মধ্যবিত্তের স্বপ্নের ঠিকানা আপেল মাহমুদ
সোয়া কোটি মানুষের জটসহ বহু সমস্যার ভারে বিপর্যস্ত ঢাকা নগরী। এর মধ্যে মধ্যবিত্তের বাসস্থান সঙ্কটই সবচেয়ে বেশি। জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসস্থানের চাহিদাও দিন দিন প্রকট হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুসারে ঢাকায় বসবাসকারী যে সব পরিবারের মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকার কম তাদের মধ্যবিত্ত হিসাবে বিবেচনা করা হয়। মধ্যবিত্তের এই আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে অ্যাপার্টমেন্ট সরবরাহ করতে হলে আমাদের প্রচলিত ফ্যাটগুলোর নির্মাণ খরচ কমাতে হবে। কারণ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০০৮ অনুযায়ী বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ৪১ হাজার ১শ ৩ টাকা এবং মাথাপিছু দেশজ উৎপাদন ৩৮ হাজার ৫৬ টাকা। তাই জনগণ তাদের বাসস্থানের জন্য খুব কম সঞ্চয় করতে পারে অথবা কিছুই পারে না। সে জন্য মধ্যবিত্তের আয় সীমার মধ্যে রাখতে হলে ফ্যাটের আকারও ছোট করতে হবে। অর্থাৎ মধ্যবিত্তের ফ্যাট হতে হবে অবশ্যই ৮০০ থেকে ১ হাজার বর্গফুটের মধ্যে। ফ্যাটগুলো শুধু ঢাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, এটি ছড়িয়ে দিতে হবে এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বলেছেন যে, সরকার ঢাকা শহরের আবাসন সমস্যা সমাধানে ঢাকার চারপাশে চারটি স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে আর কেউ প্লট পাবে না, পাবে ফ্যাট। বহুতল ভবন নির্মাণের নীতিমালার মাধ্যমে প্রতিটি স্যাটেলাইট শহরে ১ লাখ করে ফ্যাট নির্মাণ করা হবে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য। বিদ্যুৎ সমস্যায় এ সব শহরের বাসিন্দাদের যাতে নাকাল হতে না হয় সে জন্য নির্মিতব্য ভবনগুলোতে সোলার প্যানেল ও উইন্ড পাওয়ারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা রাখা হবে। এ ছাড়াও রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে দেশের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে খাসজমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে এনে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে আবাসন গড়ে তোলা হবে। নগরজীবনকে টেকসই করতে গ্রিন আরবানাইজেশন পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেবে সরকার। সরকারের এ সব উদ্যোগ-পরিকল্পনার ফলে দেশের আবাসন চাহিদার শতকরা কত অংশ পূরণ হবে তা জানা না গেলেও আগামীতে ঢাকায় বহু নতুন ফ্যাট, ভবন ও নানারকম নাগরিক স্থাপনা গড়ে উঠবে এতে সন্দেহ নেই।
বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয়হীন মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন কোটি। আর প্রায় ১৫ কোটি মানুষের এ দেশে ১০ কোটি মানুষই রয়েছে আবাসন সঙ্কটে। বাংলাদেশের নগর এলাকাগুলোতে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রায় ২ কোটি নতুন গৃহায়ণ বা আবাসিক ইউনিটের প্রয়োজন। এই বিশাল চাহিদার জোগান দিতে গেলে প্রতি বছর অন্তত ১ মিলিয়ন বা ১০ লাখ ইউনিট নির্মাণ করা প্রয়োজন।
ঢাকা শহরের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের নিজস্ব বাড়ি নেই। বাড়িওয়ালা আছে ৩ লাখ, ভাড়াটিয়ার সংখ্যা ৬৫ লাখ। যাদের বাড়ি আছে তাদের বেশিরভাগই উচ্চবিত্ত শ্রেণীর। মধ্যবিত্ত মানুষের আবাসন সমস্যা মোকাবেলায় রাজধানীতে বিগত এক দশকে আবাসন শিল্পের উত্থান চোখে পড়ার মতো। এই শিল্পের সম্ভাবনা বুঝে এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে অনেক দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী। এর মূল ক্রেতা হবে মধ্যবিত্ত শ্রেণী। বর্তমানে সরকার অংশীদারিত্বের উদ্যোগে আবাসন খাতে বিনিয়োগের যে পরিকল্পনা নিয়েছে তারও