banner ad

ডারবান সম্মেলন জলবায়ু রাজনীতির ছক বদলে যাচ্ছে
কামরুল ইসলাম চৌধুরী

জলবায়ু রাজনীতি নয়া মোড় নিয়েছে। ডারবান সম্মেলনে আন্তর্জাতিক দরকষাকষি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দেন-দরবার নয়া মহাসড়ক ধরে যাত্রা শুরু করেছে। জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সনদ প্রণীত হয় নিউইয়র্কে ১৯৯২ সালে। ওই বছর জুনে রিও ধরিত্রী সম্মেলনে সেই সনদ স্বাক্ষরিত হয়। পরে ১৬টি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এসব সম্মেলনের সঙ্গে ডারবানের ১৭তম সম্মেলনের ফারাক অনেক। বিশ্ব জলবায়ু রাজনীতিতে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আমরা পৌঁছেছি ডারবানে। জলবায়ু সনদ যখন তৈরি হয় তখন জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশের শীর্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া। ১৯৯৭ সালে কিয়োটো চুক্তি তৈরির সময়ও তারাই ছিল মূল দূষণকারী। জাতিসংঘ জলবায়ু সনদ অনুযায়ী ঐতিহাসিকভাবে শিল্পোন্নত এদেশগুলোই কার্বন নিঃসরণের জন্য চিহ্নিত। তাদের কারণেই বিশ্ব আজ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার। বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলো পড়ছে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে। কিন্তু গত কয়েক বছরে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণকারী দেশের তালিকা বদলে গেছে। যোগ হয়েছে উন্নয়নশীল দেশ। শীর্ষ কার্বন নিঃসরণকারী যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে চীন এখন ১ নম্বরের কার্বন দূষণকারী দেশ। যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়। ভারত দৌড়ে যাচ্ছে পরের জায়গায়। তাই জলবায়ু রাজনীতির ছক যাচ্ছে বদলে। উন্নত দেশগুলোর গলার স্বর হচ্ছে চড়া। কিন্তু দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলো ছাড় দিতে নারাজ। স্বল্পোন্নত ও অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলো পড়েছে ক্রসফায়ারে।

এই পটভ‚মিতেই ২০০৭ সালে প্রণীত হয় বালি রোডম্যাপ। কথা ছিল ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে কিয়োটো চুক্তির দ্বিতীয় অঙ্গীকারকাল স্থির হবে। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের রাশ টানা হবে। দ্রুত কমানো হবে কার্বন নিঃসরণ মাত্রা। জাতিসংঘ জলবায়ু সনদের কার্যকর বাস্তবায়নে আশু ব্যবস্থা নেয়া হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বেগবান করতে হবে অভিযোজন কর্মসূচি। উন্নত দেশ ও দাতা সংস্থাগুলোর জোগান দিতে হবে, বিপুল অর্থের হস্তান্তর করতে হবে প্রযুক্তির। কিন্তু অনেক রাষ্ট্রনায়কের সরব উপস্থিতি সত্তে¡ও শেষ মুহূর্তে কোপেনহেগেন সম্মেলন প্রায় ভেস্তে যায়। ২০১০ সালে কানকুন সমঝোতায় ঠিক হয় ডারবানে কিয়োটো চুক্তির দ্বিতীয় অঙ্গীকারকাল ঠিক হবে। কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমাতে হবে। অভিযোজন পরিকল্পনার রূপরেখা চূড়ান্ত হবে। গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড চালু হবে।

