প্রচ্ছদ

সাপ্তাহিক ২০০০ | প্রচ্ছদ প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার 24 ডিসেম্বর 2009 8:41 অপরাহ্ন ১০ পৌষ ১৪১৬
প্রচ্ছদ

প্রচ্ছদ: তুহিন হোসেন

বর্ষ ১২ সংখ্যা ৩৩

অদ্ভুত যত বাড়ি
ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ সুলতান

সাপ্তাহিক ২০০০ | ফিচার | বৃহস্পতিবার 24 ডিসেম্বর 2009 1:14 অপরাহ্ন ১০ পৌষ ১৪১৬

বাসস্থান মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি। নিজের বাড়ি মানুষ সব সময়ই মনের মতো করে গড়তে চায়। এজন্য বেছে নেয় ভালো স্থান। বেছে নেয় বাড়ির নকশা। নিজের মনের মতো নকশার বাড়িতে সে থাকতে তৃপ্তি বোধ করে। মানুষের মন আবার বড় বিচিত্র। যে কারণে মানুষের বাড়ির ধরনও হয় বড় বিচিত্র। (আরও…)

বড়দিনের কেক

সাপ্তাহিক ২০০০ | রান্না | বৃহস্পতিবার 24 ডিসেম্বর 2009 1:12 অপরাহ্ন ১০ পৌষ ১৪১৬

আসছে বড়দিন আর বড়দিন মানেই মজার মজার সব কেক। আর এ দিনকে সামনে রেখেই মজাদার কয়েক রকম
কেকের রেসিপি দিয়েছেন আফরিনা শিপন

স্ট্রবেরি কেক

উপকরণ
ময়দা ১ কাপ, ডিম ৪টি, চিনি স্বাদমতো, ভ্যানিলা এসেন্স ১ চা-চামচ, বেকিং পাউডার ১ চা-চামচ, আইসিং সুগার ১ কাপ, স্ট্রবেরি ফেভার ১ চা-চামচ, বাটার ১ কাপ।

প্রণালী
ডিমের সাদা অংশ বাদ দিয়ে সব উপকরণ একসঙ্গে খুব ভালো করে বিট করুন। এবার পাত্রে বাটার ব্রাশ করে তার ওপর কেকের মিশ্রণ ঢেলে ৩৫ মিনিট বেক করুন ১৬০ ডিগ্রি তাপে।

বাদাম ফল কেক
উপকরণ
বাটার ১০০ গ্রাম, ময়দা ১ কাপ, কোকো পাউডার ২ টেবিল চামচ, গরম মসলা গুঁড়ো দেড় চা-চামচ, বেকিং পাউডার আধা চা-চামচ, ফেটানো ডিম ২টা, ঘন দুধ আধা কাপ, ভ্যানিলা এসেন্স আধা চা-চামচ, বাদাম এবং বিভিন্ন ফলের মিশ্রণ ২০০ গ্রাম।

প্রণালী
ময়দা, কোকো পাউডার, বেকিং পাউডার এবং গরম মসলা একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার বাটার, চিনি ও ডিম একসঙ্গে বিট করুন খুব ভালো করে। এবার ময়দার মিশ্রণ, বাটার মিশ্রণ, দুধ ও ভ্যানিলা এসেন্স একসঙ্গে বিট করে বাদাম এবং ফলের মিশ্রণ ট্রেতে ঢেলে প্রিহিট করুন মাঝারি আঁচে।

ক্রিসমাস কেক
উপকরণ
৪০০ গ্রাম, বাদাম গুঁড়ো ১০০ গ্রাম, চিনি স্বাদমতো, ডিম ৫টি, ভ্যানিলা এসেন্স ১ চা-চামচ, বাটার আধা কাপ।

প্রণালী
ডিমের সঙ্গে চিনি এবং বাটার মিশিয়ে নিন। এর সঙ্গে ময়দা এবং বাদাম গুঁড়ো খুব ভালো করে মেশান। এবার ট্রেতে ঢেলে ২৫০ ডিগ্রিতে ১০ মিনিট বেক করুন। ঠা-া করে এরপর পরিবেশন করুন।

