দু:খিত, এই সংখ্যায় কোন সংবাদ নেই।

বর্ষ ১৩ সংখ্যা ০৩

বর্ষ ১৩ সংখ্যা ০৩

মাটি-বালি-সুরকির যে বিশাল ঢিবি, কাগজে-কলমে নয়াবাজার মোড়ের সে জায়গাটি ঢাকা সিটি
করপোরেশনের একটি পার্ক -সুদীপ্ত সালাম
মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সবকিছুই এখন পণ্য। আজকে যা হারিয়ে যাচ্ছে কাল তা ফিরে আসছে নতুন করে। হাল আমলে রেডিওর কথাই ধরুন। বছর পাঁচেক আগেও মনে হচ্ছিল রেডিও বুঝি হারিয়ে যেতে বসেছে। কিন্তু সবকিছুকে পাল্টে দিয়ে রেডিও এসে নতুন আঙ্গিকে হাজির হয়েছে মানুষের দোরগোড়ায়। তবে রেডিওর এই আশাজাগানিয়া উত্তরণের সঙ্গে সঙ্গে বিতর্কও চলছে সমানতালে।
একটি প্রশ্ন দিয়েই শুরু হোক। হাল আমলে এফএম রেডিওর তোড়জোড় শুরু হওয়ার আগে কি কেউ ভেবেছিল রেডিও বিনোদনের মাধ্যম হিসাবে টিকবে? সম্ভবত আজকের মতো দৃঢ়তা নিয়ে কেউ ভাবেনি যে টিকবে। কারণ আইপডের এই যুগে কিক করলেই বিনোদনের হাজারো মাধ্যম নক করে। আর রেডিও তো বড়দের মুখের গল্প হয়ে থেকে যাচ্ছিল কদিন আগেও। সারাপাড়া কিংবা গ্রামজুড়ে একটি রেডিও ছিল। রেডিও নামক এই যন্ত্রটি নিয়ে মানুষের মধ্যে বিস্ময়ের শেষ ছিল না। এক সময় এর আকর্ষণ এত বেশি ছিল যে বিয়েতে উপহার হিসাবেও রেডিওর কদর ছিল। তারপর আস্তে আস্তে রেডিও চলে আসে মানুষের হাতের নাগালে। হয়ে ওঠে বিনোদনের অন্যতম সঙ্গী। কিন্তু মানুষের এই কৌতূহল বেশিদিন স্থায়ী হয়নি, বিশেষ করে শহরে। বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কার বিনোদনের ক্ষেত্রে যোগ করে নতুন মাত্রা। টেলিভিশন আর টেপরেকর্ডার দখল করে রেডিওর স্থান। এ মাধ্যমগুলো বেশ কটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দিন যেতে না যেতেই চলে আসে সিডি, ডিভিডি আর হাল আমলে আইপড তো দুনিয়াজুড়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছে। অবশ্যই এসবের হাওয়া গ্রামে লেগেছে শহরের মতো তুফান ওঠেনি। গ্রামে রেডিও ঠিকই তার অবস্থান ধরে রাখে। মুভি প্রমোশন, দরকারি জিনিসের বিজ্ঞাপন, পরিবার পরিকল্পনার অনুষ্ঠান ও জনপ্রিয় গান থেকে যায় শ্রোতাদের মূল আকর্ষণে। (আরও…)

প্রাণীদের মধ্যে ব্যাকটেরিয়ায় প্রথম দেখা যায় তাপহীন আলো বিকিরণের মতা। যদিও প্রাণিজগতে অতিসরল অন্য আরও উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে সবচেয়ে জটিল আলোকযন্ত্রের গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে একটা পারস্পরিক সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়। তবে এ কথা অনস্বীকার্য, জীবজগতের ক্রমবিবর্তনে সরলরৈখিকভাবে আলোকযন্ত্র বিবর্তিত হয়নি। যদিও বিভিন্ন উন্নত জাতের প্রাণীর কাছে তাদের নিজ নিজ দেহ থেকে বিকিরিত আলোয় প্রয়োজনীতার ব্যাপারে বৈজ্ঞানিক মতভেদ আছে। এটা নিশ্চিত যে, গভীর সমুদ্রের বহু প্রাণীর দেহ থেকে নির্গত আলো লণ্ঠনের কাজ করে, যার সাহায্যে তারা খাদ্যবস্তুর সন্ধান পায়। শুধু কি তাই, এই আলো অনেক সময় বিপদ সঙ্কেত হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। অনেক প্রাণীর আলোকগ্রন্থিগুলো বিশেষ ধরনের পেশি এবং স্নায়ুর সমন্বয়ে গঠিত। এসব আলো সৃষ্টির রাসায়নিক প্রক্রিয়া বিভিন্ন হলেও এগুলো কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চলে। প্রত্যেক প্রাণীকেই আলো সৃষ্টির জন্য মুক্ত অক্সিজেনের ওপর বিশেষভাবে নির্ভর করতে হয়। (আরও…)

