প্রচ্ছদ

বর্ষ ১২ সংখ্যা ৫১
প্রচ্ছদ- সুদীপ্ত সালাম

বর্ষ ১২ সংখ্যা ৫১
প্রচ্ছদ- সুদীপ্ত সালাম
সহলেখক : জামিউল আলম
গোলাম সোবহানী
বিশ্বসঙ্গে যোগে যেথায় বিহারো/সেইখানে যোগ তোমার সঙ্গে আমারও…। ব্যক্তি ও বিশ্বের সেতুবন্ধের কথা রবীন্দ্রনাথ বারবারই বলেছেন। বেঁচে থাকলে তথ্যপ্রযুক্তির বৈপ্লবিক বিস্তার দেখে তিনি বিস্মিত হতেন। আজ যেকোনও মানুষ ঘরে বসেই একটি ছোট্ট মনিটরের পর্দায় সারা পৃথিবী ঘুরে আসতে পারে। সবই হচ্ছে ইন্টারনেটের কল্যাণে। ভৌগোলিক সীমারেখা পার হওয়া ছাড়াই একের জীবন জুড়ে যাচ্ছে হাজার জনের সঙ্গে। আর ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক নেটওয়ার্কের সাইটগুলো এই সম্পর্ককে একই সঙ্গে সহজতর ও নিবিড় করে তুলেছে। এর ভেতরে ফেসবুক এখন সবচেয়ে সাড়া জাগানো সোশ্যাল নেটওয়ার্ক। কেবল পাশ্চাত্য বিশ্ব জুড়ে নয়, আমাদের দেশেও সাম্প্রতিককালে এর বিস্তার ব্যাপক। ফেসবুক নিয়ে আলোচনা আছে, আছে সমালোচনাও। সম্পর্ক তৈরির পাশাপাশি ভাঙার অভিযোগে হরদম অভিযুক্ত হচ্ছে এই নেটওয়ার্ক। আবার যোগাযোগের জগৎ বিস্তারিত হওয়ার পাশাপাশি এও সত্য যে বিভিন্ন অপরাধ এর মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে। এ নিয়ে চিন্তিত ধর্মগুরুরা, দেশের রাষ্ট্রপ্রধান থেকে পরিবারের বড় কর্তা। এত কিছুর পরও অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলছে ফেসবুক। অনেকের মনোজগৎ এখন ফেসবুকের দখলে। সর্বগ্রাসী হয়ে ওঠা এই সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটটি আজ এক অপ্রতিরোধ্য নেশায় পরিণত হয়েছে। (আরও…)

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন ঘুম নিয়ে।
ঘুম কি মানুষের জীবনে খুবই জরুরি?
না ঘুমিয়ে কি জীবন অতিক্রান্ত করা যায় না?
এমন অনেক বিষয় নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন। যারা ঘুম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন তাদের নাম দেওয়া হয়েছে ঘুমবিজ্ঞানী। বিজ্ঞানীরা ঘুম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে যে জিনিসটির সঙ্গে বিশেষভাবে পরিচিত হয়েছেন তা হলোÑ স্বপ্ন। ঘুমালে স্বপ্ন দেখা দেবেই। ঘুমের মধ্যে স্বপ্নেরা পাখা মেলে উড়ে বেড়ায়। ধরা দেয়। ভাবনার শাখা-প্রশাখাকে প্রসারিত করে। অর্থাৎ ঘুম ছাড়া স্বপ্নেরা নিরর্থক। না ঘুমিয়ে কেউ কখনও স্বপ্ন দেখতে পারে না। জেগে জেগে স্বপ্ন দেখে যারা নিজেদের দিবাস্বপ্নচারী বলে জাহির করেছেন তাদের ব্যাপার অবশ্য আলাদা। (আরও…)
একের পর এক প্রতারণার ঘটনা ফাঁস হচ্ছে আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে পর্যটন শহর রাঙামাটিতে। সম্প্রতি রাঙামাটি শহরের কয়েক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মেলামেশার স্থির ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে রাঙামাটি শহরের অভিভাবকদের মধ্যে। অপকর্মের হোতারা চিত্র ধারণ করেই ান্ত হয়নি, এগুলো মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে বিপাকে পড়ছে প্রতারণার শিকার তরুণীরা এবং তাদের পরিবার। (আরও…)
বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম। মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্তদের জীবন-জীবিকা পড়েছে হুমকির মুখে। সাম্প্রতিক সময়ের বিদ্যুৎ সঙ্কটের প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও। অনিবার্যভাবেই কমে গেছে উৎপাদন। কাজ হারাচ্ছে শ্রমিক। ক্ষুদ্র শিল্প মালিকরা পড়ছেন লোকসানের কবলে। অন্যদিকে বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ না পেয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনধারা আর স্বাভাবিক থাকছে না। যখন-তখন লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের মেজাজ বিগড়ে যাচ্ছে। প্রভাব পড়ছে সামাজিক কাঠামোয়ও। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গে সামাজিক সমস্যা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। কোনও ঘটনা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেললে তা সামাজিক কাঠামোয়ও প্রভাব ফেলে। (আরও…)