চকোলেট কেক
উপকরণ
ময়দা ১ কাপ, বেকিং পাউডার ১ চা-চামচ, ডিম ৪টি, চকোলেট ফেভার আধা চা-চামচ, চিনি পরিমাণমতো, কোকো পাউডার ১ টেবিল চামচ, চকোলেট পাউডার ১ টেবিল চামচ, বাটার ১ কাপ, চকোলেট কালার আধা চা-চামচ।

প্রণালী
সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে বিটারে খুব ভালো করে বিট করুন। এবার কেকের ডাইসে সামান্য বাটার ব্রাশ করে কেকের মিশ্রণটি দিয়ে ওভেনে ১৫০ ডিগ্রিতে ৪০ মিনিট বেক করুন।

বিস্তারিত পড়ুন…

সাপ্তাহিক ২০০০ | পাঠক ফোরাম | বৃহস্পতিবার 24 ডিসেম্বর 2009 12:59 অপরাহ্ন ১০ পৌষ ১৪১৬

ঝিনাইদাহ থেকে ছবিটি তুলেছেন সোহেল নওরোজ, বাকৃবি

আরও গতিশীল পরিকল্পনা

স্বাধীন বাংলাদেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আমাদের যথেষ্ট সাফল্য থাকলেও গত ১০ বছরে তা অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। প্রায় ১৫ কোটি জনসংখ্যার ভারে বাংলাদেশের নুয়ে পড়ার দশা। (আরও…)

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড
খাইরুল আমিন

সাপ্তাহিক ২০০০ | খেলা | বৃহস্পতিবার 24 ডিসেম্বর 2009 12:55 অপরাহ্ন ১০ পৌষ ১৪১৬

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সংক্ষেপে বিসিবি। নির্বাচিত কমিটি। সরকার মনোনীত বিসিবি প্রেসিডেন্ট। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে ‘চেইন অব কমান্ড’ বলে ‘বিসিবি’ নামক সংস্থাটির কিছু কি আছে? নাকি কয়েকজন কর্মকর্তার হাতে জিম্মি হয়ে গেছে বাংলাদেশের খেলাধুলার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানটি?
নাটকপাড়া বা নাট্যমঞ্চে যেতে হবে না। বিসিবি আছে তো। একে অন্যকে কনুই মেরে কেন যে ‘বিসিবি’কে অনেকটা পিসিবি বা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পথে নিয়ে যেতে চাইছেন কেউ কেউ। প্রশ্নটা কঠিন। জবাবটা সহজ। নাম প্রকাশ করতে চাইলেন না বহুকাল ধরে ক্রিকেটের সঙ্গে থাকা এক বোর্ড কর্মকর্তা। শুধু বললেন, ‘বড় পদে থাকা দুচারজন কর্মকর্তার দ্বিমুখী চরিত্র ও ভূমিকা সামনের দিনগুলোতে বিসিবিকে আরও বিতর্কিত করে তুললে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’   (আরও…)

স্যাটেলাইট সিটি নতুন এক আধুনিক আবাস
২০০০ প্রতিবেদন

সাপ্তাহিক ২০০০ | প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার 24 ডিসেম্বর 2009 12:52 অপরাহ্ন ১০ পৌষ ১৪১৬


সবুজ-শ্যামল বাংলা আজ মানুষের ভারে আক্রান্ত। ক্রমাগত এ দেশের মানুষ হয়ে পড়ছে বসতিহীন। একটু আবাসস্থলের আশায় মানুষ ছোটাছুটি করছে এখানে সেখানে। কোথাও ঠাঁই নেই। ক্রমেই বেড়ে চলেছে নগরমুখী মানুষের ভিড়। জীবন ও জীবিকার তাগিদে দেশের অধিকাংশ মানুষ আজ রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক। যার ফলে রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বহু বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট; যা কেবল উচ্চবিত্তদের দখলে। তবু আশা জাগে মানুষেরÑআমার সন্তান যেন পায় নিশ্চিত নিরাপদ নিদ্রাযাপনের নিবাস। এ সব কথা মাথায় রেখেই এখন তৈরি হচ্ছে এমন এক শহর, যেখানে রাজধানী ঢাকায় না থেকেও নগরজীবনের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে। আর এসব শহরকে বলা হচ্ছে স্যাটেলাইট সিটি। মূলত ঢাকার আশপাশেই এই স্যাটেলাইট শহর গড়ে উঠছে। (আরও…)