থাইল্যান্ডের রাজপথে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানের টহলে গত দুমাস ধরে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা ভয় না পেলেও মুহুর্মুহু গুলি চালিয়ে তাদের স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রক্তক্ষয় ঠেকাতে লাল শার্টধারী নেতাকর্মীরা আত্মসমর্পণ করেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। বন্দুকের নলের মুখে, বুটের তলায় পিষ্ট হয়ে বিক্ষোভকারীদের অনেকে প্রাণ দিয়েছেন। অনেকে কৌশল পরিবর্তন করেছেন। নেতাদের আহ্বানে রাজপথ ছেড়ে বেশিরভাগই গ্রামাঞ্চলে ফিরে গেছেন। ছোট্ট একটি অংশ লাল শার্ট মূল গ্রুপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সহিংস বিক্ষোভ প্রদর্শন অব্যাহত রাখলেও থাই সরকারের ব্যাপক সেনা অভিযানের মুখে তাদের পিছপা হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। বিশেষ করে গত ১৯ মে দমন অভিযানে ব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে আন্দোলনরত সরকারবিরোধীদের অবস্থানচ্যুত করা হয়। এতে সরকার পরিতৃপ্ত। রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রক্তের দাগও ধুয়ে ফেলা হয়েছে। বুলডোজার দিয়ে বিক্ষোভকারীদের আস্তানা ও সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী জঞ্জাল পরিষ্কার করা হয়েছে। সামরিক অভিযান চালিয়ে গণআন্দোলনকে আপাতত দমন করেছে থাই সরকার। অবশ্য সরকারের ভাষায় এটি গণআন্দোলন নয়, সরকারকে অস্থিতিশীল করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিই এর লক্ষ্য। সে যাই হোক, বিশ্বের সাধারণ মানুষ দেখতে পেয়েছেন আবালবৃদ্ধবনিতা রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ব্যাংককের রাজপথ দখল করে রেখেছিলেন। এ আন্দোলন দমনের ধরন নিয়েই বিবেকবানের মনে এখন প্রশ্ন উঠছে।
সেনা অভিযান চালিয়ে আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দেওয়ার মধ্যেই কি আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটবে? মনে হয় না। কেননা থাইল্যান্ডে এ আন্দোলন একটি মৌলিক বৈষম্যের কথা তুলে ধরছে। তা হলোÑ পল্লী ও শহুরে জীবনধারার তফাতের কথা, ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধানের কথা, এক ধরনের শ্রেণীবৈষম্যের কথা, জাতির মধ্যে বিভাজনের কথা। লাল শার্ট সমর্থকরা হলো পল্লী এলাকার সুবিধাবঞ্চিত সেই শ্রেণীর প্রতীক। এর বিপরীতে হলো ‘হলুদ শার্ট’ সমর্থকরা। এরা থাইল্যান্ডের সুবিধাভোগকারী শ্রেণী, বর্তমান সরকারের সমর্থক। থাইল্যান্ডে লাল শার্টধারী তথা সুবিধাবঞ্চিতদের আন্দোলন সেনা অভিযানের মুখে আপাতত দমন করা গেলেও তা আসলে আবারও শক্তি সঞ্চয়ের জন্য কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছে। এ কেন্দ্র হলো থাইল্যান্ডের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল। আন্দোলনকারীরা এবার যে ক্ষোভ নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন তা আবারও ঘনীভূত হবে। গ্রাম থেকে শহরে আসা এ ক্ষোভের সঞ্চারণ এখন শহুরে মানুষের মাঝেও দেখা দিতে পারে। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এক শহর থেকে অন্য শহরে দেখা যাবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৪টি রাজ্যে কারফিউ জারি করা হয়। সরকারের দাবি অনুযায়ী পরিস্থিতি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় থাইল্যান্ডের বর্তমান সরকার আবারও রাজনৈতিক সঙ্কটের মুখে পড়তে পারে।
দমন অভিযানের দুদিন পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে থাই প্রধানমন্ত্রী অভিসিত বেজ্জাজিবাও স্বীকার করেছেন, বিক্ষোভপরবর্তী পরিস্থিতি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। অবশ্য তিনি স্বস্তির ঢেঁকুরও তুলেছেন। ভাষণে তিনি বলেন, থাইল্যান্ডের একটি সঙ্কটজনক অধ্যায়ের অবসান হলো। যত দ্রুত সম্ভব আমরা জনজীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনব। থাই প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে একটি উদ্বেগের কথাও উচ্চারিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, জনজীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এর চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের মধ্যে যে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে তা কাটিয়ে ওঠা।
