banner ad

ঢাকা ও চট্টগ্রামের ছিনতাই পয়েন্ট
২০০০ প্রতিবেদন

রাজধানীতে ৫০৩টি

ছিনতাই পয়েন্ট!

 

রাজধানী ঢাকায় ছিনতাই পয়েন্ট ৫০৩টি। এ তথ্য পুলিশ প্রশাসনের। পুলিশের তথ্য মতে, ছিনতাইয়ের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হলো সূত্রাপুর। এখানে ৪৫টি ছিনতাই পয়েন্ট রয়েছে। এর পরই রয়েছে যাত্রাবাড়ী। যাত্রাবাড়ীতে ৩৫টি ছিনতাই পয়েন্ট রয়েছে। ঢাকা মহানগরের সর্বশেষ ছিনতাই চিহ্নিত পয়েন্টগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে উত্তরায় ৩০, রমনায় ২৫, মোহাম্মদপুরে ২৫, তেজগাঁওয়ে ২৫, ধানমন্ডিতে ১৫, শাহবাগে ১৫, পল্টনে ১৫, খিলগাঁওয়ে ১৫, মিরপুরে ১৫, সবুজবাগে ১৫, মতিঝিলে ১৪, শ্যামপুর ১৪, লালবাগে ১২, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ১১, আদাবরে ১১, শাহ আলীতে ১০, কাফরুলে ১৩, গুলশানে ৯, বাড্ডায় ৮, দক্ষিণখানে ১১, উত্তরখানে ৫, কামরাঙ্গীর চরে ৭, বিমানবন্দরে ৬, নিউমার্কটে ৬, হাজারীবাগে ১১, কোতোয়ালিতে ৬, তুরাগে ৬, খিলক্ষেতে ৬, ক্যান্টনমেন্টে ৪টি এবং শেরেবাংলা নগর এলাকায় তিনটি পয়েন্ট রয়েছে। পুলিশের এক বছর আগের তালিকা অনুসারে প্রায় ৫০টি ছিনতাই পয়েন্ট বেড়েছে। তবে কিছু এলাকায় ছিনতাই আগের তুলনায় কম বলে দাবি করেছে পুলিশ প্রশাসন।

পুলিশের তথ্য মতে, এসব এলাকার মধ্যে প্রায় তিনশ এলাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এই তিনশ এলাকার ছিনতাইকারীরা খুব ভয়ঙ্কর। এসব এলাকার ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে অনেকেই গুলিতে কিংবা ছুরির আঘাতে নিহত হয়েছেন।

২০০০-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে ডিসেম্বরে বংশালে ছিনতাইকারীরা ইকবাল এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার রুবেলকে গুলি করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই করে। রুবেল ঘটনাস্থলে নিহত হন। জানা যায়, রুবেল যমুনা ব্যাংক বংশাল শাখা থেকে টাকা নিয়ে পার্শ্ববর্তী অফিসে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। উত্তরার ১৪ নং সেক্টরের ১০ নং রোডের ৪১ নং বাড়ির সামনে ছিনতাই হয় ৭ লাখ টাকা। ছিনতাইয়ের শিকার রাজু জানান, তিনি কুশল সেন্টারের ইসলামী ব্যাংক শাখা থেকে টাকা তুলে রিকশায় যাচ্ছিলেন। শান্তিনগরের কাকরাইল ৬৭/৯ ইস্টার্ন ম্যানশন ভবনের নিচে ১০ লাখ টাকা ছিনতাই হয়। কারওয়ানবাজার এলাকায় ১৪ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী জুলহাসকে গুলি করে ছিনতাইকারীরা ১ লাখ টাকা নিয়ে যায়।

শাহবাগ থানার তথ্য মতে, গত বছর ২৯ আগস্ট রফিকুল ইসলাম নামে একজন ছিনতাইকারীর হাতে গুলিবিদ্ধ হন। পলাশী এলাকায় ছিনতাইকারীর গুলিতে নিহত হন সোহেল মাহমুদ নামের এক ব্যবসায়ী। শুধু গত বছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছিনতাইয়ের ২০টি মামলা হয়েছে। মামলার তথ্যানুযায়ী মোটরসাইকেল ছিনতাই হয়েছে ১০টি। আর এসব ছিনতাইয়ের ঘটনা ছবির হাট, বুয়েট জামে মসজিদ, টিএসসি ফজলুল হক হল, দোয়েল চত্বর ও নীলক্ষেত এলাকায় ঘটেছে। সর্বশেষ গত ৭ জানুয়ারি দোয়েল চত্বর এলাকায় ইডেন কলেজের ছাত্রী শান্তা ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন । এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি রেজাউল করিম জানান, ইতিমধ্যে ছিনতাইকৃত পাঁচটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা বংশাল ও লালবাগ এলাকার। অন্যদেরকে গ্রেফতারের অভিযান চলছে।

চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স সেন্টার পর্যন্ত এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে প্রত্যেক সপ্তাহে কোনো না কোনোভাবে ছিনতাই হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আরফান আলী সরকার ছিনতাইয়ের শিকার হন। আরফান আলী জানান, রাত ৯টার দিকে ফার্মগেট থেকে রিকশায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছিলেন। চন্দ্রিমা উদ্যানে আসা মাত্র চার ছিনতাইকারী তাকে আটকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়। তিনি জানান, ২০০৫ সালে একই জায়গায় তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন। ওই সময় প্রতিবাদ করতে গেলে ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাহত করে পালিয়ে যায়। পুলিশি তথ্য মতে, শেরেবাংলা নগরের আইডিবি এলাকা, পঙ্গু হাসপাতাল সড়ক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মিরপুর ১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে ১২ ডিসেম্বর দিনেদুপুরে প্রবাসী আবদুল গনিকে গুলি করে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই করে একদল মুখোশধারী। চানখাঁরপুলে ১১ ডিসেম্বর ১২ লাখ টাকা ছিনতাই হয়। যাত্রাবাড়ী এলাকায় একই দিনে ৭ লাখ টাকা ছিনতাই হয়।

 

চট্টগ্রাম নগরীর ৬০টি স্পটে ছিনতাই

 

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

 

তিন বছর আগের ঘটনা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের বাসায় ফিরছিলেন সদ্য বিবাহিত তর“ণ স্থপতি কাওসার। ভোর ৫টায় সোহাগ চেয়ারকোচ থেকে নেমে চন্দনপুরার বাসায় ফিরছিলেন তিনি। তাকে বহনকারী সিএনজি চালিত ট্যাক্সিটি প্যারেড কর্নারের দক্ষিণ-পূর্ব দিক অতিক্রম করতেই ৪ জনের একটি ছিনতাইকারী দল ঘিরে ধরে তাকে। সর্বস্ব ছিনিয়ে নিতে চাইলে প্রতিবাদ করেন কাওসার। আর এতেই বিগড়ে যায় ছিনতাইকারীদের মাথা। সঙ্গে সঙ্গে ছুরি বসিয়ে দেয় কাওসারের তলপেটে। বেরিয়ে যায় নাড়িভুঁড়ি। এ সুযোগে সর্বস্ব নিয়ে চম্পট দেয় ছিনতাইকারীরা। আর ততক্ষণেই জীবনপ্রদীপ নিভে যায় হতভাগ্য কাওসারের। কেবল কাওসারই নন, ছিনতাইকারী ও সংঘবদ্ধ মলমপার্টির খপ্পরে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শাওন, অ্যাডভোকেট দীন মোহাম্মদ, বিআরটিএ কর্মকর্তা প্রীতিরঞ্জন চাকমা, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী আজাদ, দুবাই প্রবাসী রফিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন মানুষ।

কেবল পুলিশের হিসেবেই চট্টগ্রাম মহানগরীর ৫২টি স্পটে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে থাকে। কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে তাদের। এমন কোনো দিন নেই ২০-২৫টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে না। এসব ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত অন্তত দুই শতাধিক অপরাধী বন্দুক, পিস্তল, ছোরা, ক্ষুর ও কিরিচের ভয় দেখিয়ে এসব অপরাধ সংঘটিত করার সময় ঘটাচ্ছে খুনের ঘটনা।