অভিযোজন দরকষাকষি : জলবায়ু পরিবর্তন দরকষাকষিতে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অভিযোজন। ডারবান সম্মেলনেও ছিল তাই। কিন্তু জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য খাপ খাইয়ে নেয়ার এই কার্যক্রমের নেগোসিয়েশন ছিল বেশ জটিল, দুরূহ ও অনিশ্চিত। উন্নত দেশগুলো অভিযোজন নেগোসিয়েশনে এবার ছিল অনেক কঠিন। উন্নয়নশীল কয়েকটি দেশ যেমন কলম্বিয়া, বলিভিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করে বসে। তাই আমাদের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য ছিল ত্রিশঙ্কু অবস্থা। ধরুন, পাঁচ নভেম্বরের কথা। রাত ন’টা। ক’মিনিটের বিরতি। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি। বেরুবার উপায় নেই। আবার শুরু হবে অ্যাডাপটেশন প্ল্যান নেগোসিয়েশন। চলবে সারা রাত। গত ক’দিন-রাত চলছে টানা দরকষাকষি। উগান্ডা প্রতিনিধি প্রফেসর জন আমার সার্বক্ষণিক সহযোগী সেই কোপেনহেগেন থেকে। স্বল্পোন্নত ৪৮টি দেশের হয়ে কথা বলতে হচ্ছে। সুদানের সুমাইয়া হোটেলে ফিরছে। তিমুর লিস্তের প্রতিনিধি আদো তার মন্ত্রীকে আনতে ছুটছে এয়ারপোর্টের পথে। চেয়ার রবার্ট ওয়েন চান রাতেই এ আলোচনার সমাপ্তি। জলবায়ু সম্মেলন সভাপতি তাকে পরিষ্কার জানিয়েছেন অ্যাডাপটেশন প্ল্যান ডারবান প্যাকেজে থাকবে। অতএব রাতের মধ্যেই সমঝোতায় পৌঁছুতে হবে। এটি ¯^ল্পোন্নত দেশের এজেন্ডা।

অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ আমাদের এই এজেন্ডায় ভাগ বসাতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউসহ উন্নত দেশগুলো তাতে নারাজি। এলডিসির পাশাপাশি অন্যদের অভিযোজন পরিকল্পনা বানাতে টাকাকড়ি দিতে চায় না। টানা সপ্তাহ জুড়ে দিন-রাত দেনদরবার করেও ফয়সলা হচ্ছে না। বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর কথা হচ্ছে কোপেনহেগেনে চোখের জলে এ দাবি আমরা করেছি। কানকুনে আমাদের কান্নামাখা দাবি সবাই মেনেছে। ডারবানে তার রূপরেখা তৈরি হবে। অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট পন্থা বাতলে দেয়া হবে। এ ছিল কানকুন এগ্রিমেন্টের ম্যান্ডেট। এলডিসি এক্ষেত্রে ছাড় দেবে না। স্বপ্লোন্নত দেশগুলোর কোটি কোটি আইলা-সিডর-নার্গিস দুর্গত মানুষের এ স্বার্থের জলাঞ্জলি দেয়া অসম্ভব।

ডারবানে এলডিসি প্রস্তুতি বৈঠকে আমাকে অ্যাডাপটেশন দরকষাকষির পূর্ণ ম্যান্ডেট দেয়া হয়েছে। এর বাইরে কোনো এলডিসি কথা বলবে না। বলতে চাইলে সমর্থনে শুধু যুক্তি দেয়া যাবে। এলডিসির সব দেশকে এক সুরে কথা বলতে হবে। সেটিও এলডিসি চেয়ারপারসন পা ওসমান জানিয়ে দিয়েছেন। প্রবীণ প্রফেসর জনের শরীর কাঁপছে। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই আমাকে একা রেখে যাবেন না। গত ক’রাত তিনি আমাকে অসীম সাহস ও মনোবল জুগিয়ে যাচ্ছেন। রুদ্ধদ্বার দরকষাকষি শুরু হলো। উন্নত উন্নয়নশীল সব দেশের প্রতিনিধিদের তোপের মুখে স্বল্পোন্নত ৪৮ দেশের আমরা দুজন। তাদের শাণিত আর সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে আমাদের পাল্টা যুক্তি। তাদের মনস্তাত্তি¡ক চাপের মুখে আমাদের দাবি কানকুন এগ্রিমেন্ট। বাইরে তখন ঝড়ো রাত। বিজলি চমক কনভেনশন সেন্টারের রুদ্ধ কক্ষ কাঁপিয়ে দিচ্ছে। আমাদের হার না মানা কথার পিঠে পিছুটান দেয় কলাম্বিয়া, বলিভিয়া, ফিলিপিন্স, পাকিস্তান, টোঙা আর কুকআইল্যান্ড প্রতিনিধিবর্গ।