‘ঠিক আছে। কিন্তু তুমি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবে কীভাবে?’
‘তুমি শুধু আমাকে জানাবে ট্যাম্পায় কখন আসছ। বাকিটা আমার ওপর ছেড়ে দাও।’
হঠাৎ করেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলো প্রশান্ত। (আরও…)
ষোড়শ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াবে
শা মু বিল্লাহ
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এখন আর নামকাওয়াস্তে কোনও সংস্থা নয়। এটি বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। সদস্য সংখ্যা আট। পরমাণু শক্তিধর কয়েকটি দেশ এর পর্যবেক্ষক। আরও দেশ পর্যবেক্ষকের মর্যাদা পাওয়ার অপেক্ষায়। একে অন্যের বিরোধপূর্ণ বিষয়ে নাক না গলানো সার্কের বৈশিষ্ট্য। স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় এ সংস্থাটির কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও আঞ্চলিক সম্প্রীতি ও সাধারণ স্বার্থ টিকিয়ে রাখতে এর গুরুত্ব আন্তর্জাতিক পরিম-লে আজ স্বীকৃত। এ সংস্থাকে ভর করে উন্নত বিশ্বের বেশকিছু দেশ মুক্ত অর্থনীতির এ দুনিয়ায় উন্নয়নমুখী জনহিতৈষী সহযোগিতামূলক উদ্যোগও গ্রহণ করছে। তাই সার্ক আঞ্চলিকতার সীমা পেরিয়ে ক্রমশ আন্তর্জাতিক রূপ পাচ্ছে।
সার্কের সর্বশেষ সদস্য আফগানিস্তান। অন্য সদস্যরা হলো বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। সার্ক পর্যবেক্ষকের তালিকায় রয়েছে চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইরান, মরিশাস, অস্ট্রেলিয়া ও মিয়ানমার। ইন্দোনেশিয়া ও রাশিয়া সার্কের পর্যবেক্ষকের আবেদন করে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে। শিল্পোন্নত ও শক্তিধর দেশের সার্ক পর্যবেক্ষক হওয়ার আগ্রহ এটাই প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়তির দিকে। গত কয়েক বছর ধরে সার্ক পর্যবেক্ষকদের বিদ্যুৎ ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে দেওয়া উন্নয়ন প্রস্তাবগুলোও সার্ককে দিন দিন শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা বাংলাদেশ। অবশ্য সার্ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রথম সম্মেলন হয় ১৯৮১ সালে কলম্বোতে। তবে ১৯৮৫ সালের ৭-৮ ডিসেম্বর ঢাকায় এর প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে শীর্ষ সম্মেলন।
আঞ্চলিক এ সংস্থাটির বয়স ২৫ বছর হয়ে গেলেও সময় অনুযায়ী এর কর্মকা-ের প্রভাব অবশ্য সার্কভুক্ত দেশগুলোতে ততটা লক্ষণীয় নয়। তারপরও আঞ্চলিক প্লাটফরম হিসাবে সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্থাটির গুরুত্বকে খাটো করে দেখা যায় না। খেলাধুলা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে সংস্থাটি কাজ করছে। সার্ক সচিবালয় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে। সার্কের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন, জৈবপ্রযুক্তি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, জ্বালানি, পরিবেশ, তহবিল সংগ্রহ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, তথ্য যোগাযোগ ও গণমাধ্যম, জনসংযোগ, দারিদ্র্য দূরীকরণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা। সহযোগিতার ক্ষেত্র বিশ্লেষণে সার্কের পরিধি ব্যাপক। সবকটি সদস্য দেশের মতৈক্যের ভিত্তিতে সার্কের কর্মকা- চলছে। এ সার্কের অগ্রযাত্রায় নতুন পালক এবারের সার্ক শীর্ষ সম্মেলন। এটি ষোড়শ শীর্ষ সম্মেলন। ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে সমবেত হন সদস্য রাষ্ট্রসহ সব পর্যবেক্ষকদের প্রতিনিধিরা।