সুবিধাভোগী হবে মূলত মধ্যবিত্ত শ্রেণী। অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তিনটি বিভাগীয় শহরে ৫ হাজারের বেশি ফ্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় সোয়া লাখ ফ্যাট নির্মাণে এগিয়ে এসেছে একটি সুইডিশ গৃহনির্মাণ কোম্পানি। সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে তারা আবাসন খাতে ১০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে আগ্রহী। তারা বাজারদরের চেয়ে সস্তায় অথচ দীর্ঘস্থায়ী ও মানসম্মত ফ্যাট করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
মধ্যবিত্তদের নিয়ে রাজউকের ভাবনা
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জন্য এক লাখ ফ্যাট তৈরি করবে। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প, উত্তরা আবাসিক মডেল টাউন তৃতীয় প্রকল্প এবং সাভার ও গাজীপুরে এ ফ্যাট তৈরি করা হবে। রাজউক সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ এবং গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত পূর্বাচল আবাসিক এলাকায় বিভিন্ন আয়তনের প্লট ও ফ্যাটে প্রায় ১০ লাখ লোক বসবাস করতে পারবে। এ প্রকল্পে ইতিমধ্যে বিভিন্ন আয়তনের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পূর্বাচল প্রকল্পে ৬২ হাজার আবাসিক ফ্যাট তৈরির জন্য জমি সংরক্ষণ করা আছে। উত্তরা আবাসিক এলাকার পশ্চিমে ঢাকা মহানগরীর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ পর্যন্ত বিস্তৃত উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পেও প্লট বরাদ্দের পাশাপাশি মধ্যবিত্তদের জন্য ২২ হাজার ফ্যাট তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে রাজউক। পূর্বাচল এবং উত্তরা তৃতীয় পর্বের প্রকল্প দুটো যথাক্রমে ২০১৫ এবং ২০১২ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এদিকে সাভারে প্রস্তাবিত নতুন স্যাটেলাইট শহরেও প্লট এবং অন্য সুবিধার পাশাপাশি ১০ হাজার আবাসিক ফ্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে রাজউকের। এ প্রকল্পটিও ২০১৫ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এ তিনটি প্রকল্পে মোট ৯৪ হাজার ফ্যাট পর্যায়ক্রমে তৈরি করে রাজউক নগরীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে বিক্রি করবে। এ ছাড়া কেরানীগঞ্জের বাস্তবায়নাধীন ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য ফ্যাট নির্মাণের জায়গা রাখা হয়েছে বলে রাজউক সূত্র জানায়। হাতিরঝিল প্রকল্পে যে ৩৯টি পরিবারের স্ট্রাকচারসহ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্যও একটি ফ্যাট নির্মাণ করে বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে রাজউক অফিস জানায়।
মধ্যবিত্তের পাশে রিহ্যাব
এ দেশে মধ্যবিত্ত আর উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে প্রথম অ্যাপার্টমেন্টের স্বপ্ন দেখায় ইস্টার্ন হাউজিং। ১৯৭৮ সালে সিদ্ধেশ্বরীতে অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টের মাধ্যমে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের আত্মপ্রকাশ। শুরুর দিকে মধ্যবিত্তের আগ্রহ ছিল না অ্যাপার্টমেন্টের প্রতি। অ্যাপার্টমেন্ট ছিল স্ট্যাটাস উচ্চবিত্তের বিষয়। ক্রমে এ ধারণা বদলাতে থাকে। নির্মাতারা বুঝতে শুরু করেন, যেকোনও ব্যবসাকে মধ্যবিত্তের চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে না পারলে হবে না। মধ্যবিত্তের রুচি আর চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দেন নির্মাতারা। নব্বইয়ের দশকে অ্যাপার্টমেন্ট চলে আসে মধ্যবিত্তের একেবারেই হাতের নাগালে। এ সময় অ্যাপার্টমেন্ট বাজারের ব্যাপ্তিও যায় বেড়ে। বাড়তে থাকে প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতা। ১৯৯১ সালে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে গড়ে ওঠা রিহ্যাবের সদস্য সংখ্যা ছিল ১১, যা বর্তমানে বেড়ে ৬শতে দাঁড়িয়েছে।
