ইসলামিক ফাউন্ডেশন মসজিদ পাঠাগারের বই কেনা নিয়ে রাজনীতি
২০০০ প্রতিবেদক

Posted by সাপ্তাহিক ২০০০ | প্রতিবেদন | শনিবার 31 জুন 2010 1:23 অপরাহ্ন ১৬ শ্রাবণ ১৪১৭


ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ পাঠাগার স্থাপন (৬ষ্ঠ পর্যায়) প্রকল্পের ২০০৯-২০১০ অর্থবছরের পুস্তক  বাছাই তালিকায় অনিয়ম,  স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, পুস্তক কেনার জন্য ফাউন্ডেশন পত্রিকায় গণমাধ্যমে দেওয়া বিজ্ঞাপনে যে নীতিমালার কথা উল্লেখ করেছে পুস্তক বাছাই কমিটি সেই নীতিমালাকে ধর্তব্যের মধ্যে নেয়নি। পুস্তক বাছাই কমিটি রাজনৈতিক বিবেচনায় একপেশে মনোভাব নিয়ে প্রকাশকদের সঙ্গে মতবিনিময় না করে মুখ চেনা লেখক ও প্রকাশকদের বই এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, মসজিদ পাঠাগার স্থাপন প্রকল্পের আওতায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশের ২৪ হাজার মসজিদ পাঠাগারের জন্য  প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার বই ক্রয় করবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে মসজিদ পাঠাগার স্থাপন প্রকল্প ফাউন্ডেশনের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। দেশের মসজিদগুলোকে ইসলামী জ্ঞানের কেন্দ্র হিসাবে এবং ইসলামী বইয়ের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের সব মসজিদে ইসলামী পাঠাগার স্থাপনের উদ্দেশ্যে মসজিদ পাঠাগার স্থাপন কার্যক্রম সমন্বয় বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। এই কার্যক্রম ১৯৭৮-৭৯ অর্থবছরে প্রথম গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে প্রায় ২৪ হাজার মসজিদ পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৮০০ পাঠাগারে পুস্তক দেওয়া হয়েছে এবং ৩ হাজার ৫০০টি নতুন পাঠাগারে পুস্তক সংরক্ষণের জন্য আলমারি ও শোকেস প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ফাউন্ডেশন নীতি-নৈতিকতার জায়গা থেকে ভালো কাজ করবে এমন প্রত্যাশা আমাদের সবার। কিন্তু জানি না কী এক রহস্যজনক কারণে দেখা যায় সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে ফাউন্ডেশনের ভেতরে যারা কাজ করেন তাদের লেবাস রাতারাতি পাল্টে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ফাউন্ডেশনে কর্মরত বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয়। ফাউন্ডেশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জামায়াতের একটি শক্তিশালী মহল নিয়োজিত। তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শত শত দলীয় কর্মীকে ফাউন্ডেশনে ঢুকিয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলে জামায়াতের শক্তিশালী উত্থান ঘটেছে ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন বিভাগ ও প্রকল্পে। চারদলীয় জোটের সময় পুস্তক নির্বাচনে যে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি ছিল বর্তমানেও তার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ফরিদ আহমেদ জানান, মসজিদ পাঠাগার স্থাপন (৬ষ্ঠ পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় লাখ লাখ টাকার পুস্তক কেনা নিয়ে পুস্তক বাছাই কমিটি বইয়ের লেখক ও প্রকাশক নির্বাচনে এক ন্যক্কারজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছেন। নেতৃবৃন্দ আরো জানান, পুস্তক বাছাই কমিটিকে আগে ঠিক করতে হবে মসজিদের পাঠাগারে আগত পাঠকদের কি তারা রাজনৈতিক কর্মী বানাবেন না ধর্মীয় চিন্তার পাঠক বানাবেন? যদি তারা মসজিদে আগত সাধারণ মানুষকে প্রকৃত পাঠক বানাতে চান সেক্ষেত্রে পুস্তক ও লেখক বাছাইয়ে ফাউন্ডেশনের পুস্তক বাছাই কমিটিসহ সংশ্লিষ্টদের অধিকতর সচেতন ও মনোযোগী হতে হবে।
