প্রচ্ছদ

বর্ষ ১২ সংখ্যা ৩৮

বর্ষ ১২ সংখ্যা ৩৮

ছাত্ররাজনীতি সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আবার অশান্ত হয়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ছাত্রলীগ চ-ভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরও একই রূপে আত্মপ্রকাশ করেছিল। (আরও…)
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে শিবিরের শ্বশুরবাড়ি রাজনীতির সংস্কৃতি। চট্টগ্রামের বাইরের অঞ্চল থেকে এখানে যারা পড়তে আসেন মূলত তারাই নিরাপদ আশ্রয়ের পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবে শক্ত ঘাঁটি গাড়ার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় শ্বশুরবাড়ি করছেন। (আরও…)
নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পার হয়েছে। এই এক বছরে সরকারের যেমন বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা রয়েছে তেমনি ব্যর্থতার নিদর্শনও রয়েছে। ব্যর্থতার কথা বলার আগে সরকারের সফলতার দিকে একটু দৃষ্টি ফেরানো যেতে পারে। সরকারের সফলতার মধ্যে অন্যতম একটি নিদর্শন হলো সরকারি চাকরিজীবীদের মুখে হাসি ফোটানো। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন পে-স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন রাখা হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ বেতন পেয়ে থাকেন। সচিবদের চেয়েও কম বেতন পাচ্ছিলেন সংসদ সদস্যরা। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও প্রজাতন্ত্রের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সাংসদদের বেতনভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সাংসদরা ৩৪ হাজার ২শ টাকা বেতনভাতা পান। সব সুযোগ-সুবিধা মিলিয়ে এর পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ৫৭ হাজার ৭শ ৭৭ টাকায়। সাংসদদের পাশাপাশি স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতাসহ সবার সম্মানী বাড়ানো হবে। গত সপ্তাহে এ নিয়ে স্পিকারের একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে একজন সাংসদের জন্য সব মিলিয়ে ১ লাখ ৪ হাজার টাকা সম্মানীর সুপারিশ করা হয়েছে। স্পিকারের পাঠানো প্রস্তাবে একজন সাংসদের মাসিক ভাতা ৫০ হাজার ও পরিবহন খরচ ৪০ হাজার টাকা এবং নির্বাচনী এলাকার ভাতা, টেলিফোন বিল, চিকিৎসাভাতা, ক্রোকারিজ ও লন্ড্রি বিল ১৪ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। অবশ্য এর বাইরে সাংসদরা তাদের জন্য নির্ধারিত অন্যান্য ভাতাও পাবেন। স্পিকারের পাঠানো প্রস্তাব অনুমোদন পেলে সাংসদদের বেতনভাতা বাবদ বছরে সরকারের ১৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে।
অবশ্য এর আগেই রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বেতনভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে সাংবিধানিক পদে কর্মরতদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবসহ একসঙ্গে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এখন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতা, বিরোধী দলের নেতা ও সাংসদদের বেতনভাতা বাড়ানোসহ এ সংক্রান্ত সব প্রস্তাব একসঙ্গে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।
দেশ পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-সাংসদদের বেতন বাড়তেই পারে। তা নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই। শুধু এটুকু বলা যেতে পারে সাংসদরা যাদের প্রতিনিধি হয়ে সংসদে গিয়েছেন বা যাদের ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন তাদের জন্য তারা কতটা কী করতে পারছেন বা করার চেষ্টা করছেন। যাদের নির্বাচিত করে সংসদে পাঠানো হয়েছে তাদের অনেকেই সংসদে আসেন না। নানা অজুহাতে শুরু থেকেই বিরোধী দল সংসদ বর্জন করে আসছে। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের সাংসদের অনেকেই নিয়মিত সংসদ অধিবেশনে হাজির হন না। অথচ বেতনভাতা বা সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারি এবং বিরোধী দলের সাংসদ সবারই একমত।