জানা গেছে, নগরীতে ২০-৩০ বছর বয়সী ভাসমান ও মাদকসেবী যুবকরাই বেশি ছিনতাইয়ে জড়াচ্ছে। এদের মধ্যে মাদকের টাকা জোগাতে ৭০ ভাগ আর জীবিকা নির্বাহের জন্য ৩০ ভাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নগরীর ১২টি থানায় ১৭ ডাকাতি, ৫৯ দস্যুতা, ৩৪৫ চুরি এবং ১১৯টি সিঁধেল চুরি এবং অন্তত ৫ শতাধিক ছিনতাই ঘটনায় মামলা হয়েছে নগরীর বিভিন্ন থানায়। এ তথ্য জানিয়েছে সিএমপি পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছিনতাইকারীদের কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না সংসদ সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও। গত ৪ ডিসেম্বর  নগরীতে একটি ছিনতাইয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ৪৭ হাজার টাকা লুট এবং দুই ছিনতাইকারী মারধরের শিকার হয়। এই সময় পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে ছিনতাইকারীরা। ওইদিন রাতে জামায়াত দলীয় এমপি শামসুল ইসলামের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরের দল তার গাড়ি থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকার যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায়। আর বছরের শুরুতে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের বাসায়ও চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়া বেশিরভাগ ছিনতাই ঘটনা থানায় সাধারণ ডায়েরিভুক্ত হওয়ায় বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি থানায় অভিযোগ না করার কারণে দস্যুতা, ছিনতাই ও চুরির প্রকৃত পরিসংখ্যান সিএমপির অপরাধ শাখায় সংরক্ষিত থাকে না।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী কোতোয়ালির ১৮টি, বাকলিয়ার আটটি, চান্দগাঁওয়ের ছয়টি, পাঁচলাইশের নয়টি, ডবলমুরিংয়ে একটি ও হালিশহরের ১০টি স্থানে সর্বাধিক ছিনতাই হয়। এর মধ্যে পাঁচলাইশ মডেল থানার জাতিসংঘ পার্ক এলাকায় লিয়াকত আলী, রাসেল প্রকাশ রাস্য, বাদুড়তলা বড় গ্যারেজ এলাকায় জনি দত্ত ও ধামা ইউসুফ পিস্তল, বন্দুক, রাম দা দেখিয়ে ছিনতাই করে। এছাড়া নাসিরাবাদ, ষোলশহর দুই নম্বর গেট, ফরেস্ট গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট এলাকায় নূর মোহাম্মদ, সাদ্দাম, মোনাইয়া, র“বেল, নীলপুরা আলমগীর, মইজ্যা শফি, সেলিম, লোকমান হোসেন, সোহেল, জনি, লিটন, ফরিদ, মোহাম্মদ আলী, আবুল কাশেম, ডাকাত কামাল, শাহ আলম, কালাইয়া, মানিক, এরশাদ ও সাম্পাইয়া সাবু পৃথক দল নিয়ে সিএনজি ট্যাক্সিতে ঘুরে এবং যাত্রীদের সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই করে। এছাড়া নগরীর গোলপাহাড় মোড়, চট্টেশ্বরী মোড়, বাদশাহ মিয়া রোড, কাতালগঞ্জ মোড়কেও অত্যন্ত ছিনতাইপ্রবণ স্পট হিসেবে গণ্য করা হয়।

আরো যে কটি স্থানে প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সেগুলো হলো- নগরীর বকশির হাট, কোরবানিগঞ্জ, বদরপট্টি এলাকা। পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে, বদরপট্টি এলাকায় মোস্তফা ও ছোট বাহাদুর, কোরবানিগঞ্জ এলাকায় ইউসুফ ও বকসির হাট এলাকায় মাইল্যা নামের এক যুবক এসব এলাকার ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত।

জানা গেছে, ইউসুফ ও ছোট বাহাদুরকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সৈয়দ আবুল বশর নামে কথিত এক বিএনপি নেতা। আবুল বশর কয়েকবছর আগে দুর্ধর্ষ এক ছিনতাই মামলায় জড়িয়ে বিদেশে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর কিছুদিন আগে ফিরে এসে পুনরায় ছিনতাইয়ে নেতৃত্ব দেয়ার কাজে জড়িয়ে পড়ে। আর ধারণ করেছে বিএনপির সাইনবোর্ড। এখন প্রায় তাকে দেখা যায় বিএনপি চট্টগ্রাম মহানগরীর সহসভাপতি শিল্পপতি শামসুল আলমের সঙ্গে। অন্যদিকে একটি ছিনতাই মামলায় সাজা খাটার পরও ছিনতাই বন্ধ করতে পারছে না ইউসুফ ও ছোট বাহাদুর।

পুলিশ বলছে, পেশাদার ছিনতাকারীর পাশাপাশি কেউ কেউ ছাত্রের ছদ্মাবরণে এই পেশায় জড়িয়েছে। আর ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে অটোরিকশাও। ছিনতাইকারীরা টানাপার্টি ও মলমপার্টি নামধারণ করে ছিনতাই করলেও বেশিরভাগ ভাসমান হওয়ায় ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করতে তারা হিমশিম খাচ্ছে।

বিভাগ: প্রতিবেদন

RSSকমেন্টস (0)

Trackback URL

আপনার মন্তব্য



ওয়েব সাইট

আপনার কমেন্টের সাথে যদি ছবি প্রকাশ করতে চান, এখান থেকে ছবি সংগ্রহ করুন.