অ্যাডাপটেশন এজেন্ডায় যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, ইইউ, কানাডা, নরওয়ে ও অস্ট্রেলিয়া একাট্টা। ওদের চাপে হাল ছেড়ে দেয় অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের প্রতিনিধিরা। এলডিসি সমণ্নয়কারী হিসাবে আমার কথা হলো রাতের মধ্যে দাবি অনুযায়ী সমঝোতা। নইলে আলোচনা হবে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে। চেয়ার বিকল্প না দেখে রাজি হলেন। বিষয়টি গড়াল মন্ত্রী পর্যায়ে। পরদিন এলডিসি বৈঠকে ঠিক হলো আমাদের পরবর্তী করণীয়। নয়া রণকৌশল নেওয়া হলো। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে চলল টানা পাঁচ দিন-রাত দরকষাকষি। বাংলাদেশের মনিরুল ইসলাম, জাফর আলম আর বাপা’র ড. আবদুল মতিন পালা করে সঙ্গ দিয়েছেন। ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ও ড. এম. আসাদুজ্জামানের পরামর্শ নিলাম। চেয়ার নতুন টেক্সট দিলেন। আমরা এলডিসি মানলাম। মানল না ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র। এলডিসিতে সিদ্ধান্ত নিলাম অনড় থাকব।

কৌশল ঠিক হলো অ্যাডাপটেশন প্ল্যান নেগোসিয়েশনে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত অ্যাডাপটেশন কমিটির দরকষাকষি আমরা ঠেকিয়ে রাখব। দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ এলডিসির সব দেশের মন্ত্রী ও দলনেতারা। কথা বলছি ৭৭ জাতিগোষ্ঠীর মন্ত্রীদের সঙ্গে। বৈঠক হচ্ছে ইইউর মন্ত্রীদের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ ছাতা গ্রæপের মন্ত্রীদের সঙ্গে। অবশেষে সমঝোতা হলো শেষ মধ্যরাতে। যদিও আমাদের কিছু ছাড় দিতে হলো। অ্যাডাপটেশন কমিটিতে এলডিসির প্রতিনিধিত্ব আদায় করলাম।

ডারবান দরকষাকষির খণ্ডচিত্র : ডারবান সম্মেলনে দরকষাকষির এমন খণ্ডচিত্র অনেক। দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিম উপক‚লের এ শহরে পা ফেলার সেই প্রথম দিন থেকে।

ফিরে যাই ২১ নভেম্বর। ডারবানের আকাশ মেঘে ঢাকা। ঝিরঝিরে বৃষ্টি। শেষ বিকেলের সূর্যের দেখা মেলা ভার। আমাদের বিমান ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিম উপক‚লে নামছে। সহযাত্রী অনেকে স্বপ্লোন্নত দেশের প্রতিনিধি। প্রস্তুতিমূলক সভায় যোগ দিতে আসা আমরা সবাই দুলছি আশা-নিরাশার দোলাচলে। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কি সফল হবে? বাংলাদেশ বা তিমুর লিস্তের জলবায়ু ঝুঁকি কি কমানো যাবে? প্রশ্ন তিমুর প্রতিনিধি আদোর। সুদানের সুমাইয়ার কথা হলো : ডারবানে কিচ্ছু হবে না। সামনে ঝড়ো রাত। ঘুঁটঘুঁটে অন্ধকার। ডারবানের আকাশের মতোই যেন জলবায়ু সম্মেলনের ভবিষ্যৎ।