এবারের শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয় পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু সুরক্ষা। সার্কভুক্ত প্রতিটি দেশই ইতিমধ্যে পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবেলা ও জলবায়ু রক্ষায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ষোড়শ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে পরিবেশ সুরক্ষার বাইরে দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা, দক্ষিণ এশীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও যোগাযোগ নিয়ে সিদ্ধান্তমূলক আলোচনা হয়। সার্ক প্রতিনিধিরা সাফটায় সেবা বাণিজ্য, পরিবেশ সহযোগিতা সার্ক সনদ শীর্ষক চুক্তি চূড়ান্ত করেন। তবে পাকিস্তানের আপত্তির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। দুর্যোগকবলিত দেশের সম্মতিতে অন্য সদস্য রাষ্ট্র সে দেশে সৈন্য পাঠাতে পারবেÑ এমন একটি বিষয়ে পাকিস্তান আপত্তি জানিয়েছে। ইতিমধ্যেই থিম্পুতে কর্মকর্তাদের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ ও ২৬ এপ্রিল সার্ক স্ট্যান্ডিং কমিটির (সচিব পর্যায়ের) ৩৭তম সভা ও ২৭ এপ্রিল কাউন্সিল অব মিনিস্টারের ৩২তম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের সার্ক শীর্ষ সম্মেলন মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মালদ্বীপের অপারগতার কারণে থিম্পুতে শীর্ষ সম্মেলন হয়। ভুটানে এবারই প্রথম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভুটান জানান দিয়েছে তারা বদলে গেছে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী জিগমে ওয়াই থিনলে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন সম্পর্কে বলেছেন, এ আয়োজন ভুটানের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করবে। সার্কের নিয়ম অনুযায়ী আরও তিনবার ভুটানের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সুযোগ এসেছিল। কিন্তু অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ভুটান সম্মেলনের আয়োজন করেনি।
সার্ক শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে পাহাড়ি জনপদ ভুটান নতুন সাজে সজ্জিত হয়। বিশেষ করে রাজধানী থিম্পু উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। সার্ক নেতাদের থাকার জন্য পাহাড়ের পাদদেশে সার্ক পল্লী গড়ে তোলা হয়। এতে প্রতিটি দেশের শীর্ষ নেতার থাকার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন বাংলোটাইপ বাড়ির ব্যবস্থা করা হয়। সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশের প্রায় ৫শ প্রতিনিধি যোগ দেন। সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের খবর কভার করার জন্য থিম্পুতে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদেরও ভিড় জমে। সার্ক নেতারা ধারণা করছেন এ সম্মেলন পরিবেশ, শিল্প ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দ্বার
খুলে দেবে।
বিদেশি সংবাদ মাধ্যম অবলম্বনে

একের পর এক ভরাট হচ্ছে ঢাকার পুকুর ও খাল। কমে আসছে জলাশয়ের সংখ্যা। সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে পুকুর-খাল ভরাট করায় জীববৈচিত্র্যে ব্যাঘাত ঘটছে। সেই সঙ্গে দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা।
মৎস্য অধিদপ্তরের এক তথ্যে জানা যায়, ঢাকা মহানগরের পরিসংখ্যান অনুসারে ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে ঢাকায় পুকুরের সংখ্যা ছিল ২ হাজার এবং ১৯৮৮ ও ১৯৮৯ সালের দিকে কমে তা ১ হাজার ২শতে নেমে আসে। তিন বছর আগে মৎস্য ভবন থেকে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে তা ২শতে নেমে এসেছে। মৎস্য ভবনে কর্মরত জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ঢাকা শহরের পুকুরগুলো আমাদের আয়ত্তের মধ্যে না হলেও আমরা একটি সার্ভে করেছিলাম, যেখানে ২শর অধিক পুকুর পাওয়া যায়নি। তবে বর্তমানে অনেক পুকুর ভরাট করায় এই সংখ্যা আরও কমে এসেছে। (আরও…)