প্রকাশক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকলে তারা যেকোনো মূল্যে তাদের ধামাধরা লেখক-প্রকাশকদের অগ্রাধিকার দেয়। আবার একই চিত্র পরিলক্ষিত হয় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে। এটা তো কোনো সুস্থতার লক্ষণ হতে পারে না। বই কেনা বাবদ রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার এভাবে হরিলুট তো কারোই কাম্য হতে পারে না। আমরা চাই লেখক-প্রকাশকদের যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হোক।
বাংলাবাজারের একজন শীর্ষ প্রকাশকের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি আক্ষেপের সঙ্গে জানান, ফাউন্ডেশনের বইয়ের তালিকাটি দেখলেই দুর্নীতিটা বোঝা যায়। রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি খাটিয়ে যদি কেউ, হোক তিনি সরকারের উপদেষ্টা, নেতা, এমপি, সাবেক সচিব, তার বইকে এই প্রকল্পে চাপ প্রয়োগ করে ঢুকিয়ে দিতে বাধ্য করেন তবে সেটা নিন্দনীয়। এবারের মসজিদ পাঠাগার স্থাপন প্রকল্পের বই কেনার তালিকাটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমি একজন  সৃজনশীল প্রকাশক হিসাবে মনে করি তালিকায় স্বজনপ্রীতিতে চিহ্নিত এসব বই (সব বইয়ের কথা বলছি না। যেসব বিষয়ভিত্তিক ধর্মীয় বই মসজিদ পাঠাগারের জন্য প্রয়োজন সেগুলো নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই) কোনোভাবেই প্রকল্পে যাওয়া উচিত নয়। তিনি আরো জানান, প্রকৃত লেখকদের বই এসব তালিকায় থাকা জরুরি ছিল। তাদের বই থাকলে পাঠকদের মেধা, মনন ও বোধের জায়গা তৈরি হতে পারত।
জানা যায়, পুস্তক বাছাই তালিকা প্রণয়নে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বর্তমান সরকারের একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা, সাবেক নেতা, দলীয় কর্মী ও দলের ধামাধরা কিছু মেধাহীন লেখক ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার অপতৎপরতায় লিপ্ত থেকে তাদের এক বা একাধিক বই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে পুরো প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জনপ্রিয় লেখক ফাউন্ডেশনের এই তালিকা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, ফাউন্ডেশনের ২৭৪টি বাছাই পুস্তক তালিকার ভেতর একটি করে মাত্র কবিতার ও উপন্যাসের বই স্থান পেয়েছে। একজন লেখক ও সচেতন পাঠক হিসাবে আমি সেই কবিতা ও উপন্যাসের ক্ষেত্রে সঙ্গতকারণেই দেশের প্রথম সারির উৎকৃষ্ট কবি-সাহিত্যিকের বই সেই তালিকায় আশা করব। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে আমি দেখলাম জনৈক আজিজুর রহমান আজিজের ‘কবিতা সংগ্রহ’ এবং একই লেখকের ‘উপন্যাস সমগ্র’ স্থান পেয়েছে। বিষয়টি দেখে আমি যারপরনাই অবাক ও বিস্মিত! এটা কেমন করে সম্ভব?  তিনি আরো জানান, উপরোল্লিখিত আজিজুর রহমান আজিজ তো সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কেউ নন। তাকে কেউ চেনেও না। তার পরিচয় তিনি কেবলমাত্র একজন সাবেক সচিবমাত্র। তার এই সাবেক সচিব পরিচয়ের কল্যাণেই কি কমিটি তার মূল্যবান (!) কবিতা সংগ্রহ ও উপন্যাস সমগ্র বই দুটি নির্বাচন করেছে?
