জুড়ীর ইউরেনিয়াম উত্তোলন কতদূর
ইসমাইল মাহমুদ

Posted by সাপ্তাহিক ২০০০ | প্রতিবেদন | শনিবার 31 জুন 2010 1:52 অপরাহ্ন ১৬ শ্রাবণ ১৪১৭

বাংলাদেশের একমাত্র তেজস্ক্রিয় পদার্থ ইউরেনিয়াম আবিষ্কৃত এলাকা মৌলভীবাজারের জুড়ী। খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ সিলেট বিভাগের প্রাণকেন্দ্র মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের হারাগাছা (ষাঁড়েরগজ) পাহাড়ে প্রায় ৩৫ বছর আগে আবিষ্কৃত হয় ইউরেনিয়াম। ওই সময় ফুলতলা ইউনিয়ন কুলাউড়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় জুড়ী উপজেলা। নতুন উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত হয় ফুলতলা ইউনিয়ন। জুড়ীতে আবিষ্কৃত তেজস্ক্রিয় পদার্থ ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে ব্যবহারের অনুমতি না থাকায় দীর্ঘদিনেও তা উত্তোলনের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে প্রথম মৌলভীবাজার জেলার পূর্ব প্রান্তের উপজেলা তৎকালীন কুলাউড়ার উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফুলতলা ইউনিয়নের হারাগাছা পাহাড়ে ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে কমিশন হারাগাছা পাহাড়ের পুরো এলাকাটিকে চিহ্নিত করে তেজস্ক্রিয় এলাকা হিসাবে। পরবর্তীকালে কমিশনের তৎকালীন সিনিয়র ভূতত্ত্ববিদ ড. ইউনুসের নেতৃত্বে একটি দল হারাগাছা পাহাড়ে অনুসন্ধান চালান এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তার পরীক্ষায় হারাগাছা পাহাড় এলাকায় ইউরেনিয়াম প্রাপ্তির সম্ভাবনা নিশ্চিত হয়। কিন্তু এই তেজস্ক্রিয় খনিজ পদার্থ আহরণ বা উত্তোলনের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
১৯৮০ সালে আবার দেশের একমাত্র ইউরেনিয়াম প্রকল্প এলাকা হারাগাছা পাহাড়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা হয়। সেই সঙ্গে অন্যান্য খনিজ সম্পদের ব্যাপারেও অনুসন্ধান চালানো হয়। ১৯৯১ সালে আবারো অনুসন্ধান কাজ শুরু হয়। সে সময়ে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের সিনিয়র ভূতত্ত্ববিদ ড. ইউনুস জাপানের আণবিক জ্বালানি বিষয়ক গবেষণাগারে হারাগাছা এলাকা থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার পর এখানে মূল্যবান তেজস্ক্রিয় পদার্থ ইউরেনিয়ামের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হন। সেই সঙ্গে এ পাহাড়ে তেল, গ্যাস ও কয়লা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। জাপানে করা পরীক্ষার তথ্য অনুসারে জানা যায়, হারাগাছা ছাড়াও বৃহত্তর সিলেট ও চট্টগ্রামের আরো তিন শতাধিক স্থানে প্রতি ১০ লাখ মাটি কণার মধ্যে ৫শ থেকে ১৩শ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম কণা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এসব স্থানে ইউরেনিয়াম প্রাপ্তির হার ৫শ থেকে ১৩শ পার্টস পার মিলিন (পিপিএম)।
গত বছরের ২৯ নভেম্বর সরকারের জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এনামুল হক সিলেট সফর করেন। সিলেটে এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় আবিষ্কৃত ইউরেনিয়াম আকরিক প্রকল্পটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে আণবিক শক্তি কমিশন। প্রাথমিক কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর জুড়ীতে আবিষ্কৃত ইউরেনিয়াম আকরিক প্রকল্প থেকে ইউরেনিয়াম উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাপক ভিত্তিক অনুসন্ধান এবং সমীক্ষা চালানোর মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে জুড়ীতে আবিষ্কৃত ইউরেনিয়াম প্রকল্পের ইউরেনিয়াম বাণিজ্যিকভাবে আহরণযোগ্য কি না।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত খনিজ সম্পদের মধ্যে রয়েছে জ্বালানি তেল, গ্যাস, কয়লা, চুনাপাথর, ইউরেনিয়াম, কাচবালি, চীনামাটি, কঠিন শিলা, পিট কয়লা, ভারী মেটাল ও লাইম স্টোন।।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশের খনিজসম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হলে ২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে। খনিজসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার সম্ভব হলে মাথাপিছু এ দেশের জাতীয় আয় দাঁড়াবে ৮শ ২৫ ডলার থেকে সাড়ে ৩ হাজার ডলারে।