নির্মাণ সামগ্রীর উচ্চমূল্য ও জমির দামের ঊর্ধ্বগতির ফলে ফ্যাটের দাম কিছুটা বাড়লেও নির্মাতারা ফ্যাট এখনও মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে রেখেছেন। মধ্যবিত্তের কথা চিন্তা করে গত দুই বছর আগে ঢাকার বাইরে অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ শুরু করে দিয়েছেন। কারণ ঢাকার মধ্যে জমির মূল্য দুই থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মধ্যবিত্তের ফ্যাট ক্রয় একটু কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।
গত ১৯৭৫, ২০০০ এবং ২০০৭ সালের জমির মূল্য তুলনা করলেই বোঝা যায় জমির মূল্য কী হারে বাড়ছে (এখানে ৬৭ বর্গমিটার = ১ কাঠা)।
মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আয় যেহেতু সীমিত, তাদের জন্য শহরের অভ্যন্তরে বাসস্থানের ব্যবস্থা করা বর্তমান প্রোপটে অত্যন্ত কঠিন। তাই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাপেে শহর থেকে দূরে যেখানে জমির দাম কম সেখানে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি ছোট শহর তৈরি করে দিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব। দ্রুতগামী যানবাহন থাকলে শুধু প্রয়োজনের তাগিদে এই ছোট শহর থেকে অধিবাসীরা অল্প সময়ের জন্য মূল শহরে আসবে। এভাবে উন্নয়নকে ছড়িয়ে দিতে পারলে ঢাকার নানাবিধ নাগরিক সমস্যার অবসান ঘটবে।
উন্নত বিশ্বের শহরগুলোতে ১০০-১৫০ কি.মি. দূর থেকে অধিবাসীরা অতি সহজে তাদের কর্মেেত্র আসতে পারছে। এতে তাদের শহরগুলোতে জনসংখ্যার ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। অথচ ঢাকা শহরে ৩০-৪০ কিমি দূর থেকে যারা আসেন তারা উপলব্ধি করতে পারেন কী অসহনীয় পরিশ্রম তাদের করতে হয়। আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকলে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও জনসাধারণ নিয়মিত কর্মেেত্র আসতে পারবে। আর তখন ওই সব জেলা শহরে অতি সহজে মধ্যবিত্তের জন্য ফ্যাট সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
ঢাকা শহরে ডেভেলপাররা মধ্যবিত্তের স্বপ্ন পূরণে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। বর্তমানে আর্থ-সামাজিক কারণে কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। মধ্যবিত্তরা এখন স্কোয়ার ফ্যাটের মধ্যে নিজের ঠিকানা খোঁজে। মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের কাছে লোকেশন, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জমির স্বল্পতা, উচ্চমূল্য, প্রশাসনিক জটিলতা, ইউটিলিটি সার্ভিসের অপর্যাপ্ততা, নিরাপত্তাহীনতা ইত্যাদি মধ্যবিত্তকে একক বাড়ির ভুল স্বপ্ন, ভুল ঠিকানার দিকে যেতে নিষেধ করে। পরামর্শ দেয় ফ্যাট বাড়ির। কারণ সবকিছুর পর আমরা বসবাসের নিরাপত্তাটুকুই খুঁজি।
অনেকে মনে করে আমার আয় কম ফ্যাট কেনার কোনও সামর্থ্য আমার নেই। মাস শেষে যে কয়টা টাকা পাই তার খুব সামান্য অবশিষ্ট থাকে যা দিয়ে ফ্যাট কেনা সম্ভব নয়। আপনার চিন্তাভাবনা যদি এমন নেতিবাচক হয় তাহলে তারও সমাধান আছে ডেভেলপারদের কাছে। আগে একটা সময় ছিল যখন মানুষ হাউস বিল্ডিং অফিসে ফ্যাটের জন্য সহজশর্তে ঋণের জন্য ঘুরে হয়রান হতো। ঋণ স্বল্পতা, দুর্নীতিসহ নানা জটিলতার কারণে গৃহঋণ না পেয়ে ফ্যাট কেনার চিন্তাভাবনা বাদ দিত। কিন্তু বর্তমানে এ ধরনের জটিলতার নিরসন হয়েছে, উন্মোচিত হয়েছে লোন প্রাপ্তির নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার। সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এখন বিভিন্ন ব্যাংক ও বেসরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, রিয়েল এস্টেট ফিন্যান্স, ডিবিএইচ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ বেশকিছু ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এখন সহজশর্তে ঋণ প্রদান করছে। এতে ফ্যাট কেনার বিষয়টি এখন আরও সহজ ও শর্তহীন হয়েছে।