বিআরটিএতে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা পুনর্বহাল হচ্ছেন
দীপক চৌধুরী

সাপ্তাহিক ২০০০ | প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার 24 ডিসেম্বর 2009 12:47 অপরাহ্ন ১০ পৌষ ১৪১৬
প্রতিবেদন

বিআরটিএতে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা পুনর্বহাল হচ্ছেন


সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিআরটিএতে (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) আর্থিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ম লঙ্ঘনকারী হিসাবে চিহ্নিত ২০ কর্মকর্তা পুনরায় যোগ দিয়েছেন। এমনকি তারা নিজ নিজ পছন্দের স্থলে বদলি হয়েছেন। এদের মধ্যে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর, ইন্সপেক্টর, হিসাবরক্ষক পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। কয়েক মাস ধরে এ প্রতিষ্ঠানে বিতর্কিত ও চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা একের পর এক পুনর্বহাল হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। (আরও…)

মধ্যবিত্তের মাথা গোঁজার ঠাঁই এখনও স্বপ্ন
আজাদ তালুকদার,চট্টগ্রাম

সাপ্তাহিক ২০০০ | প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার 24 ডিসেম্বর 2009 12:44 অপরাহ্ন ১০ পৌষ ১৪১৬

দুদশক আগে ‘মধ্যবিত্তের জন্য একটি ফ্যাট, নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই’- এই স্লোগান সামনে রেখে ডেভেলপার কোম্পানিগুলো যাত্রা শুরু করলেও সেই স্লোগান এখন মুখথুবড়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম শহরের ‘মধ্যবিত্ত শ্রেণী’ এখন আর ফ্যাট বা প্লটের স্বপ্ন দেখার সুযোগ পায় না। ফ্যাট তাদের কাছে বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়ানোর শামিল। এখন উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীই ফ্যাটবাড়ির ক্রেতা। মধ্যবিত্তের অভিযোগ, একশ্রেণীর ডেভেলপার কোম্পানির অতিবাণিজ্যিক মনোভাবের কারণে ফ্যাট বা প্লট কেনার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে ‘আইডিয়াল হোম অ্যান্ড বিল্ডার্স’ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চট্টগ্রামে পেশাদার রিয়েল এস্টেট ব্যবসা শুরু হয়। নাসিরাবাদে ‘আপন নিবাস’ প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। ১৯৯০ সালে নগরীর পাঁচলাইশে ‘শাইনপুকুর’ বাস্তবায়ন করে মোহনা প্রকল্প। এরপর একে একে চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠে স্যানমার, মিসমাক, ইটারনাল, ইকুইটি, ইপিক, আরএফ প্রোপার্টিজ, সিপিডিএল, সাফ হোল্ডিংস, সুবসতি, গ্রিন ডেলটা, ভিশন, বসুধা বিল্ডার্স, আবাসন প্রপার্টিজসহ শতাধিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান। তবে এদের মধ্যে রিহ্যাবের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৪। এ ছাড়াও ঢাকার যে সব রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামে কাজ করছে সেগুলো হলো কনকর্ড, ইউনিটেক, প্রাসাদ নির্মাণ, বিটিআই, নর্দার্ন ফাউন্ডেশন, এএনজেড প্রোপার্টিজ, বসুমতি, গ্রিন ডেলটা হাউজিং, নাভানা রিয়েল এস্টেট, আইডিয়েল হোম বিল্ডার্স লি., সাহারা সিটি হাউজিং, মেগা বিল্ডার্স লি., আলফা ইত্যাদি। আবার কেউ কেউ অঘোষিতভাবে একক বা সংগঠিত হয়ে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান অ্যাপার্টমেন্ট বানিয়ে বিক্রি করলেও অ্যাপার্টমেন্টের পাশাপাশি প্লট বানিয়ে বিক্রি করছে কেবল স্যানমার। চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী, ফৌজদারহাটে তারা গড়ে