ডারবান মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিবিজড়িত। এখানেই ট্রেনের প্রথম শ্রেণী থেকে ছুড়ে ফেলে তাকে। শ্বেতাঙ্গ সহযাত্রীর সেই বর্ণবাদী আচরণ এখন ইতিহাস। নেলসন ম্যান্ডেলা এখানেই প্রথম ভোট দেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় সূচনা করেন গণতন্ত্রের। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠককালে জানালেন দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইথি নকোওনা মাসাবান। ডারবান জলবায়ু সম্মেলনে সভাপতি। তিনি ¯^ল্পোন্নত ৪৮টি দেশের প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করতে চাইলেন। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন সফল করতে তিনি এলডিসির সমর্থন চান। এলডিসি চেয়ার গাম্বিয়ার পা ওসমান এবং আমি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষে আশ্বস্ত করলাম। বললাম সম্মেলন সফলতার সঙ্গে ৪৮টি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের স্বার্থ এক সুতোয় গাঁথা। কার্বন নিঃসরণ চট্জলদি কমাতে না পারলে এদেশগুলোরই বিপদ সবচেয়ে বেশি। ফি বছর এসব দেশে আইলা-সিডর আঘাত হানছে। বাড়ছে জলবায়ু শরণার্থী। ধনী দেশগুলোর কারণে আমরা পুড়ছি। পড়ছি চরম দুর্গতিতে।

গোটা সপ্তাহ জুড়েই ঝড়ো হাওয়া। তখনো দেখা মেলেনি সুয্যি মামার। এলডিসির দুদিনের প্রস্তুতি বৈঠক শেষ। ১৩৪টি উন্নয়শীল দেশের (জি-৭৭) প্রস্তুতিও সম্পন্ন। মাইথি এখানেও ৭৭ জাতিগোষ্ঠীর সমর্থন চাইলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা অন্যতম সদস্য রাষ্ট্র। ৭৭ জাতি গোষ্ঠী চেয়ার আর্জেন্টিনাসহ আমরা সবাই তাকে জোর সমর্থন দেব বলে জানালাম। বিনিময়ে তিনি কথা দিলেন সম্মেলন চলবে সবার কথায়। মূল্য দেয়া হবে সবার অভিমতের। সম্মেলন সভাপতি কোনো কিছু চাপিয়ে দেবেন না। সুবিশাল সম্মেলনস্থল কনভেনশন সেন্টার তখন আলো ঝলমল। সুয্যি মামার প্রথম দেখা মিলল। সন্ধ্যের পর সাগর সৈকতে আমরা হাঁটলাম। দেখা হলো মার্কিন জলবায়ু উপদূত জনাথন পার্সিংয়ের সঙ্গে। হাত মেলালেন। সৌজন্য বিনিময় হলো। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সমর্থন চাইলেন। বললাম, আইনগত বাধ্যবাধক ডারবান আউটকামের কথা।

২৮ নভেম্বর ডারবান জলবায়ু সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলো। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট উদ্বোধনী ভাষণ দিলেন। আফ্রিকার কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধান বক্তব্য রাখলেন।

শুরু হলো টানা দিবা-নিশি লাঘাতার বৈঠক। কত আনুষ্ঠানিক, অনানুষ্ঠানিক সভা। বসলো টেকনিক্যাল বৈঠক। মন্ত্রীদের নিয়ে চলল সভার পর সভা। দিনভর বৈঠক, রাতজুড়ে সভা। কনভেনশন কেন্দ্র থেকে হোটেল কয়েক মিনিটের পথ। কতরাত হোটেলে এক-দুঘণ্টার বেশি থাকা হয়নি। সুবিশাল ভারত মহাসাগরের অথৈ জলরাশি, জ্যোৎস্না রাত আর নীলাকাশ দেখা হয়নি।