অনেকের ধারণা, অ্যাপার্টমেন্ট উচ্চবিত্তের বিষয়। কারণ একসঙ্গে ৪০ থেকে ৬০ লাখ টাকা না দিলে ফ্যাটের মালিক হওয়া যায় না। আসলে তা নয়। আয়তন আর এলাকার ওপর নির্ভর করবে মূল্যসীমার বিষয়টি। একসঙ্গে আপনাকে এত টাকা দিতে হবে না। প্রাথমিকভাবে কিছু টাকা দিয়েই একটি ফ্যাটের মালিক হওয়া সম্ভব। বেসরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে আপনি পাবেন সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ঋণ সুবিধা, যেটি আপনাকে ১৫ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। বাকি যে ৩০ শতাংশ থাকল সেটিও একেবারে দিতে হবে না। সামান্য কিছু টাকা প্রথমে ডাউন পেমেন্ট দিলেই হয়। অ্যাপার্টমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় সব এলাকায় প্রজেক্ট রয়েছে। নিচে এলাকা ভিত্তিতে দাম প্রকাশ করা হলো। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে দাম কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।
ধানমন্ডিতে রয়েছে নাভানা রিয়েল এস্টেট, ডম ইনো, শেল্টেক্, র্যাংগস, আরবান ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, আমিন মোহাম্মদ হাউজিং সোসাইটিসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ডেভেলপারদের প্রজেক্ট। এগুলোর দাম প্রতি স্কোয়ার ফুট ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। মোহাম্মদপুরে চলছে বেশকিছু প্রজেক্টের কাজ, যেগুলো ৬ থেকে ১৫তলা পর্যন্ত। এখানে প্রতি স্কোয়ার ফুটের দাম পড়বে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা।
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মিরপুর। তবে এখানে ফ্যাটের দাম তুলনামূলক কম। মিরপুরে প্রতি স্কোয়ার ফুটের দাম ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। মিরপুরের পাশে পল্লবীতেও নতুন প্রজেক্টের কাজ চলছে। রাজধানীর অন্যতম আবাসিক এলাকা ইস্কাটন। এখানকার ফ্যাটগুলো বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ১৫ হাজার টাকা স্কোয়ার ফুটে। বর্তমানে আবাসিক এলাকার মধ্যে উত্তরা উত্তম হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। এখানে প্রতি বর্গফুট ফ্যাটের দাম পড়বে ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে। বনানীতে বর্তমানে বেশকিছু ডেভেলপারের কাজ চলছে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ নগর হোমস লিমিটেড, শেল্টেক্, নাভানা রিয়েল এস্টেট, গ্রিন ডেল্টা হাউজিং, মেট্রো হোমস ইত্যাদি। এখানকার ফ্যাটগুলোর দাম ৬ থেকে ৯ হাজার টাকা প্রতি স্কোয়ার। গুলশানে দাম পড়বে ৬ হাজার ৫শ থেকে ১৫ হাজার টাকা প্রতি স্কোয়ার ফুট। নগরীর নতুন আবাসস্থল হিসাবে পরিচিত বারিধারা। এই এলাকার ফ্যাটগুলোর প্রতি স্কোয়ার ফুটের দাম ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। হাতিরপুল এবং গ্রিন রোডে বেশকিছু নতুন ফ্যাটের কাজ চলছে। এ সব ফ্যাটের স্কোয়ার ফুটের দাম ৭ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর গ্রিন রোডে প্রতি স্কোয়ার ফুটের দাম ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা, সিদ্ধেশ্বরীর ফ্যাটে প্রতি স্কোয়ার ফুটের দাম ৯ থেকে ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চলছে বিভিন্ন কোম্পানির নতুন নতুন প্রজেক্ট। এ সব প্রজেক্টে এলাকাভিত্তিক দাম নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। তবে আলোচনা সাপেক্ষে দাম কমতে পারে।
ঢাকায় জমির বাজার দর
এলাকা ১৯৭৫ ২০০০ ২০০৭
টাকা/কাঠা টাকা/বর্গ মি. টাকা/কাঠা টাকা/বর্গ মি. টাকা/কাঠা টাকা/বর্গ মি.