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, পাঠাগার স্থাপন প্রকল্পের বই কেনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে সমন্বয় বিভাগের পরিচালক আবদুল জলিল জমাদ্দারসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবরের মতো রহস্যজনক ভূমিকায় অবতীর্ণ রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, চারদলীয়  জোটের সময় উল্লিখিত কর্মকর্তারা রাজনৈতিকভাবে লেখক ও প্রকাশকদের অন্তর্ভুক্ত করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছিলেন। সে সময় জামায়াতে ইসলামীকেন্দ্রিক লেখক-প্রকাশকদের বই ব্যাপকভাবে প্রকল্পে  অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। যার ফলে দেশের ২৪ হাজার মসজিদ পাঠাগার জামায়াতের বই-পুস্তকে পরিপূর্ণ
হয়ে আছে।
সমন্বয় বিভাগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বর্তমান পরিচালকের সরাসরি ইন্ধন ও মদদে ফাউন্ডেশনের পাঠাগার স্থাপন প্রকল্পটি নানাভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। আবদুল জলিল জমাদ্দার সমন্বয় বিভাগের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বাড়তি দায়িত্ব হিসাবে মসজিদ পাঠাগার স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সূত্র জানায়, প্রকল্প পরিচালক দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি। যার ফলে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবুল আলা মওদুদীসহ অন্যান্য চিহ্নিত জামায়াত ঘরানার লেখকদের  রচিত সমস্ত বই ফাউন্ডেশনের পাঠাগারগুলোর মাধ্যমে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে ফাউন্ডেশনকে বিতর্কিত ও ভিন্নপথে চালিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
সম্প্রতি ফাউন্ডেশনের পাঠাগারগুলোতে মওদুদীর বিতর্কিত বই সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে মিডিয়া ও জাতীয় সংসদে তীব্র আপত্তি উত্থাপিত হওয়ায় ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক তোপের মুখে পড়েন।
বিবিসি এ বিষয়ে মহাপরিচালকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিবিসির অনলাইনকে জানিয়েছেন মওদুদীর  এসব বই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ উসকে দেয় বলে সরকারি নির্দেশে মসজিদ পাঠাগার থেকে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তার (মওদুদী) বই ইসলামের মূল আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কাজেই তার বই মসজিদ পাঠাগারে সংরক্ষণ করা যুক্তিযুক্ত নয়।
বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সারাদেশের ২ লাখ ৭০ হাজার মসজিদের মধ্যে ২৪ হাজার মসজিদ পাঠাগার থেকে ইতিমধ্যে এ ধরনের বিতর্কিত ধর্মীয় গ্রন্থ প্রত্যাহারের কাজ শুরু করেছে।
ফাউন্ডেশনে কর্মরত একাধিক প্রভাবশালী সূত্র জানায়, সমন্বয় বিভাগের পরিচালকের রাজনৈতিক অভিলাষ চরিতার্থ করার কারণে খোদ মহাপরিচালককে মিডিয়ার সামনে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে যা দুঃখজনক। একই সঙ্গে তারা সমন্বয় বিভাগ ও মসজিদ পাঠাগার স্থাপন প্রকল্পে রাজনীতিমুক্ত পরিচালক দেখতে চান।

ছবিযুক্ত বইয়ের ব্যাপারে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা ছাড় দিয়েছি
সামীম মোহাম্মদ আফজাল

মহাপরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

অতীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মকা- নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে কিন্তু বর্তমানে আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি ফাউন্ডেশনের সব ধরনের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে। এক্ষেত্রে মিডিয়ার কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক।