জলবায়ুর অভিঘাতে বিশ্ব উন্নয়ন মানচিত্র উল্টে-পাল্টে যাওয়ার আশঙ্কার কবলে। ডারবান শহরে কার্বন নিঃসরণ সংক্রান্ত কিয়োটো চুক্তির অপমৃত্যু হয়নি। স্বস্তির খবর হলো আইনগতভাবে বাধ্যবাধক এই চুক্তি বলবৎ থাকবে। এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১৯৫টি দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিবর্গ জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন ও এর কিয়োটো চুক্তির অপরিহার্যতা যখন অনেক বাক্-বিতণ্ডা শেষে মেনে নেন তখন ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিম উপক‚লে ১১ ডিসেম্বরের নতুন আলোকিত সূর্য উঠছে। মাত্র ঘণ্টাকয়েক আগে সম্মেলন সভাপতি মাইথি নকোওনা মাসাবানের মুখ থেকে হাসি মিলিয়ে গিয়েছিল। তার দুচোখ ভরা তখন জল। এমন দৃশ্য তিন সপ্তাহে নতুন নয়। তবে সুখের কথা কালো রাত পেরিয়ে নতুন প্রভাতে সে অনিন্দ্য হাসি, উচ্ছাস ফিরে আসে। সম্মেলনের নির্ধারিত সময়ের ৪০ ঘণ্টা পর তুমুল করতালি আর হর্ষধ্বনির মধ্যে মন্ত্রী ও প্রতিনিধিবর্গ ডারবান প্যাকেজ অনুমোদন করেন। মাইথির সেই শেষ হাসি ভোলার নয়।

ভেস্তে যায়নি জলবায়ু দরকষাকষি : ডারবান সম্মেলন ভেস্তে যেতে যেতেও যায়নি। কিয়োটো চুক্তির প্রথম অঙ্গীকারকাল আগামী বছর শেষ হবে। ১ জানুয়ারি ২০১৩ থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় অঙ্গীকারকাল। অনেক তর্ক-বিতর্কের পর উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো এতে সম্মত হয়। মন্ত্রী ও প্রতিনিধিবর্গ ডারবান প্লাটফর্ম নামে নয়া এক এডহক ওয়ার্কিং গ্রæপ গঠনেও ঐকমত্যে পৌঁছে। এর উদ্দেশ্য হলো, আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে সব দেশের জন্য আইনগত বাধ্যবাধক এক নতুন চুক্তি অথবা প্রটোকল অথবা এমন এক সমঝোতা তৈরি করা যা আইনগতভাবে প্রয়োগযোগ্য। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সব দেশ নতুন এ বাধ্যবাধক ব্যবস্থা অনুস্বাক্ষর করে ২০২০ সাল থেকে কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমাবে।

পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের নেতৃত্বে ডারবান সম্মেলনে বাংলাদেশ এবার বেশ প্রস্তুতি নিয়ে যোগ দেয়। আমাদের প্রত্যাশা ছিল কিয়োটো চুক্তিকে দ্বিতীয় অঙ্গীকারকালে নিয়ে যাওয়া এবং সামগ্রিকভাবে কার্বন নিঃসরণ দ্রূত কমানোর উদ্যোগ নেয়া। ডারবান সম্মেলনে আপাত দৃষ্টিতে প্রাপ্তিও তাই।

প্রতিবছরের মতো বাংলাদেশ এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে স্বল্পোন্নত দেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে এলডিসির বর্তমান চেয়ার গাম্বিয়া এবং বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষে সব সভায় যোগদান করে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে। এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড গঠন, ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যানের রূপরেখা চ‚ড়ান্তকরণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

বিশ্ব নেতৃবৃন্দ শেষ পর্যন্ত কিয়োটো প্রটোকলকে দ্বিতীয় অঙ্গীকারকালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে দ¶িণ আফ্রিকার মাটিতে এর মৃত্যু ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববাসীর জন্য কিছুটা হলেও আশার সংবাদ। কিয়োটো প্রটোকলকে দ্বিতীয় অঙ্গীকারকাল ধরে তা আগামী ১ জানুয়ারি ২০১৩ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ অথবা ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে ৩১ ডিসেম্বর ২০১২ সময়ের পর কিয়োটো প্রটোকলের কার্যকারিতা চলমান থাকবে। দ্বিতীয় অঙ্গীকারকালে উন্নত বিশ্ব ১৯৯০ সালের তুলনায় ২৫-৪০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য বাধ্য থাকবে। এ সিদ্ধান্ত ডারবান সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক। তবে জাপান, কানাডা এবং রাশিয়া দ্বিতীয় অঙ্গীকারকালে সম্পৃক্ত থাকবে না, যা দুঃখজনক।