বারিধারা ২৫,০০০ ৩৭৩ ২৫,০০,০০০ ৩৭,৩৬১ ৯০,০০,০০০ ১৩৪,৩২৮
গুলশান ২৫,০০০ ৩৭৫ ২২,০০,০০০ ৩২,৮৭৭ ৮০,০০,০০০ ১১৯,৪০৩
বনানী ২৫,০০০ ৩৭৫ ২০,০০,০০০ ২৯,৮৮৮ ৮০,০০,০০০ ১১৯,৪০৩
মহাখালী ২৫,০০০ ৩৭৫ ১৮,০০,০০০ ২৬,৯০০ ৮০,০০,০০০ ১১৯,৪০৩
ধানমন্ডি ২৫,০০০ ৩৭৫ ২২,০০,০০০ ৩২,৮৭৭ ৯৫,০০,০০০ ১৪১,৭৯১
আজিমপুর ১৭,৫০০ ২৬১ ১৬,০০,০০০ ২৩,৯১১ ৩৫,০০,০০০ ৫২,২৩৯
মোহাম্মদপুর ২৫,০০০ ৩৭৫ ১২,০০,০০০ ১৭,৯৩৩ ৪০,০০,০০০ ৫৯,৭০১
শান্তিনগর ২০,০০০ ৩০০ ১৫,০০,০০০ ২২,৪১৭ ৬০,০০,০০০ ৮৯,৫৫২
ডিওএইচএস ২০,০০০ ৩০০ ১৬,০০,০০০ ২৩,৯১১ ৬০,০০,০০০ ৮৯,৫৫২
শ্যামলী ১৭,৫০০ ২৬৫ ১০,০০,০০০ ১৪,৯৪৪ ৩০,০০,০০০ ৪৪,৭৭৬
উত্তরা ২০,০০০ ৩০০ ১০,০০,০০০ ১৪,৯৪৪ ৩৫,০০,০০০ ৫২,২৩৮
ক্যান্টনমেন্ট ২০,০০০ ৩০০ ১০,০০,০০০ ১৪,৯৪৪ ৩০,০০,০০০ ৪৪,৭৭৬
কমলাপুর ১৭,৫০০ ২৬৫ ৮,০০,০০০ ১১,৯৫৬ ২৫,০০,০০০ ৩৭,৩১৩
গে-ারিয়া ১০,০০০ ১৫০ ৭,০০,০০০ ১০,৪৬১ ২০,০০,০০০ ২৯,৮৫০
বাসাবো ২,০০০ ৩০ ৮,০০,০০০ ১১,৯৫৬ ২০,০০,০০০ ২৯,৮৫০
কল্যাণপুর ১৭,৫০০ ২৬৫ ৮,০০,০০০ ১১,৯৫৬ ২০,০০,০০০ ২৯,৮৫০
মিরপুর ১০,০০০ ১৫০ ৭,০০,০০০ ১০,৪১৬ ২০,০০,০০০ ২৯,৮৫০
বাড্ডা ৪,০০০ ৬০ ৬,০০,০০০ ৮,৯৬৭ ২০,০০,০০০ ২৯,৮৫০
গোড়ান ৪,০০০ ৬০ ৬,০০,০০০ ৮,৯৬৭ ১৮,০০,০০০ ২৬,৮৬৫
ডেমরা ৪,০০০ ৬০ ৬,০০,০০০ ৮,৯৬৭ ১৫,০০,০০০ ২২,৩৮৮
মতিঝিল ৫০,০০০ ৭৫০ ৩৫,০০,০০০ ৫২,৩০৫ ১১০,০০,০০০ ১৬৪,১৭৯
কারওয়ানবাজার ৪১,৫০০ ৬২০ ২৫,০০,০০০ ৩৭,৩৬১ ৮০,০০,০০০ ১১৯,৪০৩
ছবি : তুহিন হোসেন