আরেকটি বিষয় হলো সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রী ও সাংসদদের শুল্কমুক্ত গাড়ি কেনার জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাংসদদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করার সুযোগ দেওয়ার ফলে সরকারের ৪শ কোটি টাকা রাজস্ব হারাতে হবে। নতুন সিদ্ধান্তে সাংসদরা সর্বোচ্চ ১৮শ সিসির কার কিংবা ৩ হাজার সিসির জিপ অথবা ২ হাজার সিসির মাইক্রোবাস শুল্কমুক্ত কোটায় আমদানি করতে পারবেন। বিএমডব্লিউ, মার্সেডিজ, হ্যামার, পোরশের মতো অতি দামি গাড়ি এ কোটায় আমদানি করা যাবে না। আর দাম নির্ধারণ করা না গেলেও দামের সীমা সম্পর্কে একটি নির্দেশনা দেওয়া হবে। এছাড়া শুল্কমুক্ত কোটায় আনা এসব গাড়ি ৮ বছরের আগে বিক্রি করা যাবে না। সাংসদরা নিজের টাকায় গাড়ি আনলেও এবারই প্রথম তারা চালক, তেল ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসে ৪০ হাজার করে টাকা পাবেন। যত দিন সদস্যপদ থাকবে তত দিন তারা এ ভাতা পাবেন।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাংসদদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করার বিধানটি বাতিল করেছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে প্রথমে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে সরকারি তহবিল থেকে সাংসদদের গাড়ি কিনে দেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্ত বদলে আগেরটিই বহাল রাখা হয়েছে। সিদ্ধান্ত যদি আগেরটিই বহাল থাকে তাহলে শুধু শুধু এই একটি বছর অপেক্ষা করা কেন? অতীত ইতিহাসে সাংসদরা শুল্কমুক্ত দামি গাড়ি আমদানি করে তা অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন এমন ঘটনাও ঘটেছে, যা একেবারেই অনভিপ্রেত।
এদিকে মাননীয় স্পিকার মহোদয় আরও একটি তথ্য দিয়েছেন। অনেক সাংসদ নাকি অসচ্ছল রয়েছেন, যাদের গাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই। তারা প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে হলেও গাড়ি আমদানি করতে পারবেন। পরে মাসে মাসে কিস্তি দিয়ে টাকা শোধ করার কথা বলা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো যে সাংসদেরা প্রায় সবাই কোটি টাকারও বেশি খরচ করে নির্বাচিত হয়েছেন তারা অসচ্ছল হন কীভাবে?
মন্ত্রী-সাংসদদের মনে রাখতে হবে তারা বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ যেসব সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন বা নিচ্ছেন এর পেছনে মূল ভূমিকায় রয়েছেন এই দেশের সাধারণ মানুষ। তাদের অনেকে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে থাকে। তাদের কষ্টে উপার্জিত টাকা থেকেই মন্ত্রী-সাংসদদের এ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়। অতএব তাদের কথা ভুলে গেলে চলবে না।
আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগরী শাখার শেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০২ সালের জুন মাসে। এই কমিটির অনেক সদস্যই এখন বিবাহিত, সন্তানের বাবা এবং বয়স ৩০-এর ওপরে। ২০০৫ সালে ছাত্রলীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হওয়ার আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২৯ বছরের বেশি এবং অছাত্র, বিবাহিত কেউ ছাত্রলীগের সদস্য হতে পারবে না। (আরও…)
উনি আমার বাপের বয়সী। ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সম্পর্কে এ মূল্যায়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রদল কর্মীর। ১৯৮৬ সালে এসএসসি, ১৯৯২ সালে অনার্স এবং ১৯৯৪ সালে মাস্টার্স শেষ করা টুকু সংসদ নির্বাচনেও অংশ নিয়েছেন। বিয়ে করেছেন। সন্তানের জনক হয়েছেন। তবু তার ছাত্ররাজনীতি শেষ হয়নি। (আরও…)

মহাজোট সরকার মতায় আসার পর গত এক বছরে দফায় দফায় সংঘর্ষ, মারামারি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উত্তপ্ত ছিল চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠান। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও শিবির-ছাত্রলীগ আবার কখনও ছাত্রলীগের দুগ্র“পকে পরস্পর রক্তয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। (আরও…)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি হলের মধ্যে ১৫টিতেই গেস্টরুম বৈঠক, মিছিল ও ফ্রি খাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছাত্ররাজনীতি।
মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ছাত্রদের তিনটি গ্রুপ থাকলেও বর্তমানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ সক্রিয়। (আরও…)