ডারবান সম্মেলনে বেশিরভাগ সময় কেটেছে কিয়োটো প্রটোকলের ভবিষ্যৎ নিয়ে। বেশ কিছু উন্নত দেশ কিয়োটো প্রটোকলের সমাধি চেয়েছিল। দ্বিতীয় অঙ্গীকারকালে যেতে নারাজি জানায় তারা। কিন্তু শেষতক ১৩৪টি উন্নয়নশীল দেশের পাশাপাশি ইইউর ২৭টি উন্নত দেশের চাপাচাপিতে সম্মেলনের সময় প্রায় দুদিন গড়িয়ে সমঝোতা হয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা ছিল জোরাল। উত্তপ্ত মাঝ রাতে সম্মেলন যখন ভÊুল হতে বসে তখন আমাকে স্মরণ করিয়ে দিতে হয়েছে জলবায়ু কনভেনশনের অভীষ্টের কথা। গান্ধীর শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আর ম্যান্ডেলার উদার গণতন্ত্রের কথা। ডারবান প্যাকেজের প্রয়োজনীয়তার কথা।

ডারবান সম্মেলনে ২০০৭ সালে বালি সম্মেলনে গৃহীত বালি অ্যাকশন প্ল্যানের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে এডহক ওয়ার্কিং গ্রæপ অন লং টার্ম কো-অপারেটিভ অ্যাকশনের কার্যক্রম এক বছর বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে এলডিসি তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে বালি অ্যাকশন প্ল্যানে উল্লিখিত সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য একটি সর্বসম্মত আউটকাম তৈরি করে আগামী দোহা সম্মেলনে উপস্থাপন করবে। বালি অ্যাকশন প্ল্যান কার্যক্রমের মাধ্যমে এলডিসিসহ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার কথা জোরালোভাবে বলা হয়েছে।

গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড : ডারবান সম্মেলনে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড অপারেশনালাইজ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ‘কপ’ এর সার্বিক তত্তাবধানে এটি পরিচালিত হবে। তবে পরিচালনার জন্য ২৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ড অর্থ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এই বোর্ডে এলডিসির সদস্য থাকবে। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য ২০ সদস্যের স্থায়ী কমিটি গঠিত হয়েছে। পরিবেশ সচিব মেজবাহ্ উল আলম গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড নেগোসিয়েশনে জোরালো বক্তব্য রাখেন। মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় ড. হাছান মাহ্মুদ ছিলেন সোচ্চার। দূতিয়ালি করেন ইইউ আর এলডিসি মন্ত্রীদের সঙ্গে।