তুলেছে প্লট-প্রকল্প। নগরীর পাঁচলাইশ, সুগন্ধা, ওআর নিজাম রোড, নন্দনকানন, দণি খুলশী, লালখানবাজার, মেহেদীবাগ, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, চট্টেশ্বরী রোড, এনায়েতবাজার, লাভলেইন, জামালখান, মোমিন রোড, এসএস খালেদ রোড, কাজীর দেউড়ি, সিরাজউদ্দৌলা রোড, রহমতগঞ্জ, কোতোয়ালি, ফিরিঙ্গিবাজার, পাথরঘাটা, চকবাজার কলেজ রোড, দেবপাহাড়, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চৌমুহনী, দারোগাহাট, আগ্রাবাদ সিডিএ এলাকা, বাকলিয়া, ঈদগাহসহ বিভিন্ন এলাকায় উল্লিখিত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলো ফ্যাটবাড়ি বানাচ্ছে। জানা যায়, আলোচ্য এলাকাসমূহে সর্বনিম্ন ৭১৫ থেকে ৫ হাজার বর্গফুটের ফ্যাট নির্মিত হচ্ছে। এলাকাভেদে প্রতি বর্গফুট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭শ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকায়। জানা যায়, ডেলটা ব্র্যাক হাউজিং (ডিবিএইচ), ন্যাশনাল হাউজিং, আইডিএলসিসহ বিভিন্ন অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান মধ্যবিত্তদের ফ্যাট কেনার েেত্র কায়েন্ট সুবিধা দেওয়ার কথা বললেও উচ্চ সুদের কারণে অনেকেই এই কায়েন্ট সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন না। একজন ক্রেতা ৭০ শতাংশ ঋণ পাবেন বলে তারা যে প্রচার চালাচ্ছেন সেেেত্র প্রাথমিকভাবে অনেকে আগ্রহী হলেও বেশি সুদের কারণে সে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। তবে বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের দাবি, তাদের মাধ্যমে ঋণ সুবিধা গ্রহণের আবেদন করলে ঋণপ্রাপ্তিসংক্রান্ত বিড়ম্বনা পোহাতে হয় না। তারা যাবতীয় সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করায় সহজ উপায়ে ঋণ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এত সবের পরও চট্টগ্রামের রিয়েল এস্টেট সেক্টরে গ্রাহকরা অনেক সময় হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। হাউজিং কোম্পানি বা ডেভেলপাররা আবাসিক সঙ্কট সমাধানে বিশেষ ভূমিকা রাখলেও তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, কোনও ধরনের রেজিস্ট্রি না করে তারা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব লেটার প্যাড অথবা দেড়শ টাকার জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ফ্যাট ক্রেতার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের (১০-৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত) অর্থ গ্রহণ করছে। অথচ সরকারি নিয়ম হচ্ছে, যেকোনও বায়না টাকার লেনদেন অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে। ২০০৫ সালের ৩০ জুন থেকে সব বায়না টাকা রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করে এর আগের সব অরেজিস্ট্রিকৃত বায়না রেজিস্ট্রি করতে এবং প্রয়োজনে আদালতে গিয়ে ভুক্তভোগীদের এ ব্যাপারে মামলা করার জন্য নির্দেশনা জারি করে সরকার। এরপরও ডেভেলপার কোম্পানিগুলো বায়না রেজিস্ট্রির ধার না ধেরে কেবল লেটারপ্যাড, স্ট্যাম্প ও রসিদমূলে বায়নার টাকা লেনদেন অব্যাহত রেখেছে। এতে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি একধরনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মধ্যে থাকে গ্রাহকের পরিশোধিত টাকা। নামকাওয়াস্তে এ সব কাগজপত্র ব্যবহার করে পরবর্তীকালে আইনগত প্রতিকার পেতেও ক্রেতা ঝামেলার সম্মুখীন হচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া চট্টগ্রামের অধিকাংশ ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প