসর হয়ে দ্বি-দলীয় বৃত্তের বাইরে বিকল্প শক্তি ও সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে হবে।

সাইফুল হক
সভাপতি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

বর্তমানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে মোটেই ভালো বলা যায় না। এ অবস্থা চলতে থাকলে জাতির কপালে দুঃখ আছে তা বলাবাহুল্য। এখানে এখন নিজ নিজ জায়গা থেকে মহাজোট যদি ভালো কোনো উদ্যোগ না নেয় তবে মানুষ ভবিষ্যতে বিপদের আশঙ্কামুক্ত হতে পারে না।
আমাদের দেশে রাজনীতির পুরো ব্যাপারটাই হয়ে গেছে ব্যবসার মতো। এখানে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আসাকে দায়িত্ব মনে করা হচ্ছে না। মনে করা হচ্ছে ক্ষমতা। এই পাঁচ বছর আমার একচ্ছত্র আধিপত্য। এখানে যা খুশি করতে পারি। হচ্ছেও তাই। এই চিন্তা-সংস্কৃতি দূর করতে হবে। না হলে সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে না।
মানুষের মনে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজনৈতিক সঙ্কট তো কোনো টেকনিক্যাল বিষয় নয়, বিষয়টি রাজনৈতিক। তাই আমার মনে হয় যারা এ সঙ্কটের জন্য দায়ী তারা আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে এর একটা সমাধান বের করতে পারেন। না হলে সম্ভাব্য কোনো অসাংবিধানিক শক্তির হস্তক্ষেপের আশংকা রয়েছে।
তবে এখানে একটা কথা বলতে চাই, যারা ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়া দিয়ে খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন তাদের ওপর আশাবাদী হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ আমাদের দেশে রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক ধারার বাইরে কোনো ধারা জনগণ গ্রহণ করেনি।
আরেকটা বিষয় নিয়ে এখানে একটু বলতে চাই, যেটা জাতীয় দাবি। তা হলো যুদ্ধাপরাধের বিচার। কিন্তু এটাকে বিশেষ দলীয় স্বার্থের বাইরে এসে যে দক্ষতার মাধ্যমে সম্পন্ন করার কথা ছিল তা আজো দেখতে পাচ্ছি না। আমরা প্রতীকী কোনো বিচার দেখতে চাই না। আমরা চাই দোষীদের সত্যিকারের সাজা মিলুক। সময় চলে যাচ্ছে, তবু আগামী বছরের মধ্যে এটা শেষ করার যে কথা বলা হচ্ছে তা যেন সত্যিকার অর্থেই করা হয়। আগামী তিন-চার মাস বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এ সময়ের মধ্যে রায়টা কার্যকর হলে ভালো হয়। সরকার জনগণের আস্থা তাতে কিছুটা অর্জন করতে পারবে বলে মনে হয়।

জোনায়েদ সাকি
প্রধান সমন্বয়ক, গণসংহতি আন্দোলন

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মতো বাজে অবস্থা ইতিপূর্বে আর কখনো হয়নি। এখানে ক্ষমতাসীন দল বলেন আর বিরোধী দল বলেন, কারো কাজ দেখে মনে হচ্ছে না তারা জনগণের জন্য কাজ করছে বা জনগণের জন্য কাজ করে।
তারা কেউ কখনো বলছে না কে কতটা জনগণের জন্য কাজ করছে বা জনগণের জন্য কাজ করবে। তারা কখনো মঙ্গলজনক কোনো কাজের কথা বলে না। তাদের মুখ থেকে ভালো কোনো কথা বের হয় না। রাজনীতিবিদ হিসেবে তারা যখনই কোনো বক্তব্য দেন জনসম্মুখে, তাতে থাকে কেবল বিষোদ্গার। তারা জনগণকে কেবল শেখায় প্রতিহিংসা, অশুভ আচরণ, অশুভ শব্দ উচ্চারণ, অশুভ চিন্তা করা। এগুলো কোনো জাতির জন্যই ভালো লক্ষণ নয়।
এমনটি চলবে না বলে কোনো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না। কাজেই বলতে হয়, আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। এর ফলে আগামীতে আমরা একটা বিকলাঙ্গ জাতি দেখতে পাব। যে জাতি হবে অন্ধ, বধির, খোঁড়া। তাদের চলার পথ হবে অন্ধকার। যেমনটি শেখাচ্ছেন আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাজনীতিবিদরা, তেমনটিই প্রতিফল পাব আমরা।</pre>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/?feed=rss2&#038;p=2940</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>এখানে সেখানে</title>
		<link>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2947</link>
		<comments>http://www.shaptahik-2000.com/?p=2947#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 27 Dec 2012 18:00:43 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিবিধ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.shaptahik-2000.com/?p=2947</guid>
		<description><![CDATA[হাতে আঁকা ফটোগ্রাফ! যদি বলা হয় এটি হাতে আঁকা একটি সাদা-কালো পোর্ট্রেট তাহলে অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করবে না। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এটি হাতে আঁকা পোর্ট্রেট। ফটোগ্রাফের মতো দেখতে এই ছবিটি এঁকেছেন মিগুয়েল এন্ডারা। ৬৪ বছর বয়সী বেঞ্জাম্যান কাইল নামের এক ব্যক্তির পোর্ট্রেট এটি। বেঞ্জাম্যানের সঙ্গে এন্ডারার পরিচয় হয় ২০০৪ সালে। তখন বেঞ্জাম্যান অচেতন [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/01-copy-copy.png"><img class="alignnone size-full wp-image-2948" title="01 copy copy" src="http://www.shaptahik-2000.com/wp-content/uploads/2012/12/01-copy-copy.png" alt="" width="273" height="235" /></a></p>
<pre>হাতে আঁকা ফটোগ্রাফ!
যদি বলা হয় এটি হাতে আঁকা একটি সাদা-কালো পোর্ট্রেট তাহলে অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করবে না। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এটি হাতে আঁকা পোর্ট্রেট। ফটোগ্রাফের মতো দেখতে এই ছবিটি এঁকেছেন মিগুয়েল এন্ডারা। ৬৪ বছর বয়সী বেঞ্জাম্যান কাইল নামের এক ব্যক্তির পোর্ট্রেট এটি। বেঞ্জাম্যানের সঙ্গে এন্ডারার পরিচয় হয় ২০০৪ সালে। তখন বেঞ্জাম্যান অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন। তিনি স্মৃতিশক্তি পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছিলেন। আজ পর্যন্ত কোনোভাবেই তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাকে নিয়ে চলচ্চিত্রও হয়েছে, ‘ফাইন্ডিং বেঞ্জাম্যান’। এই আশ্রয়হীন মানুষটির জন্য তহবিল সংগ্রহ করতেই ২০ লাখ কালির ডট দিয়ে এই লাইফলাইক পোর্ট্রেটটি আঁকা হয়েছে। ছবিটি আঁকতে ১শ ৩৮ ঘণ্টা সময় লেগেছে। এক একটি কপি ৯০ মার্কিন ডলারে বিক্রি করা হবে।