থাই প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্বেগই দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে বলা যায় থাই প্রধানমন্ত্রীর এ রাজনৈতিক বোধোদয়, থাই জনগণকে বিভক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে, থাইল্যান্ডে সম্প্রীতির হাওয়া বইয়ে দিতে পারে। ধনী-গরিব ও এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে পারে। থাইল্যান্ডের পল্লী এলাকার মানুষ কেন শিল্পায়নের দিকে ঝুঁকবে না, কেন দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে নাÑ এসব প্রশ্নের সমাধান হবে।
থাইল্যান্ডের এবারের আন্দোলনের অন্যতম বিশেষত্ব হলো কোনও রাজনৈতিক দলের প্রকাশ্য সমর্থন ছাড়াই সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন। লাল শার্টধারীরা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থক হলেও এবারের আন্দোলনে সিনাওয়াত্রার কোনও ভূমিকা নজরে পড়েনি। তিনি পর্দার অন্তরালেই থেকেছেন। এবারের সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজনৈতিক দলের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা না থাকায় তা চূড়ান্ত রূপ লাভ করেনি বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন।
থাইল্যান্ড এমন একটি দেশ যা যুদ্ধাবস্থা ছাড়া কখনও কোনও দেশের শাসনাধীন ছিল না। ১৭৮২ সাল থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডে পরম রাজতন্ত্র ছিল। ১৯৩২ সালে বিদ্রোহীরা অভ্যুত্থান ঘটায় ও দেশে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। তখন থেকে আজ পর্যন্ত থাইল্যান্ড শাসন করেছে অনেক সামরিক ও বেসামরিক সরকার। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশটি ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত ‘সায়াম’ বা শ্যামদেশ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৩৯ সালে এর নাম রাখা হয় থাইল্যান্ড। ১৯৪০-এর দশকের শেষদিকে একে আবারও শ্যামদেশ বলা হতো। ১৯৪৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো এর নাম থাইল্যান্ড করা হয়। যাই হোক ১৯৮০-এর দশকে থাইল্যান্ডে গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটে। ১৯৯৭ সালের সংবিধানের আওতায় ২০০১ সালের জানুয়ারিতে প্রথম সাধারণ নির্বাচন হয়। পরবর্তী নির্বাচন হয় ২০০৫ সালে। তখন প্রধানমন্ত্রী হন থাকসিন সিনাওয়াত্রা। কিন্তু ২০০৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তাকে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। তারপর সামরিক জান্তা প্রণীত নতুন সংবিধানের আওতায় ২০০৭ সালের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে থাইল্যান্ড আবার গণতান্ত্রিক শাসন প্রক্রিয়ায় ফিরে আসে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর ‘কনস্টিটিউশনাল কোর্ট’-এর এক রুলিংয়ে থাকসিনের মিত্র সমচাং ওনসাওয়াত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রধান অভিসিত বেজ্জাজিবা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। লাল শার্ট গ্রুপ তার পদত্যাগ ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে। সেনাসমর্থক বর্তমান থাই প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনের মুখে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও পরে তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং সরকারবিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন অভিযানে নামেন।
থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক সঙ্কট এর আগেও দেখা দিয়েছে। কিন্তু এবার এটি ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষোভ দমন করতে গিয়ে এটি ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিস্তৃত এলাকায়। এ ক্ষোভ ক্রমাগত দানা বাঁধছে যা দেশটির উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে অন্যবার থাই রাজা ভূমিবল আদুলইয়াদেজ এগিয়ে এলেও এবার তিনি তা করেননি। এ প্রসঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের থাইল্যান্ড বিশেষজ্ঞ চার্লস কিজ বলেন, রাজা ছিলেন রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রতীক, এবারের নীরবতা তার ভাবমূর্তি ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত। বৃদ্ধ রাজার (৮২) নিয়ন্ত্রণ এখন কতটুকু তা ভাবার বিষয়। তাছাড়া রাজার সমর্থক লোকজনই যে এ সরকারে রয়েছে তাও বুঝতে হবে। থাইল্যান্ড বিষয়ক ব্রিটিশ গবেষক ক্রিসপার্কার এ প্রসঙ্গে বলেছেন, রাজার নাম রাজনীতির সঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় আপস-মীমাংসায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার অবসান ঘটেছে।
সর্বশেষ জানা যায়, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে স্টক এক্সচেঞ্জ, মার্কেট, টিভি চ্যানেল ও রেডিও অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা থেমে গেছে। ব্যাংকক শান্ত। তবে কর্তাব্যক্তিদের মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েই গেছে। পরিস্থিতি সামরিক কায়দায় নিয়ন্ত্রণে রাখলেও ইকোনমিক্স ইন্টেলিজেন্ট ইউনিটের বিশ্লেষক ড্যানি রিচার্ডসের কথায় বলতে হয়, থাইল্যান্ডে মারাত্মক দ্বিধাবিভক্তি দেখা দিয়েছে। সেখানে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কার কথা এখনই বলা না গেলেও এটা বলা যায় যে, থাইল্যান্ডে নাগরিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ না করতে পারার ঝুঁকি রয়ে গেছে।
বিদেশি সংবাদ মাধ্যম অবলম্বনে

জাহানারার লেখাপড়া শিখে নার্স হওয়ার স্বপ্নটা অকালেই ভেঙে যায়। কন্যাদায়গ্রস্ত অসচ্ছল পিতা বাধ্য হয়ে সপ্তম শ্রেণীতে পড়াকালীনই বিয়ে দিয়ে দেন কোর্টবিল্ডিংয়ের নকলনবিস হালিমের সঙ্গে। কিশোরী জাহানারা দেখতে আকর্ষণীয় ছিল বলে হালিম নামমাত্র যৌতুকে তাকে ঘরে তুলে নিয়েছিল। ছয় বছরের সংসারে এখন তার তিনটি কন্যাসন্তান। এরই মাঝে এমআরও করেছে একবার। একটি ছেলের আশায় পরপর তিনটি মেয়ে। ছোট মেয়েটি জন্মের সময় মা-শিশু দুজনকেই অনেক ধকল সইতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত শিশুটি প্রাণ নিয়ে জন্মালেও ভুগছে অপুষ্টিতে। বয়স অনুপাতে হাঁটতে ও কথা বলতে পারে না। জাহানারা নিজেও সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারেনি এখনও। তার ওপর এক আশঙ্কা তাড়িয়ে বেড়ায় তাকেÑ কখন আবার গর্ভধারণ করতে হয়। ডাক্তার বলেছেন, তাঁর রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম। আবার মাতৃত্ব হয়তো তাকে ঠেলে দেবে মৃত্যুর মুখে, নয়তো আজীবন পঙ্গুত্বে। শিশু মাতৃমঙ্গল হাসপাতালের ওয়েটিং রুমে বসে ডাক্তার আপার জন্য অপোরত জাহানারা তার মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা এভাবে বর্ণনা করছিলেন। (আরও…)
জনস্বার্থে বাংলাদেশের রাজনীতিকরা কম কথাই বলেন। একেবারে বলেন না তা নয়, তবে লঘু ও আজগুবি বিষয় নিয়ে কথা বলতেই তারা ঢের স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। রাজনৈতিক দলের কর্তাব্যক্তিরা হুট করেই প্রতিপক্ষ সম্পর্কে মন্তব্য করে ফেলেন, যা অনেকক্ষেত্রেই শিষ্টাচারের মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। কথা বলার সময় তাদের কোনও লাগাম থাকে না। প্রয়োজন হয় না তথ্য-উপাত্তের। ক্ষমতার দাপটে অথবা গায়ের জোরে যা ইচ্ছা তাই তারা বলে ফেলেন। রাজনীতির প্রধান পুরুষদের সম্পর্কে করা হয় কুরুচিকর মন্তব্য। এই আচরণ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে প্রবলভাবে লক্ষণীয়।