বাংলাদেশের মতো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা করতে ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যানের রূপরেখা এবং অর্থায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে এসে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে। এক্ষেত্রে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ঝুঁকি মোকাবেলায় করণীয় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও বিশ্বজুড়ে খাপ খাওয়ানোর কৌশল ও কর্মপদ্ধতি সমš^য়ের জন্য ১৬ সদস্যের অ্যাডাপটেশন কমিটি গঠিত হয়েছে। এখানেও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর প্রতিনিধি থাকবে। ডারবান সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাডাপটেশন নেগোসিয়েশনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মুখ্য সমš^য়কারীর ভূমিকা সফলতার সঙ্গে পালন করে। এলডিসিভুক্ত ৪৮টি দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিবর্গ এবং সম্মেলনের সব দেশের দরকষাকষিকারীরা এক্ষেত্রে আমাকে অকুণ্ঠ সমর্থন জুগিয়েছেন। তা আমি কখনো ভুলব না।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে রক্ষা করতে উন্নত বিশ্ব কী পদ্ধতিতে প্রযুক্তি হস্তান্তর করবে সে বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য প্রযুক্তি নির্বাহী কমিটি, কেন্দ্র ও নেটওয়ার্ক-এর বিষয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নত বিশ্ব থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলার জন্য অ্যাডাপটেশন এবং মিটিগেশন প্রযুক্তি পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় এলডিসি তহবিলে আরও অর্থায়ন করা হবে। এ তহবিল থেকে এলডিসি রাষ্ট্রগুলো তাদের জাতীয় অভিযোজন কর্মসূচি ও পরিকল্পনা প্রণয়নসহ অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারবে। সম্মেলনে এ বিষয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল ১৩৪টি দেশের জোট ৭৭ জাতিগোষ্ঠীর মুখ্য নেগোসিয়েটরের ভূমিকা পালন করে। এ দায়িত্বটিও আমি নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্ব উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোকে বিশেষত বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স¶মতা বৃদ্ধির সব সহায়তা দেবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আমি মনে করি সামগ্রিকভাবে, ডারবান সম্মেলনে প্রত্যাশার তুলনায় অর্জন ততটা না হলেও সম্মেলনটি ব্যর্থতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। গৃহীত হয়েছে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে। তবে ড. হাছান মাহমুদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত যে, এ সম্মেলন থেকে আমরা বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে বিশেষ করে উন্নত বিশ্বের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে আরও দায়িত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আশা করেছিলাম। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উন্নত বিশ্বই এককভাবে দায়ী এবং এ বিষয়টি তাদেরকে মনে রাখতে হবে। সুতরাং বাংলাদেশসহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে সব দেশ এবং জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদেরকে সব ধরনের আর্থিক এবং কারিগরি সহযোগিতা দিতে হবে। এ কথাটি তিনি ইইউ মন্ত্রীবর্গকে জোর গলায় জানিয়ে দেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা করা এবং বিশ্বের উষ্ণায়ন দেড় থেকে দুই ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হলে সব রাষ্ট্রকে আইনগত বাধ্যবাধক চুক্তির আওতায় আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও তা বাস্তবায়নের জন্য ২০২০ সাল থেকে কার্যক্রম গ্রহণ করার বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করবে।

দরকষাকষি কথার খেলা। কথার মারপ্যাঁচে এখানে আন্তর্জাতিক অনেক সুন্দর সিদ্ধান্তও ভেস্তে যায়। ডারবান প্যাকেজ বাস্তবায়ন করতে হলে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বকে আরো সোচ্চার হতে হবে। থাকতে হবে আরো সতর্ক। এখন থেকে প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে হবে। প্রস্তুতি নিতে হবে দোহা সম্মেলনের জন্য। পরবর্তী সবকটি সম্মেলনই হবে এক একটি মাইলফলক। সব কটিই ধাপে ধাপে আমাদের পাড়ি দিতে হবে। মনে রাখতে হবে আমরা যেন জাতিসংঘ জলবায়ু কনভেনশনের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য ভুলে না যাই। বালি অ্যাকশন প্ল্যান এবং কানকুন এগ্রিমেন্ট স্বল্পোন্নত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জোরকদম ফেলতে সাহস জোগাবে। প্রস্তুতি ভালো থাকলে যে কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনেই অনুঘটকের জোরাল ও প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখা যায়, আইলা ও সিডর বিধ্বস্ত দক্ষিণ জনপদের জলবায়ু উদ্বাস্তু কোটি মানুষের চরম ভোগান্তি বাংলাদেশ নেগোসিয়েশন টিমকে অফুরান শক্তি জোগায় বাংলাদেশের জন্য ডারবান সম্মেলন তার প্রমাণ। দোহা থেকে তা আরো বেগবান হবে, সেই প্রত্যাশা রইলো। আশার কথা বাংলাদেশ নেগোসিয়েশন টিমের পুরো ভাগে রয়েছেন ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, ড. এম. আসাদুজ্জামান, ড. রেজাউল করিম, ড. আইনুন নিশাত, ড. আনছারুল করিম, মেজবাহ্ উল আলম, মনোয়ারুল ইসলাম, ড. নাসির উদ্দিন ও মঞ্জুরুল হান্নান খান। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ উত্তাল সময় পাড়ি দেয়ার জন্য। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে নিশ্চয়ই তারা রচনা করবেন বাংলাদেশের দোহা রোডম্যাপ।