৩ ইঞ্চির কাঠি নিয়ে তোলপাড়
প্রাচীন মিসরীয়রা শবকে মমিতে রূপান্তর করতে শরীরের অভ্যন্তরের বিভিন্ন অংশ সরিয়ে ফেলত। মস্তিষ্কও সরিয়ে ফেলা হতো। কোন যন্ত্র দিয়ে এত নিখুঁতভাবে মস্তিষ্ক সরিয়ে ফেলা হতো তা জানতে গবেষণা চলছিল। সম্প্রতি ক্রোয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি হসপিটাল ডুবরাভার বিজ্ঞানীরা চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছেন। তারা একটি মিসরীয় মমি স্ক্যান করেছেন, মমির খুলিতে পাওয়া গেছে একটি কাঠির মতো বস্তু। এটি একজন নারীর মমি, যা প্রায় ২ হাজার ৪শ বছরের প্রাচীন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ৩ ইঞ্চি লম্বা কাঠির মতো বস্তু খুলিতে ঢুকিয়েই মস্তিষ্ক বের করে ফেলা হতো।

সবুজায়নে রোবট
রুক্ষ কঠোর মঙ্গল গ্রহের বুকে সবুজায়নের চেষ্টা চালাতে বিশেষ ধরনের রোবট তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। গতানুগতিক রোবটের চেয়ে এই রোবট একেবারেই ভিন্ন। ড্রপলেট নামের এই রোবট আকারের দিক থেকে পিংপং বলের মতো। এ ধরনের হাজার হাজার রোবট একসঙ্গে মিলে বড় কাজ করতে সক্ষম। এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা ২০টি রোবট বানিয়েছেন। পৃথিবীতেও এদের দিয়ে কাজ করানো সম্ভব।

৩শ ৬৯ ভারতীয় রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে
নারী নির্যাতন মামলা চলছে
একটি ধর্ষণের ঘটনায় দিল্লি এখন উত্তপ্ত। সাধারণ জনগণ বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষও হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস’-এর বরাত দিয়ে রেডিফ ডটকম জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ভারতের মোট
৩শ ৬৯ এমপি ও এমএলএ-এর বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ বিভিন্ন নারী নির্যাতন মামলা চলছে।   

ফানুস উড়িয়ে বিশ্বরেকর্ড
সম্প্রতি মেক্সিকোর রাতের আকাশ বিন্দু বিন্দু আলোতে উদ্ভাসিত হয়েছিল। হাজার হাজার উজ্জ্বল ফানুসে ভরে গিয়েছিল মেক্সিকোর পুয়েবলা সিটির আকাশ। একটি মেক্সিকান সরকারি দপ্তরের আয়োজনে পালিত হয় ফানুস উৎসব। ফানুস ওড়াতে জড়ো হয়েছিল প্রায় ৩ হাজার মানুষ। প্রায় ১৬ হাজার ফানুস উড়িয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ল এই শহরের অধিবাসীরা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম এক মিনিটেই ওড়ানো হয় ১ হাজার ৫শ ২০টি ফানুস।</pre>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.shaptahik-2000.com/?feed=rss2&#038;p=2947</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>