মসজিদ পাঠাগার স্থাপন (৬ষ্ঠ পর্যায়) প্রকল্পের কর্মকা-, উদ্দেশ্য, বই কেনার বাজেট, বাছাইকৃত বইয়ের তালিকার ব্যাপারে মহাপরিচালকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে মসজিদ পাঠাগার স্থাপনের মাধ্যমে তাদের ভেতর ধর্মীয় অনুভূতি, প্রকৃত তথ্যজ্ঞান এবং মূল্যবোধের বিষয়গুলো প্রোথিত করে দেওয়ার লক্ষ্যে সারাদেশে ফাউন্ডেশনের প্রায় ২৪ হাজার মসজিদ পাঠাগার রয়েছে। আমরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের ভেতর প্রয়োজনীয় জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।
এই প্রকল্পের বাছাইকৃত পুস্তক তালিকা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব, স্বজনপ্রীতি ও দলীয় আনুগত্যের আধিক্য পরিলক্ষিত হয়েছে এ রকম অভিযোগের জবাবে মহাপরিচালক জানান, ফাউন্ডেশন তো আর একা এই পুস্তক বাছাই করার দায়িত্ব পালন করেনি। অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত অভিজ্ঞ কমিটি এই পুস্তক বাছাইয়ের কাজটি সম্পন্ন করেছে। আমরা পৌনে ৪শ প্রতিষ্ঠান ও প্রকাশকের কাছ থেকে বইয়ের তালিকা আহ্বান করেছি। তারা আমাদের ১ হাজার বইয়ের তালিকা দিয়েছেন। আমাদের পুস্তক বাছাই কমিটি সেই ১ হাজার বইয়ের ভেতর থেকে ২৭৪টি বই চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেছে। এরপর যদি কেউ ফাউন্ডেশনের পুস্তক তালিকা নিয়ে অভিযোগ করেন তবে তা হবে দুঃখজনক। অনভিপ্রেত।
কথা প্রসঙ্গে মহাপরিচালক জানান, এবারই প্রথম ফাউন্ডেশনের পুস্তক তালিকায় আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষদের মধ্যে স্বাধীনতাযুদ্ধের তথ্যসমৃদ্ধ বই অন্তর্ভুক্ত করেছি, যা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রকাশকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে আমরা আমাদের পুস্তক বাছাই করেছি। এখন কী কারণে তারা এ ধরনের অভিযোগ করছেন তা আমার বোধগম্য নয়।
প্রকাশকদের কাছ থেকে  ফাউন্ডেশন প্রকল্পের জন্য বইয়ের তালিকা চেয়ে পত্র-পত্রিকায় যে বিজ্ঞাপন ছেপেছিল তাতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, ছবিযুক্ত (প্রচ্ছদ এবং ভেতরে) বই মসজিদ পাঠাগার স্থাপন (৬ষ্ঠ পর্যায়) প্রকল্পে জমা দেওয়া যাবে না। সে কারণে অনেক সৃজনশীল প্রকাশক তাদের বই জমা দিতে পারেনি অথচ বাছাই তালিকায় দেখা গেল প্রচুর ছবিযুক্ত বই তালিকায় ঢুকে পড়েছে। এর মাধ্যমে এই প্রকল্প থেকে সৃজনশীল প্রকাশকদের কৌশলে দূরে সরিয়ে রাখা হলো, এ রকম প্রশ্নের জবাবে ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বলেন, দেখুন এ ক্ষেত্রে আমরা পাঠকদের উন্নত বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছি। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠকদের আরো কাছাকাছি যেতে আমরা ছবির বিষয়ে কোনো কোনো বইয়ের ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছি। তবে ধর্মীয় অন্যান্য বইয়ের ক্ষেত্রে আমরা ফাউন্ডেশনের নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করেছি।
মসজিদ পাঠাগার স্থাপন প্রকল্পের সহায়ক তথ্য প্রদানে প্রকল্প পরিচালকের অসহযোগিতার কথা মহাপরিচালককে অবহিত করলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, তিনি যদি সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দিতে অসহযোগিতা করেন তাহলে তো সেই পদে তার থাকা উচিত নয়।
উল্লেখ্য, প্রকল্প পরিচালক আবদুল জলির জমাদ্দার তথ্য প্রদানে অনীহা প্রকাশ করে এই প্রতিবেদককে এর আগে বলেছিলেন, যদি রিপোর্ট করার জন্য কোনো তথ্য জানতে চান তাহলে আমি আপনাকে কিছু বলতে পারব না। প্রকল্প পরিচালকের রুমে তখন দু’জন অভ্যাগত ছিলেন। প্রতি উত্তরে প্রতিবেদক তার কাছে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও কর্মকা- জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক তাদের সামনেই প্রতিবেদককে নসিহত করার ভঙ্গিতে বললেন, আপনাদের রিপোর্টের তথ্য সরবরাহের জন্য তো আমি এখানে বসে অফিস করি না। আমাদের আরো অনেক জরুরি দাপ্তরিক কাজ থাকে। দায়িত্ব থাকে।
এরপরও প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক জানান, ফাউন্ডেশনের ডিজি এ ব্যাপারে সব জানেন। প্লিজ, আপনি দয়া করে তার কাছে যান। তাকে জিজ্ঞেস করে সব তথ্য জেনে নিন।