হস্তান্তরে ব্যর্থ হচ্ছে। তারা কোনও কোনও প্রকল্প হস্তান্তরে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত সময় নিচ্ছে। আবার অনেক ডেভেলপার জায়গার ওপর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়ে বছরের পর বছর চালিয়ে যাচ্ছে ফ্যাট বিক্রির রমরমা বাণিজ্য। অনেক প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের কাছ থেকে সব টাকা পাওয়ার পরই শুরু করে নির্মাণকাজ। আবার কেউ কেউ ক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম নিয়ে সে টাকায় অন্যত্র ব্যবসা করে। এ সব কারণে ভবন নির্মাণ করে ফ্যাট হস্তান্তর করতে অনেক প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ সময় লেগে যায়। গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তির সময় অধিকাংশ ডেভেলপার কোম্পানি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নির্মাণসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল, জরুরি অবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন সময়টুকু ফ্যাট হস্তান্তরের নির্ধারিত সময় থেকে বাদ যাবে মর্মে উল্লেখ করে। অনেক গ্রাহকের অভিযোগ এ ধরনের কোনও পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও কোনও কোনও প্রতিষ্ঠান একে অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করে ফ্যাট হস্তান্তরে কালপেণ করে। অনেক প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের পরও কিস্তি প্রদানে বিলম্ব হওয়াসহ বিভিন্ন ছুতোনাতায় ফ্যাটের চাবি হস্তান্তরে টালবাহানা করে। অথবা ফ্যাট হস্তান্তরকালে রিহ্যাবের সিদ্ধান্ত ও নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধির অজুহাত তুলে প্রতি বর্গফুটের জন্য আদায় করে বাড়তি টাকা। গ্রাহকদের কাছ থেকে এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে যে, কোনওরকম গ-গোল বাঁধিয়ে টাকা ফেরত নেওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি করাই অনেক কোম্পানির ল্য থাকে। সেেেত্র নতুন পার্টির কাছে অতিরিক্ত মূল্যে এ ফ্যাট বিক্রি করা যায়। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ থাকলেও এ কথা অনস্বীকার্য যে গৃহসংস্থানের ক্ষেত্রে তারা বিশেষ ভূমিকা রাখছে। জাতীয় আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও তাদের অবদান রয়েছে। এ সব প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে শত শত প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান, নির্মাণ শ্রমিক/প্রশাসনিক ও হিসাবরক্ষণ বিভাগে বহু লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। হাউজিং কোম্পানি ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলো হয়ে উঠেছে কর্মসংস্থানের একটি বিশেষ খাত। নির্মাণসামগ্রী বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোও এর ফলে বাণিজ্যিক সুবিধা পাচ্ছে। ডেভেলপারদের আর কোনও অনিয়মে জড়ানোর সুযোগ দেবে না সিডিএ আবদুস ছালাম, চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপ সাপ্তাহিক ২০০০ : অধিকাংশ ডেভেলপার কোম্পানির বাণিজ্যিক মনোবৃত্তির কাছে ক্রেতাস্বার্থ সংরণ বিঘিœত হচ্ছে। সিডিএর চেয়ারম্যান হিসাবে এ ব্যাপারে আপনি কী ভূমিকা রাখছেন? আবদুস ছালাম : অতীতে যা হওয়ার হয়ে গেছে, আগামীতে ক্রেতাস্বার্থ পরিপন্থি আর কিছুই হতে দেওয়া হবে না। আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, ডেভেলপার কোম্পানিগুলো এ কাজে সিডিএর কোনও সাহায্য পাবে না। ডেভেলপার কোম্পানিগুলোকে আর কোনও অনিয়মে জড়ানোর সুযোগ দিচ্ছে না সিডিএ। সিডিএর কঠোর মনোভাবের কারণে আশা করি ডেভেলপার কোম্পানিগুলো সঠিক পথে চলতে বাধ্য হবে। ২০০০ : এ জন্য কী পদপে নিচ্ছেন? আবদুস ছালাম : আগের অনেক নিয়ম পরিবর্তন করেছি। অফিসে ডেকে এনে আমি নিজ হাতে নকশা তুলে দিচ্ছি। বলছি, আপনার কাজ কখন শুরু হবে আমাকে জানাবেন। আমার লোক গিয়ে আপনার কাজ মনিটর করবে। মনিটরের সময় নকশার ব্যতিক্রম কিছু পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে আমরা অ্যাকশনে যাব। ২০০০ : নকশা এক রকম, কাজ হয়েছে অন্যরকম। এ ধরনের অসংখ্য উদাহরণ আছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ভবন নির্মাণের েেত্র। এ মুহূর্তে একটি বড় উদাহরণ চকবাজারের গুলজার টাওয়ার। অভিযোগ আছে, সম্পূর্ণ নকশা-বহির্ভূতভাবে নির্মাণ করার পরও টাওয়ারটি ভাঙা হচ্ছে না। অথচ সিডিএর এ সংক্রান্ত একটি রায়েও টাওয়ারটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া আছে। আবদুস ছালাম : চট্টগ্রামে ডেভিয়েশন ছাড়া একটা ভবনও নেই। সে জন্য আমরা ডেভিয়েশনের একটা গাইডলাইন নির্ধারণ করে দিয়েছি। তা হলো- যে ডেভিয়েশনের কারণে পার্শ্ববর্তী লোক তিগ্রস্ত হবে না, যে ডেভিয়েশনে পরিবেশের তি বা সৌন্দর্য বিঘিœত হবে না, যে ডেভিয়েশনে রাষ্ট্রের কোনও তি হবে না, সেই ডেভিয়েশনের বিরুদ্ধে আমরা কোনও অ্যাকশনে যাচ্ছি না। গুলজার টাওয়ারের মালিকানা নিয়ে সমস্যা আছে। একপ বলছে আমরা মালিক, অন্যপ বলছে তারা মালিক। এ েেত্র জেদাজেদি কাজ করছে বলে আমার ধারণা। একপ বলছে, ডেভিয়েশন হওয়ার কারণে পুরোটা ভাঙতে হবে। আমার মনে হচ্ছে ওরা হিংসাপরায়ণ হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টা দেখব। সেখানে কী পরিমাণ ডেভিয়েশন হয়েছে তা দেখেই সিদ্ধান্ত নেব। ২০০০ : চট্টগ্রামে ভূমিকম্প নিরোধক ভবন নির্মাণের ব্যাপারে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ আছে। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী? আবদুস ছালাম : প্রথম কথা হলোÑ আমরা কেউ স্বার্থ ত্যাগ করতে চাই না। যারা ফ্যাট বানায় তারা বিক্রি করার জন্যই বানায়। তারা মনে করে, বিক্রি করে দিলেই দায়িত্ব শেষ। বিক্রি করার পর যে মানুষগুলো থাকবে তাদের জন্য দয়ামায়া বলতে ওদের কিছুই নেই। এগুলো যদি আমরা নিজেরা নিজেরা ঠিক করতে না পারি তাহলে কোনও আইন দিয়েই কিছু হবে না। কাজেই শুধু ডেভেলপাররাই নয়, যারা কিনছেন তাদেরও সচেতন হতে হবে। যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবেÑ যে ফ্যাট বা ভবন নিচ্ছেন তা কতটুকু নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত অথবা প্ল্যান অনুযায়ী ভবনটি হয়েছে কী না। বাহ্যিক চাকচিক্য দেখে মুগ্ধ না হয়ে বিষয়গুলো ফ্যাট কেনার আগে ভাববার জন্য ক্রেতাসাধারণের প্রতি আমার অনুরোধ থাকল। আমার বিশ্বাস, ক্রেতারা সাবধান ও সতর্ক হলে ডেভেলপাররা নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য হবে। ২০০০ : চট্টগ্রামে অব্যাহত পাহাড়কাটা রোধে সিডিএ কী ভূমিকা রাখছে? আবদুস ছালাম : পাহাড়কাটা রোধে আমরা যতই উচ্চবাচ্য করি না কেন, পাহাড়খেকোরা তাদের তৎপরতা চালাবেই। পাহাড়-নদী, সমুদ্র-সমতলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা চট্টগ্রামকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই পাহাড়কাটা রোধ করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন আইনের মাধ্যমে পাহাড়কে অমূল্য করে পাহাড়ের বেচাকেনা বন্ধ করে দিতে হবে। নদী আর সমুদ্র যেমন বিক্রি হয় না, তেমনি পাহাড় বিক্রি করা যাবে না মর্মে নতুন করে নিয়ম চালু করতে হবে।