গত কিছুদিন ধরে একটি মন্তব্যকে নিয়ে রাজনীতির ময়দান বেশ উত্তপ্ত ছিল। আওয়ামী লীগ নেতা ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম কোনও এক স্থলে বলেছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি গুপ্তচর হিসাবে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। অভিযোগটি তিনি গত কয়েক দিনে একাধিকবারই করেছেন। এই অভিযোগের ব্যাপারে বিরোধী দল বিএনপি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আইন প্রতিমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, ‘জিয়া পাকিস্তানের চর ছিলেন, তা প্রমাণ করুন।’ বিএনপির অন্য নেতারাও আইন প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অবশেষে গত ২৩ মে নিজ অবস্থান থেকে সরে এসেছেন আইন প্রতিমন্ত্রী। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় আইন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমান একজন খাঁটি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, এ নিয়ে আমার মনে কোনও সন্দেহ নেই।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে কামরুল ইসলাম মূলত আগের অভিযোগটি থেকে সরে এসেছেন বলেই রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
প্রতিপক্ষকে কথা দিয়ে ঘায়েল করার রাজনীতি বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। অতীতেও বিভিন্ন সময় মরহুম জিয়াউর রহমানকে ঘিরে বিতর্কিত কথাবার্তা হয়েছে। তার কবরে সত্যিকারেই কোনও লাশ আছে কি না এমন সন্দেহও প্রকাশ করা হয়েছে। বিএনপিও কম যায়নি। তারা সরকারে থাকতে পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাস বিকৃত করে বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে খাটো করার চেষ্টা করেছে। মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান নিয়েও বহুবার দলটির নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন।
অন্য জাতীয় নেতারাও এই কুরুচিকর আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাননি। মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্পর্কে একবার মন্তব্য করা হয়েছিল, ‘কোথাকার কোন নজরুল। ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার।’ এভাবে বহুবার জাতীয় নেতাদের আক্রমণের মাধ্যমে ফায়দা লোটার চেষ্টা হয়েছে। অভিযোগকারীরা এটা চিন্তা করে না যে, এসব ভিত্তিহীন কথাবার্তার মাধ্যমে জাতীয় নেতাদেরই শুধু অপমান করা হয় না বরং জাতি হিসাবে আমাদের দীনতাই প্রকাশ পায়। জাতীয় নেতাদের অপমান করা নীচু সাংস্কৃতিক মানসিকতারই পরিচায়ক।
রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ দেশ এবং সামগ্রিক রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর। রাজনৈতিক নেতাদের বলা হয় জাতির মাথা। তাদের কাছ থেকেই তরুণ প্রজন্ম আদর্শের শিক্ষা পায়। তারা যখন পূর্বসূরিদের সম্পর্কে ভিত্তিহীন কথা বলেন সেটা রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। নবীন প্রজন্ম জাতীয় নেতাদের ভূমিকা সম্পর্কে সন্দিহান হয়। ফলে সমগ্র জাতিই রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। রাজনীতির বৃহত্তর স্বার্থে সবার প্রত্যাশা, জাতীয় নেতা ও তাদের অবদান, রাষ্ট্রগঠনের বিভিন্ন ধাপের আন্দোলন-সংগ্রাম সম্পর্কে এসব ভিত্তিহীন মন্তব্য করা বন্ধ হোক।
আইন প্রতিমন্ত্রী অবশেষে তার অবস্থান পরিবর্তন করার জন্য তাকে সাধুবাদ। সবার প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে যেন আর কোনও জাতীয় নেতার ভূমিকা নিয়ে ভিত্তিহীন প্রচারণা না চলে। বিএনপি অবশ্যই সহনশীলতা প্রদর্শনের জন্য ধন্যবাদ ও প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। অতীতে দেখা গেছে, শেখ হাসিনার স্বরচিত কবিতা পাঠের প্রতিবাদে হরতাল করার চেষ্টা করেছিল বিএনপি। এবার অন্তত আইন প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগের প্রতিবাদে এমন সিদ্ধান্ত নেয়নি দলটি। এটাই সহনশীলতার পরিচয়। রাজনীতিতে সহনশীলতাই সবচেয়ে বেশি দরকার।