অভিযোজন পরিকল্পনার জন্য আমরা সেই কোপেনহেগেন থেকে লড়ছি। ডারবানে আমরা তার রূপরেখা অর্জন করেছি। আমাদেরকে এখন তা তৈরি করে দেখাতে হবে। বাস্তবায়ন করে অন্য এলডিসিভুক্ত দেশগুলোকে শেখাতে হবে। এর জন্য অর্থ আনতে হবে জলবায়ু তহবিল অথবা এলডিসি তহবিল থেকে। অথবা জিইএফ আর জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা তো রইলই। দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকেও আনা যাবে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পেতে আমাদের আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা যত দক্ষতা দেখাতে পারব তত দ্রুত পৌঁছে যেতে পারব দোহা।

আমি সম্মেলন সভাপতি মাইথিকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি কথা রেখেছেন। সব রাষ্ট্রকে নিয়েই জলবায়ু শান্তির ট্রেন তিনি ডারবান থেকে ছেড়েছেন। নিশ্চয়ই তিনি সব রাষ্ট্রকে নিয়েই দোহা পৌঁছাতে পারবেন। শেষ হাসি হাসবেন তিনি। এর ফলে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকশ’ কোটি মানুষ স্বস্তি পাবে। জলবায়ু সহিষ্ণু উন্নয়নের স্বাদ পাবে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল বিশ্ব। জলবায়ুর চোখে আমরা উন্নয়ন দেখতে শিখব। টেকসই উন্নয়ন করায়ত্ত করব। সেই রাঙা প্রভাতের প্রত্যাশায় দোহা অভিমুখে আমাদের যাত্রা নিশ্চয়ই সফল হবে।

কামরুল ইসলাম চৌধুরী, জলবায়ু সম্মেলনে ৭৭ জাতিগোষ্ঠী ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অন্যতম প্রধান সমš^য়কারী ও বাংলাদেশ নেগোসিয়েশন টিম সদস্য।

 

বিভাগ: প্রচ্ছদ

RSSকমেন্টস (4)

আপনার মন্তব্য | ট্রেকবেক লিঙ্ক

  1. Saleem Samad says:

    I have carefully read and understood the article by Quamrul Islam Chowdhury. Reading his article I understand that the uphill task he has endured to push the agenda of the third world nation, I mean the poor countries. It seems that there are few who could argue the agenda with the developed countries. Now the ball is in the court of the first nation to implement the decisions in favour the poor nations. Joy Manush! Humanity First!

  2. Anisur Rahman says:

    Excellent Article Sir….Carry on ….

  3. মুহম্মদ শহীদুল ইসলাম says:

    বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ডারবানে জলবায়ু দরকষাকষির সময় আইলা ও সিডর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা মনে রাখার জন্য ধন্যবাদ।

  4. আনিসুর রহমান says:

    বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা ড. হাছান মাহমুদ, পরিবেশ সচিব মেজবাহউল আলম, ড. কাজি খলিকুজ্জামান এবং কামরুল ইসলাম চৌধুরীকে তাঁদের নিরলস পরিশ্রমের জন্য জানাই অশেষ ধন্যবাদ

আপনার মন্তব্য



ওয়েব সাইট

আপনার কমেন্টের সাথে যদি ছবি প্রকাশ করতে চান, এখান থেকে ছবি সংগ